একজন সিইও একজন কাজের মেয়েকে বিয়ে করেছিলেন, যার তিনটি সন্তান ছিল ভিন্ন ভিন্ন পুরুষের… কিন্তু যখন সে তাদের বিয়ের রাতে পোশাক খুলল, তখন পুরুষটি যা দেখল তাতে সে হতবাক হয়ে গেল!
ঢাকার এক অভিজাত ও বিশাল বাড়িতে কাজের মেয়ে হিসেবে কাজ করত সুহাসিনী। বয়স পঁচিশ বছর।
শান্ত, বিনয়ী এবং অত্যন্ত পরিশ্রমী একটি মেয়ে সে।
ওই বাড়ির মালিক ছিলেন একজন সফল ব্যবসায়ী ও বহুজাতিক কোম্পানির সিইও মিস্টার ইয়াসিন।
তিনি কঠোর হলেও ন্যায়পরায়ণ ছিলেন এবং কর্মচারীদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতেন।
বাড়ির ভেতরে সুহাসিনীকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একটি গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল। অনেকেই বলত, সে নাকি গ্রামের জীবনে তিন ভিন্ন পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে তিনটি সন্তান জন্ম দিয়েছে। এই গুজবের কারণে প্রায় সবাই তাকে সন্দেহের চোখে দেখত। কেউ কেউ আড়ালে কটাক্ষ করত, আবার কেউ কেউ সরাসরি অপমানও করত।
কিন্তু সুহাসিনী সবকিছু নীরবে সহ্য করত।
সে প্রতিমাসে তার প্রায় পুরো বেতন বাড়িতে পাঠিয়ে দিত।
কেউ জিজ্ঞেস করলে সে শুধু বলত “হামিম, রাফি আর লায়নার জন্য।” এই তিনটি নামই চারপাশের মানুষের কাছে রহস্য হয়ে উঠেছিল। সময়ের সঙ্গে মিস্টার ইয়াসিন ধীরে ধীরে সুহাসিনীর প্রতি আকৃষ্ট হতে শুরু করেন।
কারণ তিনি লক্ষ্য করেন সে শুধু কাজের মেয়ে নয়, বরং অত্যন্ত দায়িত্বশীল, সৎ এবং নিঃস্বার্থ একজন মানুষ।
একদিন ইয়াসিন গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।
তখন সুহাসিনী দিনরাত তার পাশে থেকে সেবা করে খাওয়ানো, ওষুধ দেওয়া, দেখাশোনা করা সবকিছু সে নিজের হাতে করে।
তার এই নিঃস্বার্থ সেবা দেখে ইয়াসিনের মন বদলে যায়।
তিনি বুঝতে পারেন, মানুষের সম্পর্কে গুজব সবসময় সত্য হয় না। তিনি মনে মনে সিদ্ধান্ত নেন “তার অতীত যাই হোক, আমি তাকেই বিয়ে করব।”
এরপর তিনি সুহাসিনীকে বিয়ের প্রস্তাব দেন।
কিন্তু সুহাসিনী প্রথমে রাজি হয়নি। সে মাথা নিচু করে বলেছিল “স্যার, আপনি অনেক বড় মানুষ।
আমি আপনার যোগ্য নই… আর আমার কিছু দায়িত্ব আছে।” কিন্তু মিস্টার ইয়াসিন হাল ছাড়েন না। তিনি তাকে বোঝান, তিনি তার সব দায়িত্ব মেনে নিতে প্রস্তুত।
ধীরে ধীরে সুহাসিনীও তার কথা বিশ্বাস করতে শুরু করে।
কিন্তু এই সম্পর্ক প্রকাশ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সমাজে শুরু হয় তীব্র সমালোচনা। সবচেয়ে বেশি ক্ষুব্ধ হন ইয়াসিনের মা রাহিমা খাতুন। তিনি রেগে বলেন “তুমি কি পাগল হয়ে গেছ?
একটা কাজের মেয়েকে বিয়ে করবে, যার তিনটি সন্তান আছে! আমাদের পরিবারের মান-সম্মান কোথায় যাবে?”
আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুরাও ইয়াসিনকে নিয়ে হাসাহাসি করতে থাকে। কিন্তু ইয়াসিন কারও কথায় কান দেন না।
তিনি সুহাসিনীর পাশেই অটল থাকেন।
অবশেষে এক সাধারণ অনুষ্ঠানে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।
বিয়ের সময় সুহাসিনী কাঁদতে কাঁদতে বলে “আপনি কি সত্যিই নিশ্চিত? পরে যদি আফসোস করেন?”
ইয়াসিন শান্তভাবে উত্তর দেন “আমি কখনোই আফসোস করব না। আমি তোমাকে এবং তোমার সন্তানদের গ্রহণ করেছি।” বিয়ের রাত। পুরো ঘর ছিল নিস্তব্ধ।
বাইরে শহরের আলো জ্বলজ্বল করলেও ভেতরে নেমে এসেছে অদ্ভুত এক ভারী নীরবতা। সুহাসিনী ভীষণ নার্ভাস ছিল। মিস্টার ইয়াসিন ধীরে ধীরে তার কাছে এসে বলেন “ভয় পেও না, এখন তুমি আমার স্ত্রী।”
তিনি তার কাঁধে হাত রাখেন।
সুহাসিনী ধীরে ধীরে নিজের ভয় ও দ্বিধা কাটিয়ে ওঠে।
কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তে, যখন সে নিজের দীর্ঘদিনের চাপা সত্য প্রকাশ করার সাহস জোগায়…মিস্টার ইয়াসিন যা দেখেন, তিনি এক মুহূর্তে স্তব্ধ হয়ে যান।
তার চোখ বিস্ময়ে বড় হয়ে যায়। কারণ যেটা তিনি ভাবতেন, বাস্তবতা তার থেকে সম্পূর্ণ আলাদা ছিল।
আর সেই রাতেই ভেঙে যায় সব গুজব…এবং সামনে আসে সেই সত্য, যা পুরো গল্পটাকেই অন্য দিকে ঘুরিয়ে দেয়।

0 Comments