মনটা_তারই_সুরে_অনুরাগিনী



ঈদের দিন সকাল সকাল বাড়ির মহিলারা সবাই রান্না ঘরে ব্যস্ত। মেয়েরা সবাই গোসল দিয়ে সাজগোজ করছে। বাড়ির পুরুষ সদস্যরা সবাই রেডি হয়ে ঈদের নামাজ আদায় করতে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
আহিয়ান গোসল করে সবে বের হয়েছে। ক্লজেট থেকে সাদা পাঞ্জাবি পাজামা বের করে পরে নিল সে।আহিয়ান আয়নার সামনে দাড়িয় চুল সেট করে গায়ে বডি স্প্রে মাখছিল তখনি রোদেলা,মেহনূর আর তৃষ্ণা দরজায় নক করলো।আহিয়ান গায়ে বডি স্প্রে মেখে দরজার দিকে গিয়ে দরজা খুলে দিতেই তিনজন হুড়মুড় করে আহিয়ানের রুমে ঢুকে গেল। আহিয়ান নিজেও কিছুটা সরে গিয়ে বোনদের জায়গা করে দিল।তবে তার চোখ আটকে ছিল একটি নির্দিষ্ট নারী অবয়বের দিকে। রোদেলাকে আজ বেশ উৎফুল্ল লাগছে। রোদেলার পরনে নীল রঙা পাথরের কাজ করা নব্বই দশকের একটা শাড়ি আর হাত ভর্তি কাচের চুড়ি।
মাশরিফার আলমারি থেকে মাশরিফা বেছে বেছে এটা বের করে দিয়েছে রোদেলাকে পরতে। রোদেলার জন্য মাশরিফা ঈদে একটা লং ফ্রক আর থ্রিপিস কিনে রেখেছিল। তবে হুট করেই বাড়ির মেয়েরা যখন সবাই সিদ্ধান্ত নিল শাড়ি পরবে, তখন মাশরিফা নিজের আলমারি থেকে খুঁজে খুঁজে শাড়িটা বের করে দিয়েছে।অবন্তি আর অন্বেষা সবাইকে শাড়ি পরিয়ে দেওয়ার পর নিজেরা শাড়ি পরেছে এখন।তুষারের বউ আফরিণও শাড়ি পরেছে সেখানে।
রোদেলাদের শাড়ি পরা শেষ হতেই মেহনূর আর তৃষ্ণা রোদেলাকে টানতে টানতে উপরে নিয়ে এসেছে।তারা প্রথমে আহিয়ানকে সালাম করে, সালামি নিবে তাই।
আহিয়ানের দৃষ্টি এখনো রোদেলার উপরেই ঘুরঘুর করছে। না চাইতেও আহিয়ানের চোখ জোড়া রোদেলার উপর গিয়েই নিজের নির্লজ্জতা জানান দিতে ব্যস্ত যেন।
রোদেলার সিল্কি লম্বা কালো কেশরাশি ছেড়ে দেওয়া। যা কোমর ছাড়িয়ে হাটুর সাথে হেলদোল খাচ্ছে। রোদেলার মাথায় শাড়ির আঁচলটা দিয়ে ঘোমটা টানা। আহিয়ানের দৃষ্টি আটকালো রোদেলার হলুদ টকটকে শরীরে চিকন স্বর্ণের চেইন খানার দিকে। যেটা রোদেলার মসৃণ পেলব ত্বকের সাথে মিশে দিপ্তি ছড়াচ্ছে। রোদেলার পেলব কোমল শিশু সুলভ মুখশ্রিতে মায়া উপচে পরছে যেন। রোদেলার ঢাগর ঢাগর হরিণী চোখ জোড়া চঞ্চলতার সহিত এদিক সেদিক বিচরণ করছে। আহিয়ান কতক্ষণ যে এই পিচ্চি বউ এর দিকে ঘোর লাগা দৃষ্টিতে ডুবে ছিল তা তার খেয়াল নেই। আহিয়ানের হুঁশ ফিরলো বোন আর ভাগ্নে-ভাগ্নিদের ডাকাডাকিতে।
অন্বেষা আর অবন্তিও রেডি হয়ে এসেছে। তারা দুজন বাচ্চাদের নিয়ে মাত্রই আহিয়ানের রুমে ঢুকলো।অন্ত আর অনন্যা রুমে ঢুকেই তাদের মামাকে দাড়িয়ে থাকতে দেখে,আহিয়ানের হাত ধরে ঝাঁকাচ্ছে তাদের সালামি দেওয়ার জন্য। জয় তার মামার পাঞ্জাবি ধরে লটকে আছে।জয় পাঞ্জাবি ধরে টানতে টানতে বললো,
" মামা কুলে নাও,কুলে। "
আহিয়ান নিজেকে স্বাভাবিক করে গলা খাঁকাড়ি দিয়ে জয়কে দুই হাতে কোলে তুলে নিল। জয় আর অন্ত নীল পাঞ্জাবির সাথে সাদা পাজামা পরেছে। অনন্যার গায়ে একটা গোলাপী আর সাদা মিশ্রনের ফ্রক। তিনজনকেই দেখতে ভীষণ কিউট লাগছে।
আহিয়ান জয়কে কোলে নিয়ে সামনের দিকে তাকাতেই
তৃষ্ণা আর মেহনূর আহিয়ানের সামনে হাত বাড়িয়ে দিল। তা দেখে বাচ্চারা সহ বাকি সবাই একই ভঙিমায় হাত বাড়ালো।রোদেলাও এবেলায় পিছিয়ে নেই সে ও হাত পেতে আছে সালামি নিতে। এমনকি অন্বেষা, অবন্তিও ছোট ভাইয়ের থেকে সালামি নিতে হাত পেতে দাড়িয়ে আছে। আহিয়ান সবার এরকম কান্ডে ভ্রু কুঁচকে তাকালো। তখনি হুড়মুড় করে সেখানে উপস্থিত হলো
অর্ণ আর শিবলী। অর্ণ আর শিবলী রুমে ঢুকেই সবাইকে এক পলক দেখে হাসি দিয়ে বাকিদের মতো আহিয়ানের দিকে হাত বাড়িয়ে দিল। শিবলী নিজেও সাদা পাঞ্জাবী পাজামা পরেছে। লম্বা বলিষ্ঠ দেহে বেশ মানিয়েছে তাকে। শিবলী নিজের চুলে ব্যাকব্রাশ করতে করতে বললো,
" সালামি দে ব্রো । "
শিবলীর কথায় আহিয়ানের ভ্রু আরও কুঁচকে গেল। তার সামনে দাড়ানো সব গুলোকে দেখে শিবলী বাঁকা হাসলো। সেই হাসি রোদেলার চোখ এড়ালো না। রোদেলা মনে মনে বললো,
" বিয়ের পরে এখন পর্যন্ত তো কিছু দিলেন না। আজ ঠিক মোটা অঙ্কের সালামি না নিয়ে ছাড়ছি না মেজর সাহেব হুহ। "
.
.
অবিশ্বাস্য হলেও সত্য শিবলী আর আহিয়ান একই দিনে একই সময়ে পৃথিবীতে ভূমিষ্ট হয়েছে। সেই দিনটি আহিয়ানদের পরিবারের জন্য একটি স্মরণীয় ঘটনায় বটে। একই সময়ে পাশ্ববর্তী দুই রুমে মাশরিফা আর আইরিন ব্যথায় কাতরাচ্ছিল। তারপর একই সময়ে দুই নারীর কোল আলোকিত করে এসেছিল আহিয়ান আর শিবলী। আহিয়ান শিবলীর তিন মিনিট আগে পৃথিবীতে এসেছিল।আর শিবলী আহিয়ানের তিন মিনিট পর। তাই শিবলী সর্বদা নিজেকে ছোট মানতে নারাজ থাকে। তবে আজ হঠাৎ সালামি পেতে শিবলীকে নিজেকে আহিয়ানের ছোট দাবি করতে দেখে আহিয়ান বাঁকা হেসে ঠোঁট কামড়ে ধরলে হাসি আটকালো।
ভাই-বোনদের হাবভাব দেখে আহিয়ান তার পাঞ্জাবির পকেট থেকে নিজের ওয়ালেট বের করলো। সবাই উৎসুক দৃষ্টিতে আহিয়ানের ওয়ালেটে উঁকি ঝুঁকি দিচ্ছে।রোদেলা নিজের হাতটা বাড়িয়ে দিয়ে আহিয়ানের আরও সামনে ধরলো। আহিয়ান সেটা দেখে শয়তানি হাসি দিয়ে রোদেলার হাতের উপর দশ টাকার একটা কচকচে নতুন নোট ধরিয়ে দিল।রোদেলা আহমকে মতো আহিয়ানের দিকে তাকাতেই আহিয়ান ঠোঁট বাঁকালো । আহিয়ান তার সামনে হাত পেতে রাখা সব ভাই-বোনের আর ভাগ্নে-ভাগ্নিদের হাতেও একই ভাবে দশ টাকা ধরিয়ে দিয়ে বললো,
" আই থিংক নাউ ইউ আর হ্যাপি, গাইজ। বাই দ্য ওয়ে, আই'ম গেটিং লেট, সো আই গটা গো। ঈদ মুবারাক, গাইজ। বাই-বাই। "
_
আহিয়ানকে দশ টাকা করে সালামি দিতে দেখে রোদেলা রাগে কড়মড় করে উঠলো। আহিয়ানের সব ভাই-বোনেরা দশ টাকা হাতে নিয়ে কাঁদো কাঁদো মুখ করে তাকালো আহিয়ানের দিকে। আহিয়ান এক কদম কি দুই কদম এগিয়েছে তার আগেই রোদেলা পিছন থেকে আহিয়ানের পিঠের পাঞ্জাবি খামচে ধরে বাঁধা দিল। রোদেলার হুট করে আজ এতো সাহস কোথা থেকে এলো তা রোদেলা নিজেও জানে না। আহিয়ান বাঁধা পেয়ে পিছনে তাকাতেই ভ্র কুঁচকে রোদেলাকে বললো,
" কি? এভাবে টানাটানি করছো কেন? "
রোদেলা মুখ মুচড়ে হাত সরিয়ে নিয়ে বললো,
" আপনি আগে বলুন আমাদের কি ছোট বাচ্চা পেয়েছেন? কেউ এতো কিপটে হয় কি করে?দশ টাকা করে যে সালামি দিলেন,এটা দিয়ে আমরা
কি করবো হে? "
আহিয়ান রোদেলার কথায় ঠোঁট বাকিয়ে বললো,
" কি করবে মানে? আমার পকেট থেকে তোমাদের জন্য ১০০ টাকা খোয়া গেল। এটাই বেশি আর একটা টাকারও কেউ লোভ করবে না। "
রোদেলার রাগে গা পিত্তি জ্বলে গেল যেন। শিবলী রোদেলাকে চোখে চোখে ইশরা করে বললো,
" পাঞ্জাবীর পকেট থেকে মানি ব্যগটা কেড়ে নাও। "
রোদেলা মাথা ঝাঁকিয়ে নিজের ভেতর সাহস সঞ্চয় করলো তারপর আহিয়ানের দিকে বোকা বোকা হাসি দিয়ে কাছে এগোতে থাকলো।আহিয়ান রোদেলার হাবভাব দেখে কপালে ভাঁজ ফেলে দাড়ালো। রোদেলা আহিয়ানের তাকানো লক্ষ্য করে চোখ পিটপিট করে হাসি দিতে দিতে আহিয়ানের সামনে এসে পরলো। আহিয়ান তার বউের মাথা থেকে পা পর্যন্ত দৃষ্টি বুলিয়ে বউের দিকে তাকিয়ে ভ্রুঁ নাচালো। রোদেলাও কম যায় না। সে আহিয়ানের দিকে সম্মোহনী দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে হুট করে আহিয়ানের পাঞ্জাবির পকেটে হামলে পরলো ওয়ালেটটা নিতে । আহিয়ান এই বিচ্ছু বাহিনীর প্ল্যান ধরতে পেরেই দ্রুত রোদেলার হাত ধরে তাকে বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করলো।কিন্তুু তা আর সম্ভব হলো না শিবলীর জন্য। শিবলী আহিয়ানকে পিছন থেকে হঠাৎ ঝাপ্টে ধরে বিছানর উপর এনে ফেলল। এই সুযোগে রোদেলা আহিয়ানের মানিব্যাগ হাতিয়ে নিয়েছে।
আহিয়ান বিছানায় আঁধ শোয়া হয়ে থেকেই বিষ্ময় ভরা দৃষ্টিতে দেখে গেল সবটা। তার বউ যে এতো বড় মাপের পকেট মার তা ঘুনাক্ষরেও টের পায়নি বেচারা।আহিয়ান বিছানা থেকে উঠে বসে একদম রোদেলার সামনে এসে দাড়ালো। রোদেলা ভয় পেয়ে দুই কদম পিছে সরে দাড়ালো। নিজের সাহস দেখে রোদেলা নিজেই বিচলিত হয়ে উঠলো। রোদেলাকে ভয় পেয়ে পিছিয়ে যেতে দেখে আহিয়ান আচমকা নিজের মুখ খানিকটা নামিয়ে আনলো। আহিয়ান রোদেলার মুখের দিকে নিজের মুখটা কাত করে বললো,
" এই ছিল গো তোমার মনে, আর আমি ভাবি তুমি আমার ফ্যান গোপনে!
এই জন্যই বুঝি বলে, ঘরের শত্রু বিভীষণ—নিজের লোকই সর্বনাশের কারণ! "
রোদেলা কি বলবে বুঝতে পারছে না। ঘর ভর্তি সবার সামনে তার ভীষণ লজ্জা লাগছে। সবাই হাসাহাসি করছে আহিয়ানের কথায়। রোদেলা লজ্জা পেয়ে দুই হাতে মুখ ঢেকে ফেলল। আহিয়ান সেটা দেখে বেরিয়ে যেতে যেতে রোদেলাকে বলে গেল,
" সবইকে সালামি বুঝিয়ে দিয়ে আমার ওয়ালেটটা বালিশের নিচে রেখো। "
আহিয়ান চলে যাওয়ার পর রোদেলা ওয়ালেট হাতরে ১১ হাজার টাকা পেল। আহিয়ান আগে থেকেই এই বিচ্ছু বাহিনীর জন্য টাকা রেডি রেখেছিল। মূলত প্রথমবার রোদেলাকে সালামি চাইতে এসে এতো উৎসুক দেখেই আহিয়ান একটু ইতরামি করেছে। তুষার এর বউ আফরিণও এসে পরেছে এতক্ষণে। এগারো হাজার টাকা থেকে সবাই এক হাজার টাকা করে সালামি পেল। সালামি আদায় করে অর্ণ আর শিবলী কেটে পরতে নিচ্ছিল, তখনি মেহনূর গিয়ে শিবলীর সামনে হাত প্রসারিত করে দাড়ালো,
" কোথায় কেটে পরো তোমরা হে? সালামি দাও বলছি। "
শিবলী বোকা হেসে বললো,
" আরে পিচ্চি বোন আমার। ছোট দের এতো টাকা হাতাতে নেই। শুনিস নি, বেশি টাকা পেলে বাচ্চারা বখে যায়। "
তৃষ্ণা কোমরে হাত রেখে বললো,
" চুপ করো সেজো ভাই। টাকা না দিয়ে একটাও বাহানা শুনতে চাই না। আর ছোট ভাই তুমি টাকা দিচ্ছ
না কেন? "
অর্ণ তৃষ্ণার মাথায় আর মেহনূরের মাথায় হাত বুলিয়ে বললো,
" এই যে দোয়া দিলাম। আর কি চাই তোদের হে? আচ্চা তবুও রাগ করিস না। আসার সময় তোদের প্রিয় মামা বিস্কুট নিয়ে আসবো নি হে? "
মেহনূর তার ভাইয়ের কথায় রেগে গিয়ে বললো,
" আমরা এখন আর ছোট নেই ভাইয়া । মামা বিস্কিটের লোভ দেখাবে না একদম? ভালোই ভালোই সালামি
দাও। "
শিবলী লম্বা একটা শ্বাস টেনে বললো,
" ঠিক আছে বোনটি, তোমারা সালামি পাবে তবে আগে নামাজ শেষ করে আসি হে? এই বলেই সে চোখের পলকে উধাও হয়ে গেল। "
___
রোদেলা, মেহনূর,তৃষ্ণা,জয়,অন্ত আর অনন্যা ছোট হওয়ায় সবার কাছ থেকে সালামি পেয়েছে। জাবির আহমেদ ও তার বড় ভাই আজাদ আহমেদ,সেজো ভাই মাহমুদ আহমেদ, ছোট ভাই আরভিদও ছোটদের সবাইকে সালামি দিয়েছে।
বাড়ির পুরুষরা সবাই কম বেশি মিষ্টি মুখ করে এক সাথে ঈদের নামাজ আদায় করতে ঈদগাহে গিয়েছে।আহিয়ানের হাত ধরে জয় আর জাবির সাহেবের হাত ধরে অন্তও গিয়েছে নামাজ পড়তে। নামাজে যাওয়ার আগে তারা তাদের বাবার সাথে ভিডিও কলে কথা বলে বেরিয়েছে। আহিয়ানের দুই দুলাভাই এক সাথেই বিজনেস করে। হুট করেই ব্যবসায় কিছু ঝামেলা হওয়াতে তাদের ইতালিতে যেতে হয়েছিল। ঈদের আগে ঝামেলা শেষ করে আর দেশে ফিরতে পারেনি। এই কারণেই সবাই অন্বেষা,অবন্তি আর বাচ্চাদের জোর করে এখানে নিয়ে এসেছিল।
__________
ঈদের নামাজ শুরু হয়েছিল সকাল নয়টায় শেষ হয়েছে দশটায়। নামাজ শেষ করে আহিয়ান জয়কে কোলে নিয়ে বাড়ির দিকে হাটা ধরলো। শিবলী,অর্ণ আর তুষার আহিয়ানের পিছনেই আসছে। অন্ত অর্ণের হাত ধরে হেটে আসছে।
শিবলী একটা দেখে দোকানের দিকে এগিয়ে গেল। শিবলী,আহিয়ানের দেওয়া প্রথম দশ টাকার নোটটা বের করলো, তারপর নিজে কাছে রাখা আরেকটা দশটাকার নোট বের করলো। অন্য দশটাকাটাও অবশ্য আহিয়ানের ওয়ালেট থেকেই মেরে দিয়েছিল সে।
শিবলী দোকান দারকে দুইটা দশ টাকার নোট দিয়ে বললো,
" এই দুইটা দশ টাকা ভাঙিয়ে আমাকে দোয়েল পাখিওয়ালা দশটা দুই টাকার কচকচে নোট দাও তো দেখি। "
দোকানদার কিশোর বয়সী এক ছেলে। ছেলেটা বোকা হেসে টাকাটা নিয়ে বললো,
"আমনেও তো দেহি ছোট ভাইজান। এই ল্যান ভাইজান, আমনের পাখিওয়ালা দশডা দুই টেকার নোটগিলা।"
শিবলী দোকানি ছেলেটার কথায় বঁকা হেসে নোট গুলো নিজের পকেটে ভরলো। আরভিদ বাড়ির মেয়ে আর বাচ্চাদের জন্য অনেক গুলো চিপস চকলেট,আইসক্রিম কিনলো। শিবলী কিছু কিনেনি বরং সে তার ছোট চাচার টাকায় দোকানের ব্রেঞ্চে বসে বসে দুইটা ২৫০ মিলি'র SPEED গিলেছে।
_______
বাড়িতে ফিরে আহিয়ান জয়কে অবন্তির কোলে দিয়ে বাবা চাচাদের কাছে গেল। অর্ণ আর তুষার নামাজ পড়ে বাসায় ফিরে সোজা গরুর রাখার স্থানে চলে গিয়েছে।একটু পর আহিয়ানও সেখানে গিয়ে উপস্থিত হলো। আরভিদ আর শিবলী বাসায় ফিরে বাচ্চাদের আর বাড়ির মেয়েদের ডেকে তাদের হাতে চিপস,চকলেট আর আইসক্রিমের পলিব্যাগ গুলো ধরিয়ে দিল। আরভিদ বাইরে বেরিয়ে পরেছে।তবে শিবলীকে সেই সুযোগ পেল না। রোদেলা,মেহনূর আর তৃষ্ণা পথ রুখে দাড়িয়েছে তার।শিবলীর বুঝতে সময় ব্যয় করতে হলো না এই বিচ্ছুরা কি চায়। শিবলী ফিচেল হেসে নিজের পকেটে হাত দিয়ে দশটা দুই টাকার নোট বের করলো। তখনি অর্ণ আসলো গরু জবাইয়ের জন্য ছুরি,চাপাটি,দড়ি সহ প্রয়োজনীও সরঞ্জাম নিতে। শিবলী অর্ণকে দেখে ডাক দিল। অর্ণ আসতেই শিবলী সবাইকে বললো,
" সবাই এক সিরিয়ালে দাড়িয়ে হাত বাড়াও আমি তোমাদের সালামি দিচ্ছি ওকে? "
সবাই খুশিতে গদগদ হয়ে তাই করলো। শিবলী সবার দিকে তাকিয়ে বাঁকা হেসে দুই টাকার দশটা নোট বের করে দশজনের হাতে ধরিয়ে দিল। শিলীর এমন কিপটেমি দেখে অন্বেষা ছোট ভাইয়ের কান মলে ধরলো।শিবলী জান বাঁচিয়ে কোনো রকম মহিলা বাঘিনীদের থেকে ছুটে পালালো। অর্ণ তার উপর বিপদ আসন্ন বুঝতে পেরে আগেই ছুটে পালিয়ে ছিল। এদের দুই ভাইকে এভাবে কেটে পরতে দেখে বাড়ির মহিলা সদস্যরা সবাই হাসি আটকাতে না পেরে হো হো করে হাসতে থাকলো।
__________________
গরু তিনটাকে যেখানে জবা*ই করা হবে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আমির সাহেব নামাজ আদায় করে এলাকার মুরুব্বিদের সাথে সেই স্থানে আগেই চলে গিয়েছিল।জাবির আহমেদ,আজাদ আহমেদ,মাহমুদ আহমেদ নামাজ শেষ করে নিজেরাও সেখানে গিয়েছে। শিবলী আর অর্ণও সেখানে আসার পর চারজন তিনটা গরু আর প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে রওনা হয়েছে।আহিয়ানদের বাড়ির সামনে বিশাল বড় মাঠ সেখানেই গরু তিনটা জবাই করা হবে। পাড়ার আরও অনেক মানুষ নিজেদের গুরু নিয়েও সেখানে হাজির হয়েছে।
-
গরু জবাই থেকে শুরু করে,গোশতো বানানো এবং বিলাতে বিলাতে প্রায় দুপুর দুইটা বেজে গেল। শিবলী নিজের কাজ করে সবার আগে বাড়িতে ফিরেছে। অবশ্য সে ফিরতে বাধ্যই হয়েছে এক প্রকার। হঠাৎ ফোনে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পাবার পর, চাইলেও সে দেরি করতে পারে নি।
-
আহিয়ান ফিরার সময় হাতে লম্বা ছু*রি নিয়ে বাড়ির দিকে রওনা হলো।আহিয়ানের গায়ের সাদা পাঞ্জাবি পাজামাটা র*ক্তে মাখামাখি হয়ে আছে।ছু*রিতেও অনেক জায়গায় গরুর র*ক্ত লেগে শুকিয়ে আছে। আবার কোথাও কোথাও এখনো অনেকটা ভেঁজা ভেঁজা রইয়ে গিয়েছে।
আহিয়ানকে এভাবে র*ক্তে মাখামাখি করে বাড়িতে ফিরতে দেখে শিবলী ঢুক গিলে চোখ বড় বড় করে তাকালো আহিয়ানের দিকে।পরক্ষণেই নিজের চঞ্চলতা বৈশিষ্ট্যের কারণে শিবলীর চোখ চকচক করে উঠলো।শিবলী নিজের ফোনটা বের করলো। তারপর চটপট করে আহিয়ানের কয়েকটা ফটো তুলে রাখলো। আহিয়ান বাড়িতে ঢুকার সময় শিবলীকে ফোন নিয়ে ইতরামি করতে দেখে মনে মনে বিড়বিড়ালো,
" ইতরের নাটায় ঘুড়ি। এই হাড়ে বজ্জাতটাকে আমার বাপের ভাইয়ের ছেলেই হতে হলো খোদা? "

Post a Comment

0 Comments