উন্মত্ত_হৃদয়াসক্তি

 



আকাশজুড়ে ঝলমল সোনালী আলোর বাহার, তার প্রখর তেজদীপ্ত রশ্মি যেনো আগুনের লেলিহান শিখা। কোনো নিরাপত্তা বিহীন এক রত্তি উপায় নেই সেই সূর্য রশ্মিকে উপেক্ষা করে চলার। তবুও থেমে নেই লোকজন, ব্যাস্ত রাস্তায় ঢল নেমেছে তাদের। কেউ ছাতা মাথায় হেটে যাচ্ছে, কেউ হুড তোলা রিকশায় বসে কেউ বা আবার নিজের পরম আশ্রয়ের অভাবে সেই উত্তপ্ত প্রখরতা মাথায় নিয়েই হাটছে। থেমে থাকলে তো চলবে না, পেটের দায়ে তাদের প্রতিনিয়ত লড়ে যেতে হয়। ব্যস্ত শহরের এক রাস্তার পাশেই দাঁড়িয়ে আছে বিশাল খান বাড়ি। নিজ কক্ষের বারান্দা থেকে সেই খেটে খাওয়া অক্লান্ত লোকজনদের শূন্য চোখে চেয়ে দেখছিলেন আলিমা খান। সংসার জীবনের এই পর্যায়ে এসে জীবন নিয়ে খুব অভিযোগ তার। জীবনের হিসেব নিকেশ করতে গেলে হাপিয়ে যান তিনি। শেষ সময়ে এসে এখন উপলব্ধি করছেন এই জীবন নামক সফরে তিনি এক ঝড়ে পড়া মুসাফির। যার পাশে কেউ নেই, ইদানিং খুব একা একা লাগে, স্বামী তো সেই কবেই না ফেরার দেশে চলে গেলেন আর ছেলেটা তো থেকেও নেই। মা ছেলে মিলে ভালোই তো কাটছিলো সুখের দিন, এক প্রলয়ঙ্কারী ঝড় তাদের সব সুখ কেড়ে নিলো। কেড়ে নিলো তার ছেলের মুখের হাসি। নিয়তি আজ তাদের হলে হয়তো আর পাঁচটা সাধারণ সুখি পরিবারের মতো তাদের একটা সুন্দর সাজানো গুছানো পরিবার হতো। ছেলে, ছেলের বউ, নাতি-নাতনি নিয়ে পরম সুখের সময় পার করতেন।
দীর্ঘ নিশ্বাস ছেড়ে পাশের চেয়ারটাতে বসলেন তিনি, পছন্দের কয়েকটি ফুলের চারায় চোখ বুলিয়ে দেখলেন কেমন নেতিয়ে গেছে। দু চারদিন হলো গাছগুলোতে পানি দেওয়া হয়না, তার বদৌলতেই বোধহয় এগুলো ঝিমুচ্ছে। সেদিক থেকে চোখ ফিরিয়ে আবার রাস্তায় তাকাতে ভ্রু বেকে আসলো তার, কালসে নীল রঙা এক পুলিশের গাড়ি গেইটের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। একজন লম্বা চওড়া পুলিশের লোক দারোয়ানের সাথে কথা বলছে, লোকটি পেছন ফিরে আছে তাই চেহারা স্পষ্ট নয় তবে কেন যেনো খুব পরিচিত ঠেকলো এই পেছনকে, মনে হলো এই লম্বাটে দেহের উজ্জ্বল গায়ের রংয়ের মানুষটাকে তিনি চিনেন। খুব করে চিনেন, ভুল হবার তো কথা নয়। তার উৎসুক দৃষ্টির বহরে মস্তিষ্ক যখন দুটানায় ভোগছে তখনই ঘাড় ফিরিয়ে লোকটি তাকালো বাড়ির দিকে। বিস্ময়ে দু ঠোঁট ফুরে বেরিয়ে আসলো এক অতিপ্রিয় সম্মোধন
“ভাইজান!”
দ্রুত পায়ে সিড়ি মাড়িয়ে নিচে নামছেন তিনি, কি জানি কথা ভাইজান যদি ওই গেইট থেকেই ফিরে যায়। এতো দিন পর বোনের দুয়ারে এসেছেন, ভাইয়ের মান অভিমান ভাঙানোর চেষ্টা তো তিনি করতেই পারেন। সিড়ি পেরিয়ে ড্রইংরুমে পা রাখতেই তাড়স্বরে বেজে উঠলো কলিংবেল। আলিমা খানের চোখ দুটো চিকচিক করে উঠলো, এই বুঝি ভাইজান আসলেন তার ঘরে।
রান্না ঘর থেকে সীমা বেরিয়ে এসেছে কলিং বেলের আওয়াজ পেয়ে। তাকে থামিয়ে দিলেন আলিমা খান, ইশারায় বুঝালেন ‘আমি দেখছি’
লতাপাতা কারুকাজ করা দাতব কাঠের দরজা উন্মুক্ত করতেই মুখোমুখি হলেন তার ভাইয়ের গম্ভীর মুখশ্রীর। থমথমে মুখে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি, পাশে দুজন কনস্টেবল। আলিমা খান চোখে হাসলেন, প্রফুল্ল হেসে বললেন
“ভাইজান! ভেতরে এসো”
“আমার মেয়ে কোথায় আলিমা?”
চমকে উঠলেন তিনি, মেয়ে কোথায় মানে? আয়রাকে পাওয়া যাচ্ছে না? কিন্তু তাকে কেন জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে? মেয়ে নিখোঁজ তাই বলে তার ভাইজান তার দিকে আঙুল তুলছেন? হাসি হাসি মুখটা মুহুর্তেই অমানিশার অন্ধকারে চেয়ে গেলো। কণ্ঠনালীতে মৃদু ব্যাথা অনুভব করলেন, শুকনো ঢোক গিলে সেই ব্যাথাটুকু গলধঃকরণ করে নিলেন। কাপা কাপা কন্ঠে তিনি সুধালেন
“আয়রা কোথায়?”
চোখ বুঝে লম্বা নিশ্বাস টেনে নিজের ক্রোধটুকু সংযত করে নিলেন সালেহ মাহমুদ। আজ দুদিন পড়লো মেয়েকে পাওয়া যাচ্ছে না, পুরো জেলা চিরুনি তল্লাসি চালিয়েছেন কিন্তু কোথাও তার মেয়ে নেই। সন্দেহ বশত বাধ্য হয়েই আজ বোনের দুয়ারে এসেছেন, কিন্তু বোনের এমন আকাশ থেকে টপকানো ভাব তার গায়ে আগুন ধরালো যেনো। শুধু সন্দেহ নয়, বিয়ের রাতে তার মেয়ে উদাও হয়েছে তার উপর এতো খোঁজেও পাওয়া যাচ্ছে না তাতে তিনি একদম দিন রাতের মতোই নিশ্চিত সত্য যে তার মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার পেছনে মাহিরের হাত আছে।
“সেটা তো তুই জানবি আলিমা, তোর ছেলে আমার মেয়েকে কোথায় রেখেছে? ভালো চাইলে এখনি বলে দে নয়তো আমি বাধ্য হবো তোর ছেলের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে”
ভাইয়ের থেকে এমন কঠিন হুমকি শুনে ভেতর নড়ে উঠলো তার, ছোট থেকে নিজের হাতে মানুষ করা ভাগ্নে কে এই ছিনলেন তার ভাই? সেই অপবাদ কি যথেষ্ট ছিলো না আবার নতুন করে তার নিরপরাধ ছেলেটাকে এসবে টানছেন! এতোগুলা বছর পর পুলিশ নিয়ে বাড়িতে হাজির হয়েছেন তার ছেলের খোঁজে?
“এসব তুমি কি বলছো ভাইজান! মাহির তো দেশে নেই এটা আমরা সবাই জানি। দেশের বাহিরে থেকে কি করে আয়রা….”
“তোর এসব কেচ্ছা শুনতে আসিনি আলিমা, তোর ছেলে সম্পর্কে তোর কোনো ধারণা নেই। তোর ছেলে গভীর জলের মাছ, দেশে না থাকলেও তার অসাধ্য বলে কিছু নেই। দেশ ছেড়ে চলে গেলেও আমার মেয়ের পিছু ছাড়েনি সে। মেয়েটার বিয়ে ঠিক করেছিলাম সেই রাতেই আমার মেয়ে নিখোঁজ এই কাজ তোর ছেলে ছাড়া কেউ করেনি”
“তুমি ভুল বুঝছো ভাইজান, আমার মাহির এমনটা করতে পারেনা। অন্তত আয়রার কোনো ক্ষতি হোক এমন কাজ সে কখনোই করবে না”
এ পর্যায়ে বোনের কথার প্রেক্ষিতে তাচ্ছিল্য করে হাসলেন সালেহ মাহমুদ। ঠোঁটের কোণে ক্ষুর হাসি ঝুলিয়ে বললেন
“ভুল বুঝছি? আমি? তুই হয়তো ভুলে গেছিস আলিমা তোর ছেলের জন্য আমার মেয়ের জীবনটা নষ্ট হতে হতে বেঁচে ফিরেছে। কিন্তু আফসোস মেয়েটা বোধহয় আমার এতোকিছুর পরও রক্ষা পেলো না তোর ছেলের হাত থেকে। কথায় আছে না? কয়লা ধুলে ময়লা না যায়! তোর ছেলে হচ্ছে তাই, এতো অপমানের পরও আমার মেয়েটার পিছু ছাড়েনি”
দুনিয়া দুলে উঠলো আলিমা খানের, তিনি জানতেন তার ভাইয়ের চোখে তার ছেলে খারাপ হয়ে গেছে তাই বলে তার ছেলেকে নিয়ে এতো নিচ চিন্তাভাবনা করেন তিনি কখনো কল্পনা করেন নি। ভেবেছিলেন ভুল বুঝাবুঝিতে অভিমান জমেছে তাই আদরের ভাগ্নাকে একটু অন্য চোখে দেখছেন। কিন্তু তার এ ভাবনা যে ভুল! তার ভাইজান তার ছেলেকে আর পাঁচটা বখাটে ছেলের কাতারে ফেলছেন। নোনাজল্টুকু চোখের কোটর ভেদ করে গাল গড়িয়ে পড়লো, এক বুক হতাশা নিয়ে মলিন কন্ঠে বললেন
“আয়রা তোমাকে সবকিছু বলেছিলো ভাইজান!”
“তার কোনো প্রমাণ আছে তোদের কাছে? আমি আইনের লোক প্রমাণ ছাড়া কাজ করিনা”
“সেদিন কি প্রমাণের ভিত্তিতে আমার ছেলেকে দোষী সাব্যস্ত করেছিলেন ভাইজান?”
“অবুঝের মতো কথা বলিস না আলিমা, সেদিন আমরা সবাই দেখেছি আয়রার বিধস্ত অবস্থা আর রক্তাক্ত রিমনকে। তখন আয়রা নিজে বলেছে তোর ছেলে এমনটা করেছে”
“আয়রা তো…”
হাত উচিয়ে বোনকে থামিয়ে দিলেন সালেহ মাহমুদ, কড়া কন্ঠে গর্জন করে বললেন
“তোর এসব কথা শুনতে আমি আসিনি, আমার মেয়ের খোঁজে এসেছি। তোর ছেলে কোথায় আছে বল, আমার মেয়েকে কোথায় রাখতে পারে জেনে থাকলে বল”
চোখ মুখ শক্ত হয়ে আসলো আলিমা খানের, সেই তখন থেকে ভাইয়ের অপমানটুকু গিলে নিচ্ছেন। কিন্তু এ পর্যায়ে এসে খুব গায়ে লাগলো তার। তার ভাই কি মনে করছে উনার মেয়ে তার কেউ না বুঝি, এই অপবাদ দেওয়াই বুঝি বাকি ছিল?
“দেখো ভাইজান, তুমি যা খুশি বলে যাচ্ছো আমি কিছু বলছি না দেখে এটা ভেবো না যে আমি দুর্বল। অযথা আমার ছেলের নামে আর একটা কিছু বললে কিন্তু আমি বাধ্য হবো…”
এতোটুকু বলতেই কেপে উঠলো তার কন্ঠনালি, পরের টুকু আর জ্বিভ কষে বের হলো না। যথই হোক বড় ভাই, ছোট থেকে কোলেপিঠে করে মানুষ করেছেন। এই ভাইয়ের চোখের দিকে তাকিয়ে এতো কঠিন কথা কি করে বলবেন তিনি?
তাকে কথার মাঝে থেমে যেতে দেখে ভ্রু কুচকে তাকিয়ে আছেন সালেহ মাহমুদ। হয়তো পরেরটুকু শোনার অপেক্ষায়। কিন্তু আলিমা খান আর সম্পূর্ণ করলেন না কথাটুকু বরং প্রসঙ্গ পরিবর্তন করে বললেন
“মাহিরের বিষয়ে আমি কিছু জানিনা, পারলে খোঁজে নাও তাকে”
“বেশ তবে তাই হবে, কিন্তু যদি পেয়ে যাই তারপর যা হবে তার জন্য প্রস্তুত থাকিস”
ঠান্ডা স্বরে হুমকি দিয়ে পিছু ফিরলেন সালেহ মাহমুদ, গট গট শব্দ তুলে প্রস্থান নিলেন সেখান থেকে। অশ্রুসিক্ত নয়নে তাকিয়ে রইলেন আলিমা খান, যতদূর ভাইকে দেখা যায় এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন। নতুন করে আবার কোন ঝড় আসলো তাদের মাঝে? সেই পুরনো ক্ষতটাই তো এখনো শুকোয়নি। তবে কি এ জীবনে ভাইদের সাথে সম্পর্কটা আর স্বাভাবিক হবে না?
______
ভোরের আলো ফুটতে শুরু করেছে অন্ধকার মাড়িয়ে, মৃদু হাওয়ার তালে নাম জানা গাছের পাতা গুলো দুল খাচ্ছে অপার সৌন্দর্য মেলে। অভ্যাসবশত এই সময়ে ঘুম ভেঙে গেছে আয়রার। পিট পিট করে চোখ খুলে তাকিয়ে চারপাশে দেখলো একবার, কোথায় আছে অনুধাবন করার চেষ্টা করলো। কিয়ৎক্ষন যেতে মস্তিষ্ক যখন কার্যক্ষমতা ফিরে পেলো তখন বুঝতে পারলো সে নিজের বাড়িতে নেই। বিছানা ছেড়ে বেলকোনিতে দাঁড়িয়ে বুক ভরে নিশ্বাস নিলো। কেন যেনো সকাল বেলা এই কাজটা করতে তার ভিষণ ভালো লাগে। চোখ ডলে চারপাশে তাকিয়ে দেখলো অন্ধকার মিলিয়ে যাচ্ছে, তবে সূর্য এখনো উঠেনি। ঘরে ফিরে চারপাশে চোখ বুলালো এখানে কোনো ঘড়ি নেই আর নাতো তার কাছে কোনো ফোন আছে। এখানে এসেছে থেকে তো আযান শুনেনি নামাজের সময় কি আছে কি করে বুঝবে? এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার হয়নি চারপাশ তার মানে সূর্য উঠতে আরও কিছুক্ষণ সময় লাগবে। এই ভেবে ফ্রেশ হয়ে নামাজে দাঁড়িয়ে গেলো সে
সময় নিয়ে নামাজ শেষ করে বেলকোনিতে গিয়ে দাড়ালো। এখন সম্পূর্ণ স্পষ্ট চারপাশ,উঁকি দিয়ে পূর্বাকাশে তাকালো আয়রা। ওইদিকে আকাশটা লালছে হয়ে আছে তার মানে সূর্য উঠতে শুরু করেছে, হয়তো কিছুক্ষণের মধ্যেই উঁকি দিবে আকাশের বুকে। ঠায় দাঁড়িয়ে রইলো সে, কয়েক মিনিটের মাথায় সত্যি সত্যি সূর্যের প্রথম রশ্মি লাল আভা ছড়িয়ে পড়লো আকাশের কোণ ঘেষে। আয়রা উপভোগ করলো চমৎকার সূর্যোদয়। এক ধ্যানে চারপাশ অবলোকন করে নিজের মনে নিজেই প্রশ্ন করলো, আচ্ছা! সে এখন কোথায় আছে? এই ইট পাথরের নগরী তার কাছে খুব অচেনা। কোথাও কোনো প্রাকৃতিক ছোঁয়া নেই সব কেমন আভিজাত্যে মোড়ানো কৃতিমতায় ভরপুর। চারপাশে কত উন্নত মানের ভবন, নাম জানা কিছু গাছ আর বিলাশবহুল এই রাস্তা ঘাট কেমন যেনো লাগছে। সে কি বিদেশে আছে? উন্নতমানের কোনো দেশে? নিজের ভাবনায় নিজেই হাসলো আয়রা। ধুর এটা কিভাবে সম্ভব, মাহির ভাই নিশ্চয়ই দেশে ফিরেছে। আচ্ছা তাহলে নিজেদের বাড়িতে ফিরেনি কেন? এই বাসা কি ভাড়া নিয়েছে? কোথায় হতে পারে এই বাসা? তার বাড়ি থেকে কি খুব বেশি দূর?
অনেক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে বিরক্ত হলো সে, এভাবে একা একা কিভাবে থাকা যায়? একটা ফোনও নেই। ওরিওকে খুব মনে পড়ছে সে তো এই সময় তাকে নিয়ে বসে থাকতো। তাকে না পেয়ে নিশ্চয়ই অনেক কান্নাকাটি করছে, বাবা কি তাকে ফেলে দিবে? কথাটি ভাবতেই কান্না পেলো তার। ওরিও কে ছাড়া সে কি করে থাকবে?
অনেক ভেবে চিন্তে সে পা রাখলো মাহিরের কক্ষের সামনে। আলতো হাতে ধাক্কা দিয়ে দেখলো দরজা বন্ধ, মন খারাপ হলো তার। এখন কি করবে! ডাকবে কি? ডাকলে যদি আবার রেগে যায়! কিন্তু তার মনটা যে খুব পুড়ছে ওরিওর জন্য। আর বাবা মা? তারা নিশ্চয়ই খুব চিন্তা করছেন তাকে না পেয়ে। একদিন তো সে ঘুমিয়েই কাটিয়ে দিলো, কিভাবে যে এখানে আসলো সেটাও জানে না। নাহ, বাড়িতে কথা বলতেই হবে। বড় এক নিশ্বাস টেনে বুকে সাহস সঞ্চয় করলো আয়রা। কাঁপা কাঁপা হাত তুলে মৃদু শব্দ করলো দরজায়। নিজের কান্ডে নিজেই বিরক্ত হলো এভাবে দরজার গায়ে হাওয়া দিলে কেউ শুনবে? শুকনো ঢোক দিলে ঠাস ঠাস করে দুটো থাবা বসালো। কয়েক সেকেন্ড পেরিয়ে গেলেও যখন দরজা খুললো না তখন চোখ বন্ধ করে নিজেকে ধাতস্থ করলো, চোখ মুখ কুচকে দাত খিচে পূর্বের চেয়ে দ্বিগুন জোর খাটিয়ে মুষ্ঠাঘাত করলো এবার। কিন্তু ধিরিম ধিরিম আওয়াজ হলো না বরং হাতটা কোথাও ধেবে গেছে মনে হলো। ধপ করে চোখ মেলে তাকালো সে, দরজার জায়গায় মাহির দাঁড়িয়ে আছে এবং হাতটা তার বুকেই ঠেকেছে। চোখ কপালে উঠলো আয়রার, বেডা যেই ভাব নিয়ে থাকে ভালো করে দুটো কথা'ই বলল না এখন পর্যন্ত চেহারাটা কেমন গম্ভীর বানিয়ে রাখে সব সময় আর সে কিনা ওর বুকে কিল বসিয়ে দিলো? এবার নিশ্চয়ই হা করে গিলে নিবে তাকে। তড়িঘড়ি করে হাত দুটো ওরনার ভেতর ডুকিয়ে নিলো। দুপাশে মাথা নেড়ে মিনমিন করে বলল
“স্যরি আমি বুঝতে পারিনি”
নির্লিপ্ত ভাবে তাকিয়ে আছে মাহির, তার মুখশ্রী জুড়ে পানির কণা চিক চিক করছে। জিম থেকে ফিরে মাত্রই শাওয়ার নিতে ডুকেছিলো ওয়াশরুমে, দরজার উপর এমন ভুমিকম্প বইছে দেখে ভেবেছিলো রিহান এসেছে। তাকে ডোজ দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েই এসেছিলো, কিন্তু দরজা খোলে আয়রাকে দেখে সেই বিরক্ত যেনো কোথায় উবে গেছে। বরং অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ বুকে তোলপাড় তুলেছে।
আয়রাকে কাচুমাচু করতে দেখে খুবই সুক্ষ্ম এক নিশ্বাস ত্যাগ করলো সে, চেহারায় গাম্ভীর্য ফুটিয়ে রূঢ় কন্ঠে বলল
“কি চাই?”

Post a Comment

0 Comments