তোমাকে_ভাবিনি_কখনও

তোমাকে_ভাবিনি_কখনও


" পরিই, লেটস গো। তোমার জন্যই আমি অপেক্ষা করছিলাম এতক্ষণ। "
" তুমি কিভাবে জানো আমি আসবো আজকে? "
সোহান তার হাত জড়িয়ে ধরে বলে,
" দাদাভাই একটু আগে তোমার পাপার সাথে কথা বললো নাহ। আমি তখন দাদাভাইয়ের রুমের দরজা থেকে শুনে ফেলেছি। "
নীলা এবার দুষ্টুমি করে মুখ গোমড়া করে বলে,
" তুমি দরজার বাহিরে আড়ি পাতছিলে সোহান? দ্যাট'স এ ব্যাড হ্যাভিট৷ "
" নো, আমি আড়ি পাতি নি। আমাকে তো দাদুমনি তখন দাদাভাইকে ডাকতে পাঠিয়েছিলো। আমি তো ডাকতে এসে শুনে ফেলেছি। তুমি রাগ করোনি তো পরি? "
" নো, মাই জেন্টেলম্যান। তুমি তো দুষ্টুমি করো নি। তাই আমি রাগ করি নি। "
তারা দুজনে দুজনাতে এতটাই মেতে ছিলো, যে আশেপাশের কারও দিকে তাদের কোন নজর নেই৷ এমনকি সামিন নিজেও তার ছেলের বিহেভিয়ারে চমকে উঠেছে৷ নীলার সাথে পরিচয় আর কতদিনের! এরই মাঝে এতটাই মিশে গেলো দুজনে!
সাজিদুল সাহেব রফিক সাহেবের দিকে এগিয়ে গিয়ে বলে,
" দেরী হলো কেন তোদের? আরও আগে আসতে বলেছিলাম তো। "
রফিক সাহেব মুচকি হেসে বলেন,
" সোহানের ভাষ্যমতে একটা পরি জন্মেছে আমার ঘরে। আর পরিদের সাজগোজের একটা ব্যাপার আছে নাহ। মেয়েমানুষ যে ঘরে জন্মাবে, সে ঘরে সময়মতো কোন কাজই হয় না রে।"
সাজিদুল সাহেবও হেসে ফেলেন। সামিন এগিয়ে এসে বলে,
" কেমন আছেন আঙ্কেল? "
" আলহামদুলিল্লাহ ভালো বাবা। তুমি কেমন আছো? "
" আমিও ভালো। তবে আপাতত একটু শকে আছি। "
" কেন বাবা? "
" আমার ছেলে আপনার মেয়ের সামনে যা খেল দেখাচ্ছে, বাবা হয়ে তো চিন্তায় পরে গেলাম আমি। না জানি কবে তার পরিকে নিজের কাছে চেয়ে বসে। "
রফিক সাহেব হাসেন। নাবিহাকে দেখিয়ে পরিচয় জানতে চাইলে বলেন,
" আমার মেয়ের বান্ধবী, নাবিহা। আমার আরেকটা মেয়ে। "
নাবিহা কথাটা শুনেই মিষ্টি করে হাসে৷ এমন সময় মমতাজ বেগম এগিয়ে আসেন। ওনাকে দেখেই রফিক সাহেব বলেন,
" ভালো আছেন আপা? "
" আলহামদুলিল্লাহ ভালো ভাইজান। "
তারপরই তিনি নাবিহার দিকে এগিয়ে গিয়ে বলেন,
" তুমি ভাইজানের কি হও মা? "
নাবিহা একটু আমতা আমতা করে বলে,
" আমি... আমি নীলার বান্ধবী হই। আঙ্কেল বললো সাথে আসতে, তাই এসেছি। "
তিনি মিষ্টি করে হেসে বলেন,
" খুব ভালো করেছো মা। তা তোমার বাবা-মা কি করে? তোমরা কয় ভাই বোন? "
" জ্বি, মা গৃহিনী। আর বাবা একটা কোম্পানিতে চাকরি করেন। আমি তাদের দ্বিতীয় সন্তান, একটা বড় বোন আছে আমার।"
" বাহ, বেশ ভালো। তা তোমার বোনের বিয়ে হয়ে গেছে নাকি? "
" জ্বি আন্টি। তার একটা দুই বছরের মেয়েও আছে। "
" মাশাআল্লাহ.. তার মানে এখন তুমিই বিয়ের জন্য বাকি আছো, তাই তো? "
ওনার এমন প্রশ্নে নাবিহা হকচকিয়ে যায়। রফিক সাহেব বিষয়টা বুঝতে পেরে অপ্রস্তুত হয়ে পরে। সামিনও মায়ের এমন প্রশ্নের কারণ বুঝতে পারে। তাই পরিস্হিতি স্বাভাবিক করতে বলে,
" আহা মা, কি শুরু করলে। বাচ্চা মেয়েটাকে এত প্রশ্ন করা শুরু করলে কেন? "
" বা রে! এমনই এক বাচ্চার সাথেই তো বিয়ের কথা উঠলো। সেই বাচ্চা তো যা খেল দেখালো..। যাই হোক, নাবিহা মা, তোমার বাবা-মাকে নিয়ে একদিন ঘুরতে এসো বাড়িতে। "
নাবিহা অপ্রস্তুত হয়েই মাথা নাড়ায়। তখনই সোহান সামিনের হাত ধরে এসে বলে,
" পাপা, কেক কাটবো নাহ আমরা? চলো নাহ। "
" অবশ্যই নামধরী জেন্টেলম্যান। চল তাড়াতাড়ি...সবাইকে ডেকে একসাথে কর। "
নীলা তার বাবার সাথে এসে দাঁড়ায়। সামনেই মমতাজ বেগমকে দাঁড়ানো দেখে রফিক সাহেব মেয়ের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে যায়।
" আপা, আমার মেয়ে নী.... "
" আসেন ভাইজান, এখনই কেক কাটবে সোহান। আমিও যাই, তানহা একা কিছুই করতে পারবে নাহ। "
তিনি এক প্রকার বিষয়টা ইগনোর করে চলে যায়। রফিক সাহেবের মাথা নিচু হয়ে যায়। সাজিদ সাহেব বন্ধুর হাত ধরে ইশারায় ক্ষমা চায়। এতে তিনি উত্তরে হালকা হাসেন। বলবেই বা কি! দোষ তো তার মেয়েরই।
" চাচ্চু, ও চাচ্চু.... "
সোহানের ডাকে কিয়ানের হুশ ফিরে। এতক্ষণ সে কেমন যেন ঘোরের মধ্যে ছিলো। ভাতিজার ডাকে সে সামনে তাকাতেই নীলার সাথে তার চোখাচোখি হয়ে যায়। সাথে সাথেই নীলার হাসিমুখ মিলিয়ে যায়। সে দ্রুত মুখ ফিরিয়ে নেয়। কিয়ান বিষয়টা স্পষ্ট বুঝতে পারে। সোহানের টানে সে কেকের টেবিলের সামনে দাঁড়ায়। সোহান এগিয়ে এসে নীলাকে সাথে নিয়ে যায়।
" পরি, তুমি আমার সাথে দাঁড়াবে। আর চাচ্চুও আমার সাথে দাঁড়াবে। "
" কি রে, বাপ-মাকে ফেলে চাচ্চু আর পরিকে বেছে নিলি। এজন্যই তোকে খাইয়ে, পরিয়ে বড় করছি? "
সোহান যেন বাবার কথাকে পাত্তাই দিলো নাহ। তানহা স্বামীর কাছে এসে ফিসফিসিয়ে বলে,
" কাহিনী কি বলো তো? তোমার ছেলে চাচ্ছে কি? "
" এখনও বুঝলে নাহ? তার পরিকে চাই। সেই যে শুনেছে পরির সাথে কিয়ানের বিয়ে, সে সেটাকেই মেনে নিয়েছে। এখন দুজনকে একসাথেই চাই তার। "
" দুজনকে একসাথে ভালোই মানিয়েছে। কিন্তু মা...? মেয়েটাকে যে কেন এমন করলো? একটু দেখা দিলে কি এমন ক্ষতি হতো? আমাদের সময় তো আমরা রাজি না হলেও এমন বাড়াবাড়ি করতে পারি নি। "
" আজকালকের আদুরে মেয়েরা এমন একটু-আধটু বেপরোয়া হয়ই। তবে তুমি তো আমার সুইট, কিউট, শান্ত মিষ্টি, আদুরে বউ। "
বলেই তানহার গাল টেনে দিলে তানহা আশেপাশে তাকিয়ে সরে যায়। রাগী দৃষ্টি ছুড়ে দিয়ে স্বামীকে তার এমন কাজের জন্য শাসিয়ে দেয়। প্রতিউত্তরে সামিন একটা দুষ্টু হাসি দেয়।
" পরি, আমার হাত ধরো। চাচ্চু, তুমিও ধরো। আমরা একসাথে কেক কাটবো। "
নীলা সোহান হাত ধরতেই কিয়ান যখন হাত বাড়ায়, তার হাতের ছোঁয়া লাগতেই নীলা ছিটকে হাত সরিয়ে নেয়। তাই কিয়ান সোহানের হাতের কব্জির উপর ধরে। নীলার এসবে কোন ভাবান্তর নেই। সে কিয়ানের দিকে একবারও তাকায় নাহ।
" থ্রি, টু, ওয়ান...হ্যাপি বার্থডে টু ইউ সোহান। "
মুহুর্তেই চারপাশ মুখরিত হয়ে উঠে। সোহান খিলখিয়ে হেসে উঠে। সে এক টুকরো কেক নিয়ে কিয়ানের দিকে বাড়িয়ে দেয়৷ কিয়ান মুচকি হেসে অল্প করে মুখে নেয়। তারপর সোহান নীলার দিকে আসলেই নীলা হাটু গেড়ে বসে৷ নিজে না খেয়ে আঙুলে করে অল্প একটু ক্রীম নিয়ে সোহানের নাকে লাগিয়ে দেয়।
" হ্যাপি বার্থডে মাই জেন্টেলম্যান। "
সোহান মুখ ফুলিয়ে নেয়। তারপর মুহুর্তেই নিজের ছোট্ট হাতে নীলার গাল ক্রীমে রাঙিয়ে দেয়।
" ওরে দুষ্টু...."
কাজ শেষ করেই সে খিলখিলিয়ে হেসে পালায়। তাকে আর পায় কে! নীলার পাশেই নাবিহা দাঁড়িয়ে হাসছিলো। বান্ধবীকে হাসতে দেখে নীলা নিজের গালের ক্রীম নাবিহার গালেও লাগিয়ে দেয়। দুই বান্ধবী সেই ভিড়ের মাঝেও একে অপরের সাথে আলাদা মুহুর্তে মেতে উঠে।
আর কিয়ান মুখে মুচকি হাসি রেখে সেদিকেই তাকিয়ে ছিলো। এমন সময় মীমু মমতাজ বেগমের পাশে এসে দাঁড়ায়। কিয়ানও সেখানেই ছিলল। মীমু বলে উঠে,
" দেখো মামী, কি অবস্হা শুরু করেছে। এই এদের মতো মেয়ের জন্যই আমাদের মানসম্মান যাবে। "
কথাটা কানে যেতেই কিয়ানের রাগ হয়। পাশ ফিরে মীমুর দিকে তাকাতেই সে থতমত খেয়ে যায়। মীমু কিয়ানের এমন চাহনী দেখে একটু ভয় পেয়ে পিছিয়ে যায়।
সবাইকে যখন কেক সার্ভ করা হচ্ছিলো, কিয়ান তখন একটা সুযোগে নীলার পাশে এসে দাঁড়ায়। নিচু কন্ঠে ডেকে উঠে,
" নীলা, তোমার সাথে আমার একটু কথা ছিলো। "
নীলা পাশ ফিরে কিয়ানকে দেখেই মুখ ফিরিয়ে নেয়। কিছু না বলে চলে যেতে নিলে কিয়ান পুনরায় বলে উঠে,
" নীলা...একটু কথাটা শুনে যাও। "
নীলা থামে নাহ। তার যাওয়ার পথে কিয়ান অসহায়ের মতো তাকিয়ে থাকে।
*********
" নাবুর বাচ্চা, করলি কি তুই? সোহান পিচ্চি হাতে তাও একটু ক্রীম মাখিয়েছিলো। আর তুই আমায় পুরো ভুত বানিয়ে দিলি। "
" তুই বুঝি সাধু মানুষ? আমার দিকেও তাকা একটু৷ "
নাবিহার দিকে তাকিয়ে নীলা খিলখিলিয়ে হেসে উঠে৷
" এ রে ভুতনী, পুরোই ভুতনী লাগছে তোকে। "
" হাসি বন্ধ কর। একটা বাচ্চার বার্থডে পার্টিতে এসেছিলাম আমরা। এসে এখন নিজেরাই বাচ্চা হয়ে গেলাম। "
" তো কি হয়েছে? শোন, লাইফে অল মোমেন্টে এন্জয় করা উচিত বুঝলি। পার্টি মানেই পার্টি। কার, কিসের সেটা দেখার বিষয় নাহ। "
" রাখ তোর কথা। আগে বল মুখ ধুবো কোথায়? "
" আমি কিভাবে জানবো? "
" কাউকে জিজ্ঞাসা কর। "
" আমি? নো ওয়ে। এমনিই বাড়ির গিন্নি একেকবার আমার দিকে এমনভাবে তাকাচ্ছে, যেন কাঁচাই খেয়ে নিবে আমায়। "
নীলা হাসতে থাকে। এমন সময় সামনে থেকে কিয়ানকে আসতে দেখা যায়। নীলা অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে রাখে। নাবিহা ফিসফিসিয়ে বলে,
" দোস্ত, স্যারকে জিজ্ঞাসা কর একটু। "
নীলা তার দিকে তাকাতেই নাবিহা উত্তর পেয়ে যায়। সেই মুহুর্তে কিয়ান এসে তাদের সামনেই দাঁড়ায়। নাবিহা কাঁচুমাচু করে বলে উঠে,
" আসসালামু আলাইকুম স্যার। "
" ওয়া আলাইকুম আসসালাম। এভাবে, এই অবস্হায় দাঁড়িয়ে আছো যে তোমরা? "
" আসলে স্যার, ওয়াসরুমটা খুঁজে পাচ্ছি নাহ। "
কিয়ান এক পলক নীলার দিকে তাকিয়ে বলে,
" দোতলার ডানে শেষ রুমটায় যাও। ওই রুমটা খালি আছে। ওখানেই ওয়াসরুম পেয়ে যাবে। "
" ধন্যবাদ স্যা..."
নীলা টানতে টানতে নাবিহাকে নিয়ে চলে যায়। যা জানার তা তো জেনেই গেছে তারা।
সেই রুমে ঢুকেই তারা অবাক হয়। রুমটা নিঃসন্দেহে একজন পুরুষ মানুষের। তবে কার রুম, তা জেনে তো তাদের কাজ নেই। দুজনেই ওয়াসরুমে গিয়ে আপাতত মুখ ধোয়ায় ব্যস্ত। নাবিহার মুখ ধোয়া শেষ হলে তার ফোনে কল আসে।
" দোস্ত, মা ফোন দিচ্ছে। তুই থাক, আমি কথা বলে আসি। "
" হু হু, যা। "
মুখ ভর্তি ফেনা নিয়ে নীলা বলে উঠে। নাবিহা যেতেই নীলা আয়নার তাকিয়ে ভালোভাবে মুখ ক্লীন করতে থাকে। নিজের মতো বিরবিরিয়ে বলতে থাকে,
" আসছে কোথাকার কেন হরিদাস পাল, তার কথা আমায় শুনতে হবে। শুনলামই তো সেদিন, আর কি বাকি আছে শুনানোর। মাঠভর্তি মানুষের সামনে কথা শুনালো। এখন বুঝি বাড়ি ভর্তি মানুষের সামনেও অপমান করতে চায়। "
নিজের মনে বিরবিরিয়ে পা ঝটকা দিতেই তার আঘাত লাগা পায়ে আবারও আঘাত পায়। এতে ব্যাথায় হিসহিসিয়ে উঠে বলে,
" ম'রার পা আমার। যন্ত্রণা একটা।।ধুর, শান্তিইইই কোথায়? আমার কাছে আসে নাহ কেন? আমি বুড়ো, খাটাশ কিয়ানকে
দূরে থাকতে বলেছি। আমার শান্তিটাও কেন দূরে চলে গেলো!"
নীলা রাগে বিরবির করতে করতে ওয়াসরুম থেকে বেরিয়ে খাটে গিয়ে বসে। বিছানায় পা তুলে পায়ের ব্যান্ডেজ খুলে দেখতে থাকে। হালকা ফো'স্কার মতো পরেছিলো, সেখানেই পুনরায় আঘাত লেগে ব্যাথা করছে। নীলা নিজের পা নিয়েই গবেষণা করছিলো, তখনই রুমের দরজা খুলে কেউ ঢুকে পরে। নীলা হুট করে পেছনে তাকিয়ে কিয়ানকে দেখে থমকে যায়। কিয়ান এখানে! তখনই তার চোখ পরে দেয়ালে টাঙানো কিয়ানের একটা ছবির দিকে। এটা খাটাশ কিয়নাের ঘর! তার মানে জেনে বুঝেই তাদের এখানে পাঠিয়েছে!
নীলা ব্যাথা পা নিয়ে খুঁড়িয়ে যেতে নিলে কিয়ান বলে,
" দাঁড়াও নীলা। তোমার সাথে আমার কথা আছে। "
নীলা একটু থামলেও আবার যেতে থাকে।
" দাঁড়াতে বলেছি তোমায়। বললাম তো কথা আছে। "
তারপরও নীলা চলে যেত চাইলে পেছন থেকে কিয়ান তার হাত আটকে নেয়।
" তোমাকে বারবার বলছি, আমি তোমার সাথে কথা বলতে চাই। কথা কি কানে যাচ্ছে নাহ তোমার? "
" হাত ছাড়ুন স্যার। এসব কোন ধরণের অসভ্যতামি? "
নীলা কথাটা শেষ করতে পারে নাহ। কিয়ান হটাৎই তাকে টেনে দেয়ালের সাথে চেপে ধরে। নীলার দু কাধে তার হাত শক্তভাবে আটকে আছে। নীলা ভয়ে দেয়ালের সাথে ঠেসে যেতেই কিয়ান হিসহিসিয়ে বলে,
" আমি অসভ্যতামি করছি? কে বাধ্য করেছে আমায়? বারবার বলছি একটু কথা বলতে আমার সাথে। তখন কি কথা কানে যায় নি? "
নীলা এবার রেগে গিয়ে কিয়ানকে ধাক্কা দিয়ে সরানোর চেষ্টা করতে থাকে। তবে রাগান্বিত কিয়ানের সেই শক্ত দেহ ঠেলে সরানোর মতো শক্তি তার নেই।
" ছাড়ুন আমায়। নয়তো আমি কিন্তু... চিৎকার করবো। "
" করো। বাড়ি ভর্তি মানুষ। ক্ষতিটা কার হবে? ভুলে যাবে নাহ, তুমি এখন আমার রুমে আছো। আর আমি তোমাকে ডেকে আনি নি এখানে। নিজেরাই পায়ে হেটে এসেছো এখানে। "
" আপনি...আপনি আমার অসহায়ত্বের সুযোগ নিচ্ছেন। "
" বেশ করছি। কথা শুনো নাহ কেন তুমি? এত বেয়াবদ হয়েছো কেন? কোন ভালো শিক্ষা তো পাও নি। "
নীলার এবার ধৈর্যের বাধ ভেঙে যায়৷ কিয়ানকে সরাতে না পেরে মাথা ঘুরিয়ে তার কাধে থাকা কিয়ানের হাতে শক্ত করে দাঁত বসিয়ে দেয়। আচমকা এমন ব্যাথায় কিয়ান ছেড়ে দেয় তাকে। নীলা রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বলে,
" সমস্যা কি আপনার? আমি তো বেয়াদব, সবসময় যেচে পরে ঝামেলা ডেকে আনি। বড়দের অসম্মান করি। যার-তার সাথে ঝগড়া করি। আমার মতো বেয়াদব মেয়ের সাথে আপনার কথা বলার দরকারটা কি? কেন জালাচ্ছেন আমায়? "
" তুমি কেন জ্বালাচ্ছো আমায় সেটা বলো। উঠতে-বসতে বারবার চোখের সামনে নিজের চেহারা ভাসিয়ে দিয়ে কেন অপরাধবোধে ভোগাচ্ছো? মানছি আমি ভুল করেছি। সেদিন ভার্সিটি মাঠের ঘটনাটায় আমি সব না জেনে তোমায় বকেছি। তবে সবটা জানার পর যখনই ভাবলাম নিজের ভুল স্বীকার করবো, তখনও তোমার খবর নেই। এসে থেকেও ইগনোর করছো আমায়। বারবার ডাকলেও পাত্তা দিচ্ছো নাহ। কেন করছো এসব আমার সাথে? "
রাগে অস্হির হয়ে ফেটে পরা কিয়ানের মুখ থেকে এসব কথা শুনে নীলার অবাক হয়ে যায়। চুপচাপ, শান্ত গম্ভীর রুপে থাকা কিয়ানের মুখে এসব কথা সে কখনও শুনবে ভাবেও নি।
" আপনি আমায় হ্যালুসিনেট করছেন স্যার? এই বেয়াদব আমিকে? লাইক সিরিয়াসলি? ও মাই গড! "
কিয়ান একটু অপ্রস্তুত হয়ে পরে। নিজেকে সামলে বলে,
" দেখো নীলা, আমি ভালোভাবে বলছি। সেদিনের ঘটনাটায় আমি কিছুই জানতাম নাহ। না জেনেই আমি ভুল করে তোমায় কথা শুনিয়ে ফেলেছি। "
" বাহ মি. কিয়ান শিকদার। মাঠভর্তি মানুষের সামনে অপমান করে বলছেন ভুল করে ফেলেছেন? আপনি তো মানুষ খু ন করেও বলবেন, ভুল হয়ে গেছে, আমি ক্ষমা চাই। আর এতে সবাই আপনাকে ক্ষমা করেও দিবে। বাহ! "
" তুমি অতিরিক্ত করছো এখন। আমি তোমার শিক্ষক হই, এটা ভুলে যাবে নাহ। "
" আমি ইতোমধ্যে তা ভুলে গিয়েছি। আমি তো আপনাকে এখন চিনিই নাহ। হু আর ইউ? আমি এসেছি সোহানের বার্থডে তে। অন্য কাউকে আমি চিনিই নাহ। "
নীলার এমন ব্যবহারে কিয়ান নিজেকে শান্ত রাখার বড্ড চেষ্টা করছে। তবে নীলা তো থামার মেয়ে নাহ। সে নিজের মনের শান্তির জন্য বকবক করতেই থাকে।
" কি ভাবেন কি নিজেকে? আপনি যা বলবেন তাই আমাকে মানতে হবে? কে আপনি? আমি আপনার কোন কথা মানতে রাজি নই। কথায় কথায় বেয়াদব, শিক্ষা পাই নি বলে কথা শুনান। আপনার কাছ থেকে এসব শুনতে চেয়েছি আমি? বুড়ো, খাটাশ....."
" নীলা! "
আচমকা ধমকে নীলা ভয়ে থেমে যায়।
" আর একটা কথা বললে সোজা জানালা দিয়ে ফেলে দিবো। বেয়াদব, বাঁচাল মেয়ে। "
" আপনি...."
" চুপ, একদম চুপ। তোমার সামনে নিজেকে ছোট করার কোন মানেই হয় নাহ। বেয়াদব মেয়ে একটা। "
নীলা রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে চলে যেতে নিলে পেছন থেকে কিয়ান তাকে পুনরায় হাত ধরে আটকে নেয়। নীলা হাত ছাড়াতে নিলে কিয়ান আবারও ধমক দিয়ে তাকে থামিয়ে সোজা বিছানার কাছে এনে বলে,
" চুপচাপ বসবে। একটা বাড়তি কথা বললেও খবর আছে। "
নীলা রেগে মুখ ফিরিয়ে বসে থাকে। কিয়ান নিজের ফাস্টএইড বক্স এনে নীলার সামনে বসে বলে,
" পা বাড়াও সামনে। "
নীলা কথা না শুনলে কিয়ান নিজেই হাত দিয়ে পা টেনে এনে তার পায়ে ড্রেসিং করাতে গিয়ে বলে,
" এই আঘাত আবার কবে হলো? মনে হচ্ছে ফো"স্কা পরে গেছে। "
নীলা উত্তর দেয় নাহ। কিয়ানও আর কিছু না বলে নিজের মতে ড্রেসিং করিয়ে দেয়। তখনই নাবিহা এসে এমন দৃশ্য দেখে থমকে যায়। নাবিহাকে দেখে কিয়ান স্বাভাবিক সুরে বলে,
" ড্রেসিং করিয়ে দিয়েছি ওর। ওকে সাবধানে নিয়ে যেও। দেখবে, আবারও আঘাত যেন না পায়। "

Post a Comment

0 Comments