"লজ্জা পাচ্ছেন কেন, কিছু তো করি নি এখন আমি।"
অয়ন্তি চমকে তাকায়। জাহিন তাকিয়ে আছে তার দিকেই। অয়ন্তি তাড়াতাড়ি হাত নামিয়ে নেয়, ঢোক গিলে সে। জাহিন আবার জিজ্ঞেস করে, "কি হলো বলুন, লজ্জা পাচ্ছেন কেন আপনি?"
অয়ন্তি শোয়া থেকে উঠে বসে এলোমেলো চুলগুলো গুছাতে গুছাতে বলল, "কই, আমি তো লজ্জা পাই নি।"
জাহিন মুচকি হেসে নিজেও শোয়া থেকে উঠে বসল, "তাহলে আপনি বলতে চাইছেন, আমি ভুল দেখছি?"
অয়ন্তি মাথা নাড়িয়ে বলল, "হুম, একদম ভুল দেখেছেন।"
জাহিন "চ" সূচক শব্দ করে ভেবেচিন্তে বলল, "তাহলে কি আমি বিয়ে করে অন্ধ হয়ে গেলাম নাকি যে চোখে কম দেখছি।"
অয়ন্তি অবাক হয়ে জাহিনের দিকে তাকিয়ে বলল, "বিয়ে করলে মানুষ অন্ধ হয়ে যায় নাকি?"
"হয় তো।"
অয়ন্তি আগ্রহের সহিত জানতে চাইলো, "কিভাবে অন্ধ হয়?"
জাহিন ভেবে দেখার ভান করে বলল, "উমম…বউয়ের প্রেমে পড়ে নাকি অন্ধ হয়ে যায়।"
অয়ন্তি চুপ হয়ে যায়। মুখ ফিরিয়ে নেয় অন্য দিকে লজ্জায় হতভম্বে। জাহিন আবার বলল, "কিন্তু দেখুন, আমি তো বউয়ের প্রেমে পড়ার আগেই অন্ধ হয়ে গেলাম… সব ভুলভাল দেখছি আপনার ভাষ্যমতে!"
অয়ন্তি বুঝতে পারে, জাহিন তাকে কথার জালে ফাঁসাতে চাইছে।
সে বিছানা থেকে নামার জন্য পা মেঝেতেই ফেলতেই ব্যথায় চিৎকার করে ওঠে। আকস্মিক অয়ন্তিকে আর্তনাদ করতে দেখে জাহিন উদ্বেগ কণ্ঠে বলল, "কি হয়েছে আপনার।"
জাহিন বিছানা ছেড়ে উঠে অয়ন্তির কাছে আসে। কি হয়েছে মেয়েটার হঠাৎ? পায়ে কিছু ফুটেছে নাকি কিন্তু রুম তো পরিস্কার। জাহিন হাটু ভেঙ্গে বসে অয়ন্তির পায়ে হাত দিতে নিবে তখনই অয়ন্তি পা সরিয়ে নিয়ে বিস্মিত গলায় বলল, "কি করেছেন আপনি? পায়ে হাত দিবেন না প্লিজ।"
"আরে পায়ে হাত না দিয়ে দেখবো কি করে কি হয়েছে?"
অয়ন্তি কাতর কণ্ঠে বলল, "আপনাকে দেখতে হবে না আমি দেখছি।"
জাহিন অয়ন্তির কথা পাত্তা না দিয়ে জোর করেই অয়ন্তির পা টেনে ধরে দেখে পায়ের পাতায় কাঁটা বিঁধেছে, সেটাও গোলাপের বড়সড় একটা কাঁটা। ঘর সাজানোর সময় হয়তো গোলাপের কাঁটা মেঝেতে পড়ে গিয়েছিল। জাহিন অয়ন্তির দিকে তাকায়—ব্যথায় মেয়েটা চোখ মুখ কুঁচকে রেখেছে। জাহিন আস্তে ধীরে অয়ন্তির পা থেকে কাঁটাটা বের করে। অয়ন্তি ব্যথায় অার্তনাদ করে উঠে। অল্প একটু রক্ত বের হয়। জাহিন ফার্স্ট এইড বক্স এনে ক্ষত জায়গাটা পরিস্কার করে দেয় সুন্দর করে। অয়ন্তি দুঃখী কণ্ঠে জাহিনের উদ্দেশ্যে বলল।
"আমার জন্য আপনাকে অনেক কিছু সহ্য করতে হচ্ছে তাই না।"
জাহিন ভ্রু কুঁচকে তাকায় বলল, "মানে।"
"কিছু না।"
জাহিন দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বলল, "দেখুন অয়ন্তি। যা হওয়ার হয়ে গেছে। আমি এটা নিয়ে কখন আপনাকে বা আমাকে দোষারূপ করব না। ভাগ্যে যা আছে তাই হবে। আমি রুমটা পরিস্কার করার ব্যবস্থা করছি।"
বলেই জাহিন রুম থেকে বের হয়ে যায়। অয়ন্তি জাহিনের যাওয়ার পানে চেয়ে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছাড়ে।

0 Comments