নিষিদ্ধ_প্রণয়
সাত সকালে আচমকাই দুঃসংবাদে কেঁপে উঠলো পুরো পরিবার। সকাল সকাল ভুঁইয়া মঞ্জিলে শামিমা বেগম এবং তার স্বামীর আগমন। তাদের কান্নাটি আর আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠলো পুরো বাড়ি। হঠাৎ করেই হসপিটাল থেকে তাদের ফোন দিয়ে জানানো হয়েছে সিফাতের অবস্থা ভালো না। কেউ বা কারা ছেলেটাকে মেরে হাত পা ভেঙে দিয়েছে। হসপিটালের একজন ওর ফোন থেকে শামিমা বেগমের নাম্বারে ফোন করে জানিয়েছে বিষয়টা। খবর পাওয়া মাত্রই দুজন ছুটে চলে এসেছেন শহরে। অচেনা শহরে কিছু না চিনে শরণাপন্ন হয়েছে জামাল সাহেবের। উদ্দেশ্য, ভাইয়ের থেকে সাহায্য পাও।
তুবার বিষয়টা নিয়ে জামাল সাহেব রেগে থাকলেও আপাতত আর কিছু বললেন না তিনি। ছেলেটার অবস্থা এমনিতেই খারাপ। কবে যে নিজের পায়ে উঠে দাঁড়াতে পারবে তার ঠিক নেই। এজন্য মনের রাগ মনে চেপে রেখে বিষয়টা আপাতত মাটিচাপা দিলেন। নিজের দিক থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেন ভালো চিকিৎসা দেয়ার। কথায় আছে না? যেমন কর্ম তেমন ফল। নিজের লোকের সাথে খারাপ করেছে। এখন শহরের গুন্ডা মস্তান ওর সাথেও খারাপ করলো। জামাল সাহেবের এমনই ধারণা।
এদিকে দোতলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে চুইংগাম চিবোতে চিবোতে সবকিছু দেখলো কৌশিক। ঠোঁটের কোণে তার কুটিল হাসি। শামিমা বেগমের কান্না কাটি আহাজারি দেখে সে বেশ মজা পাচ্ছে। আহা শান্তি!
-
-
গুটি গুটি পায়ে সময় এগিয়ে গেলো বেশ খানিকটা। উমম, আনুমানিক দেড় বছর। এই দেড় বছরে বদলে গেছে অনেক কিছু। এই যেমন, মৌমিতা আর কৌশিকের মাস্টার্স শেষ হয়ে গেছে। তুবা আর নীরব স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে কলেজের সীমানায় পা রেখেছে। সামনেই ওদের ইন্টার পরিক্ষা। যদিও এখনও বেশ কিছুটা সময় হাতে আছে। আবার অন্য দিকে রিয়া কলেজের গন্ডি পেরিয়ে ভার্সিটিতে পা রেখেছে। মোটকথা, সবাই নিজেদের জীবনে বেশ খানিকটা ধাপ এগিয়ে গেছে। সেই সাথে এগিয়ে এসেছে মৌমিতা আর রাতুলের বিয়ের দিনক্ষণ। বিয়ের ডেট আরও আগেই ঠিক হওয়ার কথা ছিলো কিন্তু হুট করেই রাতুলকে জরুরি কাজে দেশের বাইরে যেতে হয়েছে। তাই অগত্যাই ডেট আরও কিছুটা পিছিয়ে দেয়া হয়েছে।
সময়ের স্রোতে গা ভাসিয়ে সবকিছু এগিয়ে চলেছে। সেই সাথে এগিয়ে চলেছে বাচ্চাদের ভবিষ্যতের চাবিকাঠি। এই যেমন, বেশ কিছুদিন আগে একটা নাম করা সফটওয়্যার কোম্পানিতে ইন্টারভিউ দিয়েছিল কৌশিক। ভাগ্যক্রমে চাকরিটা হয়েও গেছে। আজই প্রথম কর্ম জীবনে পা রাখবে কৌশিক। তাই সকাল থেকেই আজ সে ভিষণ ব্যাস্ত।
এই যেমন, বেশ সময় নিয়ে গোসল সেরে মাত্রই ওয়াশরুম থেকে বের হয়েছে সে। কোমরে একটা তোয়ালে প্যাচানো শুধু। ফর্সা দেহে পানির কণা মুক্তোর ন্যায়ে চিকচিক করছে। লোমশ বুকটা পানির কণাগুলোকে লোমের ফাঁক ফোঁকরে লুকিয়ে নিয়েছে। ফলাফল! ভেজা লোমগুলো ফর্সা বুকে বেশ আরামের সহিত লেপ্টে আছে। গলায় একটা তোয়ালে ঝুলিয়ে ড্রেসিংটেবিলের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো কৌশিক। এক হাতে চুলের পানি ঝারতে গিয়ে চোখ পড়লো আয়না হয়ে সোজা দড়জায়। কাঠের কারুকাজ খচিত বিশাল দড়জাটা সামান্য খোলা। সেই খোলা অংশের ফাঁক গলিয়ে চিকচিক করছে এক জোড়া কৃষ্ণ কালো নয়ন মনি। ডাগর আঁখি দুটোতে একরাশ মুগ্ধতা। এই চোখের মালিক কে, সেটা বুঝতে বিন্দু মাত্র বেগ পেতে হলো না কৌশিকের। এই মন ভোলানো চোখ জোড়া না চেনা কি সম্ভব? ভাবতেই ঠোঁট কামড়ে হাসলো কৌশিক। যেনো সে কিছুই দেখেনি এমন ভঙ্গিতে দড়জার দিকে এগিয়ে গেলো। সেকেন্ডের ব্যবধানে একটানে দড়জা খুলে দিলো।
আচমকা দড়জা খুলে দেয়ায় দেহের ভারসাম্য হারিয়ে ফেললো তুবা। হুড়মুড়িয়ে পড়েই যাচ্ছিল ঠিক সেই মুহুর্তে ওর উপর খামচে ধরলো কৌশিক। পড়ে যাওয়া থেকে বাঁচলেও বিপত্তি ঘটলো আরেক জায়গায়। তুবার হাতে ছিলো একটা পায়েসের বাটি। যেটা বর্তমানে ফ্লোরে পড়ে তিন চার খন্ডে বিভক্ত হয়ে গেছে। বাটির পায়েস ছিটকে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। সেই সাথে খানিকটা পায়েস ছিটকে এসে তুবার মুখের কয়েকটা জায়গায় এবং গলায় লেগেছে। আচমকা এহেন কান্ডে ভড়কে গেলো তুবা। মাথায় হাত রেখে জিভ কামড়ে বলল,
"গেলো গেলো! সব গেলো। পুরো পায়েস নষ্ট হয়ে গেলো।"
তুবার আহাজারি সম্পুর্ন উপেক্ষা করে ওকে এক ঝটকায় দেয়ালের সাথে চেপে ধরলো কৌশিক। গভীর চোখ দুটো তুবার ডাগর চোখে নিবদ্ধ করে বলল,
"ব্যপার কি জান? সাত সকালে উঁকি ঝুঁকির কারণ? খুব দেখতে মন চাইছে বুঝি?"
ধরা পড়ে চোরের মতো নজর লুকাতে ব্যাস্ত হয়ে পড়লো তুবা। আমতা আমতা করে বলল,
"এমন কিছু না। আমিতো..."
"তুই তো? হু? দেখতে মন চাইছে ভালো কথা। এমন উঁকি ঝুঁকি দিচ্ছিস কেনো? এই পুরো আমিটাই তো তোর। মন চাইলে সোজা ঘরে চলে আসবি। নিজ উদ্যোগে সবকিছু টেনেটুনে খুলে দেখবি। আমি তো বারন করবো না। তাহলে চুরি করে দেখার কি প্রয়োজন?"
কৌশিকের এহেন লাগামছাড়া কথায় হাসফাস করে উঠলো তুবা। ছাড়া পাওয়ার জন্য মোচড়ামুচড়ি করতে করতে বলল,
"ছাড়ুন তো। খালি বাজে কথা। আমি ওয়াশরুমে যাবো। পায়েস লেগে মুখ, গলা চটচটে লাগছে।"
কৌশিক ছাড়লো না। বরং দুকদম এগিয়ে এসে দুজনার মধ্যেকার দুরত্ব ঘুচিয়ে দিলো। মুহুর্তের ব্যবধানে তুবার গলায় মুখ ডুবালো। গলায় লেগে থাকা পায়েসের অংশটুকু অবলীলায় মুখে তুলে নিলো। একই ভাবে গালে লেগে থাকা পায়েস টুকুও লোহন করে তুলে নিলো। হঠাৎ কৌশিকের গভীর ছোঁয়ায় মৃদু কেঁপে উঠলো তুবা। শ্বাস প্রশ্বাস ঘন হয়ে এলো। কান দুটো গরম হয়ে ধোঁয়া ছাড়তে শুরু করলো। তীব্র শিহরণে মুচড়ে উঠলো তুবার দেহ। কৌশিক মিষ্টিটুকু গিলে বলল,
"উমম! ইয়াম্মি! খুব টেস্টি। তোর ছোঁয়া পেয়ে পায়েসের মিষ্টতা দ্বিতীয় বেড়ে গেছে জান। আমার মধুর দোকান।"
তুবা লজ্জায় চোখ নামিয়ে নিলো। গাল দুটো টমেটোর মতো লাল রঙ ধারণ করেছে। নজর পায়ের দিকে স্থির রেখে, দুই আঙ্গুলে ফ্লোর খোটলাতে খোটলাতে বলল,
"আপনি থামবেন? আজ একটা বিশেষ দিন তাই নিজের হাতে পায়েস বানিয়েছি আপনার জন্য। অথচ আপনি সেটা ফেলে দিলেন? আমার মনটাই খারাপ হয়ে গেলো।"
বলতে বলতে তুবা মুখ ভার করে নিলো । ওর ভারাক্রান্ত মুখের দিকে তাকিয়ে ফোঁস করে নিঃশ্বাস ছাড়লো কৌশিক। বুকের ভেতর অপরাধবোধ দানা বাঁধলো। নিজের করা বোকামির জন্য এবার চরম আফসোস হলো কৌশিকের। একবার ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালো ফ্লোরে পড়ে থাকা পায়েসের দিকে। এরপর তুবার দিকে ফিরে বৃদ্ধাঙ্গুল দিয়ে কপাল চুলকে বলল,
"এই রে! গন্ডগোল হয়ে গেলো। এটা কি তুলে খেয়ে নেবো?"
বলতে বলতে পেছন ফিরলো কৌশিক। যেনো এক্ষুনি ফ্লোর থেকে পায়েস তুলে নিয়ে খেতে শুরু করবে। কৌশিকের ভাব কায়দা বুঝতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে ওর হাত টেনে ধরলো তুবা। মৃদু কন্ঠে চেচিয়ে উঠলো,
"আরে আরে কি করছেন? এটা নোংরা হয়ে গেছে।"
"তো?"
"তো মানে? পায়ের নিচে পড়া খাবার খাবেন নাকি?"
"তোর হাতের রান্না জান। শুধু ফ্লোর কেনো? রাস্তার মাঝখান থেকে, এমনকি ডাস্টবিন থেকে তুলেও খেতে পারি। ইটস প্রেশাস টু মি।"
তুবা চোখ মুখ কুঁচকে বলল,
"লাগবে না। আরও আছে। নিচে গিয়ে খেয়ে নিবেন।"
কৌশিক মেনে নিলো। সম্মতির ভঙ্গিতে মাথা দোলালো। এরপর হুট করেই কিছু একটা মনে পড়ার ভঙ্গিতে বলল,
"এক মিনিট। তুমি তো রান্না পারিস না। তাহলে পায়েস রান্না করলি কিভাবে?"
"শিখছি। ভবিষ্যতে আপনাকে রান্না করে খাওয়াতে হবে না?"
"হুমম! বউ আমার ধীরে ধীরে সংসারী হয়ে উঠছে। আ'ম ইমপ্রেস্ট।"
বলতে বলতে আবারও ড্রেসিং টেবিলের সামনে চলে গেলো কৌশিক। ব্রাশ দিয়ে চুলগুলো ঠিক করতে লাগলো। তুবা পায়ে পায়ে এগিয়ে গিয়ে ঠিক কৌশিকের পেছনে দাঁড়ালো। থমথমে মুখে বলল,
"শুনুন! কথা আছে আপনার সাথে।"
কৌশিক সঙ্গে সঙ্গে ঘুরে দাঁড়ালো। সাবলীল কন্ঠে বললো,
"শুনছি।"
"যাচ্ছেন তো অফিসে। সেখানে ছেলের পাশাপাশি মেয়ে কলিগও থাকবে। নজর সংযত রাখবেন। চোখ যেনো ভুলেও এদিকে সেদিক না যায়।"
কৌশিক এবার তীক্ষ্ণ চোখে তাকালো তুবার মুখের দিকে। দুই হাত বুকে আড়াআড়ি ভাবে ভাজ করে বলল,
"তুই আমাকে সন্দেহ করিস?"
"মোটেই না।"
"তাহলে?"
তুবা একটু থামলো। কৌশিকের থেকে নজর সরিয়ে মাথা নিচু করে নিলো। মেয়েটার চোখে মুখে যেনো আমাবস্যার আঁধার নেমেছে। কপালের প্রতিটি ভাঁজে লুকিয়ে রেখেছে দুশ্চিন্তা। কৌশিক খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে সবকিছু পরোখ করলো। এরপর তুবার হাতটা আলতো করে ধরে নিজের কাছে টেনে নিলো। দুই হাতে কোমর পেঁচিয়ে ধরে মৃদু কন্ঠে প্রশ্ন করলো,
"কি হয়েছে জান? এই ছোট্ট কপালে এতো দুশ্চিন্তার ভাজ কেনো?"
তুবা সঙ্গে সঙ্গে জবাব দিলো না। কিছুটা সময় নিয়ে আস্তে ধীরে বলল,
"কেমন যেনো ভয় লাগছে আমার। চাকরির জায়গা মানে আলাদা একটা দুনিয়া। সেখানে অনেক মেয়ে থাকবে। বিভিন্ন বয়সের সুন্দরী মেয়েরা। সাজুগুজু করে অফিসে যাবে। ওদের দেখে আপনার মন যদি আমার দিক থেকে ঘুরে যায়? আমি তো অতো স্মার্ট নই।"
তুবার মুর্ছা যাওয়া মুখের দিকে কয়েক সেকেন্ড নির্মিশেষ তাকিয়ে রইলো কৌশিক। ঠোঁটের কোণে হয়তো মৃদু হাসির রেখাও দেখা দিলো। তবে সেটা খুব বেশি বোঝা গেলো না। কৌশিক বেশ খানিকক্ষণ তাকিয়ে রইলো তুবার দিকে। এরপর সময় নিয়ে বলল,
"আমার চোখের দিকে তাকা।"
হঠাৎ এহেন আদেশে হকচকিয়ে গেলো তুবা। অবোধের মতো মাথা তুলে চাইলো। না চাইতেই চোখ রাখলো কৌশিকের গভীর দুই চোখে। আবারও সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ শুরু হলো তুবার মনে। কৌশিক চোখে চোখ রেখেই প্রশ্ন করলো,
"কি দেখতে পাচ্ছিস এখানে?"
"আমার প্রতিবিম্ব।"
সাবলীল কন্ঠে জবাব দিলো তুবা। কৌশিক হাসলো। একহাত তুবার গালে রেখে অত্যন্ত নরম সুরে বললো,
"জানিস জান? আমার এই দুই চোখে মারাত্মক সমস্যা আছে। এই চোখ দুটো তোকে ছাড়া আর কাউকে দেখে না। এই পৃথিবীর কোনো সৌন্দর্যই আমার মন কাড়তে পারে না। এক তুই ছাড়া আমার চোখের দৃষ্টি কোনোকিছুই আটকাতে পারে না। আমি যতবার তোকে দেখি, তোর সৌন্দর্যে মুগ্ধ হই। বারে বারে তোর প্রেমে পড়ি। একমাত্র তোকে দেখে আমি থমকাই, চমকাই, স্থির হয়ে যাই। তুই ছাড়া দ্বিতীয় কোনো নারী আমার নজর থমকাতে পারেনি। ভবিষ্যতেও কোনোদিন পারবে না। এমন আস্ত একটা মায়ার রাজ্য রেখে আমি অন্য দিকে নজর কেনো দেবো? আমার কি প্রানের ভয় নেই?"
বলতে বলতে কৌশিকের নজর হঠাৎ করেই চলে গেলো চাপানো দড়জার দিকে। কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে রইলো সেদিকে। এরপর কথা বলার সুর খানিকটা পাল্টে বলল,
"তুই ছাড়া আমি আশেপাশে আর কোনো মেয়ে দেখতে পাই না জান। তুই ব্যাতিত বাকি মেয়েগুলোকে আমার চোখে গরু ছাগল লাগে। এই যেমন, দড়জার দিকে তাকালে তুই মৌকে দেখতে পাবি। কিন্তু আমি দেখতে পাচ্ছি মোটাতাজা একটা হাতি।"
এটুকু বলতেই ধুপ করে দড়জা খুলে তেড়ে আসলো মৌমিতা। হঠাৎ এই মুহুর্তে মৌমিতাকে দেখে হকচকিয়ে গেলো তুবা। কৌশিক তখনও তুবার কোমর পেচিয়ে নিজের সাথে মিশিয়ে রেখেছে। বড় বোনের সামনে এমন অন্তরঙ্গ অবস্থায় ধরা পড়ে লজ্জায় আড়ষ্ট হলো তুবা। ছাড়া পাওয়ার জন্য মোচড়ামুচড়ি শুরু করলো। কিন্তু কৌশিকের হাতে বাঁধন বিন্দু মাত্র ঢিলে হলো না। বরং তুবাকে সেভাবেই নিজের সাথে মিশিয়ে রাখলো। মৌমিতা ধুপধাপ পা ফেলে এগিয়ে এসে আঙ্গুল তুলে শাসিয়ে বলল,
"অসভ্যতামির একটা সীমা আছে ভাই। তুই সবসময় আমাকে অপমান করিস।"
"যেমন কুকুর তেমন মুগুর। তুই অপমান পাওয়ারই যোগ্য। স্বামী স্ত্রীর ঘনিষ্ট মুহুর্তের প্রেমআলাপ আড়ি পেতে শুনছিস। তোকে সম্মান দেবে কে রে?"
মৌমিতা ফুঁসে উঠলো। খানিকটা চেঁচিয়ে উঠে বলল,
"আমার অতো ঠ্যাকা পড়েনি তোর প্রেমআলাপ শোনার। আজ প্রথম অফিস যাচ্ছিস। বেস্ট অফ লাক বলতে এসেছিলাম। বড় বোন হিসেবে দোয়া দিতে এসেছিলাম।"
"তোর ভাঙাচোরা দোয়া তোর কাছেই রাখ। চাকরি আমার হয়ে গেছে। এখন তোর দোয়া দিয়ে কি করবো? আচার বানাবো?"
"তুই আসলেই চরম লেভেলের বেয়াদব।"
বলেই উল্টো ঘুরে হাঁটা দিলো মৌমিতা। কয়েক কদম গিয়ে হঠাৎ থেমে গেলো। পেছনে ফিরে কৌশিকের বাহুবন্ধনে কাচুমাচু হয়ে লেপ্টে থাকা তুবার দিকে তাকিয়ে বলল,
"তুবা চল। এই অসভ্যের সাথে একদম থাকবি না।"
তুবা যেতে চাইলো কিন্তু কৌশিক ওকে ছাড়লো না। বরং মৌমিতার কথার বিরোধিতা করে গা ছাড়া জবাব দিলো,
"ও কোথাও যাবে না।"
"কেনো? এখানে ওর কি কাজ?"
"অনেক কাজ। বউ আমার ইনসিকিউরিটিতে ভুগছে। এখন ওকে আদর নিয়ে মনের ইনসিকিউরিটি দূর করবো। তার আগ পর্যন্ত ও কোথাও যাবে না।"
মৌমিতার চোখ মুখ অন্ধকার হয়ে গেলো। সে নাক মুখ কুঁচকে বলল,
"যে কোনো মুহূর্তে মা চলে আসতে পারে।"
"সমস্যা নেই। আমার সময় লাগবে না। পাঁচ মিনিট হলেই চলবে।"
বলতে বলতে তুবার দিকে তাকালো কৌশিক। নির্লজ্জের মতো জিজ্ঞেস করলো,
"হবে তো জান? নাকি আরও বেশি সময় লাগবে?"
লজ্জায় দম বন্ধ হয়ে গেলো তুবার। গলার কাছে কথা আটকে ম*রিম*রি অবস্থা। মৌমিতা নাক সিটকে গটগট পায়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো। যাওয়ার আগে ঠাস করে দড়জাটা আটকে দিলো।
Tags
সামাজিক গল্প
