এক্স_গার্লফ্রেন্ড_যখন_পুলিশ_অফিসার

এক্স_গার্লফ্রেন্ড_যখন_পুলিশ_অফিসার



আজকে এক সপ্তাহ পরে স্কুলে এলাম। এই এক সপ্তাহ স্কুলে আসি নাই কারন,, শিমলাকে দেখলে আর নিজেকে আটকে রাখতে পারি না। শুধু ওর সাথে কথা বলার জন্য মনটা ছটপট করে। তাই এক সপ্তাহ স্কুলে আসি নাই। যাতে করে শিমলাকে ভুলে যেতে পারি।
কিন্তু আজকে স্কুলে এসে তো আমি পুরোই অবাক হয়ে যাই। কারন স্কুলে এসে দেখি শিমলা গেটের সামনে দাড়িয়ে আছে। কাউকে খুজতেছে হয়তো।
আমি কিছু না ভেবেই সামনের দিকে যেতে লাগি। তখনই শিমলা আমাকে দেখে ফেলে। আর আমাকে দেখেই শিমলা আমার কাছে দৌড়ে চলে আসে। আর এসেই আমাকে ঠাসসসসস করে একটা চর দেয়।
আমি কিছুই বুজলাম না। কি হচ্ছে আমার সাথে। কিছু বলতে যাব তখনই শিমলা আমার হাত ধরে টেনে স্কুলের এক পাশে নিয়ে আসে। স্কুলের এই পাশে সচারাচর কেউ আসে না। আমি আর চুপ না থেকে শিমলাকে বললাম,,,
আপনি আমাকে এখানে নিয়ে আসলেন কেন...?? আর আমাকে থাপ্পড়ই বা মারলেন কেন..? (আমি)
কিছু বুঝিস না, তাই না.?? কই ছিলি এতদিন..?? (শিমলা)
তাতে আপনার কি.??
--- তুই জানিস আমি এই কয়েক দিন কত চিন্তায় ছিলাম তোকে নিয়ে.? রোজ স্কুলে এসে তোর জন্য অপেক্ষা করতাম কিন্তু তোকে পেতাম না। (শিমলা)
হটাৎ আমাকে খোজার কারন..? (আমি)
তোকে কেন খুজি তুই জানিস না.??? (রেগে)
না বললে জানব কিভাবে...? (আমি)
--- আমি তোকে ভালোবাসি,, খুব বেশি ভালোবাসি। তাই তো তোকে পাগলের মতো খুজে বেরাই.. (শিমলা)
আমি তো নিজের কানকে জেন বিশ্বাস করতে পারতেছি না। তাই নিজের গায়ে একটা চিমটি কাটলাম। না আমি সপ্ন দেখতেছি না। আমি বাস্তবেই। তার মানে শিমলা আমাকে এই গুলো বলতেছে। মানে কি..? কিছুই বুঝতেছি না। তাই আমি শিমলাকে জিজ্ঞেস করলাম,,,
মানে কি বলতেছ তুমি।
--- মানে কি বলতেছ তুমি এগুলো..?? (খুব অবাক হয়ে)
হুম শ্রাবন আমি ঠিকই বলতেছি। আমি সেই দিন খুব অবাক হয়েছিলাম যেদিন তুমি আমাকে প্রথম দেখায়ই প্রপোজ করেছিলে। আমি একটু অন্যরকম ছেলে পছন্দ করতাম। যে সবার থেকে ভিন্ন হবে। আর তুমিও ছিলে সবার থেকে ভিন্ন। আমি তো তোম
কাকে সেই প্রথম দিন থেকেই ভালোবাসি। কিন্তু বলি নাই। কারন আমি চাচ্ছিলাম নে যে এত অল্প বয়সেই এইসবের ভিতরে নিজেকে জরাতে। (শিমলা)
আমি শিমলার কথা শুনে পুরোই থ হয়ে আছি। মুখ দিয়ে যেন কোন কথা বের হচ্ছে না। তবুও এক্সাইটেড হয়ে বললাম,,,
তোমার হাতটা একটু ধরি..???
(আমি)
এই না না,, কেউ দেখে ফেললে সমস্যা হবে। (শিমলা)
প্লিজ একবার। কেউ দেখবে না। (আমি)
আচ্ছা,, একবার...
হুম,,,
এইভাবে শুরু হয় আমাদের প্রেম কাহিনি। তবে আমরা যে প্রেম
করতাম এইটা শুধু আমাদের কয়েকজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছাড়া আর কেউ জানত না। কারন তখন আমরা খুব ছোট ছিলাম। যদি আমাদের পরিবারের কেউ জানতে পারত তাহলে অনেক সমস্যা হতে পারত। এজন্য আমরা লুকিয়ে লুকিয়ে প্রেম করতাম।
এর ভিতরে আবার শিমলার অনেক নিয়ম ছিল। যেমন,,, সপ্তাহে মাত্র একবার ঘুরতে বের হতে পারব। দিনে দুইবার ফোনে কথা বলতে পারব। এইরকম কিছু নিয়ম ছিল। আমিও বেশ ভালো ভাবেই শিমলার দেয়া নিয়োগ গুলো পালন করতাম। এইভাবে কেটে যায় আমাদের দুইটা বছর।
আমাদের বয়স কম হলেও আমরা একে অপরকে খুব ভালোবাসতাম। আমরা দুজন খুব ভালো করেই জানতাম এটা কোন আবেগের ভালোবাসা নয়। এটা আমাদের ভিতরের প্রথম ও শেষ ভালোবাসা। এই দুই বছর বেশ ভালোই কেটেছে আমাদের দিনকাল। শিমলা আর আমার ভালোবাসা কমে তো নাই বরং দিন দিন আমার প্রতি শিমলার কেয়ার জেন বেরেই চলেছিল।
এসএসসি পরিক্ষার আর মাত্র ২ দিন বাকি। বিকালবেলা আমাদের বাসার ছাদে বসে আছি। এখন আড্ডা দেওয়া অনেকটা কমিয়ে দিয়েছি। কারন একটাই শিমলা। নিজেকে অনেক পরিবর্তন করে ফেলেছি। শুধু মাত্র শিমলার জন্য। কারন আমি যে ওকে নিজের জীবনের থেকেও বেশি।
জন্য। কারণ আমি যে ওকে নিজের জীবনের থেকেও বেশি ভালোবাসি।
ছাদে বসে কিছু পুরনো কথা চিন্তা করতেছিলাম। তখনই শিমলার ফোন,,,
এই সময় কখনো শিমলা ফোন দেয় না। তবুও ভাবলাম হয়তো আমার কথা খুব মনে পরতেছে। তাই হয়তো ফোন দিয়েছে। আমি তাড়াতাড়ি ফোনটা রিসিভ করি,,
হ্যাঁ আমার জান পাখিটা বলো,,!!! (আমি)
তুমি কোথায় এখন...?? (শিমলা)
বাসায়,,, কেন ঘুরতে যেতে হবে নাকি.?? (ফান করে)
তুমি তাড়াতাড়ি **** পার্কে এসে আমার সাথে দেখা করো.. (শিমলা)
ওকে বেপি,,, ওয়েট। তুমি এক মিনিট অপেক্ষা করো আমি দুই মিনিটের মধ্যে আসতেছি..!! (আমি)
--- শ্রাবন সবসময় ফান ভালো লাগে না। (শিমলা)
আচ্ছা বাবা সরি। আমি আসতেছি।।
আমি জানি শিমলা এখন রেগে আছে। আমি হয়তো কোন ভুল করেছি। তার সাজা দিবে এখন ডেকে নিয়ে। কারন এর আগে অনেক হয়েছে এমন। জানি না, শিমলার সামনে যে কয় হাজার বার আমি কান ধরেছি। এর কোন ঠিক নেই। কার কাছে এইটা কেমন লাগে জানি না। তবে আমার তো ভালোই লাগে গার্লফ্রেন্ডের সমনে কান ধরতে।
এইতো কথা বলতে বলতে শিমলার কাছে চলে এসেছি।
পার্কে প্রবেশ করে দেখি পার্কে অনেক লোক। মানে বিকাল টাইমে অনেক কাপল থাকে এখানে। বেশ মজার একটা বিষয়। আমি আর দেরি না করে আমার জনের কাছে গেলাম।
হুম বলো,, কি বলবে..? (শিমলার পাশে বসে)
তোমার ফোনটা দাও,,, (শিমলা)
এই নাও....
পাসওয়ার্ড কি.???(হাতে ফোন নিয়ে)
তোমার নাম....(আমি)
প্রায় ২০ মিনিট পরে আমার কাছে ফোন দিল...!!! আমি হাতে ফোন নিয়ে জিজ্ঞেস করলাম,,
কি করলে ফোনে এত সময়.?? (আমি)।কি করলে ফোনে এত সময়.?? (আমি)
--- আমাদের সব কিছু ডিলিট করে দিলাম.. (শিমলা)
-- হোয়াট এ জোক....!!! (আমি হেসে)
এইটা কোন মজার কথা না। ফোনটা চেক করে দেখ। (শিমলা)
শিমলার কথায় এইবার আমি ফোনটা চেক করলাম। সত্যি তো আমার ফোনে আমার আর শিমলার কোন মেসেজ নেই, নেই কোন ছবি, নেই কোন শিমলার নাম্বার। আমি অবা
ক হয়ে শিমলাকে জিজ্ঞেস করলাম,,,
এগুলো কি শিমলা.??? আমি তো কিছুই বুজতেছি না..(আমি)
আমি বুঝিয়ে বলি,,, আমার পক্ষে আর এই সম্পর্কটা টিকিয়ে রাখা সম্ভব না শ্রাবন। তুমি আর আমাকে কখনো বিরক্ত করবে না। আমি তোমাকে আর ভালোবাসতে পারব না। (শিমলা)
--- I am sorry..... তুমি আমাকে মাপ করে দাও। আমি জানি,, আমি নিশ্চয়ই কোন অপরাধ করেছি। যার জন্য তুমি আমার সাথে এমন করতেছ... (আমি দাড়িয়ে)
আমি আসি,, আমাকে তুমি কথা দাও আমাকে আর কখনো ডিস্টার্ব করবে না। (শিমলা)
শিমলা তুমি এগুলো কি বলতেছ.?? আমার অপরাধ কি বলো.?? যার জন্য আমাদের দুই বছরের সম্পর্ক এইভাবে তুমি ভেঙে দিচ্ছ..?? (আমি)
--- তোমার কোন দোষ নেই। সব দোষ আমার। যার জন্য আমাকে এখন এইটা ভোগ করতে হচ্ছে। (শিমলা)
এরপর শিমলা চলে যেতে লাগল। আমি শিমলার হাত ধরে বললাম,,,
তাহলে এই সব কিছু কি শুধু মাত্র তোমার অভিনয় ছিল..?? যাস্ট টাইম পাস ছিলাম আমি..?? (কথা গুলো বলার সময় চোখ থেকে পানি বেরিয়ে গেল)
শিমলা আমার হাত ছাড়িয়ে নিয়ে বলল,,
আর কোন দিন আমার সাথে যোগাযোগ না করলে খুশি হবো.....
শিমলা এরপর চলে গেল। আমি সেই জায়গায় মাটিতে বসে পরলাম।
কি হয়ে গেল আমার সাথে এই ৩০ মিনিটে..? এইটা কি কোন সপ্ন নাকি বাস্তব.?? সপ্ন হলেই হয়তো ভালো হতো। কিন্তু আফসোস এযে রাস্তর। যাওয়ার আগে শিমলা।

Post a Comment

0 Comments