নোলকের_নতুন_শাড়ি
"প্রিয় বিণু,
প্রিয় বলে সম্বোধন করলাম কারণ তুমি আমার দুই সন্তানের মা আর আমার সাফল্যের চাবিকাঠি । এছাড়া তোমাকে প্রিয় বলার বিশেষ কারণ নেই।
নিম্নবিত্ত পরিবারের ছেলে ছিলাম। টিউশনি করিয়ে কোনো মতে ইন্টার পাশ করেই, একটি কারখানাতে চাকরি নিলাম। ইচ্ছা ছিল কিছু টাকা জমিয়ে নিজের ভালোবাসার মানুষটিকে বিয়ে করব। মনে আছে না রাহেলার কথা? তোমারি বান্ধুবি। একসাথে তোমরা তখন কলেজে পড়তে। আমার চেহারা সুন্দর হওয়ায় তুমি আমার প্রতি আকর্ষিত হলে। ইনিয়ে বিনিয়ে আমাকে অনেক ভাবে ভোলানোর চেষ্টা করলে। যৌতুকের লোভ দেখালে।আমিও একটা সময় নিজের ভালোবাসার মানুষটার সাথে প্রতারণা করে তোমাকে বিয়ে করে নিলাম। কারণ টাকার লোভ আমার মস্তিষ্কটাকে বিগ্রে দিয়েছিল।
তোমার কথায় নিজের বাবা-মাকে একা ছেড়ে দিলাম। ওরা গ্রামের বাসায় মরিচ ডলে ভাত খেত। আর আমি শহরে বসে গোস্ত দিয়ে মজা করে মেখে ভাত খেতাম। এভাবেই দিন যেতে লাগলো।
ধীরে ধীরে অনুভব করলাম তোমার আমার সংসারে টাকা থাকলেও ভালোবাসা নেই। কারণ এই সম্পর্কে শুরুটাই ছিল টাকার লোভ দিয়ে। তবু মেনে নিলাম। বাচ্চাদের মুখের দিকে তাকিয়ে তোমার বাজে আচরণ সব সহ্য করে নিলাম।
এরই মাঝে একদিন রাহেলার সাথে দেখা হলো।ওর স্বামী ভালো মানুষ। স্কুলের শিক্ষক। স্বামীর বাড়িতে থেকেই পড়াশুনা শেষ করে এখন নিজেও শিক্ষকতা করছে। দুটো বাচ্চাও আছে। কত সুখী তারা। সেদিন বুকটা চিনচিন করে উঠেছিল। সারাদিন ভেবেছিলাম, আজ যদি রাহেলা আমার সংসারে থাকতো তবে কি আমিও ওর স্বামীর মতো এতটা সুখী হতাম।
এরই মাঝে চিকিৎসার অভাবে আমার বাবা মারা গেলেন। বাবার মরা মুখটা দেখে আমার সেদিনের কথা বারবার মনে পরছিল যেদিন তুমি আমার বাবাকে চিকিৎসার টাকা দিতে সরাসরি নিষেধ করে দিয়েছিলে। নারী নির্যাতনের মামলার ভয় দেখালে। আমিও বাধ্য হয়ে বাবাকে আর টাকা দিলাম না। সেদিন আমি যদি বাবার চিকিৎসা করতাম তাহলে আমার বাবাকে এভাবে ধুকেধুকে মরতে হতো না। কিন্তু আমার হাতে এতো টাকা থাকা সত্ত্বেও আমি কিছুই করতে পারলাম না। বাবার মৃত্যুর পর থেকেই নিজেকে দোষী মনে হতো। তোমার মুখটা দেখলেই ঘেন্না লাগতো।
এদিকে গ্রামের বাসায় আমার বিধবা মা আর ডিভোর্সি বোন। সুযোগ বুঝে একদিন রাতে এলাকার বখাটে রাসেল মিয়া টিন কেটে আমার বোনটার ঘরে ঢুকে পরে। ওকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। কিন্তু আল্লাহর রহমতে আমার বোনটা বেচে যায়। শব্দ শুনে আমার মা ঘরে আসলে, রাসেল মিয়া ভয়ে পালিয়ে যায়। এই ঘটনা শুনে আমি আর আমার মা-বোনকে একা রেখে আসতে পারি নি।
আর মা, রিতা তোমরা ভালো করেই জানতে আমার আজ যেই সাফল্য, সবটাই বিনুর জন্য। বিনু পাশে না থাকলে আমার এতো কিছু হতো না। কিন্তু তোমাদের এ বাসায় আনার পর থেকেই প্রতিদিন বিনুর নামে আমার কাছে অভিযোগ করেছো। বানিয়ে বানিয়ে কথা বলেছো। আমাকে প্রতিদিন উস্কেছো যাতে আমি বিনুকে তালাক দিয়ে তোমার ভাইয়ের মেয়েকে বিয়ে করি।অবশ্য সেই ভাই জীবনো তোমাদের খোজটাও নিত না। যেই দেখেছে আমার এতো টাকা, সেই থেকেই ওদের ভালো মানুষি জেগে উঠলো। তোমরাও দুধে ধোয়া তুলশি না। নিজের দায়িত্ব বোধ থেকে তোমাদের এনেছিলাম এ বাসায়। কিন্তু তোমরাই আমার সংসার ভাঙার পায়তারা করছো।
নিজেকে আজ আমার অনেক অসহায় মনে হচ্ছে। আমি নিজেই বুঝে উঠতে পারি না যে আমি কার পক্ষ নিয়ে কথা বলব। তোমরা উভয় পক্ষ মিলে আমার জীবনটাকে শেষ করে দিয়েছো।
বিনু বাচ্চাদের খেয়াল রেখো। এই ব্যর্থ জীবন থেকে আজ মুক্তি নিচ্ছি।
আর হ্যা, আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী না।
শাহেদ
চিঠি পড়ে সবাই হতবাক হয়ে গেল। পারিবারিক কলহের শিকার হলো শাহেদ। কিন্তু আজ যদি এরা বউ শ্বাশুড়ি ননদ একটু মিলেমিশে থাকতো, তাহলে শাহেদকে এভাবে মরতে হতো না!
__________________
"চাচ্চু ওই যে আমার মিনু মিস।" নিহার কথায় অয়ন তাকালো অয়ন। ওদিকে তাকিয়েই অয়ন চমকে গেল। এতো বছর পর মিনুকে এখানে দেখবে সে কল্পনাতেও ভাবে নি
এদিকে মিনুও স্কুল ছুটির পর বের হচ্ছিল। আচমকা তার ক্লাসের অবন্তির ডাকে পেছনে তাকালো। কিন্তু অবন্তির পাশে অয়নকে দেখে থমকে গেল সে। বিচ্ছেদের এতোগুলো বছর পর যে এভাবে তাদের দেখা হবে ভাবে নি। অবশ্য একি শহর যেহেতু দেখা হওয়াটাই স্বাভাবিক।
মিনু নিজেকে স্বাভাবিক রাখলো। এদিকে অবন্তি টেনে অয়নকে মিনুর কাছে আনলো৷ তারপর অয়নকে বলল, " চাচ্চু আজকে তুমি আমাকে ক্লাসে ফার্স্ট হওয়ার জন্য ট্রিট দিতে চেয়েছিলে, এটাতে কিন্তু মিনু মিসেরও পাওনা আছে। উনি আমাকে সব সময় ক্লাস শেষে এক্সট্রা ভাবে আমার পড়াগুলো বুঝিয়ে দিতেন। তাই আমাকে উনাকে দুজনকেই ট্রিট দেও।"
" মিনু আমতা আমতা করে বলল," এসব থাক অবন্তি। আজ আমার অনেক তাড়া আছে। পরে কোনো একদিন।"
" না মিস, প্লিজ চলেন। প্লিজ মিস।"
শেষে অবন্তির জোড়াজুড়িতে মিনুকে বাধ্য হয়ে রাজি হতেই হল।
তবে এই পুরোটা সময় অয়ন চুপ ছিল
অবন্তি তার পছন্দের আইসক্রিম কিনতে গিয়েছে। রাস্তায় পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে অয়ন আর মিনু। নিরবতা ভেঙে অয়ন নিজে থেকেই বলল," কেমন আছো?"
মিনু ভণিতা না করেই উত্তর দিল," যেমন রেখে গিয়েছিলে।"
মিনুর উত্তরে অয়ন হকচকালো, নিজেকে সামলে আবার বলল," বিয়ে করেছো?"
মিনু তাচ্ছিল্য হেসে উত্তর দিল," বিয়ের দিন যেই মেয়ের বিয়ে ভাঙে তার আর বিয়ে হয় নাকি?"
এবার যেন কথা বলার শক্তি হারালো অয়ন। সে তো ভেবেছিল মিনু সুখে আছে, বিয়ে করেছে। তার মা তো তাকে এটাই বলেছিল যে সেদিন বিয়ের আসরেই মিনুর তার দূরসম্পর্কের চাচাতো ভাইয়ের সাথে বিয়ে হয়ে গিয়েছে। তাই তো আর কোনোদিন মিনুর খোজ করে নি সে। তবে কি মা মিথ্যে বলেছিল।
ওদের কথার মাঝেই অবন্তি চলে আসে। তার হাতে দুটো আইসক্রিম। একটি তার আর আরেকটি তার মিনু মিসের জন্য।।
মিনুও হাসিমুখে তার আইসক্রিম নিয়ে চলে গেল
______________
"আমাকে মিথ্যে কেনো বলেছিলে মা?" রাগান্বিত কন্ঠে জিজ্ঞেস করল অয়ন
" কি মিথ্যে বলেছি? আর এভাবে কথা বলছিস কেন? "
"বলো নি মিনুর বিয়ে হয়ে গিয়েছে?”
ছেলের কথায় হতভম্ব হলেন অয়নের মা, কখনো ভাবেন নি এভাবে সত্যি সামনে আসবে। তবু তেজ দেখিয়ে বললেন" আমি যা করেছিলাম তোর ভালোর জন্যই করেছিলাম।"
" কিসের ভালো মা? জানতে না ওকে ভালোবাসতাম। তুমি আমাকে না জানিয়ে বিয়ে ভেঙে দিলে। তারপর যখন আমি জেদ করলাম যে সেদিনই বিয়ে করব, মিনু খারাপ হোক ভালো হোক, আমি ওই আসরেই ওকে বিয়ে করব। তখন তুমি আমাকে বললে যে বিয়ে ভাঙার কথা শুনে ওরা রাগের মাথায় ত্রিশ মিনিটের মধ্যেই মিনুর আরেক জায়গায় বিয়ে দিয়ে দিয়েছে। সাক্ষী হিসেবে তোমার ওই মিথ্যুক ভাগ্না ভাগ্নিকে সামনে আনলে। আমিও বলদের মতো বিশ্বাস করলাম।
আর বিয়ে ভাঙার কারণ কি ছিল, মিনু নাকি এই যৌথ পরিবারে এডজাস্ট করতে পারবে না। কই এখন তোমার ওই যৌথ পরিবার। যে যার ভাগ নিয়ে আলাদা হয়ে গিয়েছে না? আরে সেসব বাদ দিলাম, তোমার পছন্দ করে আনা তোমার দুই ছেলের বউও তো তোমার সাথে এখন নেই। আলাদা সংসার করছে তারা। তাহলে মিনুর দোষ কি ছিল মা? ওর পরিবার আমাদের মতো উচ্চশিক্ষিত না বলে? তোমার অন্য দুই ছেলের বউ তো ভালোই উচ্চ শিক্ষিত ঘরের মেয়ে। সম্মান পাও তাদের কাছে?
আমার জীবনটা নষ্ট করে ফেলেছো তুমি মা। তোমাকে আমার আজ ঘৃণা হচ্ছে।"
"অয়ন ভুলে যেও না আমি তোমার মা।"
" হ্যা, এজন্যই আমার জীবনটা নষ্ট করার অধিকার রাখো তুমি তাই না মা? উত্তর দিচ্ছো না কেনো মা? ভাইয়া আর ছোট কেনো তোমার থেকে আলাদা হয়েছে আজ আমি বুঝি। আমিও আর এখানে থাকবো না। তুমি থাকো তোমার মিথ্যে অহংকার নিয়ে।" বলেই অয়ন চলে গেল
অয়ন যেতেই কান্নায় ভেঙে পরলো অয়নের মা। অয়ন তার সবচেয়ে আদরের ছেলে। কিন্তু সেই ছেলের চোখে যখন মিনুর জন্য এতো ভালোবাসা দেখলেন, সেটা সে সহ্য করতে পারল না। তাই তো বিয়ের দিন উলটা পালটা কথা বলে বিয়েটা ভেঙে দিলেন। কিন্তু অয়নও প্রতিজ্ঞা নিয়েছিল মিনু ব্যাতিত অন্য কাউকে সে নিজের জীবনে জায়গা দিবে না।
এদিকে তার অন্য ছেলেকে নিজের পছন্দে বিয়ে দিলেও ধীরে ধীরে তারাও বউয়ের প্রতি দুর্বল হয়ে পরে। ধীরে ধীরে বউদের এই যৌথ পরিবারে দম বন্ধ লাগা শুরু করে। আর শিক্ষিত মেয়ে তারা। বড় হয়েছে একক পরিবারে। তাই তো স্বামীদের বুঝিয়ে নিজ নিজ সংসার আলাদা করে নিল।।
শুধুমাত্র অয়নই তার কাছে ছিল। ভেবেছিল ছেলেকে বিয়ে দিবে না। তার কাছেই রেখে দিবে। কিন্তু সেই ছেলেও আজ তাকে ছেড়ে চলে গেল। এসব কথা ভেবেই কান্না করে দিল অয়নের মা।
________________
" আমাকে কি তোমাদেএ বাসার চাকর মনে করো মায়া?" জিজ্ঞেস করল রতন
"এসব কেমন কথা রতন। বাবা মা তোমাকে নিজের ছেলে মনে করে, তাই তোমাকে দিয়ে বাসার টুকটাক কাজ করিয়ে নেন৷ এতে ভুল কোথায়?" বিরক্ত কন্ঠে বলল মায়া
"ভুল কোথায় বুঝো না? বাসায় তোমার বড় ভাইও আছেন। এসব বাজার করার দায়িত্ব তার। আমি বাসার জামাই। আমাকে দিয়ে কেনো এসব কাজ করানো হচ্ছে। সারাদিন অফিস করে আসে এসব ভালো লাগে না।"
" কি তখন থেকে অফিস অফিস করছো। যে মাইনে পাও, ওটাতে তো আমার এক মাসের পার্লার খরচ।সরকারি চাকরি করো বলে আমার মাথা খেয়েছো। করো তো ওই চৌদ্দ গ্রেডের চাকরি। আবেগে তোমার মতো একটা ছোটলোককে প্রেম করে বিয়ে করেছিলাম। এখন পদে পদে সে ভুল বুঝতে পারছি। "
মায়ার কথায় হতভম্ব হলো রতন। এটা কি সেই মেয়েটা যার সাথে তার চার বছরের সম্পর্কের পর আবার চার বছরের সংসার জীবন। যাকে এতোটা ভালোবেসে আগলে রাখলো, সেই মানুষটাই আজ বলছে যে সে নাকি তার জীবনের ভুল।
রতন হালকা হেসে বলল," আমি আজই এই বাসা ছেড়ে দিচ্ছি মায়া। তুমি বরং তিনটা মাস ভেবে দেখো। তারপর নাহয় আমি তোমাকে মুক্তি দিয়ে দিব। তোমার দরজায় তালাকের নোটিশ পেয়ে যাবে তখন। আর যদি মনে হয় আমি তোমার ভুল নই, তোমার ভালোবাসার মানুষ তাহলে আমাদের অফিস কোয়ার্টারে চলে এসো। ওখানেই আমাকে পাবে।" বলেই নিজের কাপড় গুছিয়ে চলে গেল রতন।
পেছনে ফেলে গেল স্তব্ধ মায়াকে
______________
"নীহার তুমি এভাবে আমাকে ছেড়ে যেতে পারো না।"
" অবশ্যই পারি সাকিব। তোমার না আছে পরিবার, আর না আছে চাকরি। আমি কোন ভরসায় তোমাকে বিয়ে করব। বাবা গিয়েছিলেন তোমার এলাকায় খোজ নিতে, সবাই বলেছে তোমার মা নাকি এতো দজ্জাল মহিলা যে তোমার ভাবিরা সংসার আলাদা করতে বাধ্য হয়েছে। অন্যদিকে তোমার বোনেরাও নাকি কুটনী। কুটনামীর জন্য তোমার এক বোন নাকি এখনো অবিবাহিত পরে আছে।
এখন তুমি বলো এরকম চালচুলোহীন পরিবারে কোন বাবা নিজের মেয়েকে বিয়ে দিবে? তুমি তোমার সন্তানকে এরকম ঘরে বিয়ে দিতে?"
নীহারিকার কথার উত্তর দিতে পারলো না সাকিব। শুধু বলল," নিজ সংসারে সুখে থেকো নীহার।" তারপর নীরবে মাথা নিচু করে চলে গেল।
নদীর ধারে বসে আছে সাকিব। জীবনের হিসেব গুলো মেলাচ্ছে। ছোট থেকেই দেখে এসেছে বড় ভাই একা হাতে সংসার সামলাচ্ছে, পরিবারটাকে শক্ত করে ধরে রেখেছে। নিজের রক্ত ঘামের উপার্জনে তাদের শিক্ষিত করেছে। কিন্তু বড় ভাইয়ের এই উদারতাকে সব সময় তার দুর্বলতা ভেবে এসেছিল তারা। এমনকি বড় ভাবি আসার পরে,তাকেও নিজেদের পায়ের নিচে রেখেছিল। সব সময় নিজেরটা আদায় করে নিয়েছে কিন্তু বড় ভাই বড় ভাবির কথা কখনোই ভাবে নি। বড় ভাইয়ের কাধে পা দিয়ে এতোদূর এলো, কিন্তু সেই বড় ভাইয়ের পাশে কোনোদিনও দাঁড়ায় নি। স্বার্থপরের মতো থেকেছে।
কিন্তু এখন বোঝে বড় ভাই আর নোলক ভাবি ছিল বলেই তাদের জীবনটা এতো সুন্দর ছিল। কিন্তু যেদিন থেকে বড় ভাই আর নোলক ভাবি আলাদা হলো তাদের জীবনটাও এলোমেলো হয়ে গেল। অবশ্য তখনোও বোঝে নি। বুঝেছে যখন থেকে নিজের জীবিকা নির্বাহ করতে টিউশনি পার্ট টাইম জব করতে শুরু করেছে। বুঝেছে জীবন কতটা কষ্টের। তবে মা বোনের সাথেও সম্পর্ক সে নিজেই ছিন্ন করেছে। যদি অবিবাহিত বোন আর অসুস্থ মায়ের দায়িত্ব তার ঘাড়ে পরে। কারণ সে দ্বিতীয় হাসান হতে চায় নি। হুট করেই সে সিদ্ধান্ত নিল ব্যংকে যা টাকা আছে ওটা দিয়ে সে তার দোকানে মাল তুলবে, এলাকাতেই দোকান করবে। কারণ তার এই কম সিজিতে চাকরি পাওয়া অসম্ভব।।
_______________
"নোলক আজ স্বপ্নে মাকে দেখেছি। মনটা কু গাইছে। কেমন জানি অস্থির লাগছে। আমি কি করব।" হতাশ কন্ঠে বলল হাসান
স্বামীর চিন্তিত মুখ দেখে নোলক বলল,"চলেন সবাই মিলে একদিন এলাকা থেকে ঘুরে আসি। সেই ফাকে আপনি আম্মাকেও দেখে আসবেন। তাহলেই তো হয়। "
হাসান অসহায় দৃষ্টিতে তাকালো নোলকের দিকে। মনটা ভালো ঠেকছে না তার। যেমনি হোক, মাই তো, তাকে জন্ম দিয়েছে সে। সেই মাকে নিয়ে এতো বাজে স্বপ্ন দেখলে কি মন ভালো থাকে??
