বিশাল আকাশের নিচে খোলা ছাদে দাঁড়িয়ে আছে দুজন তেহজীব-মিষ্টি। মিষ্টির চোখে-মুখে অবাকতার ছাপ। সে যেন নিজের চোখকে বিশ্বাসই করতে পারছে না। তেহজীব তার রাগ ভাঙাতে এতো কিছু করবে সে ভাবেনি। মিষ্টি যখন সামনের ফুলের পাঁপড়ি দিয়ে লেখা দেখায় ব্যাস্ত ঠিক সেই মুহূর্তে হাঁটু মুড়ে বসে পড়লো তেহজীব। তার হাতে একশো গোলাপের তৈরি তোড়া। তোড়াখানা মিষ্টির দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল,
"Sorry Misti. Sorry for everything."
একটু থেমে বলল,
"বিশ্বাস করো সত্যিই আমি তোমাকে ঠকাইনি। আর না চেয়েছিলাম ধোঁকা দিতে। আমি তো তোমাকে চমকে দিতে চেয়েছিলাম কেবল। ওভাবে মুখোমুখি হতে চাইনি। তাই ধরা পড়ার পরেও মিথ্যা কথা বলেছি। কারণ আমি চেয়েছি সুন্দর একটা পরিবেশে তোমার সামনে ধরা দিতে। কিন্তু কথায় আছে আমাদের পরিকল্পনার বাহিরে গিয়ে সৃষ্টি কর্তারও কিছু পরিকল্পনা থাকে। সৃষ্টিকর্তার পরিকল্পনার কাছে আমরা অপরাগ। তাই সেদিন ওরকম একটা পরিস্থিতি তৈরি হয়ে গিয়েছিলো।"
মিষ্টি কিছু বলছে না। নীরব দর্শকের ন্যায় কেবল শুনেই যাচ্ছে। তেহজীব আবার বলল,
"এবারের মতো মাফ করে দাও। এরপর কখনো এমন কিছু হবে না। কিছু লুকাবো না তোমার থেকে, প্রমিস।"
মিষ্টি তাও কিছু বলছে না। এবার ভয় হতে লাগলো তেহজীবের। ভীতু চোখে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো,
"এই অধমকে মাফ করা যায় না?"
অবশেষে মুখ খুলল মিষ্টি। বলল,
"মাফ করতে পারি তবে এক শর্তে।"
"কি শর্ত?"
"আপনাকে একশো বার sorry বলতে হবে, সেটাও আবার কান ধরে উঠবস করতে করতে। রাজি?"
তেহজীবের ফটাফট উত্তর,
"প্রেয়সীর রাগ ভাঙানোর জন্য সব করতে রাজি।"
বলতে দেরি হলো কাজে করতে সময় ব্যায় করলো না তেহজীব।
মিষ্টি চমকে গেল। সে ভাবেনি তেহজীব সত্যিই সত্যিই এমনটা করবে। বিশবার হতেই মিষ্টি বলে উঠলো,
"থামুন। আর করতে হবে।"
"মাফ করেছো?"
"হ্যা।"
তেহজীব ফের একই ভাবে ফুলের তোড়া বাড়িয়ে দিলো মিষ্টির দিকে। বলল,
"ভালোবাসি ইঁচড়ে পাকা মেয়ে।"
মিষ্টি হাত বাড়িয়ে তোড়াটা নিলো। কিছু বলল না।
তেহজীব চোখ ছোট ছোট করে বলল,
"আমার উত্তর?"
"কিসের উত্তর?"
"কিসের উত্তর তাই না? আবারও ফেলবো? নাকি ভালোয় ভালোয় বলবে?"
"বলছি। বারবার এভাবে ফেলে দেওয়ার ভয় দেখান কেন?"
"ফটাফট বলো।"
"আমিও ভালোবাসি।"
"কাকে?"
মিষ্টি লজ্জা মাখা গলায় উত্তর করলো,
"আপনাকে।"
—————
রেস্টুরেন্ট এর এক কোণের একটি টেবিলে বসেছে তেহজীব-মিষ্টি। তেহজীবের নজর তার সামনে বসে থাকা রমণীর পানে। এক ধ্যাননে অপলক দেখে চলেছে মেয়েটাকে। দেখবে নাই বা কেন? বিগত এক সপ্তাহ যাবৎ প্রেয়সীর দেখা মিলেনি। এক পলকের জন্য তার দেখা পায়নি। এতগুলো দিন দেখে না পেয়ে হৃদয়, চোখজোড়া সবই কেমন অতৃপ্ত হয়ে রয়েছে। তাই দুচোখ ভরে দেখে নিচ্ছে মেয়েটাকে। ফিরে গেলে তো এভাবে সামনাসামনি দেখতে পারবে না।
অপরদিকে মিষ্টিরে দৃষ্টি নিবদ্ধ হাতে থাকা লাল রঙা গোলাপের দিকে। তোড়াটা হাতে নিয়ে বারবার নেড়ে চেড়ে দেখছে মিষ্টি। ফুলগুলো ছুঁয়ে দিচ্ছে। আবার কখনো নাকের কাছে নিয়ে ঘ্রান নিচ্ছে। এর আগেও তেহজীব তাকে তোড়া দিয়েছে তবে এটা ভিন্ন। মিষ্টির মনে হচ্ছে এই তোড়ার প্রতিটা ফুলে তেহজীবের ছোঁয়া লেগে আছে। প্রতিটা ফুল মিষ্টিকে ডেকে ডেকে বলছে,
"শুনছো ইঁচড়ে পাকা মেয়ে? তেহজীব দেওয়ান তোমাকে ভালোবাসে।"
মনে মনে পুলকিত হচ্ছে মিষ্টি। হঠাৎ কিছু একটা মনে পড়তেই ফুলের থেকে দৃষ্টি সরিয়ে তেহজীবের দিকে তাকালো। প্রশ্ন করলো,
"মাঝের দুদিন কোথায় ছিলেন আপনি?"
"কোন দুদিন?"
"গতকাল, গত পরশু।"
"ছিলাম তো এখানেই।"
মিষ্টি ফট করে বলে বসলো,
"তাহলে দেখলাম না যে!"
তেহজীব সন্দেহান চোখে তাকালো। প্রশ্ন করলো,
"তারমানে তুমি লুকিয়েলুকিয়ে দেখো আমায়। আর আমি সামনে এলেই ভান ধরো যেন চিনোই না।"
"রাগ করেছি বলে দেখা বারণ নাকি? এবার বলুন ওই দুদিন দেখিনি কেন?"
"ইচ্ছে করেই সামনে আসিনি। তবে দূর থেকে ঠিকই নজর রেখেছি। সেদিন মন খারাপ করে পুকুর পাড়ে পা ঝুলিয়ে বসে ছিলে।"
"ওরে পাজি লোক। দূর দেখা দেখা হচ্ছিলো? সামনে আসেননি কেন?"
"সামনে আসবো কেন?"
"আমার বুঝি চিন্তা হয়না? আমি আরো ভেবেছি আপনি বুঝি চলে গেছেন। কতবার উঁকি ঝুঁকি দিয়ে খুঁজেছি হিসাব ছাড়া।"
"খোঁজার হলে চলে যেতে বলেছিলে কেন?"
"চলে যেতে বললেই চলে যেতে হবে নাকি?"
"তাহলে কি করতে হবে?"
মিষ্টি দুহাতে তেহজীবের বাহু জড়িয়ে ধরলো। আলগোছে কাঁধে মাথা রেখে বলল,
"এভাবে থেকে যেতে হবে।"
"আচ্ছা ম্যাডাম যেমন আপনার মর্জি।"
অতঃপর দুজন গল্পে মজে গেল। মিষ্টি কথা বলার মাঝে ফুল দেখছে আর তেহজীব নিজের প্রেয়সীকে।
কেটে গেছে ঘন্টা খানেক। আচমকা মিষ্টির স্মরণ হলো সে তো মাহমুদদের সাথে এসেছে। মাহমুদ নিশ্চই তাকে খুঁজবে। সেই কখন তাঁদের থেকে আলাদা হয়ে গেছে। কি বলবে মিষ্টি? ভেবে তড়িঘড়ি উঠে দাঁড়ালো। ওকে এরকম বিচলিত দেখে তেহজীব জিজ্ঞেস করলো,
"কি হয়েছে? এতো তাড়াহুড়ো করছো কেন?"
"ভাইয়া।"
"কি হয়েছে মাহমুদ ভাইয়ের?"
মিষ্টি ভয়ে ভয়ে বলল,
"আমি তো ভাইয়াদের সাথে এসেছি। আমাকে না পেয়ে ভাইয়া তো খুজবে। এতক্ষন যাবৎ আমি আপনার সাথে আছি। ভাইয়া জিজ্ঞেস করলে কি বলবো?"
"চিন্তা করো না। আনহা ম্যানেজ করে নিবে।"
"ও কিভাবে ম্যানেজ করবে? আপনি ভাইয়াকে চিনেন না আমাকে না পেলে চিন্তা করবে ভাইয়া।"
"তুমিও তাহলে আমার বোনকে চিনো না। তোমাকে এখানে আনার সম্পূর্ণ প্ল্যান ওর। এমনকি মাহমুদ ভাইকে রাজি করিয়েছে এই রেস্টুরেন্টে আসার প্ল্যানটাও আনহারই। তাই চিন্তা করিও না। আনহা সব সামলে নিবে।"
শান্ত হলো মিষ্টি।
বিকেলে গড়িয়ে সন্ধ্যা নেমেছে। চারদিক অন্ধকারে ছেয়ে যাচ্ছে। ধীরে ধীরে ঘোর তমিস্রা পৃথিবীকে গ্রাস করে নিচ্ছে। হতভাগা আলো নিজের অস্তিত্ব হারাচ্ছে। এমন সুন্দর মুহূর্তে রেস্টুরেন্টের রুফ টপে বসে আছে মিষ্টি-তেহজীব। দুজনের মাঝে নীরবতা। শব্দে ভাব বিনিময় না হলেও চোখে চোখে গভীর আলাপন চলছে। দুজন যখন দুজনের চোখের ভাষা বুঝতে ব্যাস্ত সে সময় টেবিলের ওপর থাকা তেহজীবের ফোন খানা বিকট শব্দে বেজে উঠলো। দুজনের ঘোর ভাঙলো। মিষ্টি লজ্জা পেয়ে চোখ সরিয়ে নিলো। তেহজীব মাথা চুলকে অপ্রস্তুত হাসি দিয়ে কল রিসিভ করলো। আনহা কল করেছে। তেহজীব রিসিভ করতেই বলল,
"কোথায় আছিস তোরা?"
"এইতো রেস্টুরেন্টের রুফটপে।"
"মিষ্টিকে নিয়ে তাড়াতাড়ি আসো। চলে যাবো আমরা।"
"এতো তাড়াতাড়ি চলে যাবি? আরেকটু থাক।"
"থাকা যাবে না, ওনার জরুরি কাজ পড়েছে তাই যেতে হবে।"
"আচ্ছা তাহলে তোরা চলে যা, মিষ্টিকে আমি দিয়ে আসবো।"
"পাগল হয়েছো? উনি জানলে কেলেঙ্কারি হয়ে যাবে। অনেক কষ্টে এতক্ষন ম্যানেজ করেছি আর পসিবল না।"
"আচ্ছা ৫ মিনিটে আসছি।"
"২ মিনিটে আসো।"
"৫ টা মিনিট প্রেম করতে দে বাপ্। এতো তাড়া কিসের?"
"এতক্ষন প্রেম করেও হয়নি? আরো সময় চাই?"
তেহজীব আড়চোখে মিষ্টির দিকে তাকালো। দৃষ্টি স্থির রেখে বলল,
"তোর বান্ধবীর মান-অভিমানের, ভুল বোঝাবুঝির পালাই শেষ হয়না। প্রেম করবো কখন?"
"আর প্রেম করতে হবে না। আজ এসো, প্রেম নাহয় অন্য একদিন করিও।"
"ঠিক আছে আসছি।"
মিষ্টি তখন চোখ ছোট ছোট করে তার দিকে তাকিয়ে আছে। কথা শেষ হতেই প্রশ্ন ছুড়লো,
"কে কল করেছে?"
"আনহা। যেতে বলেছে।"
"আমার মান-অভিমানের পালাই শেষ হয়না তাই না?"
"শেষ হয়? তুমিই বলো? এক ঘন্টা তো গেল তোমার রাগ ভাঙাতে ভাঙাতেই।"
"ভালো হয়েছে। আরো রাগ করবো। কথা বলবো না।"
"এবার রাগ করে দেখো কি করি।"
"কি করবেন?"
আচমকা ঝুঁকে গেল তেহজীব। কণ্ঠ খাঁদে নামিয়ে বলল,
"ডিরেক্ট বিয়ে করে নিয়ে যাবো। তারপর সারাদিন চোখের সামনে বসিয়ে রাখবো। তখন দেখবো কতো রাগ করতে পারো।"
বিপরীতে জবাব দেওয়ার মতো কিছু খুঁজে পেল না মিষ্টি। শুকনো ঢোক গিললো কেবল। তেহজীব মজা পেল প্রেয়সীর চোখে ভীতি দেখে। তাই মেয়েটাকে আরেকটু ভয় পাওয়াতে বলল,
"এরপর কখনো রাগ করবে?"
তড়িৎ গতিতে দুদিকে মাথা নাড়লো মিষ্টি। অর্থাৎ এই ভুল সে কখনোই করবে না। নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারার প্রশ্নই আসে না।
তেহজীব শব্দ করে হেসে উঠলো। ওর বেশ আনন্দ লাগছে। মেয়েটাকে ভালোই জব্দ করেছে। তেহজীব উঠে দাঁড়ালো। দেরি হয়ে যাচ্ছে। আনহা অনেক্ষন আগেই যেতে বলেছে। হাত বাড়িয়ে দিলো মিষ্টির দিকে। বলল,
"চলো।"
মিষ্টি বুঝলো না তেহজীবের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার কারণ তাই জিজ্ঞেস করলো,
"কোথায় যাবো?"
"বাসায় যাবে না? নাকি আজ রাতে এখানে থাকার প্ল্যান আছে?"
"না, না। সেটা বলিনি আমি।"
"তাহলে কি বলেছো? আরো কিছুক্ষণ থাকতে চাও?"
মাথা নিচু করে নিলো মিষ্টি। তেহজীব বুঝলো নীরবতা সম্মতির লক্ষণ। তবুও মিষ্টির মুখ থেকে শুনতে চাইলো।
"তবে কি নীরবতাকেই সম্মতির লক্ষণ ধরে নিবো?"
এবারও মুখে জবাব দিলো না মিষ্টি। চোখ তুলে চাইলো কেবল। তেহজীব তার উত্তর পেয়ে গেছে। সূক্ষ্ম হাসির রেখা ফুটে উঠলো তার ওষ্ঠ কোণে।
নিচে নেমে এলো দুজন। ইশা, ফারিহা ওদের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে। তেহজীব ওদের কাছে যেয়ে কুশল বিনিময় করলো। তাকে দেখে ইশা, ফারিহা হৈহৈ করে উঠলো। বলল,
"মান-অভিমান মিটেছে ভাইয়া?"
"এতো করলাম এরপরও মান-অভিমান না মিটে যাবে কই?"
"মিটলেই ভালো। প্রেয়সীকে পেয়ে আমাদের আবার ভুলে যাবেন না যেন।"
"কি যে বলো না। তোমরা না থাকলে এতো কিছু সম্ভব হতো না। থ্যাংকস।"
মিষ্টি নীরব শ্রোতার ন্যায় তাদের কথা শুনে বুঝলো সব কিছু আগে থেকেই প্ল্যান করা ছিলো সবটা। সেই জানতো না।
ফারিহা বলল,
"শুধু থ্যাংকস বললে হবে না ভাইয়া। ট্রিট চাই।"
"অবশ্যই, তা আর বলতে! কবে ট্রিট নিবে বলো?"
"শীঘ্রই।"
"ঠিক আছে, তোমাদের যখন ইচ্ছে।"
"আচ্ছা ভাইয়া এখন তাহলে আসি। মাহমুদ ভাইয়া অনেকক্ষণ যাবৎ তাড়া দিচ্ছে।"
"আচ্ছা যাও।"
ইশা, ফারিহা, মিষ্টি সামনে এগিয়ে গেল। মিষ্টি রয়ে গেল। সে ইচ্ছে করে থেকেছে। মিষ্টিরে হেলদোল না দেখে তেহজীব বলল,
"যাচ্ছ না যে?"
মিষ্টিরে কাতর কণ্ঠ,
"যেতে ইচ্ছে করছে না।"
"থেকে যাবে? ভাইয়ার সাথে কথা বলবো?"
"পা*গ*ল হয়েছেন? কি বলবেন ভাইয়াকে?"
"সেটা আমার ওপর ছেড়ে দাও।"
মিষ্টি মাথা নিচু করে রেখেছে। মৃদু গলায় বলল,
"থাক দরকার নেই।"
তেহজীব দুহাতের আজলায় তুলে নিলো প্রেয়সীর মুখশ্রী। মিষ্টি তখনো নিচের দিকে তাকিয়ে আছে।
"তাকাও আমার দিকে।"
মিষ্টি তাকালো। তেহজীব আদুরে গলায় বলল,
"মন খারাপ করছো কেন? কাল তো দেখা হবে। বাসায় ফিরে কল দিও। কথা হবে। এমন তো না আমাদের আর দেখা হবে না।"
মিষ্টি জবাব দিলো না। মেয়েটার চোখ ছলছল করছে। ও বোধহয় একটি বেশিই আবেগী হয়ে পড়েছে। ওকে সামলাতে তেহজীব বলল,
"এতদিন রাগ করে কাছে ঘেঁষতে দেয়নি। আজ যেতে চাইছে না। একেমন ভালোবাসা?"
"তখন তো রেগে ছিলাম।"
এর মাঝে ইশা ডাক দিলো। তেহজীব বলল,
"ডাকছে যাও। বাসায় যেয়ে কল দিও। মন খারাপ করে না কেমন?"
মিষ্টি জবাব দিলো না। তেহজীব অপ্রত্যাশিত একখানা কাজ করে বসলো। আলতো করে মিষ্টির ললাটে ওষ্ঠ ছুঁইয়ে দিলো। মিষ্টি চমকে উঠলো। এতটাও চমকালো যে কিছু বলার ভাষা খুঁজে পেলে না। ইশা ফের ডাকছে। তেহজীব ইশারা করলো যাওয়ার জন্য। মিষ্টিও বাধ্য মেয়ের ন্যায় বিদায় নিয়ে চলে এলো।

0 Comments