আমি "৯" মাসের গর্ভবতী

আমি "৯" মাসের গর্ভবতী।


এমন সময় আমার দেবর আসলো প্রবাস থেকে। আর হই হই রই রই করে আমার দেবর এর বিয়ে নামালো।।
ডেলিভারি খরচ ও তারা দিতে বিয়ে পারবে না। বিয়ে নামার জন্য। আমি যেন সেটি আমার বাবার বাড়ি থেকে আনি।
শারীরিক অসুস্থতা, আর ঘর ভর্তি মেহমান, কাজ, আমার অবস্থা আরো খারাপ।
আমি মুখটা শুকনো করে রাখতাম। মুখে হাসি থাকতো না। আমার শাশুড়ী আর ননদ রা মিলে আমাকে বলতো আমি নাকি হিংসা করছি তাই আমার মুখে হাসি নাই।
মুখ টা কালো করে রেখেছি আমি।
আমার শশুরবাড়িতে যখন ঘর বাড়ি দেখতে আসলো দেবর এর শশুরবাড়ি থেকে। কত আয়োজন কত খাবার কত কি।
আমার সাহসে কুলালো না ওখান থেকে ধরে কিছু খেতে। যদি মুখের উপর তারা কিছু বলে।
আমি রুমে এসে শুয়ে রয়েছি তারা সকাল থেকে সব করছে।
আমি ভারী পেটটার জন্য ও কিছু করতে পারছি না।
আমার শাশুড়ী রুমে এসে বললও আলহামদুলিল্লাহ।
আমার বড় ছেলে এমন বউ আনার জন্য।
আমি দেখায় দিব আমার ছোট্ট ছেলের বউ এনে। কেমন মেয়ে আনবো.....
আমাদের ভালোবাসার বিয়ে ছিলো। আর দেবর এর জন্য আমার শাশুড়ী তার পছন্দ করা মেয়ে আনছে।
তাই তিনি সুযোগ পেলেই আমাকে কথা শুনাতে পরোয়া করেন না।
আমার শাশুড়ী খুব সুন্দরী। তাই ছোট্ট ছেলের বউ ও আনছেন ভীষণ সুন্দরী মেয়ে। বড়লোক পরিবারের মেয়ে। গ্রামে এমন বউ পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার আমার শাশুড়ী বলেছেন।
মেয়ের বয়স ও অনেক কম। আমার আবার বয়স খুব বেশি ২৪ বছর৷ তিনি যেটা আনছেন সেটা আবার ফুলের কলি এখন।
আমি ইয়া নফসি নফসি করছি শারীরিক কষ্টে উনার এগুলো শুনতে ও ইচ্ছে করেছে না।
প্রবাস থেকে স্বামী ভয়েস পাঠিয়েছেন। আমি কেন কোনো কাজ কর্ম করছি না। তিনি আবার খুব মা ভক্ত।
আমার স্বামী তার ভাইয়ের বিয়েতে ২ লাখ টাকা পাঠিয়েছে।
বিয়ের সময় আমাকে কোনো গয়না দেয়নি আমার স্বামী।
বিয়ের পর একবার যখন ছুটিতে আসলো তখন একটা চেইন এনেছিলো।
প্রবাসী স্বামী ফোন করে বললও আমাকে সেটা উনার মাকে দিয়ে দিতে। কারণ বউকে নিশানা স্বরুপ চেইন দিতে হবে। না হলে মান সম্মান থাকবে না।
আমি চুপ করে রইলাম কিছু বললাম না। শুধু বললাম আমি বিয়েতে খালি গলায় থাকবো। আমার তো একটাই চেইন৷
তখন আমার প্রবাসী স্বামী বললও আমি সামাজিক না। আমার মনে হিংসাতে ভরা তাই চেইন দিচ্ছি না আমি।
যদি চেইন না দি তবে উনার ভাত খাওয়ার দরকার নাই।
তখন আমি চেইন টা দিয়ে দি।
সবাই শপিং এ ব্যস্ত। রাত দিন বিয়ে নিয়ে কত আয়োজন কত কথা কত হাসি তামাশা।
সেখানে আমি থাকি ও না। কারণ আমার যদি ডেলিভারি সিজারে হয় তবে এত টাকা কোথা থেকে দিব।
আমার পরিবার এর অবস্থা ও খুব একটা ভালো না।
আমার বাবা নেই ঘরে ছোট্ট ছোট্ট ২ টা ভাই।
তারা এখনও ছোট্ট।
আর দেবর এর বিয়ে বলে আমার বাড়ি থেকে তাদের বিয়েতে সোনার কানের দুল দিতে হবে।
সব মিলিয়ে অবস্থা খুবই খারাপ।
বিয়ে মানে আমার কাছে এখন যেন এক প্রকার জুলুমি মনে হচ্ছে। তার ছেলের সাথে শুয়ে গর্ভ বতী হলাম। এখন বাচ্চা দুনিয়াতে আনতে ও টাকা পয়সা সব খরচ আমার পরিবার করতে হবে। আমার পরিবার আমাকে জন্ম দিয়ে খুব বড় পাপ করে ফেলেছে।
যে খাটে আবার তার ছেলে আমাকে নিয়ে শু*য়ে থাকবে সে খাট টা ও মেয়ের বাবার বাড়ি থেকে দিতে হবে।
মাথায় বালিশ রাখবে যে সেটা ও বাবার বাড়ি থেকে আনতে হবে সমাজে এক অদ্ভুত নিয়ম ভাই।
এই নিয়ম গুলো ঘৃণা করি।
বিয়ের ২ দিন আগে আমার ডেলিভারি পেইন উঠে পানি ভেঙে যায়।
আমার ছোট্ট ভাইকে ফোন করে তারা৷
কারণ বিয়ের কেনাকাটার জন্য তারা মেডিকেল এ নিয়ে যেতে পারবে না।
পানি ভাঙার অনেক সময় পর আমার ছোট্ট ভাই আসে।
এবং আমাকে মেডিকেল এ নিয়ে যাই।
সিজারে একটা কন্যা সন্তান হয় আমার আলহামদুলিল্লাহ ।।
আমার শাশুড়ি খুশি ছিলেন না আমার কন্যা সন্তান হওয়াতে।
তিনি খুবই লোভী মহিলা ছিলেন। হাসপাতালে আসলেন একদম খালি হাতে। যাওয়ার সময় শুধু ৫০০ টাকা দিয়ে গেলেন।
তাদের বাড়িতে গায়ে হলুদ তাই বেশি সময় থাকলেন না।
আমার স্বামী ও আমাকে খুব একটা কল দিতেন না৷ ঘন্টার পর ঘন্টা মায়ের সাথে কথা বলতেন তিনি।।
মহা ধুমধামে খুবই সুন্দরী একজন বউ আনলেন দেবর এর জন্য।
বিয়ের সময় আমার বা আমার পরিবারের কারো জন্য তিনি কোনো রকম খাবার পাঠালেন না।
উল্টো আরো কত কথা তাদের। বিয়েতে আমার পরিবারের কেউ কেন যায় নি।
দেওয়ার ভয়ে যাই নি।
আমি যেন আসার সময় কানের দুল নিয়ে যাই। আমার কন্যা হয়েছে এখনও কেন ২০ কেজি মিস্টি পাঠাই নি আরো কত কথা তার।
আমার স্বামী তো ১ টা টাকা পাঠালো ও না আরো কত বড় বড় কথা।
সিদ্ধান্ত নিলাম আর যাব না এভাবে আর হচ্ছে না।
তবুও আমার পরিবার আমাকে বুঝিয়ে সুজিয়ে সিজারের দেড় মাস পর আমাকে শশুরবাড়িতে দিয়ে আসলেন।
সাথে ২০ কেজি মিস্টি দিলেন।
নতুন বউ এর জন্য কানের দুল দেওয়ার আর সামর্থ্য হলো না আমাদের। সিজারে সব টাকা মা কিস্তি তুলে পরিশোধ করেছেন।
আমি যাওয়ার পর নতুন বউকে জড়িয়ে ধরলাম। খুব মিষ্টি আর খুবই ভালো মেয়ে।
আমার শাশুড়ি তার প্রশংসা করতে করতে হয়রান।
আমি যাওয়ার পর থেকে সোনার কানের দুল না দেওয়ার জন্য কত কথা শুনালো নতুন বউ এর সামনে আমাকে।
তারপর কাজ কাম রুপ নিয়ে আমার শাশুড়ী বউ টার সামনে কথা শুনাতো আমাকে।
উনি আর উনার ছোট্ট ছেলের বউ হলো সব চেয়ে রুপসী অন্য সবাই যা তা৷
উনার অনেক আফসোস উনার বউ ছেলের বউ দেখতে খুবই বাজে এ কারণে।
ছোট্ট দেবর এর বউ কয়েকদিন এর জন্য ওদের বাড়িতে নাইর গেলো।
সাথে গলার হার শাশুড়ীর হাতে চুড়ি,কানের দুল আমার চেইন, সব পড়ে গেলো তাদের বাপের বাড়ি।
কথা ছিলো কয়েকদিন পর আমার শাশুড়ী সহ গিয়ে নিয়ে আসবে।
৩ দিন পর শুনি উনার প্রাণের বউ আগের প্রেমিকের হাত ধরে সব গয়না নিয়ে পালিয়ে চলে গেছে।।
হায়রে আমার শাশুড়ীর কি আফসোস কি আহাজারি।
ছেলেকে বললেন বাবা চিন্তা করিস না তোর জন্য সেরা বউ নিয়ে আসবো তুই চিন্তা করিস না।
আমি চুপচাপ শুধু চেয়ে চেয়ে দেখতাম কিছু বলি নি। এত টাকা পয়সা খরচ করে এত ধুমধাম করে বউ এনে বউ টা পালিয়ে গেলো কি এক আজব বিষয়।
ভালো মন্দ কিছু বললাম না। আমার মেয়েটা নিউমোনিয়া ধরা পড়ে।
আমার স্বামী একটা টাকা পাঠাতে পারে না কারণ বিয়েতে অনেক টাকা ধার করে দিয়েছে হাতে কোনো টাকা পয়সা নাই৷
আমি তখন মেয়েকে মেডিকেল ভর্তি করালাম৷
তখন শাশুড়ী কে বললাম আমার চেইন টা বাবদ হলেও কিছু টাকা দিন আপনি আমার মেয়ের অবস্থা খুবই খারাপ।
তারা কেউ টাকা দিলো না।
আমার মেয়েটা চিকিৎসার অভাবে নিউমোনিয়াতে মারা গেলো।।
আফসোস আমার পরিবার থেকে যতটুকু সাধ্য করেছে কিন্তুু মেয়েটা বাচলোনা।
আমার মেয়েটা মারা যাওয়ার পর আমাদের বাড়িতে শশুর শাশুড়ী আসে। সবাই আসে..
আমি দাফন করলাম আমার বাপের বাড়িতে আমার মেয়েকে। এটার জন্য আমার শাশুড়ী আমাকে বললও আমি বেয়াদব বউ আমি ভালো না আরো কত কি।
সেদিন উনাকে মুখের উপর বললাম আল্লাহ যেন তোর বিচার করে। তুই অনেক জ্বালাইছস আমাকে।
আল্লাহ যেন তোর মত ডাইনি শাশুড়ীর বিচার করেন।
আমার স্বামী সন্তানহারা আমাকে ইচ্ছে মত অকথ্য ভাষায় গালাগালি করলো। আমি সেদিন প্রতিবাদ করলাম।
সেই সংসারে আর ফিরে যাই নি। আর ইচ্ছে হয়নি ফিরে যেতে।
বাবার বাড়িতে আছি এখন....
আর বিয়ে শাদীর ইচ্ছে আমার নেই। এক জীবনে বিয়ের শখ আমার মিটে গেছে......
কোনো কাবিন এর টাকা কিংবা কিছুই নি নাই আমি। তাদের বিচার আল্লাহর হাতে ছেড়ে দিয়েছি।

Post a Comment

0 Comments