সায়মা বেগম অরুর কথা শুনে চি'ন্তা'য় পড়ে গেল। ছেলেটার আবার কোনো বি'প'দ হয়নিতো। সায়মা বেগম খা'রা'প হলেও সে তার ছেলেকে অনেক ভালোবাসে। সায়মা বেগম এবার নিজের ফোন দিয়ে ফোন দিতে থাকে। তাও কেউ ফোন রিসিভ করছেনা। সায়মা বেগম অরুকে বলল -- তোমার জন্য আমার ছেলের আজ এই অবস্থা জানিনা আমার ছেলেটা কোথায় আছে এখন কেমন আছে। আমার ছেলের যদি কিছু হয়ে যায় নাহলে আমি তোমাকে কখনো ক্ষমা করব না।
সায়মা বেগম আবিরকে কল দিচ্ছে, কিন্তু কেউ ফোন রিসিভ করছেনা। অরু আর সায়মা বেগম খুব চি'ন্তা'য় পড়ে গেলো। এতো রাতে আবির কোথায় চলে গেলো?
ঘড়িতে রাত ২টা বাজে হঠাৎ একটা গাড়ির শব্দ শুনে অরু আর সায়মা বেগম দরজার কাছে চলে গেলো। তখনই দরজার কলিং বেলে চাপ পড়লো। দরজা খুলে দেখে আবির দরকার কাছে দাড়িয়ে আছে। সায়মা বেগম আবিরকে ভিতরে এনে বলল -- বাবা তুই এতো রাত অ'ব্দি কোথায় ছিলি? আর তোকে আমরা কতো কল দিচ্ছিলাম কল রিসিভ করিস নাই কেন?
আবির কোনো কথার জবাব না দিয়ে চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল। অরু বলল -- কি হইছে কথা বলছেন না কেন? আপনি কোথায় চলে গিয়েছেন? আপনি কি জানেন না আপনার জন্য কেউ অপেক্ষা করে আছে? নাকি জেনেও ইচ্ছে করেই এমন করছেন?
আবির কোনো কথাই বলছেনা। সায়মা বেগম আবার বলল -- আবির বাবা কথা বলছিস না কেন? কি হইছে তোর? আমার ভালো লাগছেনা বাবা৷
আবির কারো কথার উত্তর না দিয়ে সে নিজের রুমের দিকে চলে গেলো। আবিরের পিছনে অরু ও চলে গেলো। অরু রুমে গিয়ে দেখে আবির খাটের উপরে শুয়ে আছে। অরু আবিরের কাছে গিয়ে বলল -- আপনার কি শ'রীর খা'রা'প? কিছু কি হয়েছে আপনার?
-- আমাকে ডি'স্টা'র্ব করবেনা। যাও তুমি আমি একটু একা থাকতে চাই।
-- আপনাকে আমি কিছু প্র'শ্ন করেছি, আপনি আমার প্রশ্নের উত্তর দিন৷ কোথায় ছিলেন আপনি এতো রাত অ'ব্দি?
-- আমি কোথায় ছিলাম না ছিলাম সেই কৈ'ফিয়ত কি তোমাকে দিতে হবে নাকি?
-- আপনি এতো রাত অ'ব্দি বাহিরে ছিলেন কেন?
-- এটা আমার বাড়ি আমার যখন ইচ্ছে আমি আসবো যখন ইচ্ছে হবে আমি বাহিরে যাবো। আমার কোনো ব্যাপারে কথা বলতে আসবে না নেক্সট টাইম থেকে।
এই কথা বলে আবির আবার খাটের উপরে শু'য়ে গেলো। আর অরু দাঁড়িয়ে কা'ন্না করতে থাকে। আবিরের এমন ব্যা'বহারে অরু খু'ব ক'ষ্ট পেয়েছে।
অরুর চো'খ দিয়ে ট'প'ট'প করে পানি পড়তে থাকে। অরু কিছুতেই ঘুমাতে পারছেনা। আবিরের বলা কথা গুলো অরুর কানে বার বার বেজেই যাচ্ছে। দেখতে দেখতে সকাল হয়ে আসলো। অরু কাওকে কিছু না বলে নিজের জামাকাপড় গুছিয়ে নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে গেলো। আর সোজা তার বাবার বাড়িতে চলে যায়।
আবিরের কথায় অনেক বেশি ক'ষ্ট পেয়েছে মেয়েটা। তাই কাওকে কিছু না বলে সকাল সকাল বাবার বাড়িতে চলে গেলো। অরু তার বাড়িতে গিয়ে দরজার কলিং বেলে চাপ দেওয়ার অনেক্ষন পরে তার মা এসে দরজা খুলে অরুকে দেখে অবাক হয়ে যায়।
-- কিরে মা এতো সকাল সকাল তুই এখানে? আর তুই একা কেন? তোর জামাইকে তো দেখতে পাচ্ছিনা।
-- আমি একা এসেছি,আর আমার সাথে কেউ আসে নাই। আর আমি কাওকে না জানিয়েই চলে আসছি ওখানে।
-- কেন কি হয়েছে হঠাৎ করে যে তুই কাওকে না জানিয়েই চলে আসলি?
-- আমি এখানে আসাতে মনে হয় তোমার সমস্যা হচ্ছে! তাহলে আমি চলে যাচ্ছি।
-- আরে দাড়া। আমি কি সেটা বলছি নাকি।
তারপর অরুর মা অরুর বাবাকে ডেকে নিয়ে আসে। অরুর বাবা অরুকে দেখে অবাক হয়ে যায়।
-- কিরে তুই এতো সকাল সকাল এখানে? আর জামাই কই?
-- আমি একাই আসছি। আর আমি যে এখানে আসছি ওটা কেউ জানেনা।
-- কি হইছে ওখানে কি কোনো সমস্যা হইছে?
-- না।
-- তাহলে কাওকে না বলে চলে আসলি তোকে নিয়ে চিন্তা করবে না তারা?
অন্যদিকে আবিরের ঘুম ভেঙে যায়। সে ঘুমঘুম চোখে তাকিয়ে দেখে অরু তার পাশে নেই। তারপর আবির অরুকে খুজতে বের হয়ে যায়। রান্না ঘরও খুজে দেখে। তারপর আবিরের চোখ পড়ে দরজার দিকে দরজা খোলা। দরজা খোলা দেখে আবির একটু ভ'য় পেয়ে গেলো। মেয়েটা এতো সকাল সকাল কই চলে গেলো?
তারপর আবির অরুকে ফোন দিতে থাকে। কিন্তু অরু আবিরের ফোন রিসিভ করছেনা। আবির বুঝতে পারছে অরু কাল রাতের ব্য'ব'হা'রে অনেক ক'ষ্ট পেয়েছে।আবির এবার অরুর আম্মুর নাম্বারে কল দিয়ে জানতে পারে অরু তাদের বাসায় চলে গেছে। আবিরও কিছুক্ষণ পরে বের হয়ে যায় অরুকে নিয়ে আসতে।
কিছুক্ষণের মধ্যে আবির ওখানে পৌছে যায়৷ আবির অরুর বাসায় গিয়ে প্রবেশ করে। আবিরকে দেখে অরুর মা বাবা এগিয়ে আসলো। তারপর তারা তিনজন বসে কথা বলতে থাকে। অরুর বাবা বলল -- বাবা কি হইছে তোমাদের মধ্যে যে, অরু এইভাবে কাওকে না বলে চলে আসছে।
-- আসলে কাল একটু ঝা'মেলা হইছে৷ সেই জন্য অরু রা'গ করছে।
অরুর মা অরুকে ডাক দিয়ে নিয়ে আসলো। অরু আবিরের পাশে এসে বসে। আর সায়মা বেগমের সব কথা সবাইকে বলতে শুরু করে। সবাই তো অরুর কথা শুনে অবাক। সব থেকে বেশি অবাক হচ্ছে আবির, তার মা এসব করতে পারে সে বিশ্বাস করছেনা।
আবির বলল -- অরু তোমার হয়তো ভুল হচ্ছে কোথাও। আমার মা এমন করতে পারেনা। আমার মা আমাকে অনেক ভালোবাসে। আমি এসব বিশ্বাস করিনা।
জানি আপনি এটা বিশ্বাস করবেন না। আপনাকে বিশ্বাস করানোর জন্য এই বাড়িতে কিছু দিন থাকতে হবে।
-- আমি রাজি আছি। কিন্তু এসব যদি মি'থ্যা হয় তাহলে কি হবে?
-- আপনি আমাকে যে শা'স্তি দিবেন আমি তাই মাথা পেতে নেবো।
তারপর দুই দিন কেটে গেলো। অন্য দিকে সায়মা বেগম একা একা বাসায়। তার কোনো কিছুই ভালো লাগছে না৷ সায়মা বেগম মনে মনে ভাবছে আমি কি আমার ছেলেটাকে হারিয়ে ফেললাম? আমার ছেলেকি আর আমার কাছে ফিরে আসবেনা? না আমি গিয়ে ওদের নিয়ে আসবো। আমি আমার ছেলেকে ছাড়া থাকতে পারবোনা। এইসব ভেবে সায়মা বেগম বের হয়ে অরুর বাসার দিকে চলে যায়।
কিছুক্ষণের মধ্যে অরুর বাসায় পৌছে যায় সায়মা বেগম। সায়মা বেগম দরজার কলিং বেলে চাপ দিতেই অরুর মা এসে দরজা খুলেদেখে সায়মা বেগম। অরুর আম্মু তাড়াতাড়ি করে সায়মা বেগমকে বাসার ভিতরে নিয়ে আসে। একটু পরে অরু আর আবিরও এখানে আসে। সায়মা বেগম নিজের ভু'ল বুঝতে পেরেছে।
সায়মা বেগম অরুর কাছে গিয়ে বলল -- বউমা আমি তোমার সাথে অনেক অ'ন্যা'য় করছি। তার জন্য আমি সত্যি অ'নু'ত'প্ত। আমাকে তুমি ক্ষ'মা করে দিও।
-- মা আপনি আমার কাছে ক্ষ'মা চেয়ে আমাকে অ'প'রা'ধী বানাবেন না। আপনি আপনার ভুল বুঝতে পারছেন সেটাই অনেক।
আবির নিশ্চুপ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সে কোনো কিছুই বুঝতে পারছেনা। তখন সায়মা বেগম আবিরের দিকে এগিয়ে এসে বলে -- বাবা তুই আমাকে ক্ষ'মা করে দিস। আমি তোকে হারিয়ে ফেলার ভয়ে কোনো মেয়ের সাথে মি'শতে দেইনি এবং তোর ভালোবাসার মানুষ লামিয়াকেও আমি তা'ড়িয়ে দিয়েছিলাম।
আমি চাইনি তুই কারো মায়ায় পড়ে আমাকে ভু'লে যাস। আমি সেই জন্য অরুর সাথেও অনেক অ'ন্যায় করছি। যেটা আমার মা হয়ে করা উচিৎ হয়নি। আমি সত্যি অ'নু'ত'প্ত তুই আমাকে ক্ষ'মা করে দিস বাবা।
এই কথা বলে সায়মা বেগম কা'ন্না করে দেয়। তখন আবির তার মায়ের চোখের পা'নি মুছে দিয়ে বলল -- তুমি আমার মা! আমি তোমাকে সত্যি অনেক ভালোবাসি! আর আমার জীবনে যেই আসতোনা কেন সব সময় তুমি আমার কাছে আগের মতোই থাকতে। আর তোমার উপরে আমার কোনো রা'গ বা অ'ভি'মান নেই মা।
তারপর সায়মা বেগম আবিরকে জড়িয়ে ধরে কা'ন্না করতে থাকে। তারপর অরুকে নিজের দিকে ডেকে এনে ছেলে আর ছেলের বউকে জ'ড়ি'য়ে ধরে দুইজনের ক'পালে চু'মু খায় সায়মা বেগম। তারপর থেকে তাদের জীবন খুব ভালো ভাবে চলতে থাকে।

0 Comments