শেষ_পরিচয়

শেষ_পরিচয়


দিন যত যাচ্ছিল, তৃষা ততই রায়হানের জীবনে জায়গা করে নিচ্ছিল।
ব্যবসার অজুহাতে কখনো লাঞ্চ, কখনো ডিনার, কখনো শহরের বাইরে মিটিং।
এসব নিয়ে আরিবা প্রশ্ন করলেই রায়হান বিরক্ত হয়ে বলত,
— "ব্যবসা বোঝো না, তাই সবকিছু ভুল ভাবো।"
একদিন দুপুরে হঠাৎ তৃষা রায়হানদের বাড়িতে এলো।
দামি গাড়ি থেকে নেমে সে হাসিমুখে ঘরে ঢুকল।
শাশুড়ি যেন বহুদিনের পরিচিত কাউকে পেয়েছেন।
— "আরে মা, এসো এসো! তোমার কথাই তো রায়হান সবসময় বলে।"
আরিবা রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এসে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল।
তৃষা এগিয়ে এসে মিষ্টি হেসে বলল,
— "আপনিই আরিবা আপু? আপনার কথা অনেক শুনেছি।"
কথাগুলো ভদ্র শোনালেও চোখেমুখে ছিল অহংকার।
শাশুড়ি ইচ্ছে করেই বললেন,
— "দেখেছ আরিবা? বড়লোকের মেয়েরা কী সুন্দর করে চলাফেরা করে!"
আরিবা মাথা নিচু করে চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল।
সেদিন রাতে আরিবা শান্তভাবে রায়হানকে বলল,
— "তৃষাকে বাড়িতে আনার আগে অন্তত আমাকে একবার জানাতে পারতে।"
রায়হান রেগে উঠে বলল,
— "এটা আমার বাড়ি। কাকে আনব, কাকে আনব না—সেটা তোমার কাছ থেকে শিখতে হবে?"
আরিবা কষ্ট পেয়ে বলল,
— "আমি শুধু তোমার স্ত্রী হিসেবে একটু সম্মান চেয়েছিলাম।"
রায়হান ঠান্ডা গলায় উত্তর দিল,
— "সম্মান সবাই নিজের যোগ্যতায় অর্জন করে।"
কথাটা শুনে আরিবা যেন পাথর হয়ে গেল।
এই মানুষটাই একদিন বলেছিল—
*"তোমার ত্যাগের ঋণ কোনোদিন শোধ করতে পারব না।"*
আজ সেই মানুষটাই তাকে অযোগ্য বলে অপমান করছে।
পরদিন সকালে আরিবা ঘর পরিষ্কার করতে গিয়ে টেবিলের ড্রয়ারে একটি খাম দেখতে পেল।
খামটি খুলতেই তার হাত কেঁপে উঠল।
ভেতরে ছিল...
**ডিভোর্সের কাগজ।**
ঠিক তখনই পিছন থেকে শাশুড়ির কণ্ঠ ভেসে এলো—
— "সই করে দাও। আমার ছেলে এখন তোমার চেয়ে অনেক ভালো মেয়ে পাওয়ার যোগ্য।"
আরিবার চোখ দিয়ে নীরবে জল গড়িয়ে পড়ল।
সে শুধু একবার আকাশের দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল,
— "হে আল্লাহ... এত বড় পরীক্ষার জন্য কি আমি প্রস্তুত ছিলাম?"

Post a Comment

0 Comments