''শেষ ইচ্ছা কী?"
একটা রক্তজবা ফুল এনে দাও।" জল্লাদ ভ্রু কুঁচকে বলল, "ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়ে ফুল দিয়ে কী করবে?" লোকটা মুচকি হাসল।
"আমি নয়... ওদের দরকার হবে।"
'বিচারক বিরক্ত হয়ে বললেন,
"শেষ ইচ্ছা পূরণ করো।"
কয়েক মিনিট পর একজন কারারক্ষী একটি টাটকা লাল জবা ফুল এনে লোকটার হাতে দিল।
লোকটা ফুলটি ঠোঁটে ছুঁইয়ে চোখ বন্ধ করল।
তারপর খুব আস্তে বলল,
"আজ থেকে সাত দিন... মৃত্যু তোমাদের নাম ধরে ডাকবে।"বিচারক চিৎকার করলেন,
"ফাঁসি কার্যকর করো!"দড়ি টেনে দেওয়া হলো।
লোকটার দেহ ঝুলে পড়ল।
ঠিক তখনই...
তার হাত থেকে জবা ফুলটা মাটিতে পড়ে গেল।
টুপ...
টুপ...
ফুলের পাপড়ি থেকে রক্ত ঝরতে শুরু করল।
জল্লাদ ভয়ে এক পা পিছিয়ে গেল। কারণ কয়েক সেকেন্ড আগেও ফুলটা ছিল একেবারে শুকনো।
হঠাৎ ফাঁসিতে ঝুলে থাকা মৃত লোকটার ঠোঁট নড়ে উঠল। "প্রথমে বিচারক...
তারপর জল্লাদ... শেষে পুরো শহর..."
পরের মুহূর্তেই আদালত ভবনের সব আলো একসঙ্গে নিভে গেল।
"সব আলো জ্বালাও!"
বিচারকের চিৎকারে আদালত ভবনের ভেতর দৌড়াদৌড়ি শুরু হয়ে গেল।
কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়—
জেনারেটরও চালু হলো না।
মোবাইলের টর্চ জ্বালাতেই একজন পুলিশ কাঁপা গলায় বলল,
— "স্যার... লাশটা কোথায়?"
সবাই একসঙ্গে ফাঁসির মঞ্চের দিকে তাকাল।
দড়িটা দুলছে...
কিন্তু লোকটার দেহ নেই।
মাত্র কয়েক সেকেন্ড আগেও যে মানুষটা ঝুলছিল, সে যেন বাতাসে মিলিয়ে গেছে।
জল্লাদ ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে বলল,
— "আমি... আমি নিজের চোখে দেখেছি... সে মরেছিল!"
হঠাৎ...
ঠক...
ঠক...
ঠক...
আদালত ভবনের ভেতর কারও হাঁটার শব্দ ভেসে এল।
মনে হচ্ছে কেউ খালি পায়ে ধীরে ধীরে হাঁটছে।
একজন কনস্টেবল সাহস করে শব্দের দিকে এগিয়ে গেল।
"কে ওখানে?"
কোনো উত্তর নেই।
সে টর্চের আলো ফেলতেই...
দেয়ালে টাটকা রক্ত দিয়ে লেখা—
"একদিন শেষ..."
কনস্টেবল আতঙ্কে পিছিয়ে আসতেই লেখাটা নিজে থেকেই বদলে গেল।
"আর ছয় দিন..."
ঠিক তখনই বাইরে বজ্রপাত হলো।
আলো ফিরে এল।
সবাই ছুটে ফাঁসির মঞ্চের নিচে গেল।
সেখানে পড়ে আছে শুধু একটি কালো হয়ে যাওয়া জবা ফুল।
লোকটার কোনো চিহ্ন নেই।
...
সেই রাতেই বিচারক নিজের সরকারি বাসভবনে ফিরে গেলেন।
স্ত্রী বারবার জিজ্ঞেস করছিলেন,
"আপনার শরীর খারাপ লাগছে?"
বিচারক কোনো উত্তর দিলেন না।
তার মাথায় বারবার ঘুরছে সেই কথাগুলো—
"প্রথমে বিচারক..."
রাত ২টা ৪৭ মিনিট।
হঠাৎ তার ঘুম ভেঙে গেল।
মনে হলো, কেউ যেন বাগানে হাঁটছে।
জানালার পর্দা সরাতেই তিনি দেখলেন—
একটি ছোট্ট মেয়ে।
তার হাতে একটি লাল জবা ফুল।
মেয়েটি ধীরে ধীরে মাথা তুলে তাকাল।
কিন্তু...
তার মুখ নেই।
চোখ নেই।
নাক নেই।
শুধু রক্তে ভেজা মসৃণ চামড়া।
বিচারক ভয়ে জানালা বন্ধ করে দিলেন।
নিজেকে বোঝাতে লাগলেন—
"এটা দুঃস্বপ্ন..."
ঠিক তখনই...
তার শোবার ঘরের দরজায় তিনবার শব্দ হলো।
ঠক...
ঠক...
ঠক...
"কে?"
বাইরে থেকে একটি কণ্ঠ ভেসে এল।
"স্যার... আমি কোর্টের পিয়ন। জরুরি কাগজে সই লাগবে।"
বিচারক দরজা খুলে দিলেন।
কিন্তু বাইরে কেউ নেই।
শুধু মেঝেতে পড়ে আছে একটি রক্তজবা ফুল।
তিনি ফুলটার দিকে তাকিয়ে রইলেন।
হঠাৎ ফুলটি নিজে থেকেই নড়ে উঠল।
তারপর...
পাপড়িগুলো ধীরে ধীরে খুলে যেতে লাগল।
ভেতর থেকে বেরিয়ে এল অসংখ্য কালো পিঁপড়ার মতো ছোট ছোট প্রাণী।
মুহূর্তের মধ্যে সেগুলো বিচারকের পায়ে উঠে শরীর বেয়ে ওপরে উঠতে লাগল।
তিনি চিৎকার করতে লাগলেন।
"বাঁচাও...!"
চিৎকার শুনে স্ত্রী দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকলেন।
ঘরে ঢুকেই তিনি স্তব্ধ।
বিচারক মেঝেতে পড়ে আছেন।
তার চোখ দুটো বিস্ফারিত।
মুখে জমে আছে চরম আতঙ্কের ছাপ।
কিন্তু শরীরে একটিও আঘাত নেই।
তার বুকের ওপর রাখা একটি কালো জবা ফুল।
আর দেয়ালে রক্ত দিয়ে লেখা—
"১"
পরদিন সকালে খবরটি সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ল।
ফাঁসির রায় দেওয়া বিচারক রহস্যজনকভাবে মারা গেছেন।
পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলল।
তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হলো অপরাধ তদন্ত বিভাগের কর্মকর্তা আরিয়ান রহমানকে।
ঘরে ঢুকেই আরিয়ানের চোখ আটকে গেল বিচারকের বুকের ওপর রাখা কালো ফুলটিতে।
সে গ্লাভস পরে ফুলটি তুলতে গেল।
কিন্তু ফুলটি স্পর্শ করতেই তার মোবাইলে একটি অচেনা নম্বর থেকে বার্তা এল—
"একজন শেষ। এবার জল্লাদকে বাঁচিয়ে দেখাও..."
আরিয়ান ধীরে ধীরে মাথা তুলল।
কারণ...
ঘরের এক কোণে দাঁড়িয়ে কেউ একজন তার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসছে।

0 Comments