সকাল ৮টা। রাহাত ঘুম থেকে উঠে। মা নাস্তা দেয় - ১টা রুটি আর চা।
বাবা রিক্সা নিয়ে বের হয়ে যায়। যাওয়ার আগে বলে, "বাবা, আজকে কিছু একটা হবেই।"
রাহাত ব্যাগে ১০ টা C'V নিয়ে বের হয়।
টার্গেট: শহরের ৫টা কোম্পানিতে C'V জমা।
১ম কোম্পানি: "অভিজ্ঞতা লাগবে ২ বছর"
২য় কোম্পানি: "মামা-খালু আছে?"
৩য় কোম্পানি: C'V নিয়ে বলে "ফোন দিব"
৪র্থ কোম্পানি: "বেতন ৮ হাজার। রাজি?"
৫ম কোম্পানি: গেটেই ঢুকতে দেয় নাই। "আজকে লোক নিবে না"
পকেটে আছে ২০ টাকা। ক্ষুধা লাগছে।
চায়ের দোকানে বসে ৫ টাকার চা আর ১০ টাকার বিস্কুট খায়।
পাশে ৩ বন্ধু বসে। সবার হাতে নতুন ফোন।
১ম জন: "দোস্ত নতুন চাকরি, বেতন ৪০ হাজার"
২য় জন: "আমার বাইক কিনলাম"
৩য় জন রাহাতকে দেখে বলে, "কিরে তুই এখনো বেকার? লজ্জা লাগে না?"
রাহাত কিছু বলে না। চায়ের কাপে চুমুক দেয়। পানি চোখে আসে।
_রাত ১০টা। বাড়িতে:_
বাবা ৪০০ টাকা ইনকাম করে ফিরছে। কোমর ধরে আছে।
টাকা মার হাতে দিয়ে বলে, "সংসার চালাও।"
মা রাহাতকে বলে, "বাবা, পাশের বাড়ির দোকানে কাজ করবি? ৬ হাজার দিবে।"
রাহাত মাথা নিচু করে, "আমি মাস্টার্স পাশ মা।"
বাবা রুমে এসে বলে, "বাবা, সম্মান দিয়ে পে'ট ভরে না। সংসারটা বাঁ'চা লাগবে।"
রাহাত ছাদে যায়। আকাশের দিকে তাকায়।
ফোনে ব্যাংক ব্যালেন্স চেক করে: ১৫০ টাকা।
ফেসবুকে বন্ধুদের পিক। নতুন জামা, ঘুরতে যাওয়া।
_শেষ লাইন_
রাহাত নিজেকে বলে, "আমি কি আসলেই অযোগ্য?
নাকি এই সমাজ শুধু টাকাওয়ালা ছেলেকেই দাম দেয়?"
ফোনে একটা মেসেজ আসে অচেনা নাম্বার থেকে:
`"কাল সকাল ১০টা। ইন্টারভিউ। ড্রেসকোড: ফর্মাল। ঠিকানা..."`
রাহাত মেসেজটা ৩ বার পড়ে।
ওর কাছে ফর্মাল শার্ট-প্যান্ট নাই।
*********
অচেনা নাম্বার থেকে ইন্টারভিউ এর মেসেজ আসছে। কিন্তু রাহাতের ফর্মাল ড্রেস নাই।
সকাল ৭ টা"
রাহাত সারারাত ঘুমায় নাই। ব্যাগে ১৫০ টাকা।
ইন্টারভিউ ১০টায়। ঠিকানা শহরের বড় কোম্পানি।
মাকে বলে, "মা, ১০ টাকা হবে? জরুরি।"
মা আলমারি খুলে ৬০০ টাকা দেয়, "এটা দিয়ে বাজার করব ভাবছিলাম। কি হইছে?"
রাহাত মি'থ্যা বলে, "বন্ধুর দরকার।"
রাহাত মার্কেটে যায়। সবচেয়ে সস্তা শার্ট-প্যান্ট ১২০০ টাকা।
ওর কাছে ৬০০ + ১৫০ = ৭৫০ টাকা।
দোকানদার বলে, "ভাই, ৫০০ টাকা বাকি রাখেন।"
দোকানদার হাসে, "বাকি? বেকার ছেলেরে বাকি দেই না।"
রাহাত অপমান নিয়ে বের হয়ে আসে।
শেষে বন্ধু সোহেলকে ফোন দেয়। সোহেল চাকরি করে।
"দোস্ত, ১টা ফর্মাল শার্ট ধার দিবি? কাল দিয়ে দিব।"
সোহেল: "আমার তো নাই রে। তুই একটা কিনে ফেল।"
_সময় ৯:৩০_। ইন্টারভিউ আর ৩০ মিনিট।
রাহাত বাসায় এসে বাবার পুরান সাদা শার্টটা বের করে।
ইস্ত্রি করে। প্যান্ট কালো। জুতা কালি করে।
আয়নায় নিজেকে দেখে, "চলবে।"
১৫ জন ক্যান্ডিডেট। সবার দামি শার্ট, টাই, ব্রিফকেস।
রাহাত কোণার চেয়ারে বসে। ঘামতেছে।
H'R স্যার ঢুকে সবার দিকে তাকায়। রাহাতের পুরান শার্ট দেখে ভ্রু কুঁচকায়।
প্রশ্ন: "নিজের স'ম্পর্কে বলেন"
রাহাত কাঁপা গলায় বলে, "স্যার, আমি অনার্স-মাস্টার্স ফার্স্ট ক্লাস। ১ বছর ধরে চাকরি খুঁজতেছি।
আমার বাবা রিক্সা চালায়। আমার শার্টটা পুরান হতে পারে। কিন্তু আমার পরিশ্রম আর সততা নতুন।
আমাকে একটা সুযোগ দেন স্যার।"
রুমে পিন পতন নিরবতা।
HR স্যার কিছু না বলে ফাইল রাখে, "রেজাল্ট ৩ দিন পর মেইলে জানাব। আসেন।"
রাত ১২টা:*
রাহাত ছাদে বসে। ফোনে কোনো মেইল নাই।
বাবা ঘুমের মধ্যে কাশতেছে। মা'র কাশির শব্দ।
রাহাত নিজেকে বলে, "আল্লাহ, আমি তো মিথ্যা বলি নাই।
সত্যি কথা বলছি। এবার তুমি ভরসা।"
ফোনের স্ক্রিনে ১৫০ টাকা ব্যালেন্স।
কাল আবার C'V নিয়ে বের হতে হবে।
হঠাৎ ফোনে "টুং" শব্দ।
অচেনা মেইল: `Subject: Regarding Your Interview`
রাহাত কাঁপা হাতে ইমেল খুলে...

0 Comments