ছায়াবৃত_রোদ্দুর

 

ছায়াবৃত_রোদ্দুর


মৃদু আধারে তলিয়ে আছে দলীয় অফিসের চারপাশ। অফিসের বারান্দায় মৃদু এক বাতি জ্বলছে আবছা আলোয়, তার থেকে কিছুটা দূরে কয়েকটি মুদির দোকান রয়েছে সেই দোকান গুলো থেকে ক্ষীণ আলোর ছটা পড়ছে এদিক ওদিক। ঝড়ো হাওয়ার তালে গরমের নিশ্বাস নেই বিন্দুমাত্র বরং ঠান্ডা হিমশীতল এক অনুভূতি ঠিকরে পড়ছে। এমন শান্ত পরিবেশ, গুমোট নিরবতা ভেদ করে ইরার চিৎকার খুব ভয়ংকর শুনালো, অদূরে থাকা গুটি কয়েক লোকজন ছুটে এলো সেখানে। ড্রাইভার মনসুর মিয়া, চোখ কপালে তুলে তাকিয়ে আছেন। ইতিপূর্বে এমন ভয়ংকর অভিজ্ঞতা খুব কমই হয়েছে তার, রাস্তা ঘাটে ছোটখাটো দূর্ঘটনা ঘটলে এমন একটু আধটু দেখা যায় তাই বলে সন্ত্রাসবাদির অভিজ্ঞতা নেই তার। জলজ্যান্ত একটা মানুষ তার চোখের সামনে গুলিবিদ্ধ হলো!
ইলহামের হাতের বাধন ঢিলে হয়ে আসলে ইরা দুহাতে পেছিয়ে ধরলো তাকে। দুর্বল হস্তে ইলহাম নিজেও চেষ্টা করলো তাকে আগলে রাখার। ইরা তার তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো অদূরে ঝোপের দিকে, আবছা আলোয় দৃশ্যমান হলো কোনো অবয়ব ছুটে পালিয়ে যাচ্ছে। ইরার মেয়েলী শক্তি হিমশিম খাচ্ছে ইলহামকে আগলে রাখতে, তাছাড়া সে চাইছে পলাতক ব্যাক্তির পিছু নিতে। উৎসুক চোখ দুটো মনসুর মিয়ার দিকে নিক্ষেপ করে ব্যাস্ত কন্ঠে বলল
“মামা উনাকে ধরুন প্লিজ, গাড়িতে উঠান আমি এক্ষুনি আসছি”
বিস্ময় কাটিয়ে শুকনো ঢোক গিলে এগিয়ে এলেন মনসুর মিয়া, পাশ থেকে আরও দুজন লোক এগিয়ে এসে আগলে ধরলেন ইলহামের বাহু। ইরা এক হাত মুক্ত করে কাধে ঝুলানো ছোট ব্যাগে চালান করলো, কাঙ্ক্ষিত বস্তুর সন্ধান মিলতে সেটি মুঠোয় পুরে ছুটে যেতে চাইলো সেদিকে কিন্তু অপর হাতে মৃদু টান পড়ায় থেমে গেলো সে। ঘাড় ফিরিয়ে তাকালো সেই হাতের দিকে, ইলহাম দুর্বল হাতে আঁকড়ে ধরে আছে সেটি। নিভু নিভু চোখ তার দিকেই নিবদ্ধ, দুর্বল কন্ঠে ঠোঁট নাড়িয়ে কিছু বলছে। আটকে গেলো ইরা, পিছু হটে একপাশ হতে বাহু জড়িয়ে ধরলো তার। তখন কানে বাজলো তার নিভু নিভু কন্ঠের অস্পষ্ট ভাঙা আওয়াজ
“যে..যেও না, ওরা ক্ষ.ক্ষতি কর..করবে তোমার”
______
হসপিটালের করিডোরে অস্থিরচিত্তে পায়চারি করছে ইরা, অস্থিরতা আর ভয়ে মুখখানি শুকিয়ে আছে তার। অগুছালো চিন্তাভাবনারআ মাথার ভেতর থপ থপ করছে তার। বার বার চোখের সামনে ভেসে উঠছে ইলহামের রক্তাক্ত দেহ, ফ্যাকাশে মুখশ্রী। এর কিছুক্ষণ আগেও তো তাকে কত জ্বালাচ্ছিলো এইটুকু সময়ের ব্যাবধানে লোকটা এখন হসপিটালের বেডে শুয়ে আছে! বুক ফেটে কান্না আসছে তার, কেন যেনো ইলহামের এই নিতর দেহ দেখে তার মনটা খুব কাঁদছে, এই মানুষটাকে এমন দেখে তার সহ্য হচ্ছে না। এর থেকে তো তার সেই অ*স*ভ্য ইলহামই ভালো। অশ্রুসিক্ত চোখে একবার নিজের দিকে তাকালো সে, গায়ের শুভ্র রঙের সুতি থ্রি পিছ জুড়ে তাজা রক্ত, ওড়নার প্রান্ত মেলে ধরলো চোখের সামনে। রক্তে ভিজে জবোথবো হয়ে আছে। দুহাত ভর্তি লাল তরল শুকিয়ে আছে, এমন দিন কেন দেখতে হলো তার? তার জন্য নিষ্পাপ মানুষটার শরীর হতে রক্তের স্রোত বইলো!
একপাশে বেঞ্চিতে বসে আছে ইনায়া, মীরা, ইরহাম। ইনায়া থেকে থেকে ফুঁপিয়ে উঠছে, কান্নার তোপে মেয়েটির ফর্সা মুখশ্রী লাল বর্ণ ধারন করেছে। মীরা এক হাতে আগলে রেখেছে তাকে, সে নিজেও ভারাক্রান্ত। কান্নাটুকু চেপে রেখেছে বহু কসরত করে। ভাইহীনা মেয়েটা ভাইয়ের মতো আশ্রয় স্থল পেয়েছিলো, এক ভরসার স্থান পেয়েছিলো। যেই মানুষটা কত সহজেই আপন করে নিয়েছিলো তাকে, সেই প্রথম দিন থেকে কখনো ভাইয়ের অভাব বুঝতে দেয়নি। ইরহামের মুখাবয়ব গম্ভীর, তাকে দেখে বোঝা দায় মনের ভেতর কি চলছে। তবে এখানে থাকা প্রত্যেক মানুষজন'ই তো একে অপরের ব্যাতিত হৃদয়ের যন্ত্রণা অনুভব করতে পারছে।
ইলহাম অপারেশন থিয়েটারে আছে। গুলি তার পিঠ ভেদ করে বুকে এসে থেমেছে তবে তা দেহের ভেতরেই আটকে আছে। অপারেশন করে গুলি বের হরা হবে, সম্পূর্ণ চিকিৎসা দেওয়ার পর তার অবস্থান নিশ্চিত করা যাবে। তিন ব্যাগ রক্ত লেগেছে, যার এক ব্যাগ দিয়েছে আয়ুশ এক ব্যাগ ইরহাম। এখনো এক ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন, সেই রক্তের জোগান দিতে আয়ুশ বেরিয়েছে কিছুক্ষণ পূর্বে।
ইতিমধ্যে মিডিয়া জুড়ে তোলপাড় চলছে, সদ্য নির্বাচিত সংসদ সদস্য ইরা আহসানের স্বামী সন্ত্রাসীদের আক্রমণে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। সাংবাদিকরা ভীর করে আছে বাহিরে, ইরার কড়া নির্দেশে তাদের ভেতরে আসতে দেওয়া হচ্ছে না। তবে তাদের চিৎকার চেচামেচি ও সুরেলা হইচই দুতলার এই করিডোরে অনায়াসেই আঘাত হানছে। এমন জর্জরিত সময়ে ওদেরকে উটকো ঝামেলা লাগলো ইরার।
চোখ মুখ শক্ত করে একবার সিড়ির দিকে তাকিয়ে আরেকবার তাকালো একপাশে থাকা বড় বড় থাই গ্লাসের দিকে। দাতে দাত পিষে রাগান্বিত স্বরে হুমকি দিলো অদূরে দাঁড়ানো সুদর্শন এক পুরুষকে যে হাসপাতের আয়ার কাজ কর্মরত
“ওদের এক্ষুনি এখান থেকে যেতে বল নয়তো তোর ঘাড়ে এই মাথা আর থাকবে না”
ভড়কালো ছেলেটা, আকস্মিক এমন হুমকিতে চেহারায় আতংক ফুটে উঠেছে। সে কি করবে? এতোগুলো ক্ষমতাশালী লোক, তার কথা কি কেউ শুনবে? হাতে থাকা স্যালাইনের ব্যাগ পাশের টেবিলের উপর রেখে, উদাস নয়নে একবার সিড়ির পানে তাকালো। শুকনো ঢোক গিলে পুনরায় ইরার দিকে তাকিয়ে মিনমিন করে বলল
“আপু, আমি মানে আমার কথা ওরা শুনবে না”
“আই ডোন্ট কেয়ার, পাঁচ মিনিটের মধ্যে এই হসপিটালের সামন আমি ফাঁকা দেখতে চাই জাস্ট গো টু হেল”
ছেলেটি ঠায় দাঁড়িয়ে রইলো, নত মস্তকে পায়ের পাতায় চোখ রেখে কাচুমাচু করছে। ওর কোনো নড়চড় না দেখে ক্ষেপে গেলো ইরা, হিংস্র বাঘের মতো ঝাপিয়ে পড়ে শার্টের কলার চেপে ধরলো তার। চোখে মুখে জ্বলে উঠেছে ধ্বংসাত্মক আগুনের ফুলকি। বজ্র কন্ঠে হুংকার ছেড়ে বলল
“তোর সাহস কি করে হয় আমাকে অমান্য করার? আই উইল জাস্ট কিল ইউ বা*স্টা*র্ড। আমাকে দেমাগ দেখাস? দেমাগ তোর পেছন দিয়ে ভরে দিবো”
ভীতিকর চোখে তাকিয়ে আছে সে, ভয়ে গুটিয়ে এসেছে তার শরীর। হঠাৎ এমন আক্রমণের জন্য মুঠেও প্রস্তুত ছিলো। কিছু বলতে চাইলো কিন্তু কন্ঠ কেঁপে উঠলো তার
“আ..আপা, আমাকে ছে..ছেড়ে দিন। আপনার পায়ে প..পড়ি। আমা..আমাকে কিছু করবেন না প্লিজ”
ইরহাম ছুটে এসেছে, হঠাৎ ইরার এমন উদ্ভুট আচরণে তারা সকলেই হতবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। এই সামান্য বিষয়ে এভাবে রেগে যাওয়ার কি হলো? মুহুর্তের মধ্যে এখানে হইচই বেঁধে গেছে, আশে পাশের নার্স ডক্টর ও সাধারণ মানুষগন যারা ছিলো সবাই ভীড় জমিয়েছে। ইরহাম ছেলেটিকে ছাড়িয়ে নিয়েছে ইরার থেকে। হট্টগোল বেধে যাওয়াতে হসপিটালের দায়িত্বরত লোকেরা ছুটে এসেছেন। ইরাকে ঝামেলা করতে দেখে অবাক'ই হয়েছেন তারা, তবে ইতিমধ্যে এই খবর তাদের কানে পৌছেছে স্বামী শোকে এমন পাগলামো করছে ভেবে তারা আর বিষয়টি ঘাটায়নি। তবে ইরহাম বলে দিয়েছে তাদের, বাহিরে থাকা মিডিয়ার লোকেদের যেনো এখান থেকে বের করে দেওয়া হয়। ওদের কারনে ইরার সমস্যা হচ্ছে।
ইরহাম ইরার হাত ধরে তাকে টেনে নিয়ে বসিয়ে দিয়েছে ইনায়াদের পাশে। মেয়েটা কেমন দম মেরে বসে আছে, কিছুক্ষণ পূর্বের রাগ, ক্ষোভ দুশ্চিন্তা কিছুই যেনো আর নেই তার মধ্যে। তাকে দেখে এক নির্জীব পাথরের মতো লাগছে, অনুভূতিহীন শূণ্য চোখে তাকিয়ে আছে ওটির বন্ধ দরজার পানে, হয়তো অযাচিত মন কারো অপেক্ষাতেই আছে। হয়তো কারো ফিরে আসার অপেক্ষায়, কারো ভালোবাসার পাগলামি গুলোর অপেক্ষায়। এই ভোতা অনুভূতি গুলো তো সে প্রকাশ করতে পারছে না। সে কাদতে পারে না বলে কি তার কষ্ট হয় না?
হঠাৎ ওটির জ্বলন্ত বাতি নিভে যেতে নড়েচড়ে বসলো সবাই। ইরা সেই আগের মতোই নিষ্প্রাণ চোখে তাকিয়ে আছে সে দিকে। দুয়েক মিনিট পর সেই দরজা ঠেলে সাদা এপ্রোন আর মাস্ক পরিহিত চারজন ডাক্তার বেরিয়ে আসতেই ইরা আর ইরহাম ছুটে গেলো তার কাছে। ইরহামের আগে ইরাই প্রশ্ন করলো, তবে কথা বলতে অনুভব করলো তার কন্ঠ কাপছে
“ও..ও কে..কেমন আছে ডক্টর?”
পূর্ণ চোখে তাকালেন সবাই তাদের সামনে দাঁড়ানো শ্যামবর্ণের মেয়েটির দিকে। মুখটা কেমন শুকিয়ে আছে, চোখ দুটো আগুনের লাভার মতো টগবগ করছে। বুঝলেন হয়তো স্বামীকে একটু বেশি'ই ভালোবাসে। বয়োজেষ্ঠ্য এক ডক্টর মুখের মাস্ক খোলে দীর্ঘ নিশ্বাস ছেড়ে বললেন
“আপনাদের ভাগ্য ভালো বলতে পারেন। অবশ্য আপনাদের না, আমাদের ইলহামের। অনেক বিপদজনক অবস্থা থেকে বেচে ফিরেছে, আর একটু হলেই গুলিটা হার্টে লাগতে পারতো। পিঠের দিকে ক্ষত অনেক গভীর তবে বুকের দিকে এতোটা গভীর হয়নি। এখনো জ্ঞান ফিরেনি তবে খুব তাড়াতাড়ি ফিরবে আশা করি।”
কিছুটা থেমে ইরার মলিন মুখশ্রী পানে তাকিয়ে মুচকি হেসে বললেন।
“ছেলেটা অনেক ভালো, ওর কৃতকর্মের জন্যই হয়তো বার বার এমন মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসে। ওর মতো ছেলে আর দুটো হয়না মিসেস, ভাগ্য করে ওকে পেয়েছেন”
তিনি চলে গেলেন তার গন্তব্যে, পেছনে ফেলে রেখে গেলেন ব্যাতিত নয়নে নির্বাক তাকিয়ে থাকা ইরাকে। ডাক্তারের কথাগুলো সে মন দিয়ে শুনেছে, ইলহাম এখন বিপদমুক্ত এই কথাটি তার অশান্ত মন শান্ত করার জন্য যথেষ্ট ছিলো। তবে তার কানে আরেকটি কথা ঘন্টা ধ্বনির মতো বেজেই চলেছে, “বার বার এমন মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসে” এই কথা দ্বারা কি বুঝিয়েছেন ডক্টর? ইলহাম এর আগেও এমন জীবন মৃত্যুর সন্নিকটে পড়েছিলো? কবে?
“তুমি মেয়েটা আসলেই একটা অপয়া, আমি বলবো কি নিজেকে একবার নিজেই দেখো। তোমার মতো অলুক্ষুনে মেয়ে ছাড়া তো কেউ স্বামী সংসার নিয়ে এভাবে খেলে না। খেলতে খেলতে কিনা বেচারার জীবন নিয়েও খেলা শুরু করলে, স্যাড ইলহাম আমাকে বুঝলো না। আজ তোমার জায়গায় আমাকে বেছে নিলে কতই না সুখের সংসার হতো আমাদের”
হঠাৎ এমন তাচ্ছিল্যপূর্ণ মেয়েলী কন্ঠের আওয়াজে ধ্যান ভাঙলো ইরার। পাশ ফিরে তাকিয়ে দেখলো ফারিয়া দাঁড়িয়ে আছে তার সামনে, সে ডাক্তারদের সাথে’'ই ছিলো। এখন বোধহয় ইরাকে এই কথা গুলো শুনানোর জন্যই রয়ে গেছে। ইরা শূণ্য চোখে তাকালো পাশে দাঁড়ানো ইরহামের দিকে, সে কোনো প্রতিক্রিয়াহীন চলে গেলো তাকে পাশ কাটিয়ে। তার মনের কোণে কোথাও হয়তো ক্ষীণ আশা ছিলো ইরহাম তার ভাইয়ের হয়ে প্রতিবাদ করবে। তার হয়ে উচু গলায় দুয়েকটা কথা শুনিয়ে দিবে তবে তার নিরব প্রত্যাক্ষান অনায়াসেই কত কিছু বুঝিয়ে দিলো। না চাইতেও তার মন বিতৃষ্ণায় ভরে উঠলো। তবে কি সবাই তাকে নিয়ে এটাই ভাবে? তার ভেতর সত্বা যেনো তাচ্ছিল্য করে বলে উঠল ‘ভাববে কেন? এটা কি সত্যি নয়? আজ তোর জন্যই তো নিষ্পাপ মানুষটার এতো রক্ত ঝড়লো
সে নিরবে পাশ কাটিয়ে যেতে চাইলো ফারিয়াকে। কিন্তু ইরার এমন নিশ্চুপ ভাবাবেগ হজম হলো না ফারিয়ার। তার মধ্যে উত পাত কোনো ভাব নেই পরিলক্ষণ করে পুনরায় বলে উঠল
“কি ব্যাপার? আজ তোতাপাখির মুখের বুলি কোথায় গেলো?”
তাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে স্থান ত্যাগ করলো ইরা, এমন প্রতিক্রিয়া দেখালো যেনো সে ছাড়া আশে পাশে আর কেউ নেই আর না তো কারো কোনো কথা তার কর্ণপাত হয়েছে। তবে এটাই তো সত্যি এই কথা গুলোই তাকে অপ্রিয় সত্যির মুখোমুখি করেছে। অনুভব করিয়েছে তিক্ত অনুভূতি। আর কত কাল মানুষের কাটা হয়ে থাকবে সে? কতকাল হারাতে হবে নিজের সর্বস্ব? তবে যাই হয়ে যাক তার জন্য কারো সাজানো গুছানো জীবন নষ্ট হতে দিবে না সে। সে যদি হয় কারো অশান্তির কারন তবে ওই কারো জীবনে তার কোনো অস্তিত্ব সে রাখবে না।

Post a Comment

0 Comments