চার বছরের সংসার

চার বছরের সংসার

 

আমার স্বামীর ফোনে আমার বান্ধবীর ২৮ টা মিসকল দেখে অবাক হয়ে গেলাম।

ফোনটা ডাইনিং টেবিলে উপুড় করে রাখা ছিল। সায়মন যখন ওয়াশরুমে গেল, ঠিক তখনই স্ক্রিনটা কেঁপে উঠল। সাধারণত আমি ওর ফোন ধরি না, আমরা একে অপরের ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে সম্মান করি। কিন্তু টানা তিনবার ফোনটা ভাইব্রেট করার পর ভাবলাম, হয়তো অফিস থেকে কোনো জরুরি কল এসেছে।
​পর্দা উল্টাতেই আমার বুকের ভেতরটা যেন এক মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেল। স্ক্রিনে কোনো অপরিচিত নম্বর নয়, জলজ্যান্ত ভেসে উঠছে একটা নাম—‘রাফিয়া’। আমার স্কুলজীবনের সবচেয়ে কাছের বান্ধবী।
​কলটা কেটে যাওয়ার পর কৌতূহল আর এক অজানা আ*শঙ্কায় আমি সায়মনের ফোনের লক স্ক্রিনটা খুললাম। সায়মনের পাসওয়ার্ড আমার জানা—আমাদের বিয়ের তারিখ। কল লগটা ওপেন করতেই আমার পায়ের নিচের মাটি যেন সরে গেল। একটা, দুটো নয়... গত রাত বারোটা থেকে সকাল আটটার মধ্যে রাফিয়ার মোট ২৮টি মিসকল!
​২৮টা মিসকল? একটা মানুষের ফোনে তার বান্ধবীর ২৮টা মিসকল থাকার মানে কী? তাও আবার মাঝরাতে?
​আমার আর সায়মনের বিয়ে হয়েছে চার বছর। ভালোবেসে ধুমধাম করে করা বিয়ে। ঢাকার ধানমন্ডির এই ফ্ল্যাটটিতে আমরা বেশ সুখেই দিন কাটাচ্ছিলাম। সায়মন একটা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে ভালো পদে আছে, আর আমি সংসার সামলানোর পাশাপাশি টুকটাক নিজের মতো থাকি। আমাদের এই সাজানো সংসারে রাফিয়ার যাতায়াত নিয়মিত। ডি*ভোর্সের পর রাফিয়া যখন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল, আমিই ওকে আমাদের বাসায় নিয়ে এসেছিলাম। সায়মনও ওকে বোনের মতো শ্রদ্ধা করত, অন্তত আমি তেমনই জানতাম।
​"কী দেখছ ওভাবে?"
​ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে সায়মন তোয়ালে দিয়ে চুল মুছতে মুছতে জিজ্ঞেস করল। ওর গলার স্বর একদম স্বাভাবিক। কোনো অপরা*ধবোধ বা ভয়ের লেশমাত্র নেই।
​আমি ফোনটা ওর দিকে ঘুরিয়ে ধরলাম। রাফিয়ার নাম আর সেই ২৮টি মিসকলের লাল দাগগুলো স্ক্রিনে জ্বলজ্বল করছে।
​সায়মন এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেল। ওর চোখের পলক স্বাভাবিকের চেয়ে একটু দ্রুত পড়ল, কিন্তু পরক্ষণেই ও একটা মলিন হাসি হেসে বলল, "ওহ, রাফিয়া ফোন করেছিল? আমি তো খেয়ালই করিনি। ও বোধহয় আবার কোনো ঝামেলায় পড়েছে। তুমি তো জানোই, ডিভো**র্সের পর ওর মানসিক অবস্থা কতটা অস্থির।"
​"ঝামেলা?" আমার কণ্ঠস্বর নিজের কানেই কেমন অচেনা ঠেকল। "ঝামেলা হলে ও আমাকে ফোন না করে মাঝরাতে তোমাকে ২৮ বার কল করবে কেন, সায়মন? ও কি আমার বান্ধবী না তোমার?"
​সায়মন তোয়ালেটা চেয়ারের ওপর রেখে আমার দিকে এগিয়ে এল। আমার কাঁধে হাত রাখতে গিয়েও কী ভেবে হাতটা সরিয়ে নিল। "অনন্যা, তুমি ভুল বুঝছ। রাফিয়া আসলে ওর এক্স-হাজবেন্ডের ব্যাপারে কিছু আইনি পরামর্শ চাচ্ছিল। আমাদের কোম্পানির লিগ্যাল অ্যাডভাইজারকে ও চেনে, তাই হয়তো..."
​"আইনি পরামর্শ রাত দুইটায় হয়?" আমি ওর কথা কেড়ে নিলাম। "আর একটা মানুষ যখন উত্তর দিচ্ছে না, তখন পর পর ২৮ বার কল করা কি শুধুই 'পরামর্শ' নেওয়ার জন্য? সায়মন, আমাকে বোকা ভাবা বন্ধ করো।"
​সায়মন এবার একটু বিরক্ত হওয়ার ভান করল। "তুমি তিলকে তাল করছ, অনন্যা। রাফিয়া বিপদে পড়ে ফোন করেছে, আর তুমি সেটা নিয়ে পর**কীয়ার গন্ধ খুঁজছ? ও তোমার বেস্ট ফ্রেন্ড!"
​"ছিল।" আমি শক্ত গলায় বললাম। "ও আমার বেস্ট ফ্রেন্ড ছিল। কিন্তু এখন আমার সন্দেহ হচ্ছে, ও অন্য কিছু হওয়ার চেষ্টা করছে।"
​সায়মন অফিসে চলে যাওয়ার পরও আমার মনের ভেতর ঝড় থামল না। ড্রয়িংরুমের সোফায় বসে আমি শুধু ভাবছিলাম, কোথায় ভুল হলো? সায়মন কি সত্যিই আমার আড়ালে রাফিয়ার সাথে কোনো সম্পর্কে জড়িয়েছে?
​আমি আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলাম না। কাঁপতে থাকা হাতে রাফিয়ার নম্বরে ডায়াল করলাম। রিং হতে হতেই বুকটা ঢিপঢিপ করছিল। তিনবারের মাথায় ও ফোনটা ধরল। ওপাশ থেকে রাফিয়ার ঘুম জড়ানো কণ্ঠ ভেসে এল, "হ্যালো, সায়মন? তুমি এতক্ষণে ফোন করলে? কাল রাতে আমি কতটা ভ''য়ে ছিলাম তুমি জানো..."
​কথাটা শেষ হওয়ার আগেই রাফিয়া থেমে গেল। হয়তো ও খেয়াল করেছে যে ফোনটা সায়মন করেনি, কারণ ওপাশ থেকে কোনো উত্তর আসছিল না।
​আমি গভীর একটা শ্বাস নিয়ে বললাম, "সায়মন অফিসে গেছে, রাফিয়া। আমি অনন্যা বলছি।"
​ওপাশ থেকে সম্পূর্ণ নীরবতা। শুধু রাফিয়ার ভারী শ্বাসের শব্দ পাচ্ছিলাম। যে মেয়েটা কথায় কথায় খিলখিল করে হাসে, সে আজ একটা শব্দও উচ্চারণ করতে পারছে না।
​"কাল রাতে সায়মনের ফোনে তোমার ২৮টা মিসকল দেখলাম," দৃঢ় গলায় বললাম। "বলবে একটু, কী এমন জরুরি দরকার ছিল যে আমার স্বামীকে তোমার মাঝরাতে ২৮ বার কল করতে হলো?"
​রাফিয়া কিছুক্ষণ চুপ থেকে গলাটা একটু পরিষ্কার করে নিল। তারপর একদম স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করে বলল, "আরে অনন্যা, তুই? আসলে কাল রাতে আমার ফ্ল্যাটের নিচে কিছু বখাটে ছেলে ঝামেলা করছিল। আমি খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। তোকে ফোন করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু ভাবলাম তুই তো ঘুমাচ্ছিস। সায়মন ভাইয়া তো এসব ব্যাপারে বেশ সাহসী, তাই ওনাকে..."
​"মিথ্যে বলিস না, রাফিয়া!" আমার চিৎকার ড্রয়িংরুমের দেয়ালে বাড়ি খেয়ে ফিরে এল। "তুই ভয় পেলে পুলিশকে ফোন করতি, তোর বাড়ির গার্ডকে ডাকতি। সায়মনকে ২৮ বার কল করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। আর সায়মনকে যদি ভাইয়াই ভাবিস, তবে ও ফোন ধরার আগে ওপাশ থেকে 'হ্যালো সায়মন' বলে ওভাবে অধিকার খাটিয়ে কথা বলতি না।"
​রাফিয়া এবার আর কোনো অজুহাত দেওয়ার চেষ্টা করল না। ওপাশ থেকে ও ঠান্ডা গলায় বলল, "অনন্যা, তুই যা ভাবছিস তা নয়। তুই শুধু শুধু একটা সিন ক্রিয়েট করছিস।"
​"আমি সিন ক্রিয়েট করছি না, রাফিয়া। আমি শুধু আমার চার বছরের বিশ্বাসের শেষ সীমানাটা দেখছি।" এইটুকু বলে আমি ফোনটা কেটে দিলাম।
​চোখ ফেটে জল বেরিয়ে আসতে চাইল, কিন্তু আমি তা চেপে রাখলাম। কাঁদতে কাঁদতে ভেঙে পড়ার সময় এটা নয়। আমাকে সত্যিটা জানতেই হবে। সায়মন আর রাফিয়া—আমার জীবনের সবচেয়ে বিশ্বাসের দুটো মানুষ কি সত্যিই আমাকে জীবন্ত কবর দেওয়ার আয়োজন করেছে?
​বিকেলের দিকে সায়মন যখন অফিস থেকে ফিরল, ওর হাতে একটা শপিং ব্যাগ। আমার পছন্দের ধানমন্ডির সেই বিখ্যাত পেস্ট্রির দোকান থেকে কেক এনেছে ও। আমার রা''গ ভাঙানোর এই সস্তা চেষ্টা দেখে আমার ঘেন্না ধরে গেল।
​আমি সোফা থেকে উঠে ওর মুখোমুখি দাঁড়ালাম। কোনো ভূমিকা না করেই বললাম, "সায়মন, আমি আগামী পরশু দিনের জন্য চিটাগংয়ের টিকিট কেটেছি। আম্মার শরীরটা ভালো না, ওখানে কয়েকদিন থাকব।"
​সায়মনের চোখে এক পলকের জন্য স্বস্তির আভাস ফুটে উঠল, যা ও আড়াল করতে পারল না। ও হাসিমুখে বলল, "আচ্ছা, ভালোই তো। ঘুরে এসো। তোমারও একটু চেঞ্জ দরকার।"
​আমি মনে মনে হাসলাম। এই স্বস্তিটাই আমি ওকে দিতে চেয়েছিলাম। কারণ, আমি চিটাগং যাচ্ছি না। আমি দেখতে চাই, আমি এই বাসা থেকে বের হওয়ার পর সায়মন আর রাফিয়ার আসল রূপটা কেমন করে বেরিয়ে আসে।
লাগেজটা হাতে নিয়ে যখন ফ্ল্যাটের দরজার সামনে দাঁড়ালাম, সায়মন আমার কপালে একটা হালকা চুমু খেল। ওর চোখে-মুখে এক অদ্ভুত মায়াবী বিদায়ের অভিনয়। "পৌঁছেই ফোন দিয়ো, অনন্যা। সাবধানে যেয়ো," ও বলল। আমি শুধু একটা ম্লান হাসি দিয়ে বিদায় নিলাম।
​ঠিক বিকেল চারটায় আমি ধানমন্ডির এই ফ্ল্যাট থেকে বের হয়েছিলাম। কিন্তু আমি গাবতলী কিংবা সায়দাবাদ যাইনি। সোজা চলে গিয়েছিলাম আমাদের বাসার ঠিক তিন গলি পরের একটা ছোট কফি শপে। সেখানে বসে সময় গুনছিলাম। ঘড়ির কাঁটা যখন রাত আটটা ছুঁল, তখন আমি একটা উবার ডেকে আবার আমার নিজের বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হলাম।
​আমার কাছে ফ্ল্যাটের একটা অতিরিক্ত চাবি সবসময় থাকে। সায়মন ভেবেছে আমি এখন ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়েতে বাসের সিটে ঘুমাচ্ছি। ও ধারণাও করতে পারেনি যে ওর সাজানো বিশ্বাসের তাসের ঘরটা ভা*ঙার জন্য আমি ঠিক দরজার ওপাশেই দাঁড়িয়ে আছি।
​লিফটের চার নম্বর বোতামটা চেপে যখন আমাদের ফ্লোরে নামলাম, করিডোরটা একদম নিস্তব্ধ। আমি খুব সাবধানে, কোনো শব্দ না করে চাবিটা তালার ভেতর ঢোকালাম। হাতটা সামান্য কাঁপছিল, কিন্তু মনের ভেতরের ক্ষো*ভ আর জেদ আমাকে শক্ত করে রাখল।
​খুব ধীরে, নিঃশব্দে দরজাটা খুললাম। ড্রয়িংরুমের লাইটগুলো নেভানো, শুধু ভেতরের বেডরুম থেকে মৃদু আলোর একটা রেখা ড্রয়িংরুমের মেঝেতে এসে পড়েছে। সেই সাথে ভেসে আসছে একটা চেনা হাসির শব্দ। যে হাসিটা আমি চার বছর ধরে ভালোবেসে এসেছি, আর যে হাসিটা আমার স্কুলজীবনের অজস্র স্মৃতির অংশ।
​আমি পা টিপে টিপে শোবার ঘরের দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। দরজাটা পুরো আটকানো ছিল না, সামান্য ফাঁক ছিল।
​ভেতরের দৃশ্যটা দেখে আমার পুরো শরীর যেন এক মুহূর্তে বরফ হয়ে গেল। সায়মন বিছানায় আধশোয়া হয়ে আছে, আর ওর বুকের ওপর মাথা রেখে শুয়ে আছে রাফিয়া। রাফিয়ার গায়ে আমারই একটা সুতির শাড়ি, যেটা আমি গত ঈদে কিনেছিলাম। সায়মন ওর চুলে বিলি কেটে দিতে দিতে বলছিল, "অনন্যাকে চিটাগং পাঠিয়ে ভালোই হলো। অন্তত আগামী চার-পাঁচ দিন আমাদের আর কোনো লুকোচুরি করতে হবে না।"
​রাফিয়া আলতো করে সায়মনের গালে হাত দিয়ে বলল, "কিন্তু ও যেভাবে কাল জেরা করছিল, আমার তো ভয়ই লেগে গিয়েছিল। মেয়েটা বড্ড সন্দেহবাতিকগ্রস্ত হয়ে উঠছে দিন দিন।"
​"আরে ছাড়ো তো ওর কথা," সায়মন তাচ্ছিল্যের সুরে বলল। "অনন্যাকে হ্যান্ডেল করা কোনো ব্যাপারই না। দুটো মিষ্টি কথা আর একটু নাটক করলেই ও গলে জল হয়ে যায়। ও চিরকালই একটু বোকা।"
​আমার চোখের কোণ দিয়ে এক ফোঁটা জলও নামল না। চার বছরের সংসার, হাজারটা স্মৃতি, আর একটা গভীর বন্ধুত্ব—সব কিছু যেন এক পলকে পুড়ে ছাই হয়ে গেল। আমার বুকের ভেতর যে কান্নাটা দলা পাকিয়ে আসছিল, সেটাকে জোর করে চেপে আমি পকেট থেকে ফোনটা বের করলাম।
​ক্যামেরাটা অন করে ভিডিও রেকর্ডিং চালু করলাম। তারপর দরজাটা এক ঝটকায় পুরোটা খুলে ভেতরে ঢুকে লাইটের মেইন সুইচটা অন করে দিলাম।
​হঠাৎ তীব্র আলোয় দুজনেই চমকে উঠে ছিটকে আলাদা হয়ে গেল। সায়মন বিছানা থেকে প্রায় লাফিয়ে উঠল, ওর মুখের সমস্ত র**ক্ত যেন এক মুহূর্তে শুষে নিয়েছে কেউ। রাফিয়া অপ্রস্তুত হয়ে শাড়ির আঁচল টানতে টানতে বিছানার এক কোণে কুঁকড়ে গেল।
​"অনন্যা! তুমি... তুমি তো চিটাগং..." সায়মনের গলা কাঁপছিল। ও তোতলাতে শুরু করল।
​আমি কোনো কথা না বলে ফোনটা ওদের দিকে তাক করে রাখলাম। ভিডিও রেকর্ডিং চলছে।
​"অনন্যা, প্লিজ... তুই যা দেখছিস তা নয়, আমি আসলে..." রাফিয়া কেঁদে ফেলার ভান করে এগিয়ে আসতে চাইল।
​"খবরদার, রাফিয়া! এক পা-ও এগোবি না," আমার কণ্ঠস্বর এতটাই ঠান্ডা আর ধারা''লো ছিল যে ও থমকে দাঁড়িয়ে গেল। "আমার শাড়িটা গায়ে দিয়ে আমারই বিছানায় বসে এই নাটকটা করতে তোর একটুও ঘেন্না করল না? তুই না আমার বেস্ট ফ্রেন্ড ছিলি?"
​সায়মন এবার নিজেকে সামলে নেওয়ার চেষ্টা করে বলল, "অনন্যা, মাথা ঠান্ডা করো। আমি স্বীকার করছি আমাদের ভুল হয়েছে। কিন্তু প্লিজ, ফোনটা নামাও। আমরা বসে কথা বলতে পারি।"
​"কথা বলার আর কিছু বাকি নেই, সায়মন," আমি ভিডিওটা বন্ধ করে ফোনটা ব্যাগে রাখলাম। "গত চার বছর ধরে যাকে স্বামী ভেবেছি, সে আসলে একটা মেরুদণ্ডহীন প্রতা**রক। আর যাকে বোন ভেবে আশ্রয় দিয়েছিলাম, সে একটা বি*ষাক্ত সাপ।"
​আমি আর এক মুহূর্তও ওই ঘরে দাঁড়ালাম না। ড্রয়িংরুমে এসে আমার লাগেজটা আবার হাতে নিলাম। সায়মন আমার পেছন পেছন ছুটে এল, আমার হাত ধরার চেষ্টা করল। "অনন্যা, প্লিজ যেয়ো না। একটা সুযোগ দাও। আমি রাফিয়ার সাথে সব সম্পর্ক শেষ করে দেব, প্রমিস!"
​আমি ওর দিকে ঘুরে তাকালাম। আমার চোখে তখন আর কোনো কান্না ছিল না, ছিল তীব্র ঘৃণা। "যে মানুষটা আমার অনুপস্থিতির কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অন্য একটা মেয়েকে আমার বিছানায় নিয়ে আসতে পারে, তার কোনো প্রমিসের মূল্য আমার কাছে নেই। এই ভিডিওটা খুব জলদিই আমাদের ডি*ভোর্সের নোটিশের সাথে তোমার আর রাফিয়ার পরিবারের কাছে পৌঁছাবে। ঢাকার এই ফ্ল্যাটটা আমার বাবার টাকায় কেনা, সায়মন। আমি কালই আমার আইনজীবীকে পাঠাচ্ছি। আগামীকাল সকালের মধ্যে যেন তোমাকে আর তোমার এই সস্তা সঙ্গিনীকে আমার বাসায় না দেখি।"
​দরজাটা জোরে টেনে আমি বের হয়ে এলাম। লিফটে যখন নিচে নামছিলাম, তখন বাইরের রাতের ঠান্ডা হাওয়াটা আমার মুখে এসে লাগল। আমার খুব হালকা লাগছিল।
​হ্যাঁ, আমার বিশ্বাস ভেঙেছে, আমার চার বছরের সংসার শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু আমি হেরে যাইনি। একটা মিথ্যে আর প্রতা**রণার চাদর টেনে বাঁচার চেয়ে, সত্যিটা জেনে মুক্ত হওয়া অনেক ভালো। জীবনের এই অন্ধকার অধ্যায়টা আমি আজ রাতেই পেছনে ফেলে এলাম, এক নতুন ভোরের সন্ধানে।
​--- সমাপ্ত ---

Post a Comment

0 Comments