বাসর_রাতের_অপমান

 

বাসর_রাতের_অপমান

রাত তখন প্রায় দুইটা।
পুরো বাড়িটা অস্বাভাবিক নীরব। দেয়ালঘড়ির টিকটিক শব্দও যেন স্পষ্ট শোনা যাচ্ছিল।
আমি নিঃশব্দে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামলাম। প্রতিটি ধাপ ফেলার আগে কয়েক সেকেন্ড দাঁড়িয়ে শুনছিলাম, কেউ জেগে উঠেছে কি না। উপরের ঘরে মিস্টার ইয়াসিন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন।
কিন্তু আমার চোখে আর ঘুমের কোনো অস্তিত্ব নেই। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আমার জীবন এমনভাবে বদলে গেছে, যা আমি কখনো কল্পনাও করিনি।
হাতে শক্ত করে ধরে রাখা ছোট চাবিটার দিকে বারবার তাকাচ্ছিলাম। অচেনা নম্বর থেকে আসা বার্তাগুলো সত্যি হলে, এই চাবিই হয়তো এমন এক দরজা খুলে দেবে, যার ওপারে লুকিয়ে আছে আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সত্য।
স্টাডি রুমের সামনে এসে থামলাম।
দরজাটা আধখোলা ছিল। ভেতরে একটুও আলো নেই।
আমি মোবাইলের ক্ষীণ আলো জ্বালিয়ে ধীরে ধীরে ভেতরে ঢুকলাম। ঘরজুড়ে পুরোনো কাঠের আসবাব, বুকশেলফ, ফাইলভর্তি আলমারি আর একটি বড় টেবিল। দেখে বোঝাই যায়, বাড়ির গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র এখানেই রাখা হয়।
বার্তায় যেমন বলা হয়েছিল, আমি টেবিলের ডান পাশের ড্রয়ারের সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম।
চাবিটা তালায় ঢুকিয়ে আস্তে ঘোরাতেই একটি মৃদু শব্দ হলো।
ড্রয়ার খুলতেই আমার বুকের ভেতর ধক করে উঠল।
ভেতরে বেশ কয়েকটি মোটা ফাইল, একটি কালো ডায়েরি, একটি পেনড্রাইভ এবং বাদামি রঙের খাম রাখা ছিল। প্রথমে ডায়েরিটা হাতে নিলাম।
প্রথম কয়েকটি পৃষ্ঠা সাধারণ ব্যবসায়িক হিসাবের মতো লাগলেও মাঝামাঝি গিয়ে লেখা বদলে গেল।
সেখানে কয়েকটি নামের তালিকা।
প্রতিটি নামের পাশে আলাদা আলাদা তারিখ, টাকার অঙ্ক এবং ছোট ছোট মন্তব্য।
শেষের দিকের একটি পাতায় আমার নামও লেখা।
আমার নামের পাশে লেখা
"বিয়ে সম্পন্ন। পরবর্তী ধাপ: পাওয়ার অব অ্যাটর্নি।"
আমার হাত ঠান্ডা হয়ে গেল।
এর মানে, বিয়েটা শুরু থেকেই একটা পরিকল্পনার অংশ ছিল?
আমি দ্রুত ডায়েরির কয়েকটি পাতার ছবি তুলে নিলাম।
এরপর বাদামি খামটা খুললাম।
ভেতরে আমার বাবার জমির পুরোনো দলিলের ফটোকপি, কিছু ব্যাংক নথি এবং একটি খসড়া চুক্তিপত্র।
চুক্তিপত্রে এমন ভাষা লেখা ছিল, যাতে স্বাক্ষর করলেই আমার সম্পত্তি পরিচালনার ক্ষমতা অন্য একজনের হাতে চলে যেতে পারে।
নিচে স্বাক্ষরের জায়গা ফাঁকা।
আমি সঙ্গে সঙ্গে বুঝলাম, আমাকে হয়তো কয়েক দিনের মধ্যেই নানা অজুহাতে এই কাগজে সই করানোর পরিকল্পনা ছিল।
আমার শ্বাস ভারী হয়ে উঠল।
ঠিক তখনই করিডোর থেকে হালকা শব্দ ভেসে এল।
আমি মুহূর্তের মধ্যে ঘরের আলো নিভিয়ে বুকশেলফের আড়ালে দাঁড়িয়ে পড়লাম।
পায়ের শব্দটা ধীরে ধীরে দরজার কাছে এসে থামল।
দরজার হাতল সামান্য নড়ল।
আমি নিঃশ্বাস পর্যন্ত আটকে রাখলাম…

Post a Comment

0 Comments