প্রশ্নেরা_চিহ্ন_ভুলে_যায়

প্রশ্নেরা_চিহ্ন_ভুলে_যায়

বহুদিন পর প্রাক্তনের ছোট্ট মেসেজে অবন্তীর আঙুলগুলো অজান্তেই কেঁপে উঠল। ফোনের স্ক্রিনে ভেসে থাকা কয়েকটি শব্দ যেন হঠাৎ করেই তার চারপাশের সমস্ত শব্দকে স্তব্ধ করে দিল।

“কেমন আছো, অবন্তী?”
শব্দগুলোর ওজন যেন পাহাড়সম। ক্লাসরুমের ভেতর তখন শায়ানের মুগ্ধকর কণ্ঠ প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। হোয়াইটবোর্ডে একের পর এক শব্দ ফুটে উঠছে। ছাত্রছাত্রীরা মনোযোগ দিয়ে নোট করে নিচ্ছে। অথচ অবন্তীর কাছে সবকিছু যেন ধীরে ধীরে দূরে সরে যেতে লাগল। চারপাশের কোলাহল মিলিয়ে গিয়ে শুধু ওই কয়েকটি শব্দই তার চোখের সামনে জ্বলজ্বল করতে লাগল। চিরচেনা নম্বর।চিরচেনা মানুষ। একটা সময় এই নম্বর থেকে আসা একটি মেসেজের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে থাকত সে। রাত জেগে গল্প করত। ভোরের আলো ফুটে যাওয়ার পরও যার সঙ্গে কথার শেষ হতো না। কিন্তু আজ?
আজ সেই নম্বরটা দেখেই বুকের ভেতরটা কেমন শক্ত হয়ে এলো।
যেন বহুদিন আগের শুকিয়ে যাওয়া ক্ষত হঠাৎ করেই আবার রক্তাক্ত হয়ে উঠেছে। অবন্তী অন্যমনস্ক চোখে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইল।
ইশতিয়াক আলভি নামটা একসময় তার পৃথিবীর সবচেয়ে আপন শব্দ ছিল। আর আজ সেই নামটিই যেন তার জীবনের সবচেয়ে অচেনা সত্য। দীর্ঘ একটা সময় ধরে মানুষটার কোনো খবর ছিল না।
মানুষটা ইচ্ছে করে খুব বাজেভাবে অবন্তীকে ঠকিয়ে তার জীবন থেকে হারিয়ে গিয়েছিল। অবন্তী কাঁদতে পারত না জেনেও মানুষটা কান্নাকে নিত্যদিনের সঙ্গী বানিয়ে দিয়ে বিদায় নিয়েছিল।
অবন্তী ধীরে ধীরে শ্বাস নিল। তারপর কোনো উত্তর না দিয়ে ফোনটা উল্টে রাখল টেবিলের ওপর। নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করল, সব শেষ হয়ে গেছে।যে গল্পের শেষ পৃষ্ঠায় বহু আগেই দাঁড়ি পড়ে গেছে সেই গল্প আবার নতুন করে পড়ার কোনো প্রয়োজন নেই।
ফোনটা আবারও কেঁপে উঠল। অবন্তীর বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল। অনিচ্ছা সত্ত্বেও সে স্ক্রিনে চোখ রাখল। নতুন মেসেজ,
“জানি আমার ওপর অভিমান করে আছ। হয়তো চরম ঘৃণাও করো। তবে আজও আমি তোমাকে ভুলতে পারিনি, অবন্তী৷ সত্যিকারের ভালোবাসা আমি পায়ে ঠেলেছিলাম। আমি ভুল করেছিলাম। আমাকে মাফ করে দাও তুমি। দেরিতে হলেও আমি নিজের ভুলটা বুঝতে পেরেছি, অবন্তী।”
অবন্তীর গলার ভেতরটা হঠাৎ করেই শুকিয়ে এলো। অদ্ভুত এক তিক্ত হাসি ফুটল তার ঠোঁটের কোণে। ভুলতে পারেনি? যে মানুষটা তার চোখের জলে ভেজা অসংখ্য রাতের খবর রাখেনি, সে আজ বলছে ভুলতে পারেনি!
অবন্তী চোখ নামিয়ে নিল। নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করল। ঠিক তখনই তার মনে পড়ে গেল সেই শেষ দিনের কথা, অপেক্ষা, কান্না, বিশ্বাস ভাঙার শব্দ।
স্মৃতিগুলো হঠাৎ করেই বুকের ভেতর ঝড় তুলে দিল। কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তে আরেকটি অনুভূতি এসে সমস্ত অস্থিরতাকে ধীরে ধীরে ঢেকে দিল।
শায়ান।
অবন্তীর দৃষ্টি অজান্তেই উঠে গেল পোডিয়ামের দিকে। শায়ান তখন পড়াচ্ছে। তার কণ্ঠে আত্মবিশ্বাস, চোখে স্থিরতা। সকালবেলার মতোই পরিপাটি, গম্ভীর, আশ্বস্ত করা এক উপস্থিতি।
হঠাৎ করেই অবন্তীর মনে হলো, মানুষের জীবনে কিছু মানুষ আসে ঝড় হয়ে, আর কিছু মানুষ আসে আশ্রয় হয়ে।
অবন্তী ফোনটা নিঃশব্দ করে ব্যাগের ভেতর রেখে দিল। অতীত আবার দরজায় কড়া নাড়ছে কিন্তু সব কড়া নাড়ার উত্তর দিতে হয় না। কিছু দরজা চিরদিনের জন্য বন্ধ থাকাই সুন্দর। সে গভীর একটা শ্বাস নিল।
সন্ধ্যা নেমেছে ধীরে ধীরে। লন্ডনের আকাশজুড়ে ছড়িয়ে আছে ফিকে নীলচে-ধূসর আলো। জানালার কাঁচে জমে থাকা ঠান্ডা শিশিরবিন্দুগুলো দূরের আলোগুলোকে ঝাপসা করে তুলছে। বাইরে হালকা বাতাস বইছে, গাছের পাতাগুলো দুলছে নিঃশব্দে। চারপাশে যেন এক প্রশান্ত নীরবতা।
অবন্তী নিজের রুমেই ছিল। বিছানার একপাশে হেলান দিয়ে বসে পরদিনের ক্লাসের পড়াগুলো দেখছিল। নতুন জায়গা এবং নতুন দায়িত্ব সে মন দিয়ে আয়ত্ত করার চেষ্টা করছে। তাই পরের দিন যা পড়াবে, সেগুলো আগেভাগেই দেখে রাখছিল।
এমন সময় দরজায় হালকা টোকা পড়ল। অবন্তী মাথা তুলে বলল
“ভেতরে এসো।”
দরজা খুলে ইভা ঢুকল। হাতে একটা ট্রে। ট্রেতে ধোঁয়া ওঠা কফির মগ আর কয়েকটা স্ন্যাকস।
হেসে বলল,
“তুমি পড়ছো দেখে ভাবলাম একটু নাশতা নিয়ে আসি।”
অবন্তীও মুচকি হাসল।
“ধন্যবাদ, ননদিনী কিন্তু তোমার পড়া নেই?”
“আছে তো। তবে শেষ করে এলাম।”
ট্রে-টা টেবিলে রেখে জানালার দিকে তাকিয়ে বলল,
“বাইরে কী সুন্দর ঠান্ডা ঠান্ডা আবহাওয়া! বাসায় বসে থাকতে একদম ভালো লাগছে না। একটু বের হতে ইচ্ছে করছে। মাম্মা কিচেনে ব্যস্ত। তুমি কি আমার সঙ্গে বের হবে?”
অবন্তী কিছুটা ইতস্তত করল।
“তোমার ভাইয়া তো এখন বাসায় ফিরবে। এখন কীভাবে বের হই?”
ইভা ভ্রু নাচিয়ে বলল,
“ভাইয়া আজ বাসায় ফিরবে না।”
“ফিরবে না?”
“না। সে সেকেন্ড হোমে আছে।”
অবন্তী অবাক হয়ে তাকাল।
“সেকেন্ড হোম?”
ইভা মাথা নেড়ে বলল,
“হ্যাঁ। ভাইয়া কয়েক বছর আগে একটা ছোট অ্যাপার্টমেন্ট কিনেছিল। মন খারাপ থাকলে, কিংবা একা সময় কাটাতে চাইলে ওখানে যায়। কখনো কোনো কাজ থাকলেও সেখানেই থাকে।”
কথাগুলো শুনে অবন্তীর বুকের ভেতর অদ্ভুত এক অনুভূতি খেলে গেল। শায়ানের জীবনের এত বড় একটা অংশ সে জানতই না। কেন জানত না, সেই প্রশ্নও যেন মনে এসে খোঁচা দিল। নিজেকে সামলে বলল,
“আচ্ছা, তুমি যাও। আমি রেডি হয়ে নিই।”
ইভা খুশি হয়ে বেরিয়ে গেল। রুমে আবার নীরবতা নেমে এলো। অবন্তী কিছুক্ষণ স্থির হয়ে বসে রইল। তারপর ধীরে ধীরে চোখ গেল বিছানার পাশে রাখা ফোনটার দিকে। বুকের ভেতর হালকা একটা টান অনুভব করল সে। শেষমেশ আর কিছু না ভেবে শায়ানকে কল দিল। রিং হতেই ওপাশ থেকে কল রিসিভ হলো।
“হ্যালো?”
অবন্তী কোনো ভূমিকা না করে জিজ্ঞেস করল,
“আপনার একটা বাড়ি আছে, সেটা আমাকে বলেননি কেন?”
ওপাশে কয়েক সেকেন্ড নীরবতা। তারপর শায়ানের শান্ত, নরম কণ্ঠ ভেসে এলো।
“তোমাকে আমার সব কথা বলার মতো সম্পর্ক এখনো হয়নি, অবন্তী।”
কথাটা শুনে অবন্তীর বুকের কোথাও যেন অচেনা একটা খোঁচা লাগল। কিছুক্ষণ চুপ থেকে সে আবার বলল,
“শুনলাম মন খারাপ থাকলে বা কোনো কাজ থাকলে আপনি ওখানে সময় কাটান। আজ কোন কারণে আছেন?”
“অনেকদিন এখানে আসা হয়নি। একটা ফাইল নিতে এসেছিলাম। এসে দেখি পুরো বাসাটা ধুলোয় ঢেকে গেছে। তাই পরিষ্কার করছি। কিছু কাজও আছে। আগামীকাল ক্লাস শেষ করে বাসায় ফিরব।”
অবন্তী অকারণেই স্বস্তি পেল। মৃদু স্বরে বলল,
“তাড়াতাড়ি ফিরবেন।”
ওপাশে হালকা হাসির শব্দ শোনা গেল।
“কেন? মিস করছো? সেটা তো করার কথা না। জোর করে বিয়ে করেছি। তোমার কাছে ভিলেইন আমি। ভিলেইনকে কেউ মিস করে?”
অবন্তী চোখ নামিয়ে ফেলল।
“আপনার সঙ্গে কথা আছে।”
“ঠিক আছে। আগামীকাল কথা হবে।”
“ইভা এসেছিল। একটু বের হবে বলল। আমাকে রেডি হতে বলেছে।”
“বের হও। কোনো সমস্যা নেই। ও ভালো ড্রাইভ জানে।”
অবন্তী কয়েক মুহূর্ত চুপ করে থেকে বলল,
“সাবধানে থাকবেন।”
“তুমিও।” কথাটা বলে শায়ান কল কেটে দিল।
ফোনের স্ক্রিন নিভে গেলেও অবন্তী কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল সেটার দিকে।
একটু পর তৈরি হয়ে ইভার সঙ্গে বের হলো সে।
গাড়ি ধীরে ধীরে মেরিলেবোনের রাস্তাগুলো ধরে এগিয়ে চলল। সন্ধ্যার আলো তখন শহরের গায়ে গায়ে নরম সোনালি আভা ছড়িয়ে দিয়েছে। রাস্তার দুপাশে সারি সারি পুরোনো ইটের বাড়ি, ছোট ছোট ক্যাফে, বুকশপ আর ঝুলন্ত ফুলের টব। রাস্তার বাতিগুলো একে একে জ্বলে উঠছে।
অবন্তী জানালার বাইরে তাকিয়ে ছিল মুগ্ধ হয়ে। হঠাৎ ইভা বলল,
“তুমি কিছু মনে না করলে একটা প্রশ্ন করব?”
অবন্তী তাকাল।
“করো।”
ইভা একটু অস্বস্তিতে হাসল।
“তোমাদের বিয়ের দিন থেকে প্রশ্নটা মাথায় ঘুরছে। অনেকবার ভেবেছি করব না। কিন্তু পুরোপুরি এড়িয়ে যেতে পারিনি।”
“কী প্রশ্ন?”
ইভা কয়েক সেকেন্ড সময় নিল। তারপর ধীরে বলল,
“তুমি তো ভাইয়াকে বিয়ে করতে রাজি ছিলে না। আমি শুনেছিলাম এ নিয়ে আঙ্কেলের সঙ্গেও তোমার অনেক রাগারাগি হয়েছিল। কিন্তু পরে কী হলো? তুমি না চাইলে তো কেউ তোমাকে জোর করত না। ইভেন আমার ভাইয়াও না। সে ওরকম মানুষই না।”
প্রশ্নটা শুনে অবন্তী চুপ হয়ে গেল। জানালার বাইরে তাকাল সে। সন্ধ্যার আলো আরও গাঢ় হয়েছে। গাড়ির কাঁচে প্রতিফলিত হচ্ছে শহরের রঙিন বাতিগুলো।
একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো অবন্তীর বুক থেকে। ধীরে ধীরে বলল,
“আমি আমার বাবা-মায়ের জন্য কখনো কিছু করতে পারিনি। ভালো রেজাল্টটুকু ছাড়া। অথচ সেটাও মাঝপথে থেমে গিয়েছিল। আমার ভুলের জন্য সবাইকে অনেক কষ্ট দিয়েছি। নিজেও কম পাইনি।”
সে থামল। কণ্ঠে জমে থাকা ভার গিলে নিয়ে আবার বলল,
“স্কুল লাইফের শেষ দিকে আমি একজনের প্রেমে পড়েছিলাম। আমাদের এলাকারই ছিল সে। একসময় সম্পর্কও হয়। সবকিছু খুব ভালো চলছিল। অন্তত আমি তাই ভেবেছিলাম।”
হালকা তিক্ত একটা হাসি ফুটল তার ঠোঁটে।
“তারপর আমার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ঠিক ছয়দিন আগে সে বিয়ে করে নতুন বউ নিয়ে ঘরে ফিরল।”
ইভা নিঃশব্দে শুনছিল। অবন্তী দূরে তাকিয়েই বলল,
“সেই খবর শুনে আমি ভেঙে পড়েছিলাম। নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিলাম। পাগলামি করেছি। এমনকি নিজের জীবন শেষ করার চেষ্টাও করেছিলাম।”
গাড়ির ভেতর মুহূর্তেই ভারি নীরবতা নেমে এলো।
“আমাকে বাঁচানো হয়েছিল। হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরীক্ষা দিতে পারিনি। তারপর জীবনটা যেন থেমে গিয়েছিল। শুধু সেই বছর নয়, পরের দুই বছরও আমি স্বাভাবিক হতে পারিনি। কোনো কিছুই করতে পারিনি।”
তার চোখে ক্ষীণ জলরেখা চিকচিক করল।
“এরপর মা আমাকে আর ছোট বোনকে নিয়ে শহরে চলে আসেন। ধীরে ধীরে নতুন করে শুরু করি। আবার পড়াশোনা শুরু করি। পরীক্ষা দিই। বাবার অদম্য চেষ্টা আর বিশ্বাসের কারণে আজ আমি এখানে।”
সে কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর মৃদু গলায় বলল,
“আমার জন্য বাবা-মা, বোন সবাই অনেক কষ্ট করেছে। তারা আমাকে দুই হাত ভরে সব দিয়েছে। অথচ আমি তাদের কিছুই দিতে পারিনি।”
ইভার চোখও নরম হয়ে এলো। অবন্তী বলল,
“আমি মানসিকভাবে বিয়ের জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। বাবার ওপর রাগ করেছি, খারাপ ব্যবহার করেছি। কিন্তু পরে মনে হলো, আমি নিজের জন্য যত খারাপ সিদ্ধান্তই নিই না কেন আমার বাবা কখনো আমার জন্য খারাপ কিছু চাইবেন না।”
মুখে একটুখানি শান্ত হাসি ফুটল। সে পুনরায় বলল,
“আর তোমার ভাইয়াকে আমার কখনো খারাপ মানুষ মনে হয়নি। তাই নিজের অতীত আর ভবিষ্যৎ দুটো ভেবেই রাজি হয়েছিলাম।”
কিছুক্ষণ থেমে আবার বলল,
“এখন মনে হয়, আমি ভুল করিনি। বাবার পছন্দ আমার জন্য ঠিকই ছিল।”
তার দৃষ্টি দূরে কোথাও স্থির হয়ে রইল।
“হ্যাঁ, আমাদের মধ্যে এখনো স্বাভাবিক স্বামী-স্ত্রীর মতো সম্পর্ক তৈরি হয়নি। কিন্তু উনি উনার জায়গায় একদম সঠিক আছেন। কোনো দায়িত্বে, কোনো আচরণে কমতি রাখেননি। আমি খারাপ নেই।”
গলার স্বর আরও কোমল হয়ে এলো।
“সম্পর্কটা পূর্ণতা পেতে হয়তো একটু সময় লাগবে। কারণ আমি বুঝতে পারি, আমার কিছু আচরণে তোমার ভাইয়ার ইগোতে আঘাত লেগেছে। উনি বাইরে থেকে স্বাভাবিক থাকলেও ভেতরে ভেতরে অভিমান পুষে রেখেছেন।”
মৃদু হাসল অবন্তী।
“কিন্তু সময়মতো সব ঠিক হয়ে যাবে। আমি জানি। আমি আর তাড়াহুড়ো করতে চাই না। সময় লাগুক। তবু এবার আমি কোনো ভুল করতে চাই না।”
ইভা অনেকক্ষণ চুপ থেকে অবন্তীর দিকে তাকাল।
তার চোখে ছিল মায়া আর সহানুভূতি। সে ধীরে ধীরে বলল,
“হাজবেন্ড-ওয়াইফের মাঝে কোনো রকম দূরত্ব থাকা ঠিক নয়...”
অবন্তী মুখ ঘুরিয়ে ইভার দিকে তাকাল।
গাড়ির ভেতর নরম হলুদ আলো পড়েছে দুজনের মুখে। বাইরে অন্ধকার আরও ঘন হচ্ছে। ঘন হচ্ছে অবন্তীর মনের প্রশ্ন- কী করবে সে?

Post a Comment

0 Comments