গল্প_আমার_ভালোবাসার_প্রিয়া_তুমি

গল্প_আমার_ভালোবাসার_প্রিয়া_তুমি


বিয়ের মঞ্চের একপাশে বিশাল বড় দুইটা খাঁচা। একটায় দুই টা বাঘ অন্য টায় দুইটা সিংহ মঞ্চের অন্য পাশে খাঁচায় ক্যাসোওয়ারি পাখি ও বাজপাখি মঞ্চের মাঝে দাঁড়িয়ে আছে নতুন নব দম্পতি। wife এইজেল ইলদিজ পরি husband ভিরাজ চৌহান রাইফ। এই দম্পতির আরো একটা পরিচয় আছে, হাজব্যান্ড কালো দুনিয়ায় রাজা ব্লাক কিং ওয়াইফ মাফিয়া কুইন পরি। চারপাশে মানুষেরা পরি ভিরাজের দিক থেকে চোখ সরাতে পারছে না এ জেনো সত্যি রাজা ♔ রানী ♚ পরি কে দেখতে কোনো অংশে রানীর থেকে কম লাগছে না সাদা সিম্পল একটা লং গ্রাউন ঘের খুব বেশি নয় গ্রাউনের গলাও হাতে ছোট ছোট নীল হীরা যা সূর্যের আলোয় ঝলকাচ্ছে আরো কিছু নাম না জানা পাথর বসানো হয়েছে গলাও হাতায়। পরির হাতে আছে বিশ্বের সবচেয়ে দামি ঘড়ি গলায় রয়েছে হাজার কোটি টাকা দামের নেকলেস যা পৃথিবীতে মাত্র এক পিস আছে মাথায় রাজকীয় ক্রাউন ও সাদা ওড়না। ভিরাজ স্কাই ব্লু কালারের ফর্মাল গেটাবে এসেছে হাতে ওর কোটি টাকার ঘড়ি।
সব মাফিয়া রা দাঁড়িয়ে থাকে কালো দুনিয়ায় রাজা ব্লাক কিং রাইফ এর পূর্নতা দেখছে আর হিংসায় জ্বল পুড়ে যাচ্ছে যেখানে অন্য মাফিয়া রা বিয়ে করতে ভয় পায় শুধু তাদের দুর্বলতা তৈরি হবে দেখে। সেখানে ভিরাজ পুরো আন্ডার ওয়ার্ল্ডের মাফিয়া দের নিজের বিয়েতে দাওয়াত করে দেখাচ্ছে তবে দুর্বলতা হিসেবে না গর্বিত হিসেবে তার বউ যে কোন সাধারণ মানুষ নয় অল্প বয়সী ধূর্ত এক অসাধারণ অনেক মাফিয়া হচ্ছে মাফিয়া কুইন পরি যার প্রসংশা না করলেই নয়। সব অতিথির হাতে নামি দামি ওয়াইন ও মদের গ্লাস একে অন্যে সাথে গল্প করতে ব্যস্ত।
পরি ভিরাজের সাথে এসে পরিবারের ও আত্মীয়রা এসে ছবি তুলছে। বাহিরের কোনো অতিথির মঞ্চে উঠার অনুমতি নেই এটা ভিরাজের আদেশ। ভিরাজ চায় না সে ব্যতীত অন্য কোন পুরুষ তার স্ত্রীর পাশে এসে দাঁড়িয়ে ছবি তুলুক হোক সেটা বিয়ের অনুষ্ঠান কিংবা অন্য কোথাও তার স্ত্রীর শুধু সে থাকবে অন্য কাউকে সে তার প্রিয় মানুষের পাশে কখনোই এলাও করবে না।
শাহ ইলদিজ ও শেক পরিবারের সবাই যখন স্টেজে ঠিক ওই মুহূর্তে ভিরাজ পরির সামনে হাটুর বসে।সব অতিথিদের চোখ স্টেজের দিকে, সব মাফিয়া রা অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ভিরাজ পরির দিকে! সবাই ভিরাজ কে দেখে অবাক যেই ভিরাজ কোনো দিন কারো সামনে মাথা নিচু করে কথা বলা তো দূরে চোখ ও নিচে নামায় না সে কিনা হাঁটু গেড়ে বসেছে তাও কোনো মেয়ের সামনে তবে মেয়ে টা যদি হয় মাফিয়া কুইন পরি তাহলে পরির সামনে মাথা নিচু করে বসে থাকার মাফিয়ার অভাব হবে না।
ভিরাজ পরির সামনে হাঁটু গেড়ে বসা আস্থায় নিজের পকেট থেকে একটি ছোট্ট সুন্দর বক্স বের করে মেলে ধরে বক্সের ঢাকনা খুলতেই ভিতর থেকে আলোর রশ্মি ছড়ায় নীলাময় এক পাথরের তৈরি অসম্ভব সুন্দর আন্টি। নীলাময়ে এই পাথরের নাম ব্লু ডায়মন্ড যা এই মূহুর্তে পৃথিবীতে মাএ এক পিস আছে। ভিরাজ পরির দিকে নিজের হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলে
----" আমি তোমাকে সারা জীবন আগলে রাখতে চাই প্রিয়া
চারপাশ থেকে মানুষের চিৎকার বেশে আসছে সবাই say yes বলে চিৎকার করছে ভিরাজ আবার ও বলে উঠে
---" আমাকে কী তোমায় আগলে রাখার অনুমতি দিবে প্রিয়া
পরি ভিরাজের দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলে
~" জি অবশ্যই
পরি ভিরাজের দিকে হাত বাড়িয়ে দেয় ভিরাজ পরির হাতে সেই নীলাময় আন্টি টি পড়িয়ে দেয় সবাই এক সঙ্গে হাত তালি দিচ্ছে। ভিরাজ উঠে দাঁড়িয়ে পরি কে জড়িয়ে ধরে পরি ও ভিরাজ কে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে। রাইমা শেক পরি ভিরাজের দিকে এগিয়ে এসে জড়িয়ে ধরে দুইজনের কপালে চুমু দিয়ে বলে
-" আল্লাহ তোমাদের সব সময় সুখে রাখুক
আখিল শেক ভিরাজ পরির কাছে এগিয়ে আসে ওনার হাতে একটা গয়নার বাক্স ভিরাজ বাবা কে জড়িয়ে ধরে। পরি আখিল শেক এর হাতে চুমু খেয়ে সন্মান করে এটা তুর্কি এটা টেডিশান রাইমা শেক গয়নার বাক্স খুলে বক্সের ভিতর খুব সুন্দর একটা ডায়মন্ডের নেকলেস পুরো নেকলেস সাদা হীরার শুধু মাঝখানে গাড়ো সবুজ রঙের হীরার বসানো। রাইমা শেক এর পক্ষ থেকে ছেলের বউয়ের জন্য বিয়ে উপহার। রোজা ইলদিজ রেহাম শাহ নিজের মেয়ে ও জামাই কে গিফট দিতে আসে রেহাম শাহ ভিরাজ কে দাবি বন্ডের ঘড়ি গিফট করে রোজা ইলদিজ পরি কে ডায়মন্ডের নেকলেস উপহার দেয় সাথে একটা বিলা বাড়ি ও গাড়ি গিফট করে। মোয়াজ ইলদিজ ও রাওহা ইলদিজ পরি ভিরাজের কাছে আসলে পরি মোয়াজ ইলদিজ ও রাওহা ইলদিজ কে জড়িয়ে ধরে রাওহা ইলদিজ বলে
-" আমাদের দুজনের গিফট সিক্রেট থাকুন পরে দিবো
পরি হেসে উওর দেয়
~" তোমাদের দোয়া আমার জন্য যথেষ্ট আর কিছু লাগবে না
-" পাগলি বাচ্চা দের মতো কথা বলে
মোয়াজ ইলদিজ এর কথা শুনে রাওহা ইলদিজ বলে
-" পরি নানু মনি এখনই সময় সবার কাছ থেকে গিফট পাওয়ার সময় যা মন ছায় ছেয়ে নেও এই সময় আর আসবে না
পরি রসিকতা করে বলে
~" কেনো পরে চাইলে কী দিবে না
পরির কথা শুনে দুই জন হেসে উওর দেয়
-" তোমার জন্য সব কিছু উন্মুক্ত আমাদের সব কিছুই তোমার তুমি আমাদের প্রথম ভালোবাসার নাতনি
--" তাহলে আমি কে দাদু...?
পিছন থেকে কারো কথা শুনে সবাই ওই দিকে তাকিয়ে দেখে ইয়ান দাঁড়িয়ে আছে, পরি ইয়ান দেখে একটু অবাক হয়। পরি ভেবেছে ইয়ান আসবে আসবে না কারণ ইয়ানের আম্মু আব্বু আগে এসেছিলো তাই ও ভেবেছে ইয়ান হয়তো আসবে না। আর ইয়ানের না আসা টাও স্বাভাবিক কেই বা নিজের পছন্দের মানুষের বিয়েতে আসবে এটা কল্পনার বাহিরে। ইয়ান পরি কে অনেক আগে থেকে ভালোবাসে এটা পরি বুঝতে পেরেও চুপ ছিলো চুপ থাকার ও কারণ ছিলো তখন পরির জীবনের লক্ষ একটা ছিলো পরিবার কে খুঁজে বের করা আর তখন তো ওর সৃতি ছিলো না।
ইয়ান ভিরাজ কে জড়িয়ে ধরে হাসি মুখে অভিনন্দন জানায়। যেই হাসিতে ছিলো কষ্ট চাপ। ইয়ান পরির দিকে তাকিয়ে বলে
---" তোমারা দুজনে অনেক সুখি হও
ইয়ান অর্ধেক কথা বলে থেমে যায় মলিন হাসি দিয়ে বলে
---" তুমি যতটা সুখে থাকলে আমার হিংসে হবে ঠিক ততটা সুখে তুমি থাকো
ইয়ানের কথা শুনে উপস্থিত সবাই একটু হতবাক হয়ে থাকে ওর দিকে ইয়ান সবাইকে স্বাভাবিক করতে বলে ওঠে
--" এবার থেকে আমার ভালোবাসা বেড়ে যাবে সবাই তো পরি জন্য আমাকে একটু কম করে ভালোবাসতো। তাই হিংসা হচ্ছিল এখন আবার ওর বিবাহিত জীবন দেখে আমার হিংসা হচ্ছে ওর থেকে বয়সে বড় হয়ে এখন আমি অবিবাহিত সিঙ্গেল রয়ে গেলাম অথচ পরির বিয়ে হয়ে গেল যদিও আমার সারা জীবন সিঙ্গেল থাকার ইচ্ছে আছে
পরি কিছু বলে তবে ভিরাজের মুখ দেখে বুঝা যাচ্ছে ইয়ানের ব্যবহারে বিরক্ত যদিও পরি জানে ইয়ান সম্পর্কে ভিরাজ এখনো কিছু জানে না তা না হলে ইয়ার এখানে দাঁড়িয়ে হাসি মুখে কথা বলতে পারত না তাও আবার ওদের বিয়ের মঞ্চে দাঁড়িয়ে।
--" তোমাদের জন্য গিফট আছে
ইয়ান নিজের কথা শেষ করে পকেট থেকে ছোট একটা বক্স বের করে বক্সের ঢাকনা খুলি পরি ভিরাজের দিকে তাকিয়ে বলে
---" কাপল রিং তোমাদের জন্য
প্রথমে রিং হাতে নিয়ে ভিরাজ কে পড়িয়ে দেয় দ্বিতীয় বার রিং হাতে নিয়ে পরির দিকে তাকিয়ে হাত সামনে নিতে গেলে ভিরাজ ইয়ানের হাত ধরে দাঁতে দাঁত চেপে বলে
__" আপনাকে কষ্ট করে আমার ওয়াইফের হাতে আংটি পোড়াতে হবে না আমাকে দিন আমি করিয়ে দিচ্ছি
--" জেলাসি ইন্টারেস্টিং ভালোবাসা দেখলেও ভালো লাগে নিন আপনার ওয়াইফ কে আপনি পড়িয়ে দিন
ইয়ান মনে মনে বলে -----" পরির হাত ধরার অধিকার আমি হারিয়ে ফেলেছি শরীর শোয়ার ইচ্ছে তো আমার কোনদিনও জাগেনি ওরই এই হাত টুকু স্পর্শ করা আমার জন্য অনেক পাওনার ছিলো
ইয়ান আর কিছু বলে না আস্তে করে স্টেজ থেকে নেমে যায় ইয়ানের মা দূর থেকে দাঁড়িয়ে ছেলের জীবনের প্রথম হেরে চলে যাওয়া দেখেলো। ইয়ান চাইলে পরি কে জোর করে বিয়ে করারা চেষ্টা করতে পারতো। বা লুকিয়ে রাখতে পারতো কিন্তু ইয়ান এসবের কিছুই করেনি। হয়তো ভালোবাসার কাজে নিজের পরাজয় মেনে নিয়েছে নয়তো অন্য কিছু সারা জীবন অপ্রকাশিত থেকে যাবে।
পরি ভিরাজের সামনে বিশাল বড় সাইজের ওয়েডিং কেক এনে রাখা হয়েছে। পরি ভিরাজ এক সঙ্গে কেক কাটে ভিরাজ পরি কে কেক খাইয়ে দেয়। বিয়ের অনুষ্ঠানে রয়েছে লাইভ মিউজিকের ব্যবস্থা যেখানে বিভিন্ন দেশের স্বনামধন্য শিল্পীরা গান করছে টার্কিশ আমেরিকান বাংলাদেশী পাকিস্তানি আরো কয়েকটা দেশের শিল্পীরা একে গান করছে। দিনের আলো নিভে গিয়ে ধরণীর বুকে রাত নেমে আসছে। সমুদ্রের পাড়ে দাঁড়িয়ে বিয়ের অনুষ্ঠানের সাথে সূর্য ডোবার মুহূর্ত উপভোগ করছে সমস্ত অতিথিবৃন্দ। এ যেন এক অন্যরকম অনুভূতি সমুদ্রের একপাশ থেকে সূর্য অর্ধেক ডুবে আছে আর অর্ধেক সমুদ্রের সঙ্গে মিশে গেছে লাল সোনালী আলো চারপাশে আলোকিত। পরি ভিরাজের বিয়ের অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে বিকেলের একটু আগে হয়তো ওদের প্লেনে ছিল মানুষকে সানসেট দেখানো।
পরি ভিরাজ অতিথি দের সাথে হাসি মুখে কথা বলছে।

Post a Comment

0 Comments