আমার স্বামীর গাড়ির দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দটা যেন মৃত্যুর ঘণ্টা বাজিয়ে দিল।
আমি শেষবারের মতো দারোয়ানের দিকে তাকিয়ে চিৎকার করলাম, "দরজাটা খুলুন!"
লোকটা হেসে বলল, "আজ রাতেই নতুন জীবন শুরু হবে, ম্যাডাম।"
ঠিক তখনই আমার স্বামী ঘরে ঢুকল।
তার মুখে আগের মতোই শান্ত হাসি।
"শেষ পর্যন্ত তুমি দেখে ফেলেছ..."
আমি কাঁপা গলায় বললাম, "ওই মেয়েটা কে?"
সে কোনো উত্তর দিল না।
ধীরে ধীরে খাট সরিয়ে কাচের ঢাকনাটা খুলে দিল।
গর্ভবতী মেয়েটি আমার দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল, "পালাও... ও আমাকে নয়, তোমাকেও মারবে।"
আমি কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমার স্বামী পকেট থেকে একটি ইনজেকশন বের করল।
"দুঃখিত... এবার তোমার পালা।"
আমি দৌড়ে পালাতে শুরু করলাম।
পুরো বাড়িটা যেন একটা গোলকধাঁধা।
যেদিকেই যাই, একই করিডোর, একই দরজা।
হঠাৎ একটি ঘরের দরজা খুলতেই আমার বুক হিম হয়ে গেল।
ভেতরে সারি সারি কাঁচের কফিন।
প্রতিটি কফিনে শুয়ে আছে...
আমি!
কেউ স্কুল ড্রেস পরে, কেউ বিয়ের শাড়িতে, কেউ গর্ভবতী।
সবাই দেখতে হুবহু আমার মতো।
প্রতিটি কফিনের ওপর একটি করে তারিখ লেখা।
সবচেয়ে শেষ কফিনে আজকের তারিখ।
আর সেটি ছিল খালি।
পেছন থেকে স্বামীর কণ্ঠ ভেসে এল—
"প্রতিবার একই ভুল করে ওরা খাটের নিচে তাকায়।
তারপর নতুন একজন আসে, আর পুরোনো জন কফিনে চলে যায়।"
আমি ঘুরতেই সে আমার হাতে ইনজেকশন ঢুকিয়ে দিল।
চোখ ঝাপসা হয়ে আসছিল।
ঠিক তখনই নিচের ঘরে বন্দি মেয়েটি নিজের শেষ শক্তি দিয়ে একটি লাল বোতাম চাপল।
বিকট সাইরেন বেজে উঠল।
মুহূর্তের মধ্যে পুরো বাড়ি কাঁপতে শুরু করল।
দেয়াল ফেটে আগুন বের হতে লাগল।
আমার স্বামী প্রথমবারের মতো আতঙ্কে চিৎকার করে উঠল।
"না! সিস্টেম চালু করো না!"
বন্দি মেয়েটি মৃদু হেসে বলল,
"আজ কেউ বাঁচবে না।"
এক প্রচণ্ড বিস্ফোরণে পুরো ভূগর্ভস্থ অংশ ধসে পড়তে শুরু করল।
আমি কোনোমতে বাইরে বেরিয়ে এলাম।
পেছনে তাকিয়ে দেখলাম, পুরো বাড়িটা মাটির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে।
পুলিশ পরে ধ্বংসস্তূপ থেকে বহু নারীর কঙ্কাল উদ্ধার করল।
কিন্তু আমার স্বামীর কোনো লাশ পাওয়া গেল না।
সবাই ভাবল, সে মারা গেছে।
ছয় মাস পর এক রাতে আমি নতুন শহরে নতুন জীবন শুরু করেছি।
হঠাৎ দরজার বেল বেজে উঠল।
দরজা খুলতেই দেখি, বাইরে কেউ নেই।
শুধু একটা ছোট কালো বাক্স।
ভেতরে আমার হারিয়ে যাওয়া হীরার দুল।
আর একটি চিরকুট—
"এবার আর খাটের নিচে নয়... পেছনে তাকাও।"
আমার হাত কাঁপতে লাগল।
ধীরে ধীরে পেছনে ফিরলাম...
তারপর পুরো ঘর অন্ধকার হয়ে গেল।

0 Comments