আফনান প্রায় ৩০ মিনিট যাবত নিজের বিবাহিত স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে আছে।মন ভরে দেখছে।হ্যা এই মেয়েটার জন্যই নিজের বউকে অস্বিকার করেছিল।আর ৮ বছর দেশের বাহিরে ছিল।একটু ঝুকে কপালে চুমু দিল।বাইরে থেকে রমনির বাবা চিৎকার করে ডাকছে।সে কোনভাবেই এই ছেলের সাথে তার মেয়েকে সংসার করতে দিবেনা।কিন্তু তার কিছুই রুমে আসছেনা কারন রুমটা সাউন্ড প্রুভ।তবে হ্যা আফনান জোর করে সিনিগ্ধাকে রুমে এনেছে।সাইট টেবিল থেকে পানি নিয়ে এসে চোখ মারল।ওমনি অপূর্ব চেহারার রমনি পিট পিট করে চোখ খুলতে লাগল।আর আফনান তা মন ভরে দেখতে লাগল।অপূর্ব চেহারার রমনি আস্তে আস্তে উঠে বসার চেষ্টা করল কিন্ত পারলোনা।কারন একটা শক্তপোক্ত হাত তার কোমড় জরিয়ে ধরে আছে।চমকে উঠে পাশ ফিরিয়ে তাকিয়ে দেখল একটা নেশাক্ত দৃষ্টি তার দিকে তাকিয়ে আছে।হঠাৎ প্রচন্ড ভয় পেয়ে চিৎকার করতে যাবে তার আগেই আফনান মুখটা চেপে ধরে বলল হুস এমন চিৎকার কর কেন বউ।আমি তো তোমার সাথে কিছু করেনি যে চিৎকার করতে হবে।বলেই হাত - পা দিয়ে অপূর্ব চেহারার রমনিকে শক্ত করে জরিয়ে ধরল।
অপূর্ব চেহারার রমনির রাগে মুখটা লাল হয়ে উঠল।প্রচন্ড রাগ- ঘৃনা হচ্ছে এই লোকটার প্রতি।কম লোকের কথাতো শুনেনি এই ৮ বছরে সে।বার বার ওয়েট করেছে লোকটা হয়ত তাকে মেনে নিবে
কিন্তু লোকটা ফিরেও তাকায়নি।তাহলে আজ কেন এমন নাটক করছে নাকি আমার রুপ দেখে পাগল হয়ে গেছে এই লোক।যদিও হয়ও আমি এই লোককে ডিভোর্স দিব কোনভাবেই সংসার করা সম্ভবনা।কারন লোকটার প্রতি গত ৩ বছর ধরে ঘৃনা জমে গেছে।যা চাইলেও সহজে ভালোবাসায় পরিনত হবেনা।তাই জোরে ধাক্কা দিতে লাগল।কিন্তু আফনানকে সরাতে পারলোনা।এবার সে মুখ থেকে হাত সরানোর জন্য পাগলের মতো ছটফট করতে লাগল। আফনান অবশেষে নিজের বিবাহিতা স্ত্রীর মুখটা ছেড়ে দিল। মুক্ত হতেই সে গভীরভাবে, জোরে জোরে শ্বাস নিতে শুরু করল। তীব্র শ্বাসের তালে তালে তার সুন্দর ঠোঁটগুলোও কেঁপে উঠতে লাগল বার বার—আর সেই দৃশ্য দেখে আফনানের মনে এক অদ্ভুত নেশা খেলে গেল।এক পলকেই সে সব ভুলে গিয়ে এগিয়ে গেল স্ত্রীর ঠোঁটের দিকে—যেন এই পৃথিবীতে আর কিছুই দেখার মতো নেই তার কাছে, নেই শোনার মতো কিছু… শুধু আছে এই কাঁপতে থাকা ঠোঁট আর তার মাদকতা।যেই না ঠোটগুলো ছুবে ওমনি আফনানের পকেটে থাকা ফোনটা বেজে উঠল। বিরক্তিতে মুখটা শক্ত হয়ে গেল তার। এক মুহূর্তের জন্য থমকে দাঁড়িয়ে ফোনটা বের করে আচমকাই ফ্লোরে ছুঁড়ে ফেলল। বিকট শব্দে ফোনটা ভেঙে গেল, আর সেই দৃশ্য দেখে তার স্ত্রী ভয়ে সিঁটকে উঠল—চোখে-মুখে স্পষ্ট আতঙ্কের ছাপ।স্ত্রীর এমন ভয় দেখে আফনান ধীরে ধীরে এক ধাপ এগিয়ে এসে চোখ দুটো তীক্ষ্ণ দৃষ্টি মেলে তাকিয়ে রইল তার স্ত্রীর মুখের দিকে—যেন এই ভয়টাই তার নেশা।তবে কিছু একটা ভাবতেই তার ঠোঁটের কোন অদ্ভুত এক রহস্যময় তৃপ্তির হাসি খেলে গেল… যেন স্ত্রীর এমন ভয় পাবার মুহূর্তটাই সে সবচেয়ে বেশি চেয়েছিল।আফনান রমনির ঠোটের দিকে তাকিয়ে নেশাভরা কন্ঠে বলল,
“তোমার নাম কি?”
অপূর্ব চেহারার রমনি খানিক ইতস্তত করে, দৃষ্টি নামিয়ে নিচু কণ্ঠে বলল,
“সিনিগ্ধা….”
নামটা শোনামাত্রই আফনানের কানে যেন হাজারবার প্রতিধ্বনিত হতে লাগল—‘সিনিগ্ধা… সিনিগ্ধা…’ নামটার প্রতিটা অক্ষরেই যেন এক অদ্ভুত নেশা মিশে আছে।আচ্ছা এই মেয়ের রুপের মত কন্ঠ এত সুন্দর কেন।যেন এক মাদকতা আছে এই মেয়ের মাঝে।
কিন্তু পরক্ষনেই তার চোখ আটকে গেল রমনির মুখের উপর—ভয়ে কাঁপতে থাকা ঠোঁট, বড় বড় চোখ, আর অনিয়মিত শ্বাসের তালে বুকের ওঠা-নামা…
হঠাৎই খুব আস্তে, প্রায় ফিসফিস করে নিজেরই অজান্তে আফনানের মুখ থেকে বেরিয়ে এলো,
“আমার… সিনিগ্ধময়ী…”
মুহূর্তেই আফনানের হৃদয়ে অদ্ভুত এক ঝড় বয়ে গেল—যেন এই মেয়ের মধ্যে কোনো অজানা রহস্য আছে, যা সে চাইলেও উপেক্ষা করতে পারবে না…
'রমনি দেখল দরজাটা আটকানো। তাই হালকা ঢোক গিললো।আফনানের হাতে জোরে কামর দিয়ে দরজার দিকে ছুট লাগাল।আফনান ব্যাথা পেল খুব।তবে সব উপেক্ষা করে রমনির পিছনে ছুটল।টান দিয়ে পিছন থেকে জরিয়ে ধরল রমনিকে।
হেই বিউটুফুল ওয়াইফ এভাবে দৌড় ঝাপ করছ কেন? তা তুমি আমাকে কামর দিলে এখন আমি যদি তোমায় কামর দেয় কেমন হবে বলোতো।
এমন লাগামহীন কথা শুনে সিনিগ্ধা কেপে উঠল।প্রচন্ড লজ্জা + রাগের কারনে তার মুখটা টমেটোর মত লাল হয়ে উঠল।তার এসব নেকামি সহ্য হচ্ছেনা।আবার এই বলিষ্ঠ সুদর্সন যুবকের সাথে পেরেও উঠছেনা।
-------------------------
আফনানের গরম শ্বাসের উষ্ণতা ঠিক সিনিগ্ধার গালের পাশে এসে লাগতেই ওর সমস্ত শরীর একেবারে কেঁপে উঠল। বুকের ভেতর যেন অজানা এক ঢেউ ছুটে গেল, নিঃশ্বাস দ্রুত হয়ে এল—আর নিজের অজান্তেই চোখ দুটো বুঁজে ফেলল সে।
আর ঠিক তখনই সামনের বড় আয়নায় দু’জনের প্রতিবিম্ব ধরা পড়ল।আফনানের চোখ আটকে গেল সেই আয়নায়। সেখানে সে দেখল—্
তার শক্ত বাহুতে বন্দী এক লজ্জায় লাল হয়ে যাওয়া রমণী, যার চোখ বন্ধ—মুখে লেখা আছে ভয়, লজ্জা আর মধুর কাঁপুনি।
এই দৃশ্য দেখে আফনানের চোখের কোণে ফুটে উঠল এক রহস্যময় তৃপ্তির ছায়া। ঠোঁটে ভেসে এল এক নরম অথচ শয়তানি হাসি—যেন এই লাজুক রমনিই তার সমস্ত নেশা, তার জগৎ।
ধীরে, একেবারে কানে কানে ফিসফিস করে বলল,
“তোমায় নিয়ে… আয়নাও কবিতা লিখতে পারে, সিনিগ্ধা… জানো?”
বলেই হাত দুটোয় আলতো চুমু খেল।
আফনানের ঠোঁটের স্পর্শ নিজের হাতে পেতেই সিনিগ্ধার বুকের ভেতরটা আরও জোরে ধুকধুক করতে লাগল। মুখটা আরও লাল হয়ে উঠল, নিঃশ্বাস যেন গলা পর্যন্ত এসে আটকে গেল।যেন সে আফনানের কাছে নিজেকে একেবারে উন্মুক্ত করে দিয়েছে—না, শুধু দেহে নয়… বরং হৃদয়ের গভীরতায়, যেখানে সে আর কিছুই লুকাতে পারছে না ।
★★প্রায় ৩০ মিনিট পরঃ
সিনিগ্ধা বুঝল যে শক্তি দিয়ে আফনানের সাথে সে পারবে না তাই বুদ্ধুি খাটাল।আফনানকে বলল আমি ওয়াশরুমে যাব।আফনান জরিয়ে ধরা অবস্থায় বলল "ওয়াশরুমে কেন? এত তাড়া কীসের?"
এই কথায় সিনিগ্ধার ভিতরে আগুন জ্বলে উঠল। সে দাঁতে দাঁত চেপে চোখ তুলে কটমট করে আফনানের দিকে তাকাল—একেবারে বজ্র চাহনি।
আফনান কিছুটা থতমত খেয়ো গেল।এই প্রথম কেউ তার দিকে এমন তাকানোর সাহস করল।সিনিগ্ধা বলল আপনি ছারবেন নাকি আমি... আর কিছু বলার আগেই আফনান ছেড়ে দিয়ে বলল
"ওকে বউজান, যাও। কিন্তু পাঁচ মিনিট! তার এক সেকেন্ডও বেশি না!"
সিনিগ্ধা মুখে একটা কথাও না বলে রাগে গমগম করতে করতে হেঁটে যেতে লাগল। ঠিক তখনই আফনান পিছন থেকে ডেকে উঠল,
"সিনিগ্ধময়ী…"
সিনিগ্ধা হঠাৎ থেমে গেল। রাগে লাল হয়ে পিছনে ফিরে তাকিয়ে গর্জে উঠল,
“আমার নাম সিনিগ্ধা! ‘সিনিগ্ধময়ী’ না—বুঝলেন?”
আফনান চোখে ছলছলে দুষ্টু হাসি নিয়ে ধীরে ধীরে তার দিকে এগিয়ে আসতে লাগল।
সিনিগ্ধা দাঁত চেপে বলল,
আই হেট ইউ মি. আফনান।আর এক পা আমার দিকে এগোলে পা দুটো ভেঙ্গে গলায় ঝুলিয়ে দেব মাইন্ড ডিট।
“আফনান ঠোটের কোনে বাকা হাসি নিয়ে এগিয়ে গিয়ে কোমড় জরিয়ে ধরে বলল
"মেরে ফেল না, সিনিগ্ধময়ী। আমি তো তোমার প্রেমেই মরতে চাই…"
এই কথা শোনামাত্রই সিনিগ্ধা চট করে দুই হাত দিয়ে আফনানকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিল। চোখে রাগ, মুখে বিরক্তি, আর বুকের ভিতরে অজানা এক কাঁপুনি—যা সে লুকিয়ে রাখল।আসল লেখিকা পাপড়ি জাহান।
সোজা হেঁটে গিয়ে জোরে দরজা ঠেলে ওয়াশরুমে ঢুকে গেল। কিন্তু দরজাটা বন্ধ হতেই আয়নার দিকে তাকিয়ে নিজের মুখটা দেখল—রাগের লালচে ছাপের পেছনেও লুকিয়ে আছে একরাশ অনিচ্ছাকৃত লজ্জা।
আর বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা আফনান?
সে বুকের বাঁ পাশে হাত রেখে দাঁড়িয়ে রইল… চোখে সেই একই দুষ্টু হাসি, ঠোঁটে ফিসফিস করা এক বাক্য—
"তুমিই আমার সিনিগ্ধময়ী।"
-------------------------------------------------------
সিনিগ্ধা ওয়াশরুমে বসে মাথায় হাত দিয়ে ভাবছিল কীভাবে এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। চোখে জল টলমল করছে, কিন্তু মাথাটা ঠান্ডা রাখতেই হবে। হঠাৎ একটা বুদ্ধি খেলে গেল তার মাথায়। নিজেকে সাহস দিয়ে বলল, "এটাই সুযোগ। এখন না পালালে হয়তো আর কখনোই পালাতে পারব না।"
ধীরে ধীরে সে ওয়াশরুমের দেয়ালে মাথা ঠেকিয়ে শ্বাস নিলো। তারপর হঠাৎই নাটকিয় ভঙ্গিতে চিৎকার করে বলল,
— "আআআ... আরশোলা!"বাচান আমায় প্লিজ...
বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা আফনান আঁতকে উঠল,
— "কী হয়েছে? তুমি ঠিক আছো?"
সে উদ্বিগ্ন হয়ে এগিয়ে এসে দরজায় কড়া নেড়ে বলল, "দরজাটা খুলো তো, দেখি কী হয়েছে।"
সিনিগ্ধা ভিতর থেকে দরজাটা একটু খুলে দিয়ে মুখটাকে ভয়ের ভান করে কাঁচুমাচুভাবে বলল,
— "ঐ যে টাওয়ালটার পাশে... দেখেন না একটা বিশাল আরশোলা..."কিভাবে তাকিয়ে আছে।বলেই বাহিরে বের হয়ে গেল।
আফনান দরজা খুলে ওয়াশরুমে ডুকে চোখ বড় করে তাকিয়ে বলল,
— "কোথায়! কোথায়? আমি তো কিছুই দেখতে পাচ্ছি না!"
প্রায় ২-৩ মিনিট ধরে আফনান হন্তদন্ত হয়ে খুজল কিন্তু একটা আরশোলারও চিহ্ন পেলনা।
সিনিগ্ধা যখন বুঝল আফনান পুরোপুরি আরশোলা খুজতে ব্যাস্ত। তাই চট করে ওয়াশরুমের দরজাটা বাহির থেকে লক করে দিল।
দরজা লাগানোর শব্দ পেয়ে ভেতর থেকে আফনান চমকে উঠে বলল,
— "এই বিউটিফুল ওয়াইফ! এটা কী করলে? দরজাটা খুলো জান!"
সিনিগ্ধা তাচ্ছিল্য করে বলল বাই আমার প্রাক্তন স্বামী দেখা হবে ঠিক আটবছর পর।
আফনান রাগি গলায় বলল
Try to understand, I really love you. Give me a chance to tell you everything.
কিন্তু সিনিগ্ধা কোন উত্তর না দিয়ে সোজা রুমের দরজা খুলে রুমের বাহিরে এল,
যেখানে তার বাবা দাঁড়িয়ে ছিল।
সে বাবার বুকের ভেতর মুখ গুঁজে কান্নাভেজা কণ্ঠে বলল,
— "বাবা… আমি আর পারছি না। আমি আফনানকে ডিভোর্স দিতে চাই।"
সিনিগ্ধার বাবার চোখে-মুখে একরাশ ক্ষোভ নিয়ে মেয়েকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে গম্ভীর বলেন,
— “অবশ্যই দিবি মা। আমি এই কাপুরুষের সাথে তোকে সংসার করতে দিব ভাবলি কি করে।
এসব শুনে আফনান হন্তদন্ত হয়ে বলল
— “সিনিগ্ধা! প্লিজ! এভাবে চলে যেও না!”আমি সত্যিই তোমায় ভালোবাসি
সিনিগ্ধার বাবা আফনানের বাবাকে বলল বন্ধু খুব শখ করে তোর ছেলের কাছে মেয়েকে বিয়ে দিছিলাম। কিন্তু তোর ছেলে সে শখ পুরন করল না তাই আমার মেয়েকে নিয়ে গেলাম। আর একটা কথা শুনে রাখ আজ আমার ছেলের বিয়ে তাই তোর ছেলে যদি আমার বাড়িতে গিয়ে কোন ঝামেলা করে তাহলে সোজা তোর ছেলেকে জেলে পাঠব মনে রাখিস।আমি কিন্তু এখনও ঠিক আগের মতই আছি। নিজের কথার দাম দিতে জানি, আর শত্রুর চোখে চোখ রেখে জবাব দিতেও জানি।"
আফনানের মা এগিয়ে এসে দুহাতে সিনিগ্ধার হাত ধরলেন। কণ্ঠটা কেঁপে উঠল —
“তুমি যেও না, মা। আমার মনে হয়, আফনান তোমাকে সত্যিই ভালোবাসে।”
(আজকে মনটা প্রচুর খারাপ কারন যেভাবে বাচ্ছাগুলো মারা গেল।আমি সেই রাত থেকে অনেকবার কান্না করেছি।তাই গল্পে কোন ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।)
সিনিগ্ধা কাঁপা ঠোঁটে তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে বলল,
— "ভালোবাসে? এটাকে আপনি ভালোবাসা বলছেন? দীর্ঘ আট বছর… একটা পুরো সময় আমি শুধু অপেক্ষা করেছি, বুক বেঁধে ভেবেছি—সে ফিরবে, একদিন অন্তত একটা খবর নেবে।
কিন্তু সে তো নিখোঁজ হয়ে গেল আমার জীবনের সমস্ত দিগন্ত থেকে। এখন এসে বলে ভালোবাসে?
আচ্ছা আন্টি… একটু ভাবুন তো—
যদি আমার জায়গায় আপনার মেয়ে মিম থাকত?
আপনার নিজের মেয়ে যদি এমনভাবে উপেক্ষিত হতো,
একটা সময়ের পরও যদি সে কেবল চোখের জলেই নিজের জীবনের গল্প লিখত—
তাহলে কি তাকেও আপনি এমন কাপুরুষের সঙ্গে জীবন কাটাতে পাঠাতেন?"
আফনানের মা চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলেন। মুখ নিচু করে ফেললেন, যেন নিজের ছেলের কাজের জন্য একরাশ লজ্জা আর অপমান তার বুকটাকে চেপে ধরেছে।
বলবার মত কিছুই ছিল না আর তার…
কারণ আফনান সত্যিই যা করেছে,
তা কোনো ভুল নয়,
তা কেবল এক গভীর অপরাধ,
যার খেসারত এখন সিনিগ্ধার হৃদয় দিয়ে দিতে হচ্ছে।সিনিগ্ধাকে নিয়ে তাঁর বাবা ধীরে ধীরে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন। সিনিগ্ধার চোখে অশ্রু, কিন্তু সে কোনো শব্দ ছাড়া চুপচাপ বাবার পাশে হেঁটে চলল।
অন্যদিকে, ওয়াশরুমে আটকে থাকা আফনান রাগ আর হতাশায় উদ্বেল হয়ে উঠল। সে একে একে বাথরুমের আয়না, সিঙ্ক, শাওয়ার হোল্ডার, এবং দেয়ালের হুক ভাঙতে লাগল। দরজা খুলে বাবা আমি আমার ওয়াইফ কে কোথাও নিয়ে যেতে দিব না।
আফনানের অবস্থা দেখে ঘরের সবাই স্তম্ভিত, কেউ কিছু বলতে পারছে না। সময় যেন থমকে গেছে, কেবল আফনানের আর্তনাদ বাতাসে ভাসছে।
সিনিগ্ধাকে নিয়ে বাড়ি ফিরতেই সিনিগ্ধার মা দৌড়ে এসে জিজ্ঞাসা করল কোথায় গিয়েছিলে মেয়েকে নিয়ে
সিনিগ্ধার বাবা কড়া কণ্ঠে বললেন,
“আফনানের বাড়িতে গিয়েছিলাম, ডিভোর্সের ব্যাপারে কথা বলতে। তবে এ নিয়ে আর কোনো আলোচনা হবে না, কারণ দেয়ালেরও কান আছে।”
বলেই তিনি সিঁড়ি বেয়ে ধীরে ধীরে উপরে উঠতে লাগলেন। হঠাৎ পেছন ফিরে কঠিন সুরে বললেন—
“অনুষ্ঠান তো শেষ। এবার সবাইকে যার যার রুমে যেতে বলো। আমি যেন কারো গলার আওয়াজ বাইরে না থেকে না পায়।”
সিনিগ্ধা কোন কথা না বলে নিজের রুমে গিয়ে দরজা আটকিয়ে কাদতে লাগল।এতটায় কাদল যে ওর হেচকি উঠে গেল।কিছুক্ষুন পর আল্লাহর দরবারে মিনতি করে বলল—
“হে আল্লাহ, তুমি তো সব দেখছো। তুমি জানো কে কী করেছে, কার ইচ্ছায় কী কী ঘটেছে। তুমি শুধু আমাকে ধৈর্য দিও, হে রাব্ব… আমি যেন ভেঙে না পড়ি…”
সিনিগ্ধার আরও কান্না আসছিল। কিন্তু ও চুপ করে রইল… বুকের ভেতর কান্না চেপে ধরে শুধু নিঃশ্বাস ফেলতে লাগল… যেন নিজের সঙ্গে একটা যুদ্ধ করছে—ভেঙে না পড়ার, সব সহ্য করে যাওয়ার।
পরের দিন দুপুরে সিনিগ্ধার ভাইয়ের বিয়েতে.......
বিয়ে বাড়িতে সবাই সিনিগ্ধার দিকে তাকিয়ে আছে।কারন মেয়েটা নামের মতোই সিনিগ্ধ দেখতে। এতটায় রুপবতী যে নারীরা প্রর্যন্ত সিনিগ্ধাকে দেখে ক্রাশ খায়।আজ সিনিগ্ধার পরনে লাল রংয়ের একটা কাতান শাড়ি পরনে।সাথে কড়া মেকাব। চুলগুলো ছেড়ে রাখা। আর তাতে একগুচ্ছ লাল গোলাপ দেওয়া।
বিয়ে বাড়ির এত আনন্দ, হাসি-ঠাট্টা, গানের সুরের মাঝেও সিনিগ্ধার বুকের ভেতরটা হঠাৎ কেমন যেন কেঁপে উঠল। এত আলো, এত লোকের ভিড়ে, তবু যেন ওর মনে হলো একটা ভয়ংকর দৃষ্টি ওকে গিলে খাওয়ার জন্য তাকিয়ে আছে। ঠিক যেমন করে গহীন জঙ্গলে বাঘ তার শিকারের দিকে তাকিয়ে থাকে—নিরব, অথচ রুদ্ধশ্বাস করা দৃষ্টিতে।
সিনিগ্ধা অসহায়ের মতো চারপাশে তাকাল, কিন্তু কে তাকিয়ে আছে, তা খুঁজে পেল না। মনকে প্রবোধ দেওয়ার চেষ্টা করল, হয়তো ভুল দেখছে।
ঠিক তখনই হঠাৎ ওর ফুপাতো ভাই রায়হান সামনে এসে দাঁড়াল। ঠোঁটে কুৎসিত এক হাসি, চোখে আগ্রাসী দৃষ্টি—যেন বহুদিনের জমে থাকা লালসা আজ বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। কোনো কথা না বলে, নির্লজ্জ ভঙ্গিতে সে সিনিগ্ধার হাত ধরতে এগিয়ে এল।
কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তেই ঘটে গেল এমন এক ঘটনা, যা রায়হান তো দূরের কথা, আশপাশের কেউ কল্পনাও করতে পারেনি।
হঠাৎ একটা কালো পোশাক পড়া লোক এসে রায়হানের হাত দুটো মুচরে দরল।এতটায় জোরে ধরল যে রায়হানের হাত দুটো করমর শব্দ করে ভেঙ্গে গেল। আশেপাশের সবাই এমন হাড়ভাঙা শব্দ,শুনে ভয়ে কাপতে লাগল।
রায়হান ব্যথায় ককিয়ে উঠল, মুখটা বিকৃত হয়ে গেল যন্ত্রণায়। সে হাত ছাড়াতে চাইলে চেষ্টাও করল, কিন্তু সে ছায়ামূর্তির শক্ত হাতের মুঠি থেকে নিজেকে ছারাতে পারলনা
চারপাশে সবাই থমকে গেল। হাসি, কথা, গান—সব থেমে গিয়ে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ল নিস্তব্ধতা। কেউ কিছু বলতে পারছে না, বোঝাও যাচ্ছে না কে এই ছেলেটি, কী তার সম্পর্ক সিনিগ্ধার সঙ্গে।
আর সিনিগ্ধা?
সে থরথর করে কাঁপছে। চোখ বড় বড় হয়ে গেছে। শ্বাস আটকে আছে গলার কাছে।
এই ছেলেটি কে?
সে কি রক্ষা করতে এল… নাকি শুরু করতে এল কোনো ভয়ংকর গল্পের নতুন অধ্যায়....
নোটঃ ছোট ছোট বাচ্চারা শহীদের মর্যাদা লাভ করল…
গত রাতে উত্তরায় ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে একাধিক নিষ্পাপ শিশু ও নিরীহ মানুষ আগুনে পুড়ে শহীদ হয়েছেন। তাদের মৃত্যু আমাদের ব্যথিত করেছে, স্তব্ধ করে দিয়েছে হৃদয়।
❝এতটুকু হলেও একটু শান্তির আশ্রয় এই হাদীসটি…❞
"যে ব্যক্তি আগুনে পুড়ে মারা যায়, সে শহীদ।"
– (সহীহ মুসলিম, হাদীস: ১৮১৫)
"হে আল্লাহ! উত্তরার সেই শিশুদের, নারীদের ও সকল নিহতদের শহীদের মর্যাদা দান করুন। তাদের কষ্টগুলোকে কবুল করে দিন জান্নাতের উঁচু মর্যাদায়। আমিন।"

0 Comments