মাহিন চলে গেলে জারা কি করবে ভেবে পায়না। আকাশ সমান চিন্তা নিয়ে রিসোর্টে ফিরে যায়। সকাল গড়িয়ে দুপুর হয়ে যায় কিন্তু জারা কাউকে কিছু বলে না।জারা আর কিছু না ভেবে মাহির কে নিরিবিলি জায়গায় নিয়ে গিয়ে বলে।
জারা : জিজু তোমার সাথে আমার কিছু কথা আছে।
মাহির : তাড়াতাড়ি বলো ওদিকে রোদ আর রোদ্রি অপেক্ষা করছে।
জারা ছোট একটা নিঃশ্বাস ফেলে বলে।
জারা: আপু কাল রাতের ফ্লাইটে ইউকে বেক করছে।
জারার কথা শুনে যেনো মাহিরের পৃথিবী থমকে দাঁড়ায়। তাহলে কি মাহির সারা কে চিরদিনের মত হারিয়ে ফেলবে। অজান্তেই মাহিরের চোখ পানি আছড়ে পড়ে। এখন কি করবে মাহির? প্রথম দিন থেকে সারার কাছে ক্ষমা চেয়ে এসেছে। কিন্তু সারা মাহিরের কোনো কথাই ঠিক মত শুনেনি। মাহির তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকায় জারার দিকে। জারা মাহিরের দিকে করুন দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। মাহির কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বলে।
মাহির : ত,,তুমি ক,, কি করে জ,, জানো?
জারা: তোমার মনে আছে ছোট পাপার অপারেশনের দিন রোদ আর রোদ্রি কে একটা লোক ওদের হসপিটালে নিয়ে এসেছিল। উনার নাম মাহিন আপু উনাকে ভাই বলে ডাকে। বিয়ে উপলক্ষে আজ সকালে উনি এখানে এসেছেন। উনি কথায় কথায় বলে দেন কাল উনি, রোদ, রোদ্রি আর আপু ইউকে বেক করছেন।
জারার কথা শুনে মাহিরের চোখ অসম্ভব লাল হয়ে যায়। বারবার ক্ষমা চেয়েছে সারার কাছে। মাহির বলেছে যা শাস্তি দেওয়ার কাছে থেকে যত খুশি দিক কিন্তু সারা ওকে আবার একলা ফেলে চলে যাচ্ছে। জারা আর কিছু বলবে তার মাহির হনহনিয়ে ওখান থেকে চলে যায়। জারা মাহিরের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আছে। মাহির গিয়ে দেখে সারা মিথিলার সাথে কি নিয়ে যেন কথা বলছে। মাহির গিয়ে কোনো কথা না বলে সারার হাত শক্ত করে ধরে টানতে টানতে নিয়ে যায়। সারা অনেকবার জিজ্ঞাসা করে তাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে কিন্তু মাহি
র সারার দিকে তাকালে সারা মাহিরের চোখ দেখে বুক কেঁপে উঠে। পাঁচ বছর আগে সারা মাহিরের এমন রূপ দেখেছিল। সারা আর কিছু না বলে মাহিরের সাথে যায়। পিছন থেকে মিথিলা মাহির কে অনেক ডাকে কিন্তু মাহির কারো কথা না শুনে একটা ফাঁকা রুমে নিয়ে গিয়ে দরজা বন্ধ করে।
রুমে নিয়ে গিয়ে দরজা বন্ধ করে সারা কে দেওয়ালের সাথে চেপে ধরে শক্ত করে। সারা মাথার পিছনে আর হাতে ব্যাথা পায় মাহিরের চেপে ধরার কারণে! কিন্তু সারা টু শব্দ টুকু না করে চোখ বন্ধ করে আছে। মাহির ঝাঁঝালো কন্ঠে জিজ্ঞাসা করে।
মাহির : তুমি কাল ইউকে বেক করছো?
সারা বেশ খানিকটা অবাক হয়। একথা তো মাহিরের জানান কথা নয় তাহলে ও জানলো কি করে। সারা কিছু না বলে অবাক দৃষ্টিতে মাহিরের দিকে তাকিয়ে থাকে। মাহির আবারো সারা কে জিজ্ঞাসা করে।
মাহির: কি হলো বলো তুমি কাল ইউকে বেক করছো?
সারা আন্দাজ করতে পারছে মাহির প্রচন্ড রেগে আছে। মাহিরের রাগ সম্পর্কে সারার ভালোই ধরনা আছে। সারা চোখ বন্ধ করে ছোট একটা নিঃশ্বাস নিয়ে মাহিরের উত্তর না দিয়ে বলে।
সারা: হাত ছাড়ুন লাগছে আমার!
মাহির সারার কথা শুনে আরো রেগে গিয়ে আরো জোরে চেপে ধরে বলে।
মাহির: আগে আমার প্রশ্নের উত্তর দেও।
সারা বুঝে গেছে মাহির এভাবে থামবে না।তার থেকে বরং মাহির কে সত্যি কথা বলে দেওয়াই ভালো।
সারা: হ্যা।
মাহির: আমি তোর কাছে বারবার ক্ষমা চেয়েছি আমার করা ভুলের জন্য। তোকে আমি বলছি না তুই আমার কাছে থেকে যতো খুশি শাস্তি দিস। আমার থেকে দূরে যাবার কথা চিন্তাও করবি না। সেই তুই আমার থেকে আবার দূরে যেতে চাস। (রেগে চিৎকার করে কথা বলে)
সারা: আমি কি করবো না করবো সেটা আমার বেপার। আমার বেপারে আপনি বলার কে? (শান্ত গলায়)
মাহির: আমি তোর কে তাই না। তুই জানিস না আমি তোর কে? তুই আমার বউ বুঝিস তুই আমার বউ।
সারা: বউ? (তাচ্ছিল্য করে) পাঁচ বছর আগে আমি কারো বউ ছিলাম। কিন্তু সে তার বউকে বিশ্বাস করে নি। তার বউয়ের কথা না শুনে অন্ধকার রাতে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। (চোখ দিয়ে পানি পড়ে) সেই অন্ধকার রাতে তার বউ কোথায় ছিলো তার একবারো জানতে ইচ্ছে করে নি। এক বছর পর যখন সে প্রমাণ পায় যে তার বউ নির্দোষ তখন সে তার বউ বাচ্চার জন্য উতলা হয়ে পড়ে। এখন আপনি বলন আমি কোনো।
ভুল করেছি?
সারার কথা শুনে মাহিরের রাগ কিছুটা কমে আছে। সারা কথা শুনে মাহির মাথা নিচু করে ফেলে। সারা চোখ মুছে মাহির কে সরিয়ে দিয়ে বলে।
সারা: আমাদের জীবনে আপনার কোনো প্রয়োজন নেই। আমাদেরকে আমাদের মত থাকতে দিন।
সারা চলে যেতে চাইলে মাহির সারার হাত ধরে বলে।
মাহির: একটা কথা রাখবে প্লিজ!
সারা তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে বলে।
সারা: কি কথা?
মাহির: আজকে জন্য আগের সারা হয়ে যাবে। যে শুরু আমার জন্য সাজতো। আমার পছন্দ অপছন্দ গুরুত্ব দিতো। আমাকে নিজের থেকেও বেশি ভালোবাসতো। কালকে তো তুমি আমাকে ছেড়ে চলে যাবে অনেক দূরে। প্লিজ শুধু আজকে জন্য। (ছলছল চোখে
তাকিয়ে থাকে সারার দিকে)
সারা ভাবে কাল তো চলেই যাবো। আজ না হয় ভালোবাসার মানুষটার জন্য একটু করলাম ক্ষতি কি তাতে।
সারা: ঠিক আছে কিন্তু বিয়ে শেষ হলে আমাকে কোনো কিছু নিয়ে জোর করবেন না। তারপর যে যার রাস্তায়।
এই বলে চলে যায়। সারার কথা শুনে মাহিরের মুখে এক চিল হাসি ফুটে উঠে।

0 Comments