ছায়াবৃত_রোদ্দুর

 

ছায়াবৃত_রোদ্দুর 
ছায়াবৃত_রোদ্দুর



পড়ন্ত বিকেল, দিনের ক্লান্তি মুছে দিতে ধীরে ধীরে নিরবতা নেমে আসছে ধরণীতে। পুরো দিনজুরে ঝিমিয়ে থাকা দিনমনি পশ্চিমে হেলে পড়েছে। পাখিরা ডানা ঝাপ্টে ফিরে যাচ্ছে নীড়ে, তাদের মতো কর্ম ব্যাস্ত মানুষেরাও আপাতত দিনের কর্ম ইতি টেনে ফিরে যাচ্ছে গন্তব্যে। গ্যারেজে গাড়ি রেখে গলার টাই ঢিলে করে ক্লান্ত দেহ টেনে নিয়ে যাচ্ছে আয়ুশ। সিড়ি মাড়িয়ে দোরগোরায় পৌছে কি মনে করে একবার তাকালো উপরের দিকে। আনমনেই হাসি ফুটলো ঠোঁটে, ঘুরে দাঁড়িয়ে কলিং বেল টিপ দিয়ে পুনরায় তাকালো ঘাড় বাকিয়ে। হয়তো অবাধ্য চোখ দুটো কাউকে খোঁজছে। কাঙ্ক্ষিত ব্যাক্তিকে না পেয়ে চোখ ফিরিয়ে নিলো দরজায়। চোখ দুটো সামনে তাক করতেই চমকে উঠল সে, দরজার হাতল ধরে দাঁড়িয়ে আছে ইসরাত। ভ্রু কুঞ্চিত করে তার দিকেই তাকিয়ে আছে। নিজেকে স্বাভাবিক করে সুধালো আয়ুশ
“তুমি? তুমি এখানে কি করছো পুটিমাছ?”
প্রথম দিকে স্বাভাবিক থাকলেও পরের সম্মোধন শুনে তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলো ইসরাত। সে কত সুন্দর! দেখতে একটু ছোট খাটো নাহয় হয়েছে তাই বলে লোকটা তাকে এমন একটা মাছের সাথে তুলনা করবে?
“দেখুন..”
আঙুল তুলে প্রতিবাদি কন্ঠে আয়ুশকে কিছু বলতে চেয়েছিলো সে, কিন্তু মাঝেই তার মুখবাক্য কেড়ে নিয়ে বলে উঠল আয়ুশ
“ছিহ, তুমি তো ভাড়ী অশ্লীল মেয়ে। আমার মতো একটা ইনোসেন্ট ছেলেকে দিন দুপুরে কি দেখাতে চাইছো?”
থতমত খেলো ইসরাত, সে তো আয়ুশকে পাজি ভেবেছিলো কিন্তু এ তো তার ভাবনার থেকে সাত গুন আগে। কেমন করে তার কথাকে তিল থেকে তাল বানিয়ে নিলো
“আপনি, আপনি একটা অসহ্য”
“সেইম টু ইউ”
দায়সারাভাবে উত্তর দিয়ে পায়ের জুতো খোলে দরজার পাশে র্যাকে তুলে রাখছে আয়ুশ। নাক মুখ কুচকে তাকিয়ে আছে ইসরাত। সে অসহ্য নাকি এই অ*স*ভ্য লোকটা অসহ্য! তার মতো এতো কিউট একটা মেয়েকে অপবাদ দিচ্ছে
“হুট, দরজা থেকে সরে দাড়াও। নয়তো একটা টুকা দিবো এই পুটিমাছের শরীর নিয়ে কোথায় গিয়ে পড়বে আর খোঁজে পাওয়া যাবে না”
নাকের পাটা ফুলে উঠলো ইসরাতের, লোকটা তাকে তখন থেকে উল্টা পাল্টা বলেই যাচ্ছে। কন্ঠে ঝাঁঝ নিয়ে বলল
“আপনাকে আমি পুটিমাছের সাথে ধরে বিয়ে দিবো। অসহ্য লোক, যত্তসব আজাইরা পাবলিক”
দরজার হাতল ধরে জোড়ালো ধাক্কা দিয়ে হনহনিয়ে চলে গেলো সে। যেনো দরজাটাকে আছড়ে ফেলেছে। সেই দরজা গিয়ে বারি খেলো আয়ুশের বুকে। ছেলেটা পিছিয়ে গেলো খানিকটা। আশ্চর্য নয়নে তাকিয়ে রইলো। এই পুটিমাছ কি তাকে ঝাঝ দেখালো? তাকে মারলো? ইম্পসিবল! আরেকবার হাতের কাছে পাক থাপড়ে গাল লাল করে দিবে এই মেয়ের।
কথাটি ভাবতে কিঞ্চিৎ হাসি ফুটলো ঠোঁটে, ভেতরে প্রবেশ করে দরজা আগলে অদূরে চোখ পড়তেই মিলিয়ে গেলো ঠোঁটের হাসি। ইনায়া বসে আছে সেখানে, চোখ দুটো তার পানেই নিবদ্ধ। নিষ্প্রাণ এই চোখে যেনো প্রাণ নেই, বরং কালো মেঘের দেখা মিললো সেখানে। মুহুর্তের মধ্যেই টুপ করে গড়িয়ে পড়লো সেটি। থমকে গেলো আয়ুশ, ইনায়া আবার কষ্ট পেলো? কিন্তু সে তো তাকে কষ্ট দিতে চায়নি।
ধীরে ধীরে পা বাড়িয়ে তার দিকে অগ্রসর হলো সে, তাকে এগিয়ে আসতে দেখে ইনায়া ছুটে গেলো ঘরের দিকে। মীরা অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো তার যাওয়ার পানে, তার ছোট মস্তিষ্ক হয়তো কিছু বুঝতে পারলো তাই চোখ ঘুরিয়ে একবার তাকালো আয়ুশ ও ইসরাতের দিকে। মেয়েটা তার পাশেই বসে আছে কোনোদিকে খেয়াল নেই সামনে টিভিতে চোখ নিবদ্ধ। আয়ুশ শূন্য চোখে তাকিয়ে আছে ইনায়ার বন্ধ দরজার পানে। হিসেব মিলাতে পারলো না সে, তার ছোট মস্তিষ্ক বুঝতে অক্ষম হলো কার মনে কি চলছে।
আয়ুশের খারাপ লাগলো, একবার তাকালো ইসরাতের পানে। মেয়েটির কোনো খেয়াল নেই সেদিকে, এই মেয়েটাকে তার ভালো লাগে। মেয়েটার ছুটপাত, নাক ফুলানো, ঝগড়া করা সবকিছু তার মনে ভালোলাগার অনুভূতি জন্মায়। কিন্তু ইনায়ার এই পরিবর্তন তাকে ভাবাচ্ছে। কেন যেনো মেয়েটাকে এভাবে দেখে কষ্ট হচ্ছে তার।
আয়ুশ জানেনা তার কি করা উচিত। ইনায়াকে এই অবস্থায় দেখে মন বিষিয়ে যায়। মেয়েটার এই নির্জীবতা সে মেনে নিতে পারেনা। তাকে ঘিরে করা পাগলামো গুলোর সাক্ষী সে নিজে। অথচ এই মেয়েটা এখন তার সাথে একবার কথা বলতে চায় না। কথা গুলো ভাবতে বুক কেপে উঠলো তার, সে কি মেয়েটাকে খুব বেশি কষ্ট দিয়ে ফেলল?
দ্রুত পা চালিয়ে গিয়ে থামলো ইনায়ার দরজায়, দুটো আওয়াজ দিয়ে নাম নিয়ে ডাকলো তাকে
“ইনু দরজা খোল”
ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ আসলো না। আয়ুশ পুনরায় ডাকলো
“দরজা খোল ইনায়া। আমার কথা আছে তোর সাথে”
মিনিট দুই পেরিয়ে গেলেও যখন কোনো প্রতিত্তোর আসলো না তখন রেগে গেলো আয়ুশ। দরজায় বিকট লাথি দিয়ে চেচিয়ে বলল
“তুই কি দরজা খোলবি নাকি আমি ভেঙে আসবো ইডিয়েট? ট্রাস্ট মি, যদি দরজা ভাঙতে হয় তবে তার সাথে তোকেও ভেঙে ফেলবো”
“আর কত ভাঙবে আয়ুশ ভাই? আর কত ভাঙলে তুমি শান্তি পাবে বলবে আমায়? কেন আমার কাটা গায়ে লবণ ছিটাতে এসেছো? যাও এখান থেকে প্লিজ, আমাকে একা থাকতে দাও।”
কান্নারত ভাঙা কন্ঠের এই করুন সুর, দেয়ালে দেয়ালে আঘাত হানলো। স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো আয়ুশ, সে কি করবে বুঝে উঠতে পারলো না। নিজেকে কেমন পাগল পাগল লাগছে। নিজেকে অপরাধী লাগছে, তার কি করা উচিত কি করলে সব ঠিক হবে সে বুঝতে অপারগ। শুকনো ঢোক গিলে ধীর কন্ঠে বলল
“দরজা খোল ইনু, আমার বসে কথা বলি? তুই যা ভাবছিস তেমন কিছু নেই। অযথা নিজেকে কষ্ট দিচ্ছিস”
“তোমার সাথে আমার কোনো কথা নেই। প্লিজ এখান থেকে যাও। নয়তো ভালো হবে বলে দিচ্ছি”
ঠান্ডা হুমকিতে জমে গেলো আয়ুশ, মেয়েটা যে পরিমাণ জেদি কখন না আবার উল্টা পাল্টা কিছু করে বসে। ভেতরে থেকে গরম নিশ্বাস বের করে কন্ঠা খাদে নামিয়ে বলল
“ওকে ঠিক আছে আমি চলে যাচ্ছি। তুই প্লিজ কান্না বন্ধ কর। আর এসব ওভার থিংকিং অফ কর”
আর কোনো আওয়াজ আসলো না বন্ধ দরজার ওপাশ হতে। চলে গেলো আয়ুশ, দুহাতে হাটু জড়িয়ে বসে হাটুর ভাজে মুখ গুজে ফুফিয়ে ফুফিয়ে কাদছে ইনায়া। সে তো আর ছোট নেই, সব বুঝে সে। যখন কলিং বেল বাজলো, সে দরজা খোলতে উঠেছিলো কিন্তু ইসরাত তাকে যেতে না দিয়ে নিজে গিয়ে দরজা খোললো নিশ্চয়ই আন্দাজ করতে পেরেছিলো আয়ুশ এসেছে।
______
আজ সারাদিন শুয়ে বসে কাটিছে ইরা, দুপুরের দিকে জ্বর কমে আসলে যখন ঘা ঘেমেছিলো তখন আবার মুছিয়ে দিয়েছে ইলহাম। বিছানা থেকে এক পা ফেলতে দেয়নি, তার স্পর্শে ইরা আন্দাজ করতে পেরেছে সেও জ্বরের তুপে আছে অথচ কত যত্ন নিয়ে সেবা করেছে তার নিজের দিকে বিন্দু মাত্র খেয়াল নেই। বিকেলের দিকে মিলি আকিব ও আরও কিছু ছেলে মেয়েরা দেখতে এসেছিলো তাকে। ফোন পাওয়া মাত্রই সব কাজ ফেলে ছুটে এসেছে, তাকে আশ্বাস দিয়ে বলে গেছে নির্বাচন নিয়ে কাজ নিয়ে কোনো চিন্তা সে না করতে। সুস্থ না হওয়া অব্ধি রেস্টে থাকতে, ওরা সবদিক সামলে নেবে। ইরার নিজেকে মাঝে মাঝে খুব ভাগ্যবতী মনে হয়, জীবনে কিছু পাক আর না পাক ওদের মতো কটা ছোট ছোট ভাইবোন পেয়েছে।
ইসরাত সকালে খবর পেয়েই ছুটে এসেছিলো। বিকেলে আকিবদের সাথে বাহিরে গিয়েছিলো কিছুক্ষণ পূর্বে এখানেই ফিরেছে। কিছুক্ষণ পর পর ইরার পাশে এসে গায়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। ইরা ভেবে পায়না তার মতো এতো কাটখোট্টা স্বভাবের মানুষের মধ্যে ওরা কি খুঁজে পায়? কেন তাকে এতো নিস্বার্থ ভাবে ভালোবাসে?
তার ভাবনা চিন্তার মধ্যে খট করে দরজা খোলার আওয়াজ হতে চোখ তুলে ওয়াশরুমের দরজায় তাকালো ইরা। ইলহাম শাওয়ার নিয়ে বেরিয়েছে, খালি গায়ে কোমড়ে পেছিয়েছে এক টাওয়াল আরেক হাতে টাওয়ালে ঘষে ঘষে চুলের পানি ঝাড়ছে। ফর্সা মেদহীন গায়ে বিন্দু বিন্দু পানির কণা গুলো আকর্ষনীয় লাগছে। গা শিউরে উঠলো ইরার, কেমন করে যেনো তলপেটে মুছড় দিয়ে উঠলো। চোখ খিচে ঘাড় ফিরিয়ে নিলো, বড় নিশ্বাস টেনে নিজেকে স্বাভাবিক করে মিনমিন করে বলল
“এভাবে ঘুর ঘুর করছেন কেন? গায়ে কাপড় জড়ান”
ঠেরা চোখে তাকালো ইরহাম, কিঞ্চিৎ ঠোঁট বাকিয়ে ইরার দিকে ঝুকে ফিসফিস করে বলল
“কেন জান? সিডিউস হচ্ছো?”
মুখে ‘'চ’’ সূচক শব্দ করলো ইরা, এই ছেলেটা কখনো ভালো হবে না। প্রসঙ্গ বদলাতে ইরা নিজে থেকেই বলল
“এই অসময়ে শাওয়ার নিলেন কেন? জ্বর ছেড়েছে? আবার বেধে যাবে তো”
ঠোঁট কামড়ে হাসল ইলহাম, ইরার নাকে তর্জনী আঙুল ছুয়ে আলতো হাতে গাল টিপে দিয়ে বলল
“সমস্যা কি? সেবা করার জন্য তুমি আছো তো”
বিরক্ত হলো ইরা, এই লোকটা কি কখনো ভালো করে কথা বলতে পারে না? মনে মনে বিরবির করলো ‘'অ*স*ভ্য’’
“ইলহাম কোথায় আপনি? ইলহাম? আপনি নাকি অনেক অসুস্থ? এখন কেমন আছেন? জ্বর সেড়েছে?”
আকস্মিক মেয়েলী কন্ঠে এমন আর্তনাত শুনে কপালে ভাজ ফেলে তাকালো ইরা, ইলহাম নিজেও অনেকটা ভড়কে গেছে। উক্ত কথা বলতে বলতে দ্রুত পায়ে তাদের কক্ষে প্রবেশ করেছে ফারিয়া, তার পিছু পিছু মীরা আর ইরহাম এসে দাঁড়িয়েছে দরজায়। বিরক্তির মাত্রা ছাড়ালো ইলহামের, ব্যাস্ত হাতে একটি টি শার্ট গায়ে জড়িয়ে চোখ গরম করে তাকালো ফারিয়ার দিকে। মেয়েটা ততক্ষণে তার কাছে এসে দাঁড়িয়েছে। পুনরায় আর্তনাত করে বলল
“কেমন আছেন ইলহাম? এখন শরীর ভালো? ড. রশীদের থেকে কিছুক্ষণ আগে মাত্র শুনলাম আমি, শুনেই ছুটে এসেছি তোমাকে দেখতে”
তীর্যক চোখে তাকিয়ে আছে ইরা, এই মেয়েটাকে ইলহামের সাথে ঘেষা ঘেষি করতে দেখেছে সে। আর এখন একদম রুমে ডুকে পড়লো? বিরক্তিতে কপালের ভাজ গাঢ় হলো তার
“হোয়াট ননসেন্স ফারিয়া! ভদ্রতা বলতে কি তোমার মধ্যে কিছু নেই? এতোটুকু কান্ডজ্ঞান তো আছে নিশ্চয়ই, কারো রুমে ডুকতে গেলে তার পারমিশন নিতে হয়। তুমি কোন সাহসে আমার রুমে এসেছো? হাউ ডেয়ার ইউ?”
ইলহামের তীব্র হুংকারে কেপে উঠলো ফারিয়া, ইরা নিজেও কিছুটা নড়ে উঠেছে। রাগে অগ্নিমূর্তি ধারন করেছে সে, ফারিয়ার ভয় লাগলো কিছুটা, এটেনশন পেতে একটু বেশি'ই বাড়াবাড়ি করে ফেলল নাকি?
“বেরিয়ে যাও, এক্ষুনি বেরিয়ে যাও আমার সামনে থেকে। নয়তো তুমি যে একটা মেয়ে সেটা আমি ভুলে যাবো”
আড়চোখে ইরার দিকে তাকিয়ে, গাইগুই করে বুলি আওড়ালো সে
“আপনি এভাবে কথা বলছেন কেন ইলহাম? আপনি তো আমাকে…”
“জাস্ট শাট আপ, আর একটা কথা বললে থাপড়ে এই মুখের নকশা বদলে দিবো। ডিজগাস্টিং গার্ল। বেরিয়া যাও এখান থেকে”
অপমানটুকু গিলে নিলো সে, ইরার ভাবাবেগ লক্ষ্য করে কন্ঠে মাধুর্য ঢেলে বলল
“ওকে, আপনি যদি চান চলে যাচ্ছি আমি। হসপিটালে কথা হচ্ছে তাহলে। নিজের খেয়াল রাখবেন”
কাধ ছাড়ানো চুলগুলো নেড়ে একপাশ করে লাল রঞ্জক রাঙানো ঠোঁট এলিয়ে হেসে চলে গেলো গেলো সে। তীক্ষ্ণ চোখে সেদিকে তাকিয়ে রইলো ইরা। এই মেয়েকে তার প্রথম থেকেই সুবিধার মনে হয়না, যখনই হসপিটালে পা রাখতো তাকে ইলহামের আশেপাশে দেখা যেতো এতোদিন এসব গায়ে না মাখলেও এখন কেন যেনো বিষয়টি ভালো লাগলো না তার। বুকের মধ্যে কোথাও চিনচিনে ব্যাথা অনুভব করলো। তার অযাচিত মন চেচিয়ে বলতে লাগলো ‘ও আমার হাজবেন্ড ওর পাশে অন্য কোনো মেয়েকে আমি এলাউ করবো না’।
পরক্ষণে কি মনে করে ইলহামের দিকে তাকালো, সে তার দিক থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে আছে। জ্বলে উঠলো ইরা, মনে পড়লো এই মাত্র ঘটে যাওয়া ঘটনা। মেয়েটা কেন ওর জন্য ছুটে আসলো? কি বলতে চেয়েছিলো সে? ইলহাম ধমক দিয়ে আটকে দিলো তাকে। কি লুকাতে চাইছে ইলহাম তার থেকে? তার চোখে চোখ রাখতে সাহস হচ্ছে না তাই পিছু ঘুরে দাঁড়িয়ে আছে? দাত কিড়মিড় করে বিরবির করলো সে
'আমি জয়া আহসানের মতো অবলা নই মিস্টার ইলহাম ফারুকি। আমি ইরা, পাথরের মতো শক্ত ক্ষুরের মতো ধারালো আমার সাথে খেলতে এসোনা ধ্বংস করে দিবো’।
মুহুর্তের মধ্যেই কি মনে হতে কিছুটা নিভে আসলো। সে এসব কেন ভাবছে? তার মা তো তার বাবাকে ভালোবাসতো সে তো ইলহামকে ভালোবাসে না তবে কেন এমন বিষাক্ত অনুভূতি ঘিরে ধরেছে তাকে?

Post a Comment

0 Comments