অচেনা_সঙ্গিনী
সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে ইহান দেখল বেলা প্রায় ১১টা বাজে।
ইহানের একদম স্পষ্ট না হলেও কিছুটা খেয়াল আছে গত রাতের কথা। ইহানকে যে আকাশ এসে বেডরুমে পৌঁছে দিয়ে গেছে তা ইহান যানে। কিন্তু এই রুমে আসার পরে কি হয়েছে? সেসব ইহানের মনে নেই।
সারারাত বৃষ্টিতে ভেজার ফলে ইহানের মাথায় ভীষণ যন্ত্রণা হচ্ছে।
তবুও কোনরকমে ঘাড় ঘুরাতেই ইহান খেয়াল করল খাটের একপাশে কোনরকমে হেলান দিয়ে বসে ঘুমিয়ে আছে তার "মায়াপরী"।
মায়াকে নিজের রুমে দেখে ইহান ভীষণ খুশি হলো।
তবে একই সাথে সেই মুহূর্তে ইহান অনুভব করল যে তাকে এখনই প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে যেতে হবে।
হঠাৎই ইহানের ভীষণ জোরে "১ নাম্বার" পেয়ে যায়।
ইহান প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ওয়াশরুমে যাওয়ার জন্য তড়িঘড়ি করে ওঠে বিছানা থেকে উঠে দাঁড়াতেই হঠাৎ ইহানের কোমর থেকে লুঙ্গিটা খুলে গেল।
তখনই আবার ইহানের নড়াচড়ার শব্দে মায়ারও ঘুম ভেঙে গেছে, চোখ খুলতেই হঠাৎ অনাকাঙ্ক্ষিত কোন কিছু দেখে মায়া ভীষণ ঝরে চিৎকার দিয়ে উঠলো।
এদিকে নিজের সঙ্গে কি হয়েছে তা বুঝে ওঠার আগেই মায়ার চিৎকারের শব্দ শুনে ইহান বোকার মতো মায়ার দিকে ঘুরে তাকালো।
এতক্ষণ ইহান উল্টোদিকে ঘুরেছিল কিন্তু এবার মায়ার দিকে ঘোরায় মায়ার চোখের সামনে ইহানের আরো কিছু কল-কবজা স্পষ্ট হয়ে উঠলো, আর তা দেখে মায়া আরো জোরে গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে উঠলো।
আর মায়াকে চিৎকার করতে শুনে ইহান মায়াকে থামানোর জন্য মায়ার দিকে কিছুটা এগোতে নিলে,
মায়া ইহানের দিকে তাকিয়ে আরো জোরে জোরে চিৎকার শুরু করে।
জোরে মাথা ঝিম ধরে থাকায় ইহান এতক্ষণেও
ঠিকমতো নিজের দিকে খেয়াল করেনি।
তবে এবার মায়ার চিৎকারের উৎস খুঁজতে নিজের দিকে ভালোভাবে তাকাতেই ইহান দেখল যে, তার সারা জীবনের সমস্ত গোপনীয়তা আজ মায়ার সামনে প্রকাশ পেয়ে গেছে। মায়ার সামনে উন্মুক্ত হয়ে আছে তার সবকিছু।
নিজের বর্তমান অবস্থা বোঝার সঙ্গে সঙ্গে ইহান এক লাফে মেঝেতে পড়ে থাকা লুঙ্গিটা তুলে কোনরকমে নিজের কোমরে পেঁচিয়ে নিল।
ওদিকে মায়ার চিৎকার বর্তমানে থামলেও তার চোখ দুটো এখনো বড় বড় হয়ে আছে, আর সেই সাথে মুখটা পুরোই গোল আলুর মতো হা হয়ে রয়েছে।
মায়া হয়তো এখনো নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছে না, কয়েক সেকেন্ড আগে সে যা দেখেছে তা হয়তো এখনো তার কাছে স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে।
মায়াকে হা করে তার দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে ইহান লজ্জায় মাথা নত করে কোনরকমে মায়াকে জিজ্ঞেস করল:-
-আমার ড্রেস কই?
ইহানের প্যান্ট এবং শার্ট মায়া রাতেই ওয়াশিং মেশিনে ধুয়ে-শুকিয়ে, টেবিলের ওপরে ভাজ করে রেখে দিয়েছে।
তাই মায়া একইভাবে হাঁ করে থেকে আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করে ইহানকে দেখিয়ে দিল যে, তার ড্রেস কোথায় রাখা হয়েছে।
ইহান এক হাত দিয়ে কোনরকমে কোমরে লুঙ্গি পেঁচিয়ে ধরে, অন্য হাত দিয়ে মায়ের দেখানো জায়গার থেকে নিজের ড্রেস নিয়ে, আর এক মুহূর্তও দেরি না করে সোজা ওয়াশরুমের ভেতরে চলে গেল।
ইহান এবং মায়ার ভাগ্য ভালো যে ইহানের রুমটা সাউন্ড-প্রুফ, নইলে আজ মায়ের চিৎকার শুনে আরো দু চারজন মানুষ হয়তো ইহানের রুমে চলে আসতো।
এদিকে অস্বস্তিকর পরিবেশে পরে মায়ার নিজেরও লজ্জায় মরে যেতে ইচ্ছে করছে।
আর যা দেখেছে, তারপর মায়ার পা দুটো যেন একদম জমে গেছে, শরীরটা হয়তো পুরোই অবশ হয়ে গেছে। মাঝে উঠে এই রুম থেকে বেরিয়ে যাবে লজ্জার কারণে সেটুকু শক্তি ও হয়তো তার শরীরে নেই।
মায়া কিছুক্ষণ আগে ঘটে যাওয়া ঘটনা গুলোর কথাই ভাবছিল, তখনই ইহান প্যান্ট শার্ট পড়ে ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে আসে।
ইয়ার ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে দেখে মায়া এখনো ঠিক আগের মত একই জায়গায় একইভাবে বসে আছে।
পরিস্থিতি ঠিক থাকলে ইহান হয়তো আজ মায়ের কাছে ক্ষমা চেয়ে, নিজের ভুল স্বীকার করে, তাকে আর একটা সুযোগ দেওয়ার জন্য মায়াকে কনভেন্স করতো।
কিন্তু এই মুহূর্তে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে, ইহান আর মায়াকে কোন কিছুই বলতে পারছে না।
এদিকে ইহান ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে আসার পরে মায়া যখন নিজের মনোবল শক্ত করে, ধীরে ধীরে ইহানের রুম থেকে বেরিয়ে যেতে নাই। তখনই ইহান পেছন থেকে মায়াকে ডেকে মাথা চুলকাতে চুলকাতে, আমতা আমতা করে বলে ওঠে:-
-"বউপাখি" প্লিজ, এই রুমে যা হলো তা বাইরে গিয়ে কাউকে বলো না।
এটা তো আমাদের পার্সোনাল ব্যাপার তাই না?
ইহানের কথা শুনে মায়ার এবার ভীষণ হাসি পেল, কারণ এই রুমে যা ঘটেছে, তাতে মায়ার নিজেরই লজ্জায় জান যাওয়ার মতো অবস্থা। তাহলে এই কথা কি অন্য কাউকে বলা মায়ার পক্ষে আদৌ সম্ভব?
তাও আবার নিজের স্বামীকে নিয়ে।
তাই মায়া ইহানকে আশ্বস্ত করার জন্য মাথা নাড়িয়ে বোঝালো যে, এই রুমে যা ঘটেছে তা সে কাউকেই বলবে না।
মায়া যে এই ঘটনা কাউকে বলবে না সেটা জানার পরে ইহান কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল, আর মায়া আবারো বেরিয়ে যেতে নিল ইহানের রুম থেকে।
কিন্তু দরজার একদম কাছে গিয়ে মায়া হঠাৎ পিছনে ঘুরে, আবারো ইহানের দিকে তাকালো।
ইরান ভাবলাম মায়া হয়তো তাকে কিছু বলবে, তাই ইহানও উৎসুক হয়ে মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে রইল।
আর তখনই পুরো পরিস্থিতি বদলে দিয়ে মুখে বিস্ময়ে ছাপ রেখে মায়া হঠাৎ ইহান কে জিজ্ঞেস করে উঠলো:-
-এতো কালা ক্যা?
মায়ার বলা কথাটা প্রথমে ইহানের মাথায় ধরল না, তাই ইহান অবাক হয়ে বলল:-
-কিহ......?
তখন মায়া রোবটের মতো একই ভঙ্গিতে পুনরায় বলে উঠলো:-
-এত কালা ক্যা.....?
এবার মায়ার কথা বুঝতে পেরে ইহান বিকৃত মুখ বানিয়ে দুহাতে নিজের মাথার চুল টানতে টানতে বলল:-
-ছিঃ....
তখনই মায়া বুঝতে পারল যে সে কি বলে ফেলেছে, তাই প্রথমে একটু লজ্জা লাগলেও পরবর্তীতে আবার ইহানের রিএকশন দেখে মায়ার ভীষণ হাসি পেল।
তাই মায়া এবার ইহানকে রাগানোর জন্য লজ্জা শরম গিলে খেয়ে, দাঁত বের করে হাসতে হাসতে ইহানকে বলল:-
-এখনো সময় আছে,
নিয়ম করে দিনে দুবেলা "ফেয়ার এন্ড লাভলী" মাখেন একটু ফর্সা হলেও হতে পারে।
কথাটা বলেই মায়া দৌড়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেল।
আর এদিকে ইহান বেচারা নিজের মান সম্মান সব হারিয়ে, রাগে এবং লজ্জায় দুহাতে নিজের চুল টানতে টানতে বিছানায় বসে পড়লো।
__________________
সেদিন আর ইহান লজ্জায় রুম থেকে বের হলো না, রুম থেকে বের হলে যদি মায়ার সামনে পড়ে যায়।
দুপুরের খাবার খাওয়ার জন্য ঈশিতা ইহানকে ডাকতে আসলেও ইহান অসুস্থতার দোহাই দিয়ে তার খাবার ঘরে আনিয়ে নিয়েছে। আর আকাশ ও দুপুরের খাওয়া দাওয়া সিকদার বাড়ির সবার সঙ্গে সেরে, আবার ফিরে যায় ফ্ল্যাটে।
ওদিকে সানজিদা শিকদারও ছেলের সঙ্গে আর খারাপ ব্যবহার করেনি, ছেলের অসুস্থতা দেখে সেও সব ভুলে বসেছে।
আর সকালের ঘটনায় মায়া ও ভীষণ লজ্জা পেয়েছে তাই মায়া আর একটাবারের জন্যও ইহানের ঘরের দিকে পা বাড়ালো না।
বিকেলের দিকে ইহান চোরের মতো চুপি চুপি তার রুম থেকে বের হলো, রুম থেকে বের হয়ে দোতলার থেকে নামার সময় সিঁড়িতে ইরানের দেখা হলো ঈশিতার সাথে।
ঈশিতা এই মুহূর্তে ইহানকে কোথাও বেরোতে দেখে, কিছুটা এগিয়ে এসে ইহানের কপালে হাত দিয়ে জিজ্ঞেস করল:-
-কোথায় যাচ্ছ ভাইয়া?
তোমার জ্বর এখন কমেছে?
বোনের প্রশ্নের ছোট্ট করে জবাব দিলো ইহান:-
-হ্যাঁ, কিছুটা কমেছে।
ভাইয়ের কথা শুনে ঈশিতা দুষ্টুমির স্বরে বলল:-
-জ্বর না কমে উপায় আছে?
সারারাত আমার ভাবি তোমাকে যে পরিমাণ সেবা করেছে। সারারাত তো তোমার পাশেই বসেছিল, আরেকটু পরপর তোমার মাথায় জল পট্টি দিচ্ছিল।
মায়া কাল সারারাত তার সেবা করেছে শুনে ইহান মনে মনে ভীষণ খুশি হলো। কিন্তু পর মুহুর্তেই আবার সকালের ঘটনার কথা মনে পড়তেই ইরান চোরের মতো আস্তে আস্তে ঈশিতাকে প্রশ্ন করলো:-
-মায়া এখন কোথায় রে?
ঈশিতা ও খুব স্বাভাবিকভাবে ইহানকে বলল:-
-মায়াতো কাল সারারাত না ঘুমিয়ে তোমার সেবা করেছে, তাই আজ দুপুরে খাওয়া দাওয়া করে লম্বা একটা ঘুম দিয়েছে।
এখনো ওঠেনি।
কেন কোন দরকার ছিল বুঝি?
ডেকে দেবো ওকে?
ইহান তড়িঘড়ি করে বলে উঠলো:-
-আরে না না,
ওকে ডাকতে হবে না।
মায়া ঘুমিয়ে আছে শুনে ইহান মনের ভিতরে স্বস্তি খুঁজে পেল, কেননা এখন সে নিশ্চিন্তে ড্রয়িংরুম হয়ে বেরিয়ে যেতে পারবে। মায়ার সামনে পড়ার আর কোন সম্ভাবনা নেই।
ওদিকে ঈশিতা মাথা নাড়িয়ে বলল:-
-আচ্ছা,
কিন্তু তুমি এখন কোথায় যাচ্ছ?
ইহান সিঁড়ি দিয়ে নেমে যেতে যেতে ঈশিতাকে বলল:-
-তোদের ফ্ল্যাটে যাচ্ছি,
আমার ল্যাপটপ আর কিছু ড্রেস নিয়ে আসতে।
ও হ্যাঁ, আসার সময় আকাশকেও সঙ্গে নিয়ে আসব।
মেডদের দিয়ে একটা রুম রেডি করিয়ে রাখিস।
কথাগুলো বলতে বলতেই ইহান ড্রয়িংরুম হয়ে বাড়ির বাইরে চলে গেল।
আর এদিকে ঈশিতা মনে মনে খুশি হতে থাকলো।
এই মুহূর্তে ঈশিতা ভাবছে যে, আকাশ যদি সিকদার বাড়িতে এসে থাকে তবে ঈশিতা আর একটু সময় পাবে আকাশকে ইমপ্রেস করার।
তাই ঈশিতা কোনো মেডকে না ডেকে,
নিজেই তার রুমের পাশের রুমটা আকাশের জন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে রাখল।
******
ইহান ফ্ল্যাটে গিয়ে দেখল আকাশ বেঘোরে ঘুমাচ্ছে,
ইহান বেশ কয়েকবার ডাকার পরে আকাশের ঘুম ভাঙলো।
আকাশ ঘুম থেকে উঠে ইহানকে হঠাৎ এখানে দেখে আকাশ এক নিঃশ্বাসে বলল:-
-কিরে তুই এখানে কি করছিস?
তোকে না রাতে সিকদার বাড়িতে রেখে আসলাম?
আবার চলে এসেছিস কেন?
আকাশকে এমন তাড়াহুড়ো করে কথা বলতে দেখে এইহান বলল:-
-আরে শান্ত-হ, শান্ত-হ..
আমি এখানে থাকতে আসিনি,
এসেছে আমার প্রয়োজনীয় কিছু জিনিস আর কিছু ড্রেস নিয়ে যেতে।
ইহানের কথা শুনে আকাশ সোয়া থেকে ধীরে ধীরে উঠে, বিছানা থেকে নামতে নামতে বলল:-
-এরপর থেকে কোথাও গেলে, সঙ্গে করে একটা এক্সট্রা ড্রেস নিয়ে যাস।
তোর জন্য কালকে কি ভোগান্তি চাইনা পোহাতে হলো আমায়।
হঠাৎ আকাশের মুখে এমন কথা শুনে ইহানের ভুরু কুঁচকে যায়। সে কিছুটা অবাক হয়ে আকাশকে প্রশ্ন করে:-
-কাল আমার ড্রেস না থাকায় তোকে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে কেন?
আকাশ আয়না দেখে নিজের চুল ঠিক করতে করতে গর্ব করে বলে:-
-কাল রাতে আমি তো তোর ড্রেস চেঞ্জ করে দিয়েছিলাম।
ইহানের মাথায় সকাল থেকেই এই প্রশ্নটা ঘুরপাক খাচ্ছিল যে, রাতে তার ড্রেস কে চেঞ্জ করেছিল?
আর কেই বা তাকে অমন অদ্ভুত ভাবে লুঙ্গি পরিয়ে রেখে দিয়েছিল, যার ফলস্বরূপ সকালে উঠে দাঁড়ানো সঙ্গে সঙ্গে ইহানের লুঙ্গি খুলে গিয়েছিল।
কিন্তু এখন যখন জানতে পারল যে, রাতে আকাশ তাকে ড্রেস চেঞ্জ করিয়ে দিয়েছিল তখন তো রাগে তার মাথায় আগুন ধরে গেল।
তবুও ইহান নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে আরেকটু নিশ্চিত হওয়ার জন্য আকাশের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে, আকাশের কাঁধে হাত রেখে, আকাশকে প্রশ্ন করলো:-
-আচ্ছা আকাশ,
কাল রাতে আমাকে লুঙ্গি পড়িয়ে দিয়েছিল কেরে?
ইহানের প্রশ্ন শুনে, আকাশ গর্বের সাথে বলল:-
-তোর ড্রেস আমি চেঞ্জ করেছি মানে তোকে লুঙ্গি ও তো আমিই পরিয়েছি, তাই না?
যদিও আকাশের এই উত্তর শোনার পরে ইহান কিছুতেই নিজের রাগকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছিল না, তবুও ইহান আবারও দাঁতে দাঁত চেপে জিজ্ঞেস করল:-
-আচ্ছা তুই কি জীবনে কখনো লুঙ্গি পড়ছিস?
আকাশ খুব স্বাভাবিকভাবেই বলল:-
-আরে না,
আমিতো লুঙ্গি কিভাবে পরতে হয় সেটাও জানি না।
তাইতো তোকে লুঙ্গি পরাতে না পেরে, বেল্ট দিয়ে কোনরকমে তোর কোমরে লুঙ্গিটা আটকে রেখে দিয়েছিলাম।
ইয়ান এবার আকাশের মাথাটা নিজের বগলদাবা করে, ইহানের পিঠে ভাদ্র মাসের তাল পড়ার মতো ধারাম-ধুরুম শব্দ করে উত্তমাধ্যম দিতে শুরু করল।
আকাশ বেচারাতো এইটুকুই বুঝতে পারল না যে ইহান তাকে এভাবে মারছে কেন?
অনেকটা সময় আকাশকে মারার পরে ইহান রাগের-ক্ষোভে বলে উঠলো:-
-শালা,
তুই যখন নিজেই লুঙ্গি পড়তে পারিস না,
তাহলে আমার উপরে এক্সপেরিমেন্ট করলি কেন?
তুই আমার মান ইজ্জত সব খেয়ে দিয়েছিস।
ওদিকে আকাশ বেচারা ইহানের কথার আগামাথা কিছুই বুঝলো না।
অনেকটা সময় এভাবে মারামারি করার পরে ইহান থেমে গেল।
তার আরো কিছুক্ষণ পরে ইহান আকাশকে বলল, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে তার সাথে সিকদার বাড়িতে শিফট হয়ে যেতে।
কিন্তু আকাশ কিছুতেই সিকদার বাড়িতে যেতে রাজি হচ্ছিল না। কেননা আকাশ কোনভাবেই ঈশিতার সামনে পড়তে চায় না।
আকাশ নিজেও জানে যে ঈশিতা তার আশেপাশে থাকলে, সে কিছুতেই নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। একটা সময় গিয়ে বাধ্য হবে নিজের মনের অনুভূতিগুলোকে স্বীকার করতে।
তাই আকাশ একদমই চায়না যে, এই জীবনে আর ঈশিতার সঙ্গে তার দেখা হোক।
কিছু ভালোবাসা তো কল্পনাতেই সুন্দর,
আর ভালবাসলেই যে তাকে পেতে হবে এমনও তো কোন কথা নেই।
সে নাহয় ঈশিতাকে নিয়ে কল্পনাতেই সংসার সাজাবে।
তাই আকাশ ইহানকে জানিয়ে দিল যে সে আগামীকাল লন্ডনে ফিরে যাচ্ছে।
কিন্তু ইহান তো নাছোড়বান্দা,
সে আকাশকে বলল:-
-কিরে তোর বস তো আমি,
আমি বাংলাদেশে থাকলে, তুই লন্ডনে গিয়ে কি করবি? শালা ভন্ডামি করার জায়গা পাস না?
তবুও আকাশ কোনভাবেই সিকদার বাড়িতে যেতে যেতে চাচ্ছিল না।
কিন্তু শেষমেষ ইরানের জোড়াজড়ির কাছে তাকে হার মানতেই হলো। আর কোনো উপায় না পেয়ে শেষমেষ সে ইহানের সঙ্গে সিকদার বাড়িতে যেতে রাজি হলো।
******
রাতে প্রায় ১১টার দিকে ইহান এবং আকাশ সিকদার বাড়িতে এসে পৌঁছালো।
সানজিদা সিকদার তখনও ছেলেদের জন্য ডিনার নিয়ে অপেক্ষা করছিল। আর মায়া ও ঈশিতা কিছুক্ষণ আগেই ডিনার শেষ করে যার যার রুমে চলে গেছে।
তাই সানজিদা সিকদার ইহান এবং আকাশকে উদ্দেশ্য করে বলল:-
-অনেক রাত হয়ে গেছে,
তোমরা এখান থেকেই ফ্রেস হয়ে নিয়ে, একদম ডিনার সেরে তারপর যে যার রুমে যাও।
সানজিদা শিকদারের কথা মতো ইহান এবং আকাশ নিচতলার একটা ওয়াশরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে এসে ডিনার করতে বসে গেল।
ওদিকে ঈশিতা হয়তো কোন ভাবে বুঝতে পেরেছিল যে ইহান আর আকাশ ফিরে এসেছে।
তাই ইহান আর আকাশ ডিনার শেষ করতে করতে ঈশিতা আবার নিচে চলে এলো।
ঈশিতাকে আসতে দেখে আকাশ মাথা নিচু করে রইল, একটাবারের জন্যেও ঈশিতার দিকে তাকালো না পর্যন্ত।
ডিনার শেষে ঈশিতাকে ড্রয়িং রুমে দেখে ইহান বলে উঠলো:-
-তোকে না বলে গিয়েছিলাম আকাশের জন্য একটা রুম রেডি করে রাখতে?
ইহানের কথার জবাবে ঈশিতা মাথা নাড়িয়ে বলল:-
-হ্যাঁ ভাইয়া,
তোমার কথা মতো আমি ওনার জন্য একটা রুম পরিষ্কার করে গুছিয়ে রেখেছি।
আকাশের রুম গুছিয়ে রাখা হয়েছে শুনে ইহান ঈশিতাকে বলল:-
-তাহলে হা করে দাঁড়িয়ে না থেকে ওকে ওর রুমে নিয়ে যা।
ঈশিতা পুনরায় মাথা নাড়িয়ে ভাইয়ের কথায় সম্মতি জানিয়ে আকাশকে উদ্দেশ্য করে বলল:-
-চলুন আমার সঙ্গে,
আপনাকে আপনার রুম দেখিয়ে দিচ্ছি।
আকাশও বাধ্য ছেলের মতো ঈশিতার পিছু পিছু যেতে শুরু করলো। ঈশিতা আকাশকে নিয়ে প্রথমে দোতালায় গিয়ে তারপর কিছুটা ডান দিকে এগিয়ে, সবার চোখের আড়ালে চলে যেতেই হঠাৎ আকাশের বুক বরাবর সজোরে ধাক্কা দিয়ে বসলো।
হঠাৎ ধাক্কা খেয়ে আকাশ কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে,
আর দুহাতে তার কিছু পোশাক এবং প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের ব্যাগ থাকায় সেতাল সামলাতে না পেরে দু'পা পিছিয়ে গিয়ে দেয়ালের সঙ্গে ধাক্কা খায়।
আকাশকে দেয়ালের সঙ্গে ধাক্কা খেতে দেখে ঈশিতা দু-পা এগিয়ে গিয়ে একদম সিনেমার হিরোদের মতো দুপাশে দেয়ালে হাত রেখে, আকাশ কি নিজের দুই হাতের মধ্যে আবদ্ধ করে ফেলে।
তারপর ধীরে ধীরে আকাশের একদম কাছে গিয়ে ঠান্ডা গলায় বলে:-
-কাল আমার সঙ্গে অমন ব্যবহার করলেন কেন?
একটু ভালবাসলে কি হয়, হুম?...
ওদিকে আকাশ এইটুকু পুচকি মেয়ের এমন ব্যবহার দেখে রীতিমতো অবাকের শীর্ষে পৌঁছে গেছে।
আর তখনই ওখান দিয়ে যেতে নিয়ে, হঠাৎ তাদের দুজনকে এভাবে দেখে ফেলে........

0 Comments