রাতের পিনপিন নিরবতা শেষ হয়ে ধরনীতে আলো ফুটেছে। আকাশের গাঢ় নীল রঙ ধীরে ধীরে কমলা, গোলাপি আর সোনালি রঙে রূপ নিয়েছে । রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে দূর থেকে ভেসে আসে ঢেউয়ের ছন্দময় । রাতের ভারী বর্ষণে সকালের আবহাওয়া বেশ ঠান্ডা। বলতে গেলে শীত শীত ভাব!
বিছানায় গুটিসুটি দিয়ে তেজের বুকে মুখ গুজে বাচ্চাদের মতো
ঠোঁট উল্টে ঘুমিয়ে আছে আয়রা। গাল দুটো ফুলে আছে হয়তো ঘুমের রেশ। এমনিই তেও কাল মাঝ রাতে পেচাল করেই কাটিয়েছে। এই যা ঘুম দিয়েছে ফজরের দিকে। বাহিরে গুড়িগুড়ি বৃষ্টি পরছে, তেজের ঘুমটা ছুটে গেলো হুট করেই। বুকে কিছু অনুভব হতেই সেথায় দৃষ্টি রাখলো। ঘুমন্ত রমনীকে দেখে ঠোঁট স্মিথ হাসি ফুটে উঠলো। আয়রা ঘুমের ঘোড়ে বারংবার নাক ঘষে দিচ্ছে। এতে করে তেজের বুজি প্রাণ যাওয়ার অবস্থা। আয়রার দিকে নিরেট দৃষ্টি তাক করে বিড়বিড় করে বলে,
“ জ্বালিয়ে পুড়িয়ে শেষ করে দিলি আমায়। তোর জন্মই হয়েছে আমাকে জ্বালানোর জন্য। ছোট বেলায় এই জন্যই তোর থেকে দূরে থাকতাম। জ্বালিয়ে কি পাচ্ছিস? হুম? একটু কাছে গেলেই তো মনে হয় কেঁদে দিবি বা লজ্জায় মুরছা হয়ে যাবি! ”
ঘুমন্ত আয়রা শুনলো কি তেজে বলা কথা টুকু। হুমহু না শুনে নিই। শুনবে কি করে সে তো পরম শান্তির ঘুমে ব্যস্ত। কি সুন্দর আধিপত্য চালাচ্ছি তেজের বুকটায়। মেয়েটার দিকে তাকালেই নেশা ধরে যাচ্ছে। তেজের চোখ ধাঁধিয়ে উঠছে সৌন্দর্যে। বাহিরের আবহাওয়া ঠান্ডা থাকলেও গরম লাগছে তার। কেনো তা বুজতে পারছে না। কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম বিদ্যমান। তেজ লম্বা একটা নিঃশ্বাস টানে নিজেকে সামলে উঠে পরে বিছানা থেকে। আয়রার কপালে টুপ করে নিজের ঠোঁটের স্পর্শ একে দিয়ে যায়।
ওয়াশরুমের দরজা আটকানো শব্দে চোখ মেলে তাকায় আয়রা। তার হাত উঠে যায় একটু আগে তেজের দেওয়া স্পর্শের জাগায়। না চাইতেও মুখে হাসি ফুটে ওঠে। এখনো সতেজ লাগছে চুমুর রেশ কাটে নিই। আয়রা গায়ে জড়ানো কম্ফোর্ট টা টেনে মুখ লুকিয়ে নেয়। লজ্জা লাগছে তার। সত্যিই সত্যিই তাহলে গলেছে ছেলেটা। আয়রা মুখ টা হালকা বের করে ওয়াশরুমের দরজার দিক তাকিয়ে দাঁত কিড়মিড় করে বলে,
“হুম! আসছে কন্টাক্ট পেপার। সব ভুয়া ধান্দা বাজ লোক। মনে মনে ঠিকই জ্বলে কিন্তু প্রকাশ করে না। আমিও দেখবো কি করে থাকে। ”
ব্যঙ্গাত্বক করে কথাটুকু বলে। তৎপর হুট করে ওয়াশরুমের দরজা খুলার শব্দের হয়। আয়রা তড়িঘড়ি করে ঘুমের ভান ধরে। তেজ এক পলক বিছানায় শুয়ে থাকা মেয়েটার পানে তাকায়। মাথার চুল মুছতে মুছতে বিছানার দিকে এগিয়ে আসে।
আয়রা ঘুমের ভান ধরে আছে। তার চোখ পিটপিট করছে। তাই বুঝাই যাচ্ছে এটা আসল ঘুম না। তেজ মাথাটা একটু ঝুঁকে দেয় মেয়েটার পানে। তৎপর চুল ঝাড়া দেয়। ওমনি সমস্ত পানির কণা ছিটে মেয়েটার মুখাবয়বের উপর পরে। আয়রার বেশ হাসি পাচ্ছি। কিন্তু এমন সকাল সকাল হুটহাট অত্যাচার বোধ হয় সহ্য হলো না। তেজ আরও ঝুঁকে যায় একদম আধশোয়া হয়ে আছে। পাশে দু'হাত ঠেকানো। মুখ টা এগিয়ে নাকের পাটা টেনে হাস্কি স্বরে বলে,
“ম্যাডাম কত ঘুমাবেন উঠবেন না? হুম? স্পেশাল ট্রিটমেন্ট লাগবে নাকি? ”
আয়রা ফট করে চোখ খুলে ফেলে। তেজ চমকায় না সে বুঝতেই পেরেছিলো মেয়েটা ভাব ধরে আছে। তাই তো নাক টা একটু টেনে মেয়েটার উপর থেকে উঠে যায় কথাটুকু বলে। আয়রা তেজকে সরো যেতে দেখে উঠে বসে।
একমুহূর্তের জন্য তেজের শরীর জুড়ে শিহরন বয়ে যায়। শরীরের লোমকূপ গুলো দাঁড়িয়ে গিয়েছে। গলায় শুষ্কতা ধরে দিচ্ছে। সামান্য ঢক গিলে হাত মুষ্টিমেয় করে বেহায়া চোখ দুটো টেনে হিঁচড়ে সরিয়ে কাঠ কাঠ গলায় বলে,
“এখনিই যদি সব খুলে মেলে সামনে আসিস পরে! পরে আমি কি খুলবো হুম? শরীর ঢাক তাড়াতাড়িই বেয়াদপ। ”
আয়রা বিষম খায়! হঠাৎ নিজ শরীরের দিকে তাকাতেই দেখে ওড়না নেই শরীরে সঙ্গে জামার বেশ খানিকটা অংশ উপরে উঠে গেছে। ফলস্বরূপ উদম কোমড় আর বুকোর অনেক অংশ স্পষ্ট। লজ্জায় মুড়ছা হয়ে যাচ্ছে মেয়েটা। নিচে ওড়না গড়াগড়ি খাচ্ছে। ব্যস্ত হাতে তুলে দৌড় লাগায় ওয়াশরুমের দিকে।
_________________________
দুপুর গড়িয়েছে। বিচের আশে পাশে পুলিশ অসংখ্য লোকের ভিড়। বেশ কিছুক্ষণ আগে নদীর পানিতে ভেসে এসেছে চার যুবকের লাশ। এলাকার লোক গুলোর শরীরে ভয় ঢুকে গিয়েছে। চার চারটে খু'ন কার এতো সাহস। বৃষ্টি এখনো আবহাওয়া আগের তুলনায় বেশ খারাপ । জানান দিচ্ছে বড় সড় ঝড় হবে একটা।
অবন্তিকা, ধূসর, তেজ, তূর্য সবাই ছাতা নিয়ে এসেছে। এমন বিভষ্য অবস্থা লাশের যে মুখ চেনা যাচ্ছে না। আবার গলা কাটাও আছে। সবার মাঝে আতঙ্ক থাকলেও ধূসরের ভিতর কোনো ভাবান্তর নেই। গা ছাড়া ভাব নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। পুলিশ বেশ খানিক্ষন পর্যবেক্ষণ করে লোকের
ভিড় কমাতে বলে। আস্তে আস্তে জাগাটা খালি হয়। যেতে যেতে তেজ অবন্তিকাকে বলে,
“আমাদের আজ ফিরতে হবে খেয়াল আছে তোর? পরশু মেডিকেল আছে অথচ এতো বৃষ্টি কি করি বলতো? "
অবন্তিকা হাঁটতে হাঁটতেই ধীর গলায় বলল,
“সন্ধ্যার দিকে রওনা হই তাহলে তাড়াতাড়ি পৌঁছে যাবো আমরা। তাছাড়া গাড়ি তো আছেই আমাদের। ”
“এখনি সব প্যাক করি কেমন? ভোর ভোর বাড়ি থাকতে পারবো। ”
||||
অহনা মুখ ফুলিয়ে বসে আছে। অথচ তূর্যের সেদিকে নজর দিয়ে হালকা হাসে। কাল রাতের পর থেকে অহনা ঠিক ভাবে হাঁটতে ও পারছে না। গলার বিভিন্ন জাগায় ছোপ ছোপ দাগ বসে গিয়েছে। ঠোঁট ফুলে উঠেছে। বাহিরে লজ্জায় বের হতেও পারছে না। কি বর করার নিজ থেকে এগিয়েছে তূর্যের তে কোনো দোষ ছিলো না। শুধু জেন্টাল হতে পারে নিই রাতে। এখানে এসেছে পর থেকে টানা একাধারে বৃষ্টি। ঠিক ভাবে ঘুরতেও পারে নিই। অথচ আজকেই তারা ব্যাক করবে ঢাকায়।
অহনা শরীরে একটা থ্রি পিস জড়িয়েছে সাথে গলায় ভালো ভাবে ওড়না। যাতে গলার অংশ কারো চোখে না পরে। তূর্য বিষয় টা খেয়াল করে। ওড়না টা এমন ভাবে জড়িয়েছে যে গলার অংশ ঢাকলেও বুকের অংশ ফাঁকা হয়ে আছে। মেয়েটাকে একটু বাজিয়ে দেখতে দুষ্ট কন্ঠে চোখ মেরে বলে,
“হাতের জাদু আছে বল? একদিনেই উন্নতি নিজেকে নিয়ে গর্ব হচ্ছে। বাই দ্যা ওয়ে বুক ঢাল ওটা শুধু আমার জন্য! ”
তূর্যের এহেম কথায় মেয়েটা থম থম খায়। লজ্জায় গাল দুটো লাল হয়ে আছে। এখন দেখলে যে কেউ বলবে ব্লাশ দিয়েছে। অহনা অগ্নিস্ফুলিঙ্গ দৃষ্টিতে তাকিয়ে তূর্য কে বলল,
“কেস করবো আমি তোমার নামে নারী নির্যাতন! ”
“ওহ্ রিয়ালি? তো কি নামে অভিযোগ দিবি বল শুনি? ”
অহনা এই পর্যায়ে চুপ হয়ে গেলো। তূর্য অহনার কাছ টায় এসে ওড়নাটা টান দিয়ে খুলে ফেলে। অতঃপর ভালো ভাবে ওড়না জড়াতে জড়াতে বলে,
“স্বামীর অধিকার দিয়ে বলছিস কেস করবি! জাতি কি এই অভিযোগ মেনে নিবে হুম? ”
অহনা কিছু বলতে গেলে তূর্য ঠোঁট আঙ্গুল চেপে কানের লতিতে ঠোঁট ছুঁয়ে ফিসফিসিয়ে বলে,
“একবার বাড়ি পৌঁছাই দিনে পাঁচ বার বাসর সারবো। ডেইলি নিউ নিউ ওয়ে তে কেমন? এবার বের হই আমার সোনা? ”

0 Comments