তাকদিরে_তুমি

 

তাকদিরে_তুমি

সন্ধ্যা সারে সাতটার ঘর পেড়িয়ে গেছে। বাজারে তিন ভাই মিলে আড্ডা দেওয়ার তালে হুশ ছিলো না সময়ের। যখনি হুশ ফিরে তখনি তড়িঘড়ি করে আসিফকে নিয়ে বাড়ি ফেরে রনি, নিহাদ। আসিফ নিজেও তোরাহুরো করে সিঁড়ি ডিঙিয়ে নিজের ঘরের দিকে ছোটে। ওদিকে নাজিয়া মুখ ভাড় করে বসে আছে ভাইদের এহেন কান্ডে।
আসিফ নিজের ঘরে প্রবেশ করেই দেখলো বিছানার উপর সুন্দর করে করে ভাজ করা হলুদ পাঞ্জাবি-পাজামা রাখা। ভ্রু কুঁচকে গেলো যুবকের। তবে সে জানে এটা কার কাজ। যাকে সে সবসময় অদৃশ্য এক নারী হিসেবে দেখে আসে এটা সেই করেছে৷ শুধু আজ'ই করেছে এমনটা না, বিয়ের পর থেকেই আসিফ লক্ষ করে ফাতিহা নিঃশব্দে তার সকল প্রয়োজন মিটিয়ে দেয়। কখন কি লাগবে তা বলার পূর্বেই কেমন বুঝে ফেলে রমণী।
আসিফ দীর্ঘশ্বাস ফেলে। ভেতরটা কেনো যেনো হালকা লাগে যুবকের। হাতে ধরা একটা প্যাকেট আস্তে করে বিছানায় রেখে তড়িঘড়ি করে ফ্রেশ হতে যায় কাপড়গুলো নিয়ে। আর চেঞ্জ করে এসেই দেখে ফাতিহা ভ্রু কুঁচকে বিছানার উপর রাখা প্যাকেটটা নাড়াচাড়া করছে৷ আসিফ চমকে ওঠে। তরিৎ বেগে খপ করে ফাতিহার হাত থেকে প্যাকেটটা নিয়ে নিলো। আসিফের উপস্থিতি লক্ষ করে ফাতিহা নিজেও খানিক গুটিয়ে গেলো। সাথে ভয় পেলো রমণী৷ এখন আবার চেঁচামিচি করবে না-তো প্যাকেটটা ধরায়!
—এটাতে হাত দিয়েছো কেনো?
আসিফের কর্কশ কন্ঠে ফাতিহা ধীর গলায় উত্তর করলো----
—আমি শুধু দেখছিলাম। কি এটা?
—তোমার না জানলেও চলবে।
বলেই প্যাকেটখানা সযত্নে আলমারিতে পুরে রাখলো আসিফ। অতঃপর বিরক্তিকর মুখে এগিয়ে গেলো আয়নার সামনে। ফাতিহা ঠাঁই দাঁড়িয়ে রইলো। আসিফ আয়নায় চুল আঁচড়াতে আঁচড়াতে খেয়াল করলো সকলের ন্যায় ফাতিহা হলুদ রঙা শাড়ী পরেনি। বরং দিনের সেই মেরুন রঙের থ্রি-পিসটায় পরে আছে। ভ্রু কুঁচকে গেলো আসিফের। নজর ফিরিয়ে নিলো আলগোছে। সাথে ভাবলো, মেয়েটা তো সবকিছু পরেনা। হয়তো তাই জন্যই শাড়ী পড়াতেও মন নেই।।
—নিচে যাচ্ছি আমি। আর ভুলেও আলমারিতে হাত লাগাবে না।
ফাতিহার উদ্দেশ্য কথাখানা বলেই গটগট পায়ে নিচে চলে গেলো আসিফ। অন্যদিকে মুখ বাঁকালো রমণী। বিড়বিড় করে কি যেনো আওড়াতে আওড়াতে দরজার পানে এগিয়ে গেলো।
------------------------------------
—মা, ফাতিহা! আমাকে একটু ঠান্ডা শরবত দাও তো আম্মা। প্রচুর গরম লাগছে।
কথাটা বলেই আযান মির্জা ফের মনোযোগ দিলেন সাহেলের দিকে। সাথে সায়না মির্জার চাচাতো ভাই-বোনদের সাথে বেশ খুনসুটিতে মেতেছেন তিনি। বাহিরে তখন গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান শুরু হয়ে গেছে। ফাতিহা শশুরের কথায় রান্নাঘরের দিকে ছুটলো শরবত নিতে। আসার পর থেকে নতুন বউয়ের এহেন নমনীয়তায় প্রশংসায় পঞ্চমুখ এলাকাবাসীসহ বেশ কিছু আত্মীয়-স্বজন। সায়না মির্জা তো পারছেন না পুত্রবধূকে মাথায় করে রাখবেন। সকলের এতো এতো ভালোবাসায় অভিভূত ফাতিহা। বুকটা কেমন অতি খুশিতে চঞ্চল চিত্তে লাফিয়ে বেড়াচ্ছে।
শশুরকে শরবত দিয়ে ফাতিহা পা বাড়ায় বাহিরে বাগানের দিকে। আত্মীয়-স্বজনে থৈথৈ করছে চারিদিক। রমণী সন্তপর্ণে এসে দাঁড়ায় স্টেজের এক কর্নারে। তাকায় মাঝখানে হলুদ শাড়ী জড়িয়ে বসে থাকা নাজিয়ার পানে। আচমকাই ফাতিহার ঠোঁট জোড়া প্রশস্ত হয়ে আসে। মাথায় ঘোমটা টেনে বসে আছে নাজিয়া। গায়ে গাঁদা ফুলের জুয়েলারি। মুখ ভর্তি চঞ্চলতা রমণীর। ফাতিহা আপনমনেই বিড়বিড় করে বলে উঠে----
—মাশাল্লাহ......
এরমধ্যেই সেখানে তড়িঘড়ি করে এসে উপস্থিত হয় ইফতিয়া। ফাতিহার পানে অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে ইতস্তত কন্ডে আওড়ায়----
—আম্মা! একটা কাজ করতে পারবা?
ফাতিহা তাকায় মামীর পানে। ভদ্রমহিলার মুখে কেমন একরাশ অস্বস্তি। মৃদু হাসলো রমণী।
—এতো ইতস্তত করার কি আছে, মামী? বলুন না!
—আসলে আম্মা একটু ফল কাটতে পারবে? আমিই করতাম কিন্তু সময় পাচ্ছি না। ওদিকে নাজিয়ার বন্ধু-বান্ধবরা এসে পরেছে, তাই যদি একটু...।
—কোন ব্যপার না মামী, আমি এক্ষুনি যাচ্ছি।
বলেই ফাতিহা ভেতরের দিকে পা বাড়াতে উদ্ধৃত হলো। তৎক্ষনাৎ পিছন থেকে নাজিয়া ডেকে উঠলো তাকে----
—ভাবি, কই যাচ্ছেন? হলুদ লাগাবেন না?
ফাতিহা পিছু ফিরে হেঁসে আওড়ালো----
—লাগাবো। একটু কাজ আছে আসছি।
বলেই ফাতিহা ভেতরের দিকে পা বাড়ালো। সায়না মির্জা পুত্রবধূকে দেখে একগাল হেঁসে বললেন----
—মা ফাতিহা! শাড়ী পড়বে না?
ফাতিহা মাথা নাড়ালো।
—না মা। এতো এতো মানুষের ভিড়ে এখন আর শাড়ী পরতে যাবো না। এমনিতেই ঠিক আছি।
সায়না মির্জা হেঁসে বাহিরের দিকে পা বাড়ালেন---
—ঠিক আছে আম্মা। নিজের সুবিধামতো চলো।
ফাতিহা নিজেও হেঁসে রান্নাঘরে গেলো। ফলের ঝুঁড়ি হাতে তুলে নিলো খুব সন্তপর্ণে। অতঃপর ছু*রি দিয়ে আপন মনে কাটতে লাগলো ফল। এরমধ্যেই আচমকা হুট করেই ধারালো ছু*রির ফলা বিঁধে গেলো রমণীর আঙুলে। ব্যথায় চোখমুখ খিঁচে গেলো ফাতিহার। সামান্য ব্যথাতুর আওয়াজও বেরিয়ে গেলো ওষ্ঠ হতে। তার আওয়াজ শুনেই পাশ দিয়ে হেঁটে চলা নিহাদ আচমকা চমকে উঠলো। যুবক কেমন তড়িঘড়ি করে এসে দাঁড়ালো ফাতিহার পাশে।
—কি হয়েছে? এমন করছেন কেনো...?
বলতে বলতেই তার নজর গিয়ে আটকালো ফাতিহার আঙুলে। নিহাদের বুকটা কেমন ধক করে উঠলো। আচমকা স্থির হয়ে গেলো যুবক। ফাতিহা নিজেকে গুটিয়ে চোখ তুলে হাতের দিকে তাকাতেই খেয়াল করলো তর্জনী কে*টে গেছে। ঝরঝরে করে র*ক্ত ঝড়ছে সেথা হতে৷ নিহাদ কেমন ব্যস্ত হয়ে পরলো। গলার স্বর কাঁপছে থরথর করে---
—এ...এটা কি করে হলো? আল্লাহ! অ...আপনি দাঁড়ান, আমি ফাস্ট-এইড বক্স নিয়ে আসছি। দেখেশুনে কাজ করবেন না?
নিহাদ তড়িঘড়ি করে ঘুড়ে দাঁড়ালো। ফাতিহা ডেকে উঠলো যুবককে---
—না..না, লাগবে না।
—কি হচ্ছে এখানে?
হুট করেই পিছন থেকে আসিফের কর্কশ কন্ঠে নিহাদ খানিক নড়েচড়ে উঠলো। ফাতিহাও নিজেকে সামলে আঙুল নামিয়ে নিলো৷ টপটপ করে র*ক্ত ঝরলো ফ্লোরে।
—আসিফ! এসেছিস? এদিকে আয়, ফাতিহার হাত কে*টে গেছে। আমি ফাস্ট-এইড বক্সটা নিয়ে আসি। অ্যান্টিসেপটিক লাগাতে হবে।
বলতে বলতেই এলোমেলো পায়ে ভিড় ঠেলে ওপরের দিকে চলে গেলো নিহাদ। আসিফ সরু দৃষ্টিতে তা দেখে ধীর পায়ে এগিয়ে এলো। নিহাদের চোখো অস্থিরতা দেখে আনমনেই বড্ড হিংসা হলো যুবকের। রাগ লাগলো ফাতিহার প্রতি। তবে ফাতিহার হাতে র*ক্ত দেখেই এক মুহূর্তের জন্য সব ভুলে সেখানে ভিড় করলো চিনচিনে ব্যথা। আচমকা বুকটা ধক করে উঠলো যুবকের। তীব্র অস্বস্তিতে চোখ ফিরিয়ে নিলো কেমন।
—কি করে কাটলো? দেখেশুনে কাজ করতে পারো না? আর সারাদিন এতো কাজ কে করতে বলেছে তোমায়? স্টুপিড!
আসিফের শীতল স্বরে ফাতিহা খানিক মুহূর্ত চুপ রইলো। তার তনু মনটা কেমন করছে যেনো। খুব ধীরে উত্তর করলো রমণী----
—কেউ করতে বলেনি। ফল শেষ হয়ে গেছিলো তাই কাটছিলা। হুট করেই হাতে...
—দেখি হাত দাও!
ফাতিহার কথা গলায় আঁটকে গেলো। আসিফ আচমকা ফাতিহার হাত টেনে ধরলো নিজের হাতের মাঝে। তার এহেন আতর্কিত স্পর্শে রমণী কেমন কেঁপে উঠল তীব্র বেগে। চোখ নামিয়ে নিশ্বাস খিঁচে নিলো। অন্যদিকে আসিফ নিজেও থামকালো নিজ স্ত্রী'র স্পর্শে। খানিকসময় স্থির রইলো অদ্ভুত অনুভূতিতে। অতঃপর নিজেকে শান্ত করে আঙুল চেপে ধরলো নিজের হাতের সাহায্যে। ফাতিহা চোখমুখ খিঁচে নিলো ব্যথার তাড়নায়। মুখ দিয়ে আবারো ব্যথাতুর আওয়াজ বেড়িয়ে গেলো আসিফের চেপে ধরায়। আসিফ ফাতিহার চোখের পানে একপলক খেয়াল করে নজর দিলো ক্ষতস্থানে। বেশ ভালোই কেটেছে। র*ক্তও ঝরেছে বেশ। আসিফ উল্টে-পাল্টে দেখলো তা। তাকিয়ে রইলো শূন্য দৃষ্টিতে।
—এই যে এনেছি হাতটা পরিস্কার করে তারপর......!
বলতে বলতেই থামলো যুবক। হুট করেই ফাতিহা-আসিফকে কাছাকাছি দেখে দৃষ্টি নুইয়ে গেলো নিহাদের। অদ্ভুত এক ধাক্কা লাগলো কোথাও একটা। চোখ নামিয়ে বিরস মুখে বক্সটা পাশে রাখলো। আসিফ তা খেয়াল করে চট করে বলে উঠলো----
—এনেছিস? বক্সটা তুই রাখ আমি করে দিচ্ছি ব্যান্ডেজ।
নিহাদ ঘুড়ে যাওয়ার জন্য পা বাড়ালো৷ আসিফ কথাটা বলে সরু দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে থাকতে হুট করেই নিজের ভেতরে পৈশাচিক আনন্দ অনুভব করলো৷ চোখ নামিয়ে ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসলো যুবক। ফাতিহাকে চেয়ারে বসিয়ে দিলো আচমকা। রমণী কেমন চমকে উঠলো। ছটফট করে উঠলো ভেতরটা। আসিফ তাতে পাত্তা দিলো না বিন্দুমাত্র। প্রথমবারের মতো ফাতিহার হাতটা ধরলো অতি স্নেহে। অতঃপর নিজেই অ্যান্টিসেপটিক নিয়ে তুলোর সাহায্যে হাতটা পরিস্কার করে দিতে লাগলো। ব্যথায় চোখমুখ খিঁচে থাকা ফাতিহা অনুভব করলো হাতে ঠান্ডা কিছুর। তাকাতেই খেয়াল করলো যুবক কেমন অতি যত্নে হাতে ফু দিয়ে দিচ্ছে, যাতে সামান্য ব্যথাও না লাগে।
ফাতিহা হতভম্ব, হতবিহ্বল। ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে রইলো কেবল। বুঝে উঠতে পারলো না আসিফের মতিগতি। স্বামী তার কি করছে এসব? কেনো এতো মায়া স্নেহ দেখাচ্ছে তার প্রতি? সে তো এমন না!
ফাতিহা উত্তর পেলো না। আসিফ তার পুরুষালী হাতের সাহায্যে অতি যত্নে ফাতিহার আঙুলখানা সফেদরঙা ব্যান্ডেজে মুড়িয়ে দিলো। ফাতিহা তখন নিশ্চুপ। এক ধ্যানে দেখে চলেছে স্বামীকে।
—হয়ে গেছে। নেক্সট টাইম কাজ করার সময় মনটা মনের জায়গায় রেখো, তাহলে আর অসময়ে বাচ্চাদের মতো হাত কুরবানি দিতে হবে না।
কথাখানা শেষ করেই আসিফ বিরক্তিকর মুখে উঠে দাঁড়ালো। তবে সামনের দিকে পা বাড়াতেই যুবকের পা কেমন থমকে গেলো। নড়েচড়ে উঠলো দৃষ্টি। আযান মির্জা তখন তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে ছেলের পানে তাকিয়ে আছেন বুকে হাত ভাজ করে। প্রথম থেকেই সবটা খেয়াল করেছেন তিনি। সাথে এটাও বুঝলেন, স্ত্রী'কে স্ত্রী হিসেবে মানতে নারাজ হলেও অন্যের স্পর্শে স্ত্রী গেলে তার ঠিকই জ্বলে। আযান মির্জা ভেতরে ভেতরে হাসলেন।
ফাতিহা শশুরকে দেখে একরাশ লজ্জায় মাথা নুইয়ে আছে। আসিফ মৃদু কেশে গটগট পায়ে গম্ভীর মুখে ত্যাগ করলো স্থান। আযান মির্জা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন। পায়ে পায়ে পুত্রবধূর পানে এগিয়ে এসে মাথায় হাত রাখলেন অতি স্নেহে। ফাতিহা নিজেও মাথা নুইয়ে নিলো।
ঘরে প্রবেশ করে আয়নার সামনে দাঁড়ালো ফাতিহা। তবে তাকাতে পারলো না নিজের প্রতিচ্ছবির দিকে। তীব্র লজ্জায় কেমন আড়ষ্ট হয়ে পরলো রমণী। ঠোঁটের কোণায় লজ্জামাখা এক টুকরো মৃদু হাসি জ্বলজ্বল করছে। ফাতিহার তনু মনখানা পুলকিত স্বামীর আচরণে। তবে সে কেনো এতটা নমনীয় থাকলো তার প্রতি সেটাও বেশ ভাবাচ্ছে তাকে। এক ধাক্কায় কি এমন হয়ে গেলো যে স্বামী তার প্রতি এতো উদার হয়ে পরলো!
ফাতিহা উত্তর পেলো না। ঘরির কাঁটায় আটটা বাজে। অনুষ্ঠান সবে শুরু, তাই ভাবলো শাড়ী পরবে৷ এতোক্ষণ পরতে ইচ্ছে না করলেও এখন চঞ্চল মনখানা বড্ড অস্থির হয়ে পরেছে নিজেকে সাজাতে। ধীরেসুস্থে রমণী এগিয়ে গেলো আলমারির পানে। শাড়ী বের করতেই ফের নজর কাড়লো আসিফের আনা প্যাকেটটা। ফাতিহা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো। স্বামীর কথার অবাধ্য হয়ে আর প্যাকেটটাতে হাত ছোঁয়ালো না আর। বরং মনে মনে ভাবলো এটা কি হতে পারে? কি এমন গুপ্তধন এনেছে আসিফ?
ফাতিহা বেশি ভাবলো না। চুপচাপ ওয়াশরুমে গিয়ে শাড়ী বদলে বেড়িয়ে এলো। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে অনেকটা সময় নিয়ে মাথায় হিজাব বাঁধলো। আসিফের থেকে লুকাতে মুখটাও আড়াল করে নিলো এই রাতে৷ অতঃপর নিজেকে আয়নার সামনে খুঁতিতে দেখে নিলো একবার। চোখে সামান্য কাজল-আইলাইনার লাগিয়ে শাড়ীর কুঁচি ঠিক করতে করতে ঘরের বাহিরে পা রাখলো রমণী। কাঁটা হাত এখনো ব্যান্ডেজ করা।

Post a Comment

0 Comments