অবাঞ্ছিত_নয়_অপ্রকাশিত

 

অবাঞ্ছিত_নয়_অপ্রকাশিত  
অবাঞ্ছিত_নয়_অপ্রকাশিত


__ এত রাতে কাজের মেয়ের সাথে রান্না ঘরে কি হচ্ছে এইসব।
“কণ্ঠটা শুনেই অন্তু ভয়ে বসা থেকে দাঁড়িয়ে যায়। হাত থেকে গ্লাসটা প্রায় পড়ে যাচ্ছিল। দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন আরবিদের মা। চোখেমুখে রাগ আর ঘৃ*ণার মিশ্র ছাপ। আরবিদ মায়ের দিকে
বিরক্ত হয়ে তাকায়।
__ আম্মু, তুমি এখনো জেগে?
__ হ্যাঁ, জেগেই আছি। না জাগলে তো বুঝতেই পারতাম না কাজের মেয়েটা আমার ছেলেকে নিয়ে রাতে বসে এইসব আ*দিখ্যেতা করছে। নিজে তো খাচ্ছো লংকা বাটা দিয়ে ভাত সেখানে আমার ছেলেকেও খা*ওয়াচ্ছে।
“কথাটা শুনে অন্তুর মুখটা মুহূর্তেই ফ্যা*কাশে হয়ে যায়। মাথা নিচু করে ফেলে সে। বু*কের ভেতরটা কাঁপছে অপমানে।
__ আম্মু, স্টপ ইট। অন্তু খাচ্ছ নাকি তুমি বাধ্য করেছো খেতে? আমি তো মাংশ নিয়ে এসেছিলাম সে গুলো কোথায়?
“আরবিদ শ*ক্ত গলায় বলে ওঠে। কিন্তু তার মা যেন আরও ক্ষেপে যায়।
__ কেন? ভুল কি বললাম? ওর পরিচয় ভুলে গেছো নাকি? দয়া করে আশ্রয় দিয়েছি বলে নিজেকে এই বাড়ির বউ ভাবতে শুরু করেছে? কাজের মেয়েদের কপালে এমন খাবার জুটে।
“অন্তুর চোখ বেয়ে পানি পড়তে থাকে। সে কাঁপা গলায় বলে ওঠে।
__ আন্টি, আমি এমন কিছু ভাবিনি।
__ তাহলে আমার ছেলের সামনে কান্নাকাটি করে বসে আছো কেন? নাটক দেখাচ্ছো?
“আরবিদ এবার রাগে দাঁড়িয়ে যায়।
__ Enough, আম্মু। কাজের মেয়ের সাথে তো আগে এমন করোনি তাহলে এখন কেন করছো? ভালোবাসার অপরাধে?
__ হেঁ অপরাধ। নিজের অবস্থান ভুলে কি করে পারে যে বাড়িতে খাচ্ছে সেই বাড়ির মালিকের দিকে চোখ দিতে?
“ কথা গুলো বলে আরবিদের মা ঠান্ডা চোখে তাকান ছেলের দিকে। তারপর ধীরে ধীরে অন্তুর সামনে রাখা থালাটা হাতে তুলে নেয়।
“আরবিদ হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে থাকে নিজের মায়ের দিকে।
__ তুমি সিরিয়াসলি এসব এই জন্য করছো? তাহলে শোনো অন্তু আমাকে ভালবাসে কিনা আমি জানিনা কিন্তু আমি ওকে ভালোভাসি। তাই এইসব ভুলে নিজের পুত্রবধূ হিসাবে গ্রহণ করো, খুব শীঘ্রই আমি বিয়ে করবো ওকে। ভালোই ভালোই মেনে নিলে ভালো, আর না মানলে আমি কেমন, সেটা তুমি খুব ভালো করেই চেনো।
“আরবিদের কথাটা শুনে মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যায় আরবিদের মা। যেন বিশ্বাসই করতে পারছেন না নিজের ছেলে তার সামনে দাঁড়িয়ে এভাবে কথা বলছে। কঠিন গলায় তিনি বলে উঠে।
__ আরবিদ! একটা কাজের মেয়ের জন্য তুমি নিজের মায়ের সাথে তর্ক করছো!
__ কাজ মানুষকে ছোট করে না।
__ কিন্তু অবস্থান বুঝিয়ে দেয়।
“কথাটা শুনে আরবিদের ছোঁয়াল শক্ত হয়ে যায়।
__ তাহলে তোমার কাছে মানুষের দাম শুধু টাকার জন্য?
__ অবশ্যই। সমাজে সম্মান নিয়ে বাঁচতে হলে টাকার দরকার হয়। বংশের দরকার হয়। পরিচয়ের দরকার হয়, যার একটাও এই মেয়ের নেই। উল্টো মা অন্য পুরুষের সাথে পালিয়েছে।
“অন্তুর মনে হয় কান দিয়ে ধোঁয়া বের হচ্ছে। সাথে সাথে মাথা নিচু করে ফেলে। প্রতিটা কথা যেন তার বু*ক চিরে ভেতরে ঢুকছে।
__ এইসব তোমার প্রয়োজন আমার না। আমার শুধুমাত্র বেঁচে থাকার কারণ লাগবে, যা অন্তুর কাছে আমার ভালোবাসা।
" কথাটা বলেই অন্তুকে ফ্লোর থেকে তুলে সেখান থেকে উপরে রুমে নিয়ে যায়। পিছন থেকে ফুঁসতে ফুঁসতে আরবিদের মা বলে উঠে।
__ আমি জীবিত থাকতে এই মেয়ে এ বাড়ির বউ হতে পারবে না।
“চিৎ*কার করে ওঠেন তিনি।কথাটা শুনে অন্তু তাড়াতাড়ি পিছিয়ে যায়। আরবিদ নিজেও কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে আবারো অন্তুর হাত ধরে হাটা দেয়।
********
" উপরে এসে অন্তুকে গ্লাসে করে পানি দেয় আরবিদ। অন্তু নিঃশব্দে তা খেয়ে নেই।
__ অন্তু?
__ হুম।
__ আমার উপর বিশ্বাস আছে, ভরসা করো?
__ হুম।
__ কি হুম?
__ হে করি।
" কথাটা শুনে আরবিদ স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে। উঠে অন্তু কাছে গিয়ে ওকে শুইয়ে দেই শ*রী*রের উপর পাতলা একটা কম্বল দিয়ে লাইট অফ করে যেতে যেতে বলে।
__ বেশ এই বিশ্বাস, ভরসা টাই বজায় রাখো, বাকি সব আমার দায়িত্ব, আমি সামলে নিবো।
" বলেই আরবিদ চলে যায়। অন্তু কথা গুলোকে সহজ ভাবে নিতে পারেনা, যতটা সহজভাবে আরবিদ নিচ্ছে। বার বার কানে বাজে আরবিদের মায়ের বলা কথা গুলো। অ*পমানে চোখ বেয়ে অন্ধকারের মাঝে গড়িয়ে পড়ে চোখের অবাধ্য অশ্র গুলো।

Post a Comment

0 Comments