স্রোতের মতো কখন যে নীরবে বয়ে যায়, মানুষ টেরই পায় না। দুঃখের ভারে থমকে থাকা দিনগুলোও একসময় ধীরে ধীরে চলতে শেখে। গভীরতম ক্ষতও সময়ের কোমল প্রলেপে শুকিয়ে আসে যদিও তার দাগ চিরকাল বুকের ভেতর নিঃশব্দে থেকে যায়।
দেখতে দেখতে তিনটি মাস কেটে গেছে। এই তিন মাসে সাহানাদের জীবনে অনেক কিছুই বদলেছে। না, সবকিছু আগের মতো হয়ে যায়নি। একজন মানুষ চলে গেলে তার রেখে যাওয়া শূন্যতা কখনো পূরণ হয় না। তবুও জীবন তো কারও জন্য থেমে থাকে না। নদী যেমন পাথরের বাধা পেরিয়েও নিজের গন্তব্য খুঁজে নেয় তেমনি মানুষও একসময় বাধ্য হয় আবার বেঁচে থাকার নিয়ম শিখে নিতে।
মুহিদ বাবার মৃত্যুর পর সমস্ত দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে কিছুদিন গ্রামের বাড়িতে ছিল। মায়ের পাশে থেকেছে, ছোট বোনকে আগলে রেখেছে, প্রয়োজনীয় সব কাজ গুছিয়ে দিয়েছে কিন্তু সংসারের দায় তো অপেক্ষা করে না। জীবিকার টানে শেষমেশ স্ত্রী-সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে আবার শহরে ফিরে যেতে হয়েছে তাকে। যাওয়ার সময় মায়ের হাত শক্ত করে ধরে বলেছিল, খুব শিগগিরই আবার আসব। মালিহা বেগম শুধু মৃদু হেসেছিলেন। জানতেন, ছেলের ইচ্ছে থাকলেও দায়িত্বের শেকল মানুষকে সহজে ফিরতে দেয় না। মুহিদ একা সময় করে এর মাঝে একবার ঘুরে গিয়েছে। একটা দিন কাটিয়ে আবার ফিরতে হয়েছে শহরে। মুহিদ আর আসতে না পারলেও প্রতিদিন তামান্না অথবা মুহিদ কেউই কল করতে ভোলে না।
এখন বাড়িটায় মানুষ বলতে কেবল দুজন। মালিহা বেগম আর সাহানা। প্রথম প্রথম চারদিকের নীরবতা যেন আরও বেশি করে আলতাফ সাহেবের অনুপস্থিতির কথা মনে করিয়ে দিত। এমনকি বিকেলের বাতাসও যেন তাঁর স্মৃতি বহন করে বেড়াত। নিজেকে ব্যস্ত রাখতে পূর্বের মতোই ছোটখাটো একটা জবে জয়েন করেছে সাহানা। মালিহা বেগমও নিজেকে ব্যস্ত রাখার একটি পথ খুঁজে নিয়েছেন। পাড়ার ছোট ছোট বাচ্চাদের পড়ানো শুরু করেছেন তিনি।
প্রতিদিন সকালে কয়েকজন পাঁচ-সাতটা বাচ্চা খাতা-কলম হাতে বাড়িতে আসে। তাদের পড়াশোনা, হাসি-ঠাট্টার শব্দে বাড়িটা আবার একটু একটু করে প্রাণ ফিরে পায়।
সকালের রোদ তখন রান্নাঘরের জানালা দিয়ে ভেতরে ঢুকে চুলার ধোঁয়ার সঙ্গে মিশে একরাশ সোনালি আবছায়া তৈরি করেছে। সাহানা রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে দুপুরের রান্না করছিল। চুলার ওপর তরকারি ফুটছে, পাশে ভাতের হাঁড়ি থেকে গরম ভাপ উঠছে।
হঠাৎ রান্নাঘরের টেবিলের ওপর রাখা ফোনটা কেঁপে উঠল।
স্ক্রিনে ভেসে উঠল একটি পরিচিত নাম। সাহানা দেখতে পেল বাশার কল করেছে। ঠোঁটের কোণে অজান্তেই মৃদু হাসি ফুটে উঠল সাহানার।
গত তিন মাসে বাশারের ফোন যেন ওর প্রতিদিনের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। দিনের কোনো না কোনো সময় মানুষটা ফোন করবেই। কখনো তার জানার বিষয়ের মধ্যে থাকে- খেয়েছেন কি না, কখনো শরীরের খবর নিতে, কখনো আবার কোনো কারণ ছাড়াই দুটো কথা বলার জন্য।
শুরুতে সাহানা ভীষণ অস্বস্তি বোধ করত।প্রয়োজনের অতিরিক্ত একটি কথাও বলতে চাইত না। উত্তরগুলোও হতো ছোট ছোট, পরিমিত। কিন্তু মানুষের আন্তরিকতা বোধহয় সবচেয়ে শক্ত বরফও একসময় গলিয়ে দেয়। বাশার কখনো তাড়া দেয়নি, কখনো অযথা প্রশ্ন করেনি, কখনো নিজের অনুভূতি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেনি। শুধু ধৈর্য নিয়ে পাশে থেকেছে। আর সেই ধৈর্যই ধীরে ধীরে সাহানার ভেতরের সংকোচের দেয়ালে সূক্ষ্ম ফাটল ধরিয়েছে। এখন আর বাশারের ফোন এলে অকারণে অস্বস্তি লাগে না। বরং অদ্ভুত এক স্বাভাবিক অনুভূতি কাজ করে।
চুলার আঁচ একটু কমিয়ে দিল সাহানা। ভালো করে হাত ধুয়ে নিল। আঁচলে হাত মুছে ফোনটা হাতে নিয়ে নিজের ঘরের দিকে চলে গেল। দরজা ভেজিয়ে নরম স্বরে কল রিসিভ করল।
“আসসালামু আলাইকুম।”
ওপাশ থেকে সঙ্গে সঙ্গেই ভেসে এল পরিচিত কণ্ঠ।
“ওয়ালাইকুমুস সালাম। কী করছেন?”
“রান্না করছিলাম।” সাহানা জবাবে বলল।
বাশার ব্যস্ত গলায় জানতে চাইলো,
“বিরক্ত করলাম? আচ্ছা রান্না করুন তাহলে।”
“না, না। সমস্যা নেই। বলুন।”
বাশার শুধালো,
“শরীর কেমন এখন? আগের চেয়ে একটু ভালো তো?”
পরশুদিন হঠাৎ করেই ওয়াশরুমে পড়ে কোমরে ব্যথা পেয়েছিল সাহানা। বাশার সে কথাই জানতে চাইতে সাহানা বলল,
“আলহামদুলিল্লাহ, ভালোই আছি।”
বাশার কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে জিজ্ঞেস করল,
“সাফওয়ানের সঙ্গে কথা হয়েছে?”
প্রশ্নটা শুনতেই সাহানার মুখের হাসিটুকু মিলিয়ে গেল। চোখের কোণে একফোঁটা কষ্ট নিঃশব্দে জমে উঠল। বলল,
“না। এখনো কল দেয়নি।”
কণ্ঠটা অজান্তেই ভারী হয়ে এল। আবারও বলল,
“
গত কয়েকদিন ধরে বারবার অনুরোধ করছি। কতভাবে বলেছি, শুধু পাঁচ মিনিটের জন্য হলেও ছেলেটার সঙ্গে সামনা-সামনি দেখা করতে দিক। আমি শুধু একবার ওর মুখটা দেখতে চাই।শুধু শুনতে চাই, "আম্মু" বলে ডাকছে। একটু বুকে জড়িয়ে নিতে চাই কিন্তু কোনো উত্তরই দেয় না। রাতে ঘুম ভেঙে যায়। মনে হয়, সাফওয়ান হয়তো আমাকে খুঁজছে। হয়তো কাঁদছে। আবার মনে হয় যদি ধীরে ধীরে আমার প্রতি অনুভূতি কমে যায়? তিন মাস একটা শিশুর জন্য তিন মাস তো অনেক বড় সময়, তাই না? বুকের ভেতরটা এমন টনটন করে মনে হয় কেউ যেন মুঠো করে হৃদয়টা চেপে ধরে আছে। কিছুই করতে পারি না। শুধু অপেক্ষা করি যদি কখনো ওই পিশাচের মনটা নরম হয়।”
ওপাশে বাশার কিছুক্ষণ নিশ্চুপ রইল। নীরবতায় সাহানার প্রতিটি দীর্ঘশ্বাস যেন স্পষ্ট শোনা যাচ্ছিল।
কিছুক্ষণ পর শান্ত, গভীর কণ্ঠে বাশার বলল,
“সাফওয়ান খুব তাড়াতাড়ি আপনার কাছে ফিরবে। সেটা আতিফের ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায়। সময় হয়ে এসেছে।”
সাহানা কিছু বলল না। বাশার গলা খাঁকারি দিয়ে নিজেই প্রসঙ্গ পালটে বলল,
“প্রায় তিন মাস আগে আপনাকে একটা কথা বলেছিলাম মনে আছে?”
সাহানা ধীর স্বরে বলল,
“কী কথা?”
বাশার হালকা নিঃশ্বাস ফেলে বলল,
“বলেছিলাম, একদিন আপনার কাছে একটা বিকেল আর একটা সন্ধ্যা চাইব। যদি সেই বিকেল আর সন্ধ্যা আজই চাই? আপনার সময় হবে?”
সাহানা কিছু বলল না। নিরব রইল কিছুক্ষণ। ওপাশে বাশার নিজেও আর কিছু বলছে না। সাহানার জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে সে। বাশারের অপেক্ষার কঠিন মুহূর্তের ইতি টেনে সাহানা আলতো গলায় বলল,
“কখন, কোথায় পৌঁছতে হবে টেক্সট করে রাখবেন।”
পশ্চিম আকাশে সূর্যের আলো ধীরে ধীরে কোমল হয়ে এসেছে। জানালার কাঁচ ভেদ করে সেই মোলায়েম আলো সাহানার ঘরে প্রবেশ করেছে।
আলমারির সামনে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ নিশ্চুপ হয়ে রইল সাহানা। সামনে সারি করে ঝোলানো কয়েকটি শাড়ির মধ্যে তার দৃষ্টি গিয়ে থামল একটি নীল রঙের শাড়ির ওপর। গভীর আকাশি আর সমুদ্রনীলের মাঝামাঝি এক অপূর্ব রঙ। শাড়িটার দিকে তাকাতেই অদ্ভুত এক অনুভূতি ছুঁয়ে গেল তাকে। কতদিন পর নিজের জন্য এভাবে সাজতে ইচ্ছে হলো! শেষ কবে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের মুখটাকে একটু মন দিয়ে দেখেছিল, তা-ও যেন মনে করতে পারল না।
ধীরে ধীরে শাড়িটা নামিয়ে বিছানার ওপর মেলে রাখল। গোসল সেরে এসে ভেজা চুল তোয়ালে দিয়ে আলতো করে মুছে নিল। তারপর ধীরস্থির ভঙ্গিতে শাড়িটা পরতে শুরু করল। একেকটা ভাঁজ যত্ন করে গুছিয়ে কোমরে আঁটল। আঁচলটা কাঁধে এমনভাবে ছড়িয়ে দিল যেন নীল আকাশের এক টুকরো মেঘ এসে নীরবে তার শরীরে আশ্রয় নিয়েছে।
ড্রেসিং টেবিলের সামনে বসে আয়নার দিকে তাকাল। কয়েক মুহূর্ত নিজের প্রতিবিম্বের দিকে তাকিয়েই রইল সে। চোখ দুটো এখনো আগের মতোই গভীর। তবে সেই গভীরতার ভেতর আজ নতুন কিছু মিশে আছে। দীর্ঘদিনের কান্না, হারানোর যন্ত্রণা আর ধীরে ধীরে আবার বাঁচতে শেখার এক নিঃশব্দ ইতিহাস।
সাহানা ছোট্ট একটি কাজলের রেখা টেনে নিল চোখে। কপালে বসাল ক্ষুদ্র একটি নীল টিপ। ঠোঁটে খুব হালকা গোলাপি আভা ছুঁইয়ে দিল মাত্র। সাজ বলতে এইটুকুই। বাড়তি কিছু নয়। তবু অদ্ভুতভাবে পুরো মুখটাই যেন উজ্জ্বল হয়ে উঠল।
চুলগুলো সম্পূর্ণ খোলা রাখল না। সামনের দিক থেকে কয়েক গোছা চুল আলতো করে পেছনে গুঁজে দিল। বাকিগুলো ঢেউ খেলানো ভঙ্গিতে কাঁধ ছুঁয়ে নেমে রইল।
শেষবারের মতো আয়নায় তাকাতেই নিজেরই অচেনা লাগল। সে যখন নিজেকে দেখতে ব্যস্ত তখনই ফোনে মেসেজের শব্দ ভেসে এল।
ড্রেসিং টেবিলের ওপর রাখা ফোনটা হাতে নিয়ে স্ক্রিন অন করতেই বাশারের নামটা চোখে পড়ল।
“আমি পৌঁছে গেছি। আপনি ধীরেসুস্থে চলে আসুন।”
বাশারের ছোট মেসেজটা পড়ে অজান্তেই ঠোঁটের কোণে ক্ষীণ এক হাসি ফুটে উঠল।
ব্যাগের ভেতর ফোন, ছোট্ট একটি পার্স, রুমাল আর প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো গুছিয়ে নিল। দরজা টেনে বেরিয়ে গেল নিজের ঘর থেকে।
মালিহা বেগমের ঘরে ঢুকতেই ভেতর থেকে হাসির শব্দ ভেসে এল। সাহানার ফুপু এসেছেন। দুজন মিলে গল্পে মশগুল ছিলেন। দরজার কাছে দাঁড়াতেই ফুপু অবাক হয়ে তাকালেন।
“ও মা! আমাদের সাহানাকে তো আজ একেবারে অন্যরকম লাগছে!”
মালিহা বেগমও মেয়ের দিকে তাকিয়ে কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন। চোখের ভেতর যেন একরাশ তৃপ্তি জমল। কতদিন পর মেয়েটাকে এমন করে সাজতে দেখছেন! তিনি মৃদু হেসে বললেন,
“আল্লাহ আমার মেয়েটার জীবনটাও আবার সুন্দর করে দিক।”
কথাটা শুনে সাহানা লাজুকভাবে চোখ নামিয়ে ফেলল। বলল,
“আমি একটু বের হচ্ছি, মা। সন্ধ্যার আগেই ফিরে আসব, ইনশাআল্লাহ।”
ফুপু হেসে বললেন,
“যা মা। সাবধানে যাস।”
মায়ের কাছ থেকে দোয়া নিয়ে সাহানা ধীরে ধীরে বাড়ি থেকে বেরিয়ে এল। বাড়ির সামনেই একটি রিকশা পেয়ে গেল।রিকশায় উঠে বসতেই বিকেলের বাতাস এসে আলতো করে তার শাড়ির আঁচল উড়িয়ে দিল।
রিকশা ধীরে ধীরে এগিয়ে চলল। রাস্তার দুই পাশে সারি সারি গাছ। কোথাও ছোট্ট দোকান, কোথাও চায়ের কাপে ধোঁয়া উঠছে, কোথাও কয়েকজন কিশোর ক্রিকেট খেলছে। জীবন নিজের স্বাভাবিক ছন্দেই বয়ে যাচ্ছে। এতসব কিছুর মাঝে সাহানার মন বারবার ফিরে যাচ্ছে একজন মানুষের কাছে।
বাশারের কথা মাথায় এঁটে বসে আছে যেন। প্রায় তিন মাস আগে মানুষটা তাদের বাড়িতে এসেছিল।
সেদিন শান্ত গলায় সাহানার সাথে একটা দিন কাটাতে চেয়েছিল। সাহানা ভেবেছিল, হয়তো কথাটা সময়ের স্রোতে হারিয়ে যাবে কিন্তু হারায়নি।
বাশার কথাটা মনে রেখেছে আর আজ সেই প্রতিশ্রুত বিকেল এসে গেছে।
এই তিন মাসে কত কিছু বদলে গেছে! ধীরে ধীরে সাহানার ভেতরের ভয়গুলো গলতে শুরু করেছে।
তার ওপর সেদিন মিমির কথাগুলো সে একসময়ের জন্যও মাথা থেকে বের করতে পারেনি। মিমি খুব করে বলেছিল,
“একটা মানুষ কি সারাজীবন একাই বাঁচে, সাহানা আপু? আল্লাহ যদি আবার সুখের দরজা খুলে দেন, তাহলে সেটা বন্ধ করে রাখা কি ঠিক?”
কথাগুলো অদ্ভুতভাবে মনে গেঁথে গেছে। সত্যিই তো
একটা জীবন কি শুধু কান্না আর শূন্যতা নিয়েই কাটিয়ে দেওয়া যায়? মানুষ তো সুখের জন্যই বাঁচে।
যদি সুখ নিজেই একদিন দরজায় কড়া নাড়ে, তবে তাকে ফিরিয়ে দেওয়াই বা কেন?
এই ভাবনাগুলোর ভেতর দিয়েই কখন যে রিকশা স্টেশনের সামনে এসে থেমেছে, সাহানা বুঝতেই পারল না। ভাড়া মিটিয়ে নেমে পড়ল। স্টেশন চত্বর আজ আশ্চর্য রকম শান্ত। দূরের প্ল্যাটফর্মে কয়েকজন মানুষ বসে গল্প করছে কিন্তু প্ল্যাটফর্মের শেষের দিকটা প্রায় ফাঁকাই।
সাহানা ধীরে ধীরে সামনে এগোতে লাগল। চারপাশে চোখ বুলিয়েও বাশারকে দেখতে পেল না। ভ্রু কুঁচকে ফোন বের করে কল দিল। প্রথম রিং শেষ হওয়ার আগেই কল রিসিভ হলো।
“হ্যালো..”
সাহানা বলল,
“আমি এসে গেছি। আপনি কোথায়? আপনাকে তো দেখতে পাচ্ছি না।”
ওপাশ থেকে বাশারের কণ্ঠে মৃদু হাসি ঝরে পড়ল। সে বলল,
“আর একটু সামনে এগিয়ে আসুন।”
সাহানা চারপাশে তাকাল। বাশার ফের বলে উঠল,
“আমি আপনাকে দেখতে পাচ্ছি। আপনি শুধু সামনে তাকান আর একটু হেঁটে আসুন।”
সাহানা মাথা তুলে সামনে তাকাতেই দূরে বেঞ্চ থেকে একজন মানুষ ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াল। সাদা রঙের শার্ট পরা দীর্ঘদেহী মানুষটি এক হাত উঁচু করে নাড়ল। মুখে সেই চিরচেনা শান্ত হাসি। বাশার ফোন কানে রেখেই বলল,
“সামনে তাকান। এই যে আমি।”
বাশাকে স্পষ্ট দেখামাত্র বুকের ভেতরটা হঠাৎ করেই কেঁপে উঠল। শুকনো ঢোক গিলতেই ঠোঁটের কোণে অজান্তেই একটি কোমল হাসি ফুটে উঠল।

0 Comments