ছায়াবৃত_রোদ্দুর

 

ছায়াবৃত_রোদ্দুর
ছায়াবৃত_রোদ্দুর


বছরের মাঝামাঝি সময়ে গরমের পরিমাণ একটু বেশি'ই হয়ে থাকে। কাঠফাটা রোদ আর ভ্যাপসা গরমে মানব জীবন অতিষ্ঠ। বর্ষাকাল হওয়ার ধরুন মাঝে মধ্যে শীতল বারিধারা ভিজিয়ে দেয় প্রকৃতি। তাতে যেনো স্বস্থি মিলে জনমানবের। তবে গত কয়েকদিনেও বৃষ্টির দেখা মিলেনি, যার ধরুন গরমটা এখন একটু বেশি'ই পড়ছে। জানালার ফাঁক গলে সূর্যের উষ্ণ আলো যখন গা ছুয়ে দিলো কয়েক মুহুর্তের ব্যাবধানে হাসফাস করে উঠলো ইরা। ঘুমন্ত সে অনুভব করলো গা ছমছম করছে, অনুভুতি এমন যেনো আগুনে ঝাপ দিয়েছে। শরীরের বিভিন্ন ভাজে আবার ভেজা ভেজা অনুভব হচ্ছে। কেমন এক গা ছিপছিপে ভাব। চোখ মেলে তাকালো সে, প্রথমেই নজরে আসলো মাথার উপর সিলিং। তার সাথে লাগোয়া ফ্যানটা ঘুরছে না। পর মুহূর্তে অনুভব করলো ভাড়ী কিছুর নিচে চাপা পড়ে আছে সে, চোখ ঘুরিয়ে দেখলো ইলহাম আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরে আছে তাকে। মনে পড়লো কাল রাতের কথা, আবেগন মুহুর্তের পর ইলহাম আর ছাড়েনি তাকে, বুকে জড়িয়ে ঘুমিয়ে ছিলো নিশ্চিন্তে। তার অধঃস্থলে নিজেকে অনুভব করতেই কিছুটা মুচড়ে উঠলো ইরা। ঘাড় বাকিয়ে তাকালো দেয়ালে লাগোয়া এসির পানে। উহু এটাও চলছেনা। বিরক্তিতে বিরবিরালো সে,
‘একে তো আস্তো গন্ডারের নিচে চাপা পড়ে আছি আর না আছে ফ্যান, না তো আছে এসি।’’
পরক্ষনেই প্রবল ধাক্কায় নিজের থেকে সরিয়ে দিলো তাকে। ভুমিকম্প অনুভব হতে লাফিয়ে উঠেছে ইলহাম। কয়েক সেকেন্ড সময় নিয়ে যখন আশপাশ লক্ষ্য করলো তখন বুঝতে পারলো ভুমিকম্প আসলে তার বউ ঘটিয়েছে। আরামের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাতে এবার অনুভব করলো শরীরে ঘর্মাক্ত পানির উপস্থিতি। ইরার পানে তাকিয়ে বুঝার চেষ্টা করলো তার ভাবমূর্তি, কিন্তু আন্দাজ করতে পারলোনা। কিঞ্চিৎ হেসে বলল
“কারেন্ট নেই মনে হয়, তাই…। সমস্যা নেই বউ চলো আমরা বাথটবে ঘুমাই চলো”
দাত কিড়মিড় করে তাকালো ইরা, ইচ্ছে করছে এক ঘুষি মেরে চেহারার মানচিত্র বদলে দিতে। ইলহাম সে দিকে পাত্তা দিলো না। বরং এক টানে খুলে ফেলল গায়ে থাকা শুভ্র রাঙা পাতলা ফিনফিনে গেঞ্জিটা। থমকে গেলো ইরা, অস্বস্তিবোধ হচ্ছে। সজ্ঞানে কখনো খালি গায়ে দেখেনি তাকে। পেটানো শরীরে পড়েছে কয়েকপল ভাজ, ফুলো বুক আর মেদহীন উদরে এক আকর্ষনীয় পুরুষ। ফুলানো বাহু সমেত শক্তপোক্ত হাতে পেছনে ঠেলছে কপাল ছুঁই ছুঁই চুল, দেখতে অনেকটা বইয়ের পাতায় লিখা কল্প পুরুষের মতোই। নিশ্বাস আটকে আসলো তার, তড়িঘড়ি করে পেছন ফিরলো সে। নিজের এমন অধঃপতন মেনে নিতে পারছে না। এমন অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে অস্বস্তির চেয়ে রাগটাই বেশি হলো তার। শুনা গেলো ইলহামের ক্লান্ত কন্ঠস্বর
“উফফ বাবাহ কি গরম, কাপড় গায়ে রাখা অসম্ভব”
তেতে উঠলো ইরা, চোখ মুখ শক্ত করে চেচিয়ে উঠলো
“অ*স*ভ্য, ল*ম্প*ট, এক্ষুনি বেরিয়ে যান আমার রুম থেকে”
“যাহ ব্বাবাহ, আমি আবার কি করলাম”
রাগের পারদ বাড়লো ইরার। একে তো তাকে চেপে ধরে সারারাত ঘুমিয়েছে, এখন খালি গায়ে ঘুর ঘুর করছে, তাকে সি*ডি*উস করছে আবার বলছে আমি কি করলাম অ*স*ভ্য।
ঘাড় কাত করে ইরার মুখপানে তাকালো ইলহাম। বুঝতে পারলো ইরা অস্বস্থিবোধ করছে তাই তার অস্বস্থি বাড়িয়ে দিতে দুষ্টুমির স্বরে বলল
“তুমি কি লজ্জা পাচ্ছো মুনলাইট? আরে ধুর লজ্জা পাওয়ার কি আছে আমরা আমরাই তো। আর আমাদের তো এমনিতেও সব দেখা দেখি শেষ”
লজ্জা পাওয়ার ভান করে মাথা চুলকায় সে, ভাবখানা এমন যেনো ইরা তাকে এমন কথা বলেছে আর সে লজ্জা পাচ্ছে। বিস্ময়ে হা করে আছে ইরা, সে ভেবেছিলো এই ছেলে শুধু অ*স*ভ্য ল*ম্প*ট কিন্তু না তার সাথে সাথে এই ছেলে বেলাগাম, ঠোঁটকাটা। লজ্জায় রাগে ক্ষোভে ইচ্ছে করছে তার মাথার চুলগুলো গুনে গুনে ছিড়ে হাতে তুলতে। সে আর কথা বাড়ালো না, ইলহামকে উপেক্ষা করে চলে যেতে চাইলো ফ্রেশ হতে। কিন্তু সেখানেও বাধলো বিপত্তি, তাকে পাশ কাটিয়ে ইলহাম চলে গেলো ওয়াশরুমে। যেতে যেতে বলে গেলো
“তোমার টাওয়াল টা দিও বউ, আমি কিন্তু শুধু প্যান্ট পড়ে ভেতরে যাচ্ছি। আর হ্যাঁ যদি টাওয়াল না পাই তবে কিন্তু এই প্যান্ট ছাড়া'ই বাহিরে আসবো”
হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইলো ইরা, ও কি তাকে থ্রেট দিলো? দিক, সে দিবে না টাওয়াল। প্যান্ট ছাড়া বাহিরে আসবে? আসুক, আজ একটা রফা দফা করে ছাড়বে সে। পরক্ষনে কিছু মনে পড়তে হতাশার নিশ্বাস ফেলল। তার ওয়াশরুম নিয়ে বসে থাকলে সে শাওয়ার নিবে কোথায়? একে তো রাতে ফ্রেশ না হয়ে ঘুমিয়েছিলো তার উপর আবার এখন এতো গরম। শাওয়ার না নিলে তো দমবন্ধ হয়ে মারা যাবে।
______
এই গরমে কাকের বিচ্ছিরি সুরের গান আর গাড়ির হর্ণ যেনো কানে তালা লাগিয়ে দিচ্ছে।আহসান মঞ্জিলের ত্রি সীমানা পেরিয়ে মৃদু পায়ে হাটছে মীরা। ব্যাস্ত শহর পেরিয়ে কোথাও একটু প্রশান্তির সময় কাটাবে সেই সুযোগও নেই। না তো কেউ কোথাও নিয়ে যাবে আর না তো সে একা যেতে পারবে। ফুটপাত ধরে হাটছে সে, কিছুক্ষন পর পর দুয়েকটা রিকশা বেল বাজিয়ে জিজ্ঞাসা করছে
“আফা যাবেন?”
মাথা নেড়ে নিঃশব্দে প্রত্যাক্ষান করে সে। আর কয়েকপা এগুলেই সামনে একটি ছোট পার্ক আছে। উদ্দেশ্য সেখানে একটু সময় কাটানো তারপর কলেজের দিকে পা বাড়াবে। নির্বিগ্নে একা একা হাটছে সে, তখন পুনরায় কানে বাজলো
“আফা যাবেন?”
এবার আর বেলের আওয়াজ করলো না। তাই চোখ তুলে তাকালো সে, ইরহামকে তার পাশে হাটতে দেখে চমকে গেলো। কোথা থেকে যেনো এক বুক ভালোলাগা আর আনন্দে চেয়ে গেলো মন। প্রফুল্ল চিত্তে বলে উঠল সে
“আরে বেয়াই আপনি? এখানে?”
ফুস করে নিশ্বাস ফেলল ইরহাম। যেনো বুক থেকে পাথর সরিয়ে দিলো। পরক্ষণেই আফসোসের স্বরে বলল
“কি করবো বলো বেয়াইন? সারাটা রাত ঘুমুতে পারিনি। ছাতক পাখির মতো ছটফট করেছি শুধু, তাই তো সকাল হতেই ছুটে এসেছি”
প্রশ্ন সূচক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে মীরা। তার দৃষ্টি বলে দিচ্ছে ইরহামের কথা বোধগম্য হয়নি। পুনরায় ফুস করে নিশ্বাস ফেলল ইরহাম। ঠেরা চোখে মীরার পানে তাকিয়ে সুধালো
“এভাবে ভেবলার মতো তাকিয়ে আছো কেন?”
ভাবুক মীরা থুতনিতে আঙুল ঠেকিয়ে গভীর মনোযোগ নিয়ে প্রশ্ন করলো
“কেনো বেয়াই? ঘুমাতে পারেন নি কেন? আর ছটফট’'ই বা করলেন কেন? পেট খারাপ হয়েছিলো?”
বিষম খেলো ইরহাম, কষ্টে দুঃখে রাস্তায় গড়াগড়ি দিয়ে কাদতে ইচ্ছে হলো। এই লিলিপুটকে বোঝালো কি আর সে বুঝলো কি? আঙুল তুলে শাসালো তাকে
“একদম ইনোসেন্ট সাজবে না মীরা, বুঝেও না বুঝার ভান করো না”
কাদো কাদো মুখ করে তাকালো সে, কন্ঠে অসহায়ত্ব ফুটিয়ে বলল
“বিশ্বাস করেন বেয়াই, আমি বুঝতে পারছিনা”
নাক মুখ ফুলিয়ে উপহাস্য বাক ছুড়লো ইরহাম
“লিলিপুট কোথাকার”
তেতে উঠলো মীরা। তার থেকে এগিয়ে চলা ইরহামের হাত টেনে ধরলো সে। ক্ষেপা বাঘিনীর মতো ফুস ফুস করে বলল
“এই এই আপনি আমাকে লিলিপুট বলেছেন? আপনি জানেন আমি চাইলে এক্ষুনি আপনাকে এই রাস্তায় গনপিটুনি খাওয়াতে পারি”
তার বাহু স্পর্শ করা পেলব হাতখানার পানে তাকালো ইরহাম, তার থেকে পাওয়া প্রথম স্পর্শ। কোথায় যেনো ভীষণ ভালোলাগা কাজ করলো। কাল ভেতরটা যতখানি পুড়ছিলো আজ যেনো সেখানে বর্ষার প্লাবন নামলো। মায়াবী ইনোসেন্ট চেহারায় এমন মেকি রাগ মানালো না যেনো। তাইতো ইরহাম রাগটুকু মুছে দিতেই বলে উঠল
“আমি তোমাকে মিস করেছি মীরা। তোমাকে দেখার জন্য এই সকাল সকাল ছুটে এসেছি। তুমি কি বুঝতে পারছো আমার হৃদয় কতখানি পুড়ছে তোমার জন্য”
থমকে গেলো সে, ইরহামের চোখের পানে তাকিয়ে হারিয়ে গেলো সেখানে। চোখে চোখ রেখে যেনো পড়ে নিচ্ছে দুজন দুজনার অনুভুতি। কয়েক পল অতিবাহিত হওয়ার পর তাকে স্পর্শ করা হাতের উপর অতি যত্নে নিজের শক্ত হাতখানা রাখলো ইরহাম। কেঁপে উঠলো মীরা, তৎক্ষনাত ছিটকে দুড়ে সরে গেলো তার থেকে। ব্যাতিত ইরহাম বিরস কন্ঠে সুধালো
“কি হলো এমন করছো কেন?”
হাপড়ের ন্যায় চারপাশে চোখ বুলাচ্ছে মীরা। শুকনো ঢোক গিলে পায়ের গতি বাড়ালো সে। ইরহামের প্রশ্নের জবাব দিতে ঘাবড়ানো স্বরে হিসহিস করে বলল
“কেউ দেখে ফেলবে। আপনি চলে যান প্লিজ”
ভড়কালো ইরহাম, সেও তাকালো চারপাশে। এখানে তো কেউ নেই। আর দেখলেই বা কি? তারা তো একে অন্যের পরিচিত। ততক্ষণে তার থেকে অনেকটা এগিয়ে গেছে মীরা। পেছন থেকে ডেকে উঠলো সে
“আরে দাঁড়াও, কথাটা তো শুনে যাও”
থামেনি সে, বরং পায়ের গতি আগের তুলনায় বেড়েছে। বিরক্ত হলো ইরহাম, এই সকাল বেলা ছুটে এসেছিলো এইসবের জন্য? তারপর কি মনে পড়তে পুনরায় চেচিয়ে বলল
“আরে কবে ফিরবে সেটা তো বলে যাও। নাম্বারটা তো দিয়ে যাও অন্তত”
ক্রমেই ক্ষুদ্র হচ্ছে তার অবয়ব। ইরহামের আওয়াজ তার কান পর্যন্ত পৌঁছেছে কিনা সেটাও ঠিক বলা যাচ্ছে না। ভিষণ রাগ হলো ইরহামে, এভাবে চলে যেতে পারলো? সে যে অনেকটা পথ পাড়ি দিয়ে এই সকাল বেলা ছুটে আসলো তার কোনো মূল্য নেই?
______
দুহাতে ভর দিয়ে বিছানায় বসে আছে ইরা, কখনো আবার দু পা এক করে ঝুলাচ্ছে। ক্ষনে ক্ষনে আবার তাকাচ্ছে ওয়াশরুমের দরজায়। ইলহাম ভেতরে গিয়েছিলো আধ ঘন্টা আগে বের হওয়ার কোনো নাম'ই নেই। অবশ্য বের না হওয়ার একটা কারন রয়েছে। ইতিমধ্যে দুইবার ডেকেছে ইরাকে। সময় দিয়েছে টাওয়াল দিয়ে আসার। এখন আর সময় নেই। বলেছে তৃতীয় বার ডাকবো যদি না নিয়ে আসো আমি কিন্তু বের হয়ে যাবো উইদাউট প্যান্ট। ইরা ভোগছে দুটানায়, এক মন বলছে টাওয়ালটা দিয়ে আয় ইরা, একটা টাওয়াল'ই তো দিবি জানটা তো আর দিয়ে আসবি না। আরেক মন বলছে খবরদার ইরা, এই হতচ্ছাড়া তোকে সারাক্ষন জ্বালায় শুনবি না ওর কথা। কিন্তু ইরা তো জানে এই ছেলে নির্লজ্জ, বেলাগাম। বলেছে যখন সত্যি সত্যি প্যান্ট ছাড়া বের হয়ে আসবে। কিন্তু ইরা কোন মনের কথা শুনবে? ভাবতে ভাবতে মুখের ঘর্মাক্ত কণাগুলো মুছে নিলো ওরনার প্রান্তে। বাবাহ, কি গরম। তার মধ্যে মরার উপর খরার গা এই ছেলে চেপে বসেছে ঘাড়ে। তার মতো মেয়েকে হেনস্তা করছে এটা ভাবা যায়? নাহ! এর একটা বিহিত করতেই হবে। তার ভাবনা চিন্তার মধ্যেই পুনরায় ভেসে
এলো ইলহামের কন্ঠ
“কি হলো মুনলাইট কথা বলছো না কেন? টাওয়াল দিবে নাকি আমি আসবো?”
পূর্বের ন্যায় এবারও চুপ রইলো ইরা। পর পর তিনবার তার কোনো সাড়া না পেয়ে এবার ইতি টানলো ইলহাম
“ওকে বেইব, তাহলে আসছি আমি”
মুহুর্তের মধ্যে ছিটকিনির আওয়াজ ভেসে আসলো কানে। লাফিয়ে উঠলো ইরা। তারমানে সত্যি সত্যি চলে আসছে। কালবিলম্ব না করে চেচিয়ে উঠলো সে
“দিচ্ছি, দিচ্ছি টাওয়াল দিচ্ছি আমি”
তড়িঘড়ি করে টাওয়াল নিয়ে ছুটে গেলো দরজায়, কিঞ্চিৎ খোলা দরজার ফাঁক গলে বেরিয়ে আছে ইলহামের ফর্সা হাত। চোখ মুখ খিঁচে তার হাতে টাওয়াল খানা তুলে দিলো ইরা। কিন্তু তারপর? সেকেন্ডের ব্যাবধানে নিজেকে আবিষ্কার করলো ইলহামের বাহুবন্ধনে। ধীরে ধীরে পানির ঝাপ্টা ভিজিয়ে দিতে লাগলো তাকে। ইরা যেনো টাস্কি খেলো, কি থেকে কি হয়ে গেলো? ইলহামের এমন পদক্ষেপ তার ধারনার বাহিরে ছিল। হুশে ফিরতেই মুচড়ে উঠলো সে। কিন্তু একচুলও সরতে পারলো ইলহামের হাত ফস্কে। দুহাত মুষ্টিবদ্ধ করে প্রস্তুতি নিলো তাকে আঘাত করার কিন্তু সফল হতে পারলো না। চোখের পলকে তার হাত দুটোকে উপরে তুলে নিজের একহাতে চেপে ধরেছে দেয়ালের সাথে। সময়ের ব্যাবধানে নিজেদের মধ্যে দূরত্ব ঘুচিয়ে নিলো সে। ইরার ভেজা গালে নিজের দাড়ি ভর্তি গাল ঘষে শব্দ করে চুমু খেলো তার গলদেশে। অতঃপর কানের কাছে ফিসফিস করে বলল
“একটা সিক্রেট জানো জান? ক্যারাটে কিন্তু আমিও জানি। মাঝে মধ্যে একটু সুযোগ দেই মানে এটা ভেবে নিও না যে সব সময় তোমাকেই জিতিয়ে দিবো। ইউ নো না সুইটহার্ট মাঝে মধ্যে বউয়ের ব্যাথায় কুচকানো চেহারা দেখতেও প্রচুর ভালো লাগে”
বন্ধ চোখের পাতা তিরতির করে মেলে তাকালো ইরা, ইলহামের কথার পুর্নাঙ্গ মানে বুঝতে অক্ষম সে। যেই না তার চোখে চোখ রাখলো ওমনি বিদুৎতের ঝটকা লাগলো যেনো গায়ে। জবুথবু ভেজা গায়ে শরীরের প্রতিটি ভাজ স্পষ্ট। হালকা গ্রে রঙের জামা তার শরীর ঢাকতে অপারগ যার ধরুন সম্পুর্ন ইরা'ই স্পষ্ট আর সেই শরীরের প্রতিটি ভাজে ভাজে চোখ বুলাচ্ছে ইলহাম। তার চোখে যেনো মাদকের নেশা, শিউরে উঠলো ইরা। মাঘের শীতের ন্যায় টকটক করে কাপতে লাগলো সে। উহু ভয়ে নয়, অস্বস্থিতে। বাকা হাসল ইলহাম, দৃষ্টিপাত করলো কমলবনের ন্যায় কাপতে থাকা ইরার তামাটে ওষ্ট পানে। বিন্দু বিন্দু পানির জমে আছে সেথায়। গলা শুকিয়ে আসলো তার, মনে হলো এই পানি পান না করলে মারা পড়বে সে। মারা পড়বে, তীব্র তৃষ্ণায় ছটফট করতে করতে মারা যাবে।
চোখদুটো খিচে আছে ইরা। ইলহামের অতর্কিত আক্রমণ কাপনের বেগ বাড়িয়েছে তার। উন্মাদ ইলহামের তা দেখার ধৈর্য নেই। ইরার চুলের ভাজে অবশিষ্ট হাতটা চেপে আছে সে। ইরার নরম ওষ্টের ভাজে মাড়িয়ে যাচ্ছে তার গোলাপ রাঙা ওষ্ট। মাঝে মধ্যে আবার দন্তের চাপ প্রয়োগ করছে তাতে। খেকিয়ে উঠছে ইরা, তার অস্পষ্ট গোঙানির আওয়াজ বেপরোয়া করে তুলছে তাকে। অধৈর্য হলো সে,ইরাকে কোলে নিয়ে বসে পড়লো নিচে। উন্মাদনা বাড়লো তার, ধীরে ধীরে বেপরোয়া স্পর্শের সাথে প্রিয়তমাকে মিশিয়ে নিচ্ছে নিজের দেহে। পুনরায়, পুনরায় তৃতীয় বারের মতো তার প্রেয়সী, তার অবাধ্য বউ, তার মুনলাইটকে মিষ্টি যন্ত্রণায় জর্জরিত করলো সে। এ যেনো তার নিরব প্রতিজ্ঞা, মুনলাইট, তুমি যত বার আমার থেকে দূরে যেতে চাইবে ঠিক ততবার, ঠিক ততবার তোমায় আমি ভালোবেসে আঁকড়ে ধরবো।

Post a Comment

0 Comments