ভাবী_যখন_দেবরের_বউ

ভাবী_যখন_দেবরের_বউ


রাইসা আর আগের মতো থাকে না।
সে আর প্রশ্ন করে না, চিৎকার করে না, অভিযোগও করে না। সে শুধু পর্যবেক্ষণ শুরু করে।
আরিফের প্রতিটি নড়াচড়া এখন তার কাছে নতুন অর্থ বহন করে। কখন সে ফোন ধরে, কখন চুপ থাকে, কখন হাসে, কখন বিরক্ত হয়—সবকিছুই সে খেয়াল করতে থাকে।
এক ধরনের নীরব যুদ্ধ শুরু হয়।
একদিন বিকেলে রাইসা স্কুল থেকে ফেরার পথে বাসায় না গিয়ে আরিফের অফিসের দিকে যায়। সে দূর থেকে দাঁড়িয়ে থাকে, যেন ছায়ার মতো।
কিছুক্ষণ পর সে দেখে আরিফ বের হচ্ছে। কিন্তু একা নয়।
তার সঙ্গে এক তরুণী। বয়স কম, আধুনিক পোশাক, আত্মবিশ্বাসী হাঁটা, আর মুখে এমন হাসি যা সহজে মুছে যায় না।
তারা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে একটি ক্যাফেতে ঢুকে যায়।
রাইসা তাদের অনুসরণ করে না। শুধু দূর থেকে দেখে।
ক্যাফের কাঁচের জানালা দিয়ে ভেতরের দৃশ্য পরিষ্কার দেখা যায়।
আরিফ হাসছে।
এই হাসিটা রাইসা বহুদিন দেখেনি।
মেয়েটা তার হাত ধরে আছে, আরিফও কোনো আপত্তি করছে না।
কিন্তু সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় ছিল না হাত ধরা বা ঘনিষ্ঠতা—সবচেয়ে ভয়ংকর ছিল আরিফের চোখের শান্তি।
যে শান্তি সে রাইসার পাশে কখনো পায়নি।
রাইসা এক মুহূর্তের জন্য চোখ বন্ধ করে নেয়।
তার বুকের ভেতর কিছু ভেঙে যায়, কিন্তু সে চিৎকার করে না।
সে শুধু দাঁড়িয়ে থাকে।
তারপর ধীরে ধীরে চলে আসে।
রাস্তায় হাঁটার সময় সে বুঝতে পারে, তার চারপাশের সব শব্দ এখন দূরের মতো শোনায়। মানুষ, গাড়ি, শহর—সব আছে, কিন্তু সে নেই।
বাসায় ফিরে সে স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করে। রান্না করে, ঘর গুছায়, টেবিল সাজায়।
আরিফ আসে, খায়, কথা বলে।
সবকিছুই স্বাভাবিক।
কিন্তু কিছুই আর স্বাভাবিক নেই।
সেদিন থেকে রাইসা বুঝে যায়—সন্দেহ আর সত্য এক নয়।
সে এখন সত্যের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে।

Post a Comment

0 Comments