ইশকে_মহব্বত

ইশকে_মহব্বত

 মাত্র ১৫ বছর বয়সে বিয়ে হয়েছে অরুর, ঠিক সেদিনই তার হঠাৎ করে পি'রি'য়ড শুরু হয়ে যায় বিয়ের সাজে বসা থাকা ছোট্ট অরুর।

অরু পি'রি'য়ডের অ'সহ্য যন্ত্র'ণায় পেটে হাত দিয়ে কা'তরাতে থাকে। অরুর চোখ থেকে অঝোরে পানি পড়ছে। মেয়েটা কাওকে কিছু বলতেও পারছেনা। অরুর এমন অবস্থা দেখে তার মা নাজমা বেগম এগিয়ে আসে। নাজমা বেগম অরুর মাথায় হাত রেখে বলল -- মা কি হয়েছে তোর?
অরুর সামনে সবাই বসে আছে তাই অরু কোনো উত্তর না দিয়ে তার ঠোঁ'ট দিয়ে নিজের ঠোঁ'ট চাপ দিয়ে ব্যা'থা স'হ্য করার চেষ্টা করে। ব্যপার টা নাজমা বেগম কিছুটা বুঝতে পারে। সে অরুকে নিয়ে অন্য ঘরে চলে যায়।
ঘরে নিয়ে নাজমা বেগম নাঈমাকে বলল -- কিরে তোর কি কিছু হয়েছে নাকি?
তখন অরু বলল -- মা আমার পি'রি'য়ড শুরু হয়েছে। পেটে অ'সহ্য ব্যা'থা করছে। আমি এই ভাবে বিয়ে করতে পারবোনা। তুমি একটু বুঝার চেষ্টা করো।
নাজমা বেগম বুঝতে পারে ব্যপার টা কিন্তু তার তো কিছুই করার নাই। সে চাইলেও বিয়েটা ভেঙে দিতে পারেনা। হটাৎ করে শোনা যায় বর এসেছে। বর এসেছে কথাটা শুনে অরু আঁ'তকে উঠল। তার মনের ভিতরে ভ'য় ঢু'কে গেলো। অরু কান্না করতে করতে তার মাকে বলল - মা তুমি বিয়েটা ভেঙে দাও প্লিজ। আমি এই অবস্থায় বিয়ে করতে পারবোনা।
তখনই ঘরে চলে আসে অরুর বাবা নিজাম সাহেব। নিজাম সাহেব ঘরে এসে দেখে অরু কান্না করছে। তখন নিজাম সাহেব অরুর দিকে এগিয়ে আসে আর বলতে থাকে -- মারে মেয়েদের আসল ঠিকানা হলো তার শ্বশুর বাড়ি। সব মেয়েদের এটা মেনে নিতে হয়।
নিজাম সাহেব আসল ঘটনা টা বুঝতে পারেনি। নাঈমা তার বাবাকে কিছু বলতেও পারছেনা। বাবাকে সে কীভাবে বলবে তার কি হয়েছে। তখন নাজমা বেগম নিজাম সাহেবকে নিয়ে অন্য রুমে চলে গেলো আর তাকে সব কিছুই খুলে বলল। নিজাম সাহেব এমন কথা শুনে অ'বাক হয়ে গেলো। কিন্তু কি করা যায় সে বুঝতে পারছেনা।
নিজাম সাহেব অনেক্ষন চেয়ারের উপরে বসে থেকে ভাবতে থাকে। আর যদি এখন বিয়েও ভেঙে দেয় তাহলে তো আর কেউ অরুকে বিয়েও করবেনা। সবাই ভাববে অরুর কোনো সমস্যা আছে। আর নানাজন নানান কথা বলবে। তাই নিজাম সাহেব সব চিন্তা বাদ দিয়ে তার স্ত্রীকে বলল -- তোমার মেয়েকে বিয়ের জন্য প্রস্তুতি নিতে বলো।
এই কথা বলে নিজাম সাহেব চলে গেলো। নাজমা বেগম তার স্বামীর এমন ব্যবহার দেখে মোটেও অবাক হলোনা কারণ সে জানে। নিজাম সাহেব যেটা বলে সেটাই করে। তারপর নাজমা বেগম অরুর রুমে চলে যায়।
অন্য দিকে দেখা যায়। অরুর হবু স্বামী আবির বরযাত্রী নিয়ে অরুদের বাসায় চলে আসছে। নিজাম সাহেব সবাইকে আমন্ত্রণ করে ভিতরে বসালো। আবির এই বিয়ের জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলনা। এক কথা বলতে গেলে তাকেও জোর যবরদস্তি করেই বিয়ে করানো হচ্ছে। আবিরের বাবা-মা জোর করেই তাকে বিয়ে দিচ্ছে। আবির সাহেব সবার সাথে কথা বলে পরিচয় হয়ে নিল।
এই দিকে অরুর মা তার রুমে এসে দেখে অরু বসে আছে। অরু তার মাকে দেখে বলল -- মা বাবা কি বলল? বিয়েটা কি ভে'ঙে দিয়েছেন?
নাজমা বেগম বলল -- না মা, তোর বাবকে তো চিনিস তিনি এক কথার মানুষ। যা কিছু হয়ে যাক তিনি তার কথার নড়চড় হতে দিবেনা।
-- মা, তোমরা কেন এতো তাড়াতাড়ি আমার বিয়ে দিতে চাইছ? আমি কি তোমাদের কাছে অনেক বো'জা হয়ে গিয়েছি? আমার তো এখন পড়াশোনা করার বয়স আমি এই বয়সে কি ভাবে একটা সংসার সামলাবো? বাবা কে বলোনা বিয়ে টা ভেঙে দিতে আমি এই বিয়ে করতে চাই না মা। আবার এই দিকে আমার এই অবস্থা। আমি কি ভাবে এসব অন্য একটা লোক কে বলব মা? তুমি কিছু একটা করো প্লিজ।
-- আমি আর কিবা করতে পারি? চিন্তা করিস না সব ঠিক হয়ে যাবে৷
-- মা একটা কাজ করো আমাকে তোমরা গ'লা টি'পে মে'রে ফেলো। আমার আর এসব ভালো লাগছে না।আমি বুঝতে পারছি তোমারা আমাকে তাড়াতে চাইছ তাইনা? আমি বিয়ের পরে কি ভাবে একটা অচেনা মানুষকে এই সব বলব? তারউপর ওনার পুরো অধিকার আছে আমার উপর। যদিও আমারও আছে তার প্রতি। তবুও সে যদি চায় আমি কি না করতে পারবো। সে তো আর একটা মেয়ের এই অসহ্যনীয় যন্ত্রণার কথা টা বুঝতে পারবে না। সে তো নিজের ক্ষু'দা টা নিবারন করবে। এতে যে আমার জীবনটা বেরিয়ে যাওয়ার মত অবস্থা হয়ে যাবে মা৷ এমনিতেই আমার বয়স অনেক কম। আমি কি ভাবে এতো কিছু সামলে নেবো?
হঠাৎ করে নাজমা বেগমকে ডাক দিলেন তার স্বামী। সে উঠে চলে গেলো। একা একা রুমের মধ্যে বসে থাকে অরু। মেয়েটা অঝোরে কান্না করতে থাকে। অরু বুঝে গিয়েছে তার এই বিয়ে আর আটকানো সম্ভব না। তাকে এই অল্পবয়সে স্বামীর সংসার করতে হবে। নাজমা বেগম নিজাম সাহেবের কাছে গিয়ে বলল -- মেয়েটা অনেক কান্নাকাটি করছে। এমনি তেই মেয়েটির বয়স অনেক কম আবার এখন এই অবস্থা।
-- কিছু করার নেই। বরপক্ষ চলে আসছে। কাওকে কোনো কিছু বুঝতে দেওয়া যাবেনা। মেয়েকে রেডি করে নিয়ে আসো তাড়াতাড়ি। বরপক্ষ অপেক্ষা করে বসে আছে। সময় ন'ষ্ট করে লাভ নেই যাও অরুকে নিয়ে আসো।
এই কথা বলতে বলে নিজাম সাহেব চলে গেলেন। কিছুক্ষণ পরে অরুকে নিয়ে আসলো। অরুকে খুব সুন্দর করে সাজানো হয়েছে। ছোট্ট মেয়েটাকে অসাধারণ সুন্দরী লাগছে।অরুকে এনে আবিরের পাশে বসানো হলো। পি'রি'য়ডের অ'সহ্য য'ন্ত্রণা স'হ্য করে বসে আছে। একটু পর পর পেটে হাত দিচ্ছে অরু। তারপর ইসলামিক নিয়মে তাদের বিয়ে হয়ে গেলো। বিয়ের সব কাজ শেষ করে এখন কণে বিদায় করার সময় হয়ে গিয়েছে। অরু তার মাকে জড়িয়ে ধরে কা'ন্না করতে থাকে।
নাজমা বেগম তার মেয়েকে সান্ত্বনা দিয়ে বলল -- মা কান্না করিস না। আমাদের কথা মনে পড়লেই চলে আসিস। এটাই তো নিয়ম, সব মেয়েদের বিয়ের পরে আসল ঠিকানা হলো তার স্বামীর বাড়ি। আমিও তো আগে অন্য বাড়ির মেয়ে ছিলাম। দেখবি কিছুদিন পরে সব ঠিক হয়ে যাবে।
তারপর নিজাম সাহেব অরুকে আবিরের হাতে তুলে দিয়ে বলল -- বাবা অরু আমার এক মাত্র মেয়ে। তুমি ওকে দেখে রেখো।
এই কথা বলতে বলতে নিজাম সাহেবের চোখ দিয়ে পানি পড়তে শুরু করলো। অরু তার বাবাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে থাকে। কিছুক্ষণ পরে অরুকে নিয়ে তার শ্বশুর বাড়ি দিকে রওনা দিল। ত্রিশ মিনিটের মধ্যে আবিরের বাড়িতে পৌছে গেলো। দেখতে দেখতে রাত হয়ে গেলো। গড়িতে রাত ১টা ছুঁই ছুঁই কিন্তু আবির এখনো বাসর ঘরে আসেনি। একটা রুমে মধ্যে একা একা বসে আছে অরু।

Post a Comment

0 Comments