তোমাকে_ভাবিনি_কখনও

তোমাকে_ভাবিনি_কখনও


নীলা অফিসরুমে আর যায় নাহ দেখা করতে। বরং চুপচাপ ক্লাসরুমেই বসে থাকে। তার শান্ত, নীরব রুপ দেখে নাবিহাও কিছু বলার সাহস পায় নাহ। সেদিন তার প্রেজেন্টেশন দেওয়ার কথা থাকলেও কিয়ান কোন এক কারণ বসত তাকে ডাকে নি। ক্লাসরুমে শান্ত নীলাকে দেখে সে নিজেও অবাক হয়। মেয়েটাকে মাঠে সবার সামনে অপমান করার পর সে ভেবেছিলো নীলা হয়তো আর ক্লাসেই আসবে নাহ। তবে তাকে ভুল প্রমাণ করে দিয়ে নীলা তার সামনে উপস্থিত রয়েছে। কিন্তু ভুলেও মাথা তুলে তাকায় নি তার দিকে।
ক্লাস শেষে নীলা নাবিহা সবসময় কিছুটা দেরী করে বাড়ি যেতো। তবে আজ সে একটুও দেরী করে নি। মাঠের মাঝে দিয়ে যখন সে ভার্সিটি গেইটের দিকে যাচ্ছিলো, তখন আশেপাশের অনেকেই তাকে নিয়ে ফিসফিস করছিলো৷ নীলা শান্ত ভঙিতে স্কুটি স্টার্ট দিয়ে নাবিহাকে নিয়ে বেরিয়ে যায়। পথিমধ্যে নাবিহা কিছু বলতে গেলেও নীলা উত্তর দেয় নি। নীলার মন খারাপ বুঝে সে-ও আর কথা বলে নি। নাবিহাকে বাসার সামনে নামিয়ে দিলে নাবিহা না গিয়ে উল্টো নীলাকে শক্ত করে ঝাপটে জড়িয়ে ধরে৷
" দোস্ত, একদম মন খারাপ করিস নাহ। আমি জানি আমার নীলু অনেক স্ট্রং। বাসায় পৌছে ফোন করিস আমায়। "
নীলা অল্প করে মাথা নাড়িয়ে বেরিয়ে পরে। নীলাকে এমন অবস্হায় একা ছেড়ে নাবিহার ভয় হচ্ছিলো৷ তাই সে দ্রুত রফিক সাহেবকে ফোন করে বলে,
" আঙ্কেল, আমি নাবিহা বলছি। "
" হ্যা নাবিহা, বলো। কোথায় তোমরা? আজও আসতে দেরী হবে নাকি? "
" নাহ আঙ্কেল৷ আমাকে বাসায় নামিয়ে দিয়ে নীলা মাত্রই রওনা দিলো। আসলে আঙ্কেল, আজকে ভার্সিটিতে একটু ঝামেলা হয়েছে। নীলা ঠিক নেই। আপনাকে জানিয়ে দিচ্ছি। নয়তো ও তো না জানিয়ে একাকী কষ্ট পাবে। "
রফিক সাহেব অস্হির হয়ে বলেন,
" কি সমস্যা হয়েছে? নীলাকে কেউ কিছু বলেছে নাকি? "
নাবিহা আমতা আমতা করতে থাকে৷ কারণ নীলা যদি জানে সে তার বাবাকে সব জানিয়েছে। তাহলে তার রক্ষা নেই৷ নাবিহার দোনামোনা বুঝে তিনি বলেন,
" ঠিক আছে মা, বলতে হবে নাহ। আমি নীলার সাথেই কথা বলে নিবো। তুমি ভালোভাবে থেকো। "
" ধন্যবাদ আঙ্কেল। রাখছি আমি। "
নাবিহার সাথে কথা বলে তিনি দ্রুত বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন। রাস্তা দিয়ে কিছুটা আগাতেই সামনেই মেয়েকে স্কুটি নিয়ে আসতে দেখেন। নীলা বাবাকে দেখেই স্কুটি থামিয়ে বলে,
" তুৃমি এই সময় রাস্তায় কেন? কোন দরকার? "
নীলার কন্ঠস্বর শুনেই বাবা বুঝে ফেলে মেয়ের মন ভালো নেই। তাই তিনি ঝামেলা না করে কথা ঘুরিয়ে বলেন,
" সামনের দোকানে এসেছিলাম। বাসায় যাচ্ছিলামই, তোর সাথে দেখা হয়ে গেলো৷ "
বাবার হাত খালি দেখে নীলা বলে,
" তাহলে হাত খালি কেন? "
" ওহ... যেটা কিনতে এসেছিলাম, সেটা শেষ হয়ে গেছে৷"
বাবার মিথ্যে ধরতে পেরেও নীলা কিছুই বলে নাহ। একটা বড় করে শ্বাস ফেলে বলে,
" পেছনে বসো। হেঁটে যেতে হবো নাহ আর। "
তিনি আর কথা না বাড়িয়ে মেয়ের স্কুটিতে উঠে বসেন। এক সময় এই স্কুটিটা নীলার মায়ের ছিলো। তিনি স্কুটি চালাতে অনেক পছন্দ করতেন। তাদের বিয়ের আগে নীলার মা যেই স্কুটি চালাতেন, সেটি একসময় একটা এক্সিডেন্টে নষ্ট হয়ে যায়। বিয়ের পর এই স্কুটিটা তিনি ওয়াইফকে প্রথম উপহার দিয়েছিলেন। আর স্ত্রীর মৃত্যুর পর এখন সেটা মেয়ের কাছে গিয়েছে। একমাত্র মেয়েকে তিনি একসময় হাতে ধরে স্কুটি চালানো শিখিয়েছেন। আর এখন সেই মেয়েই তার বাবাকে স্কুটিতে বসিয়ে কতশত জায়গা ঘুরিয়ে আনে।
নীলা রুমে ঢুকে দেখে তার রুমের লন্ডভন্ড অবস্হা। বিড়াল ছানা দুটি মারামারি করতে গিয়ে রুমের বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে। তবে নীলার আর সেসব গোছানোর মতো মন মানসিকতা নেই। নীলাকে দেখেই গলু-মনু তার পায়ের উপর এসে লাফালাফি করতে থাকে। নীলা একসময় বিরক্ত হয়ে পা দিয়েই একপ্রকার লাথি দিয়ে বিড়াল ছানা দুটিকে সরিয়ে দেয়। বিড়াল দুটির যদি মানুষের মতো মন থাকতো, তবে হয়তো বড্ড কষ্ট পেতো। কিংবা মালিকের মন খারাপ বুঝে চুপচাপ কোলে এসে গুটিশুটি মেরে বসে থাকতো। তবে এ ছানাদুটির সাথে যে এখনও মালিকের তেমন সখ্যতা গড়ে উঠে নি। বিধায় নীলার এত মন খারাপের মাঝেও তার পাশে কেউ নেই৷
সে গিয়ে সোজা বিছানায় আছড়ে পরে। চারপাশে হাত বুলিয়ে একটু মায়ের উষ্ণতা খোঁজার চেষ্টা করে। কিন্তু তার যে মা নেই, তাকে ফাঁকি দিয়ে চলে গিয়েছে। তাই তো অন্যান্য মেয়েদের মতো সে মায়ের কোলে শুয়ে নিজের দুঃখ প্রকাশ করতে পারছে নাহ। উপুর হয়ে বিছানায় শুয়ে নীলা চোখ বন্ধ করে নেয়। চোখ বন্ধ করতেই ভেসে উঠে মাঠভর্তি সবার সামনে তার অপমানিত হওয়ার দৃশ্য। অথচ সে নির্দোষ জেনেও কেউ তার পক্ষে টু শব্দ অব্দি করলো নাহ। কি নিষ্ঠুর সবাই!
তার চোখের জলে বিছানার একপাশ ভিজে একাকার হয়ে যাচ্ছিলো। তবুও যেন তার চোখের জল বাধ মানছিলো নাহ৷ কিয়ানের অপমানের কথা মনে পরতেই নীলা আপন মনে বিরবিরিয়ে উঠে,
" একদমই ঠিক করলেন নাহ আপনি। একপাক্ষিক কথা শুনে সবটা বিচার করে নিলেন। অথচ ঝামেলাটা ওই মেয়েই আগে শুরু করেছিলো। আমার দিকটা আপনি জানার চেষ্টা অব্দি করলেন নাহ। আমি আপনাকে কখনোই ক্ষমা করবো নাহ, মি. কিয়ান শিকদার। আমি আপনাকে ঘৃণা করি। "
অপরদিকে কিয়ান যখন ভার্সিটি থেকে বেরিয়ে যাচ্ছিলো, তখন গেইটের কাছে এসে কয়েকজনের কথা শুনতে পায়।
" আজকে ওই স্যার টা শুধু শুধুই আপুকে কথা শুনালো। আপুর কোন দোষই ছিলো নাহ। রিমলী আপুই তো এসে আগে পানি মারলো। "
" হ্যা রে। আমরাও ভয়ে কিছুই বলতে পারলাম নাহ৷ মাঝখান থেকে আপু বকা খেলো। সেদিনও তো ক্যান্টিনে রিমলী আপু কি ঝামেলা করলো। সব পাওয়ারের জন্যই বুঝলি। এই পাওয়ার দেখিয়েই সবাইকে নিচে নামিয়ে রাখে। "
কিয়ান সব শুনে অবাক হয়। মনে পরে সমস্ত মাঠ শুকনো থাকলেও একমাত্র নীলার দিকেই পানি পরে কাঁদা হয়ে ছিলো। নীলার চোখ-মগখও ভেজা ছিলো। আর সেই কাদাই রিমলীর মুখে ছোঁড়া হয়েছে। স্পষ্টতই রিমলি পানি ছোড়ার পরিবর্তে নীলা সেই কাজ করেছিলো। বিষয়টা মাথায় আসতেই কিয়ান নিজের উপরই বিরক্ত হয়।
" ড্যাম ইট। না জেনে কি করলাম এটা? মেয়েটাকে শুধু শুধুই বকলাম। নাহ, মোটেও ঠিক হলো নাহ এটা। আমার কি গিয়ে ক্ষমা... নো! আমি কেন ক্ষমা চাইবো। এসে থেকেই একের পর এক তার বেয়াদবী দেখছি আমি। তাই তাকে ভুল বুঝা দোষের কিছু নয়। "
পরেই আবার ভাবে, " অন্তত ভুলটা স্বীকার করা উচিত। আমি কি সোজা তার বাড়িতে যাবো? গিয়ে কি বলবো? আঙ্কেলকে কি বলবো? "
সব চিন্তা করে কিয়ান আর নীলাদের বাড়িতে যায় নাহ। বরং অপেক্ষায় থাকে ভর্সিটিতেই নীলার সাথে সরাসরি কথা বলার।
**********
রফিক সাহেব মেয়েকে ডাকতে এসে দেখেন মেয়ে উপুর হয়ে ঘুমাচ্ছে। আর বিড়াল ছানা একটি নীলার পিঠের উপর, অপরটি হাতের উপর ঘুমিয়ে আছে। বিষয়টা দেখে রফিক সাহেবের মন হালকা হয়ে যায়। তার মেয়েকে সঙ্গ দেওয়ার জন্য অবুঝ প্রাণী দুটো তো রয়েছে। তিনি আর মেয়েকে না ডেকে চলে যান৷ নিজের রুমে যেতেই বন্ধু সাজিদুল ফোন করে। তিনি রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে বলে,
" কি রে, মেয়েকে জানিয়েছিস খবরটা? "
তিনি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন,
" না রে, বলতে পারি নি। ভার্সিটিতে কি যেন হয়েছে, মন খারাপ নিয়ে ঘুমিয়ে আছে। এর মাঝে এই খবরটা কিভাবে দেই বল? আমি যে আমার মেয়ের কান্না সহ্য করতে পারি নাহ। "
" কি আর করবে বল। আমারও তো ভালো লাগছে নাহ। পরিবার নিয়ে থাকতে থাকতে হটাৎ ট্রান্সফার কার ভালো লাগে? রিটায়ার্ডের সময় হয়ে যাচ্ছে আমাদের, এই সময় এসব করার কি দরকার ছিলো? "
" এখন কি করবো বল? কোথায় রাখবো মেয়েটাকে? যে আদরের দুলালী আমার, হলেও তো থাকতে পারবে নাহ। একাকী রেখেও ভরসা নেই। কোন আত্মীয়ও নেই যে তার ভরসায় রাখবো। "
" আমি তো বলছিই আমাদের বাড়িতে থাকবে ও। আমার ওয়াইফ, সামিনের বউ তানহা তো আছে। বড় কথা সোহান আছে এখানে। দেখবি নীলা খুব ভালো থাকবে। "
" এটা ঠিক হবে নাহ সাজিদ। সেদিন নীলা যা কান্ড করলো,
এরপর আর মেয়েকে তোদের বাড়িতে পাঠানো ঠিক হবে নাহ। আপারও ভালো লাগবে নাহ। "
" আমি বলি কি শোন। দুদিন পরেই সোহানের জন্মদিন। ছোটখাটো আয়োজন করা হবে। তুই নীলাকে নিয়ে আসবি। নীলার সাথে সবার সরাসরি পরিচয় হলে দেখবি আর কেন সমস্যা হবে নাহ। আর আমি তো আছি, মানিয়ে নিবো। "
রফিক সাহেব অনেকক্ষণ ভাবেন বিষয়টা নিয়ে। তারপর আর কোন উপায় না পেয়ে রফিক সাহেব রাজি হন। নীলাকে নিয়ে সোহানের জন্মদিনে গিয়ে তাদের সাথে পরিচিত হবে। তারপর কথা বলে দেখা যাক কি সিদ্ধান্ত হয়। মেয়েটার পড়াশোনা তো আর বাদ দেওয়া যাবে নাহ। আর এটাও ভেবে নেন, সেদিনই নীলাকে জানাবে নিজের ট্রান্সফারের কথা। এর আগে কিছু বলে মেয়েকে কষ্ট দিতে চান নাহ।
**************
নীলা দুদিন ধরে আর ভার্সিটি যায় নি। তাই নাবিহা সোজা তার বাসায় এসে হাজির হয়। সে এসেই রাগ দেখিয়ে বলে,
" বোকা হয়ে গেছিস তুই? আমরা সবাই জানি তোর কোন দোষ নেই। তবুও কেন নিজেকে গুটিয়ে রাখছিস? কোথাকার কোন হরিদাস পাল এসে কি বললো, তাতে রাগ করে বসলি।
এসব গোনায় ধরতে বলেছে কে তোকে? "
নীলা নাবিহাকে এভাবে ফেটে পরতে দেখে অবাক হয়। কিছুক্ষণ পরে সে হেসে উঠে।
" বোকার মতো হাসছিস কেন এখন? "
" আরেহ, আমি ভার্সিটি যাচ্ছি নাহ অন্য কারণে। "
" কি কারণ? "
নীলা তার পা সামনে এনে দেখালে নাবিহা দেখে চমকে উঠে।
" এ কি অবস্থা করেছিস পায়ের? "
" বুঝতে পারি নি রে। ভাবছিলাম গলু মনুকে একটু গোসল করাই। তাই গরম পানি আনতে গিয়ে হাতে স্লিপ কেটে পরলো সোজা পায়ের উপর। জানিস না তো, বাবা খালি আমাকে পারছিলো নাহ বকতে। এমনিই যা কান্না আমি, বকলে তো আমি নাই। "
নীলা এসব বলে হাসছিলো। সে শুনেছে বিড়ালের ঠান্ডা লাগলে নাকি সমস্যা হয়। তাই সে গরম পানি দিয়ে গোসল করাবে ভেবেছিলো। আর সেটা করতে গিয়েই নিজের বিপদ ডেকে এনেছে। তবে একটা জিনিস সে নতুন আবিষ্কার করেছে। তার পায়ে আঘাতের পর থেকে এই দুইদিন সে বেশী হাটাহাটি করে নি। খাবারটা পর্যন্ত তার রুমে এনে দুজনে খেয়েছে একসাথে। এই দুইদিনে তার গলু-মনু তার পাশ ছাড়ে নি৷ এমনি লাফালাফি বিদ্যমান থাকলেও তারা মালিকের আশেপাশেই থেকেছে। তাদের জন্য নীলাকে দৌড়াতে হয় নি। আরেকটা ভালো দিক, এখন তাদের নাম ধরে ডাকলেই তারা লাফিয়ে আসে। আদও নিজেদের নাম বুঝেছে কি না কে জানে! তবে ডাকলে ঠিকই লাফিয়ে আসে৷ বাবাও কিছু ক্যাটফুড এনে দিয়েছে তাকে। এখন ঘরে বসে বিড়ালের সাথে তার সারাটাদিন আনন্দেই কেটে যায়।
নাবিহা সাদা ছানাটাকে কোলে তুলে বলে,
" কি তুলতুলে রে! আমার অনুমতি থাকলে আমিও একটাকে সাথে নিতাম। তবে দেখা যেতো, পরেরদিন আমি আর বিড়াল দুটোই বাড়ির বাহিরে অবস্হান করছি। "
নীলা হোহো করে হেসে উঠে। নাবিহা মুখ ফুলিয়ে বিড়াল ছানা দুটোকে আদর করে। সে সময় রফিক সাহেব রুমের সামনে বসেন। বাবাকে দেখে নীলা ডাকলে তিনি বলেন,
" নাস্তার ব্যবস্হা করেছিলাম। রুম থেকে বের হতে পারবি, নাকি এখানেই এনে দিবো। "
" আসছি আমি। রুমে আর ভালো লাগে নাহ। "
নাবিহার সাহায্যে নীলা রুম থেকে বেরিয়ে আসে। পায়ের আঘাত অনেকটাই সেরে এসেছে। পানিটা তেমন গরম না থাকায় বেশী ক্ষ'ত হয় নি। তবুও সাবধানে থাকতে হচ্ছে। তার তো আবার আঘাতের জায়গাতেই বেশী আঘাত লাগে!
নাস্তার সময় রফিক সাহেব জানান,
" কালকে সোহানের জন্মদিন। "
" কিহ! সত্যি? বাবা, সোহানকে বলো কালকে আসতে। আমি ওকে নিয়ে ঘুরে আসবো। "
" আমরাই যাবো তাদের বাসায়। তোর সাজিদ আঙ্কেল দাওয়াত করেছেন আমাদের। "
সে বাসায় যাওয়ার কথা শুনে নীলা চুপ হয়ে যায়। ওই বাসায় যাওয়া মানে কিয়ানের মুখোমুখি হওয়া, যার জন্য সে মোটেও প্রস্তুত নয়। নাবিহা বিষয়টা আন্দাজ করতে পারে৷ তাই সে বলে,
" আঙ্কেল, নীলার তো পায়ে আঘাত। ও যাবে কি করে? "
" কিন্তু দাওয়াত রক্ষার্থে তো যেতেই হবে। নাবিহা মা, তুমিও সাথে চলো। তাহলে নীলার ভালো লাগবে। "
নাবিহা অপ্রস্তুত হয়ে বলে,
" আমি কিভাবে যাবো? আমার সাথে তো কোন পরিচিতি নেই তাদের সাথে। তাছাড়া বাবা-মা রাজি হবে নাহ। "
" আমি রাজি করিয়ে দিবো। তুমি শুধু চলো সাথে। কি রে নীলা, বল কিছু। "
রফিক সাহেব বারবার নাবিহাকে যেতে বলছেন, যাতে কালকে নীলা সব জানার পর তাকে সামলাতে নাবিহা পাশে থাকে। নাবিহা নীলার সবচেয়ে কাছের বান্ধবী। ওনার পরে একমাত্র নাবিহাই পারবে নীলাকে আগলে রাখতে৷
নাবিহা ভাবছিলো নীলা হয়তো না করবে। তবে অবশেষে নীলা বলে,
" ঠিক আছে, যাবো আমরা। আর নাবিহাও যাবে। আমি আন্টিকে বলবো, আমাকে না করবে নাহ ওনারা৷ "
তারপরই সে বিরবিরিয়ে বলে উঠে,
" মি. কিয়ান, আপনার অপমানের কথা আমি ভুলি নি, আর ভুলবোও নাহ। এবার আপনার বাড়িতে গিয়ে আপনাকে শায়েস্তা করবো। সবার সামনে আপনার বারোটা বাজাবো। নয়তো আমিও নীলা নই৷ "

Post a Comment

0 Comments