নিষিদ্ধ ভালোবাসার শহর


 দোয়া সায়নের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। যেন চোখের পলক ফেলতেও ভুলে গেছে সে।

সায়ন রুমে ঢোকার পর তার গলা শুনেই দোয়া সামনে ঘুরে দাঁড়ায়।
সায়ন বলল—
— “Miss Doa Rahman, you arrived 25 minutes earlier. I’m not late, so…”
কথাটা বলতে বলতেই সে চোখের চশমাটা খুলে সামনে ভালো করে তাকাল।
আর তাকাতেই সায়ন হঠাৎ থেমে গেল।
মুহূর্তের জন্য যেন সবকিছু থেমে গেল। সময় যেন স্থির হয়ে দাঁড়াল।
সে অবিশ্বাসের চোখে তাকিয়ে রইল। যেন নিজের চোখকেও বিশ্বাস করতে পারছে না।
সায়নের ঠোঁট কাঁপল। খুব ধীর, প্রায় ফিসফিসে কণ্ঠে সে আওড়াল—
— “বিবিজান…”
দোয়া কিছুটা বিস্মিত হয়ে বলল—
— “মিস্টার রেজওয়ান আ—”
কিন্তু তার কথা শেষ হওয়ার আগেই সায়ন যেভাবে রুমে ঢুকেছিল, ঠিক সেভাবেই হঠাৎ ঘুরে দ্রুত বের হয়ে গেল।
কয়েক সেকেন্ড দোয়া স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। তারপর তার চোখে স্পষ্ট বিরক্তি আর রাগ ফুটে উঠল।
— “What the hell!”
দাঁত চেপে বলল সে।
এরপর আর এক মুহূর্তও সেখানে দাঁড়িয়ে থাকল না। রাগে গটগট করে হাঁটতে হাঁটতে সেও অফিস থেকে বেরিয়ে গেল। কাউকে কিছু বলল না।
রুমে উপস্থিত সবাই পুরো ঘটনা দেখে হতভম্ব হয়ে গেল।
কেউ কিছুই বুঝতে পারল না—আসলে হলোটা কী।
সবাই শুধু অবাক হয়ে একে অপরের দিকে তাকিয়ে রইল।
নাসরিন বেগম ডাইনিংয়ে কাজ করছিলেন। পাশে দাঁড়িয়ে আয়দা তাঁর গলা জড়িয়ে ধরে এটা-সেটা নিয়ে গল্প করছিল। হঠাৎই দু’জনের চোখ পড়ল সায়নের দিকে—এই সময়ে তাকে বাড়িতে দেখে তারা দু’জনেই অবাক হয়ে গেল।
নাসরিন বেগম বিস্মিত হয়ে বললেন—
— “সায়ন, তুই এখন—”
কিন্তু তিনি কথা শেষ করার আগেই সায়ন কোনো উত্তর না দিয়ে দ্রুত সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে গেল।
নাসরিন বেগম আর আয়দা দু’জনেই যেন কিছুক্ষণ বোকা বনে দাঁড়িয়ে রইল। তারপর নাসরিন বেগম হাত ধুয়ে উপরে যেতে চাইলে আয়দা তাকে থামিয়ে বলল—
— “তুমি থাকো মামুনি, আমি দেখে আসছি।”
এ কথা বলে আয়দা তাড়াতাড়ি সিঁড়ি বেয়ে উপরে চলে গেল।
ঘরে গিয়ে দেখে সায়ন বিছানার ধারে বসে আছে। দু’হাত দিয়ে মাথার চুল খামচে ধরে রেখেছে, আর তার পা অনবরত কাঁপছে।
আয়দা ধীরে দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকল। সায়নের এই অবস্থা দেখে সে দৌড়ে গিয়ে তার পাশে বসে পড়ল।
উদ্বিগ্ন হয়ে আয়দা তার হাত ধরে ফেলল। তারপর নিজের হাত দিয়ে সায়নের হাত, কপাল আর বাহু ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখতে লাগল—জ্বর আছে কি না, শরীর কাঁপছে কি না।
উদ্বিগ্ন কণ্ঠে বলতে লাগল—
— “সায়ন ভাই, কী হয়েছে তোমার? তুমি কি অসুস্থ? তুমি এইভাবে ঘামছো কেন?”
কথা বলতে বলতে আয়দার চোখে পানি টলমল করতে লাগল—যেন যে কোনো মুহূর্তে গড়িয়ে পড়বে।
সায়ন ধীরে মাথা তুলে তাকাল।
তার চোখ দুটো লাল হয়ে আছে, মুখটাও অস্বাভাবিক লাগছে—যেন ভেতরে ভেতরে কিছু একটা তাকে পুড়িয়ে দিচ্ছে।
হঠাৎই সায়ন রেগে উঠে দাঁড়িয়ে গেল।
আয়দা তখনও তার দিকে উদ্বিগ্ন চোখে তাকিয়ে আছে। সায়ন আচমকা আয়দার হাত শক্ত করে ধরে তাকে দাঁড় করিয়ে টেনে বাইরে নিয়ে গেল। তারপর ধাক্কা দিয়ে ঘরের বাইরে বের করে দিল।
চিৎকার করে বলল—
— “তোকে যেন আমার ঘরের সামনে আর না দেখি!”
কথা শেষ করেই সে দরজাটা আয়দার মুখের উপর জোরে বন্ধ করে দিল।
আয়দা অবাক হয়ে দরজার দিকে তাকিয়ে রইল। জীবনে এই প্রথম সে সায়নকে এমন রাগে দেখতে পেল।
সায়নের বলা কথাগুলো যেন তার কানে ঠিকমতো ঢুকলই না। সে শুধু ভাবতে লাগল—সায়নের কী হলো?
নিজের সাথে নিজেই বিড়বিড় করে বলল—
— “সায়ন ভাই কি অসুস্থ? কেন এমন করল?”
আর কিছু না ভেবে আয়দা তাড়াতাড়ি নিচে নাসরিন বেগমের কাছে ছুটে গেল।

Post a Comment

0 Comments