.
ঢেউয়ের সাথে চন্দনা দি হঠাৎ আমার গা ঘেঁষে দাঁড়ালো, সমুদ্রের জল ছুঁয়ে গেল দুজনকে... রাতে খাওয়া শেষে যখন সবাই ঘুমে, আমি তখন একা ব্যালকনিতে,
.
একটা ব্যালকনি, দুইটা ঘরের মাঝখানে। চন্দনা দি বলল, “কী রে, এখনো জেগে? তারপর আস্তে করে বলল,
.
“তুই তো আর সেই ছোট্টটি নেই… বড় হয়ে যাচ্ছিস। সকালে সমুদ্রে যা দেখেছিস, মনে পড়ে?” আমি থমকে গিয়ে বললাম, “মানে?”
.
সে একটুখানি হেসে বলল, “থাক, বুঝেছি। তুই সত্যিই বড় হচ্ছিস।” 
সেই ২০২১ সালের গল্প। আমার বয়স তখন উনিশ। 
.
কৈশোর আর যৌবনের মাঝের সেই অদ্ভুত সময়, যখন গোটা দুনিয়াটাকেই রঙিন ক্যানভাস মনে হয়। 
.
রেজাল্ট ভালো হওয়ার আনন্দে বাবা হঠাৎ বললেন, “চল, সবাই মিলে এবার মন্দারমণি থেকে ঘুরে আসি। অনেকদিন কোথাও যাওয়া হয় না।”
.
মন্দারমণি! বাঙালির কাছে শুধু সমুদ্র না, একটা নস্টালজিয়া। বাবার কথায় আমি লাফিয়ে উঠলাম। 
.
আমাদের এই সফরে বাবার কলেজের বন্ধুর ফ্যামিলিও জুড়ে গেল। আর সেই ফ্যামিলির সাথেই ছিল ‘চন্দনা দি’।
.
চন্দনা দির বয়স তখন ২৪ কি ২৫। সদ্য MNC-তে জয়েন করেছে। মারাত্মক সুন্দরী, স্মার্ট, কনফিডেন্ট আর একটু দেমাগি, যাকে বলে ‘ক্লাসি অ্যান্ড স্যাসি’। 
.
ওই বয়সে একজন টিনএজারের চোখে এমন মেয়ে মানেই স্বপ্ন। আমি আড়চোখে দেখতাম, কিন্তু সামনে গিয়ে কথা বলার সাহস হতো না। 
.
আমরা হুল্লোড় করে বেরিয়ে পড়লাম। মন্দারমণিতে গিয়ে পাশাপাশি দুটো রুম নিলাম। আমাদের রুমে আমি আর বাবা-মা, পাশের রুমে চন্দনা দি আর তার ফ্যামিলি। 
.
আমাদের ব্যালকনি থেকে সমুদ্রটা স্পষ্ট দেখা যেত। মন্দারমণির সেই পরিচিত ছবি—পাগল করা ঢেউ, নোনা বাতাস আর ঝাউবনের সারি। রাতে ঢেউয়ের শব্দে ঘুম ভাঙত,
.
মনে হতো সমুদ্র আমাকে তার কোনো গোপন গল্প শোনাতে চাইছে। 
.
দ্বিতীয় দিন ভোরে আমরা সবাই সমুদ্রে নামলাম। চারপাশে মানুষের ভিড়, ঢেউয়ের হুংকার।
.
এর মধ্যেই চোখ পড়ল চন্দনা দির দিকে। গায়ে একটা ডিপ ব্লু রঙের ওয়ানপিস। 
.
সমুদ্রের জলে ভিজে তার চুলগুলো কপালে লেপ্টে ছিল। সকালের নরম রোদে তার মুখটা যেন আরও মায়াবী লাগছিল।
.
আমার চারপাশটা হঠাৎ স্তব্ধ হয়ে গেল। আমি পলক ফেলতে ভুলে গিয়েছিলাম।
.
হঠাৎ সে জল থেকে মুখ তুলে আমার দিকে তাকাল। আমার সেই তাকিয়ে থাকা তার চোখ এড়ায়নি। সে ভ্রু নাচিয়ে বলল, “এভাবে কী দেখছিস হাঁ করে?” 
.
আমি লজ্জায় তাড়াতাড়ি চোখ সরিয়ে নিলাম। কিন্তু বুকের ভেতর তখন তোলপাড়। প্রথম ভালোলাগার সেই অচেনা ঢেউ, যা ভাষায় বোঝানো যায় না, শুধু ফিল করা যায়। 
.
রাতে ডিনারের পর সবাই যখন রুমে, আমি ব্যালকনিতে এসে দাঁড়ালাম।
.
রাতের সমুদ্র অন্যরকম ম্যাজিক। চারদিক চুপচাপ, শুধু ঢেউয়ের একটানা শব্দ। আকাশে তারার মেলা। 
.
হঠাৎ দেখি পাশের ব্যালকনিতে চন্দনা দি। রুমের হালকা আলোয় তাকে পরীর মতো লাগছিল। সমুদ্রের হাওয়ায় তার চুল উড়ছিল।
.
রাতের নিস্তব্ধতায় তার চুলের সেই মিষ্টি গন্ধ আমার ব্যালকনি অবধি আসছিল। আমার হার্টবিট বেড়ে গেল ডাবল। 
.
সে আমার দিকে তাকিয়ে নরম গলায় বলল, “কী রে, ঘুম আসছে না? শুধু সমুদ্র দেখলেই হবে? সকালে সমুদ্রে যা দেখলি, ভুলে গেলি?”
.
আমি অবাক হয়ে বললাম, “মানে?”
সে মিষ্টি হেসে বলল, “থাক, বুঝেছি। তুই আসলেই বড় হচ্ছিস।”
সেই রাতটা ছিল অদ্ভুত সুন্দর, ভীষণ পবিত্র। আমি সাহস করে ফিসফিসিয়ে বললাম, “চন্দনা দি… একটা কথা বলি?”
.
সে শান্ত গলায় বলল, “বল।”
আমি বললাম, “কিছু অনুভূতি কি সারাজীবন এভাবেই ছোঁয়া যায় না? কেন কিছু মানুষকে চাইলেও নিজের করে রাখা যায় না?”
সে কিছুক্ষণ চুপ করে সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে থাকল। চোখে অদ্ভুত এক গভীরতা। তারপর ধীরে বলল, “তুই তো আর বাচ্চা নোস… বড় হচ্ছিস।
.
.
সেই রাতে আমাদের মধ্যে অনেক না-বলা কথার স্রোত বয়ে গিয়েছিল। কোনো ছোঁয়া ছিল না, কোনো নিষিদ্ধতা ছিল না, কিন্তু একটা আত্মার টান ছিল যা আজও টাটকা।
.
তার সেই নরম কথার রেশ, তার গভীর চোখ, তার চুলের ঘ্রাণ — সবকিছু চোখ বুজলেই ফিরে পাই।
.
আমরা দুজনেই জানতাম এই ভালোলাগার কোনো ঠিকানা নেই, তবুও সেই মুহূর্তে ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে মনে হচ্ছিল সময়টা এখানেই থেমে যাক। 
.
পরদিন সকালে আমাদের দুজনের মুখেই একটা চাপা হাসি। পরিবারের কেউ টের পায়নি আমাদের মনের লেনদেন।
.
ফেরার সময় গাড়িতে ওঠার আগে সে আমার দিকে তাকিয়ে একটা হাসি উপহার দিল, যা আমি আজও বুকের ভেতর লুকিয়ে রেখেছি। 
.
কলকাতায় ফিরে পারিবারিক ফাংশনে আরও কয়েকবার দেখা হয়েছে।
.
কিন্তু মন্দারমণির সেই রাতের কথা আমরা আর তুলিনি। সেটা আমাদের দুজনের সিক্রেট অ্যালবাম হয়েই রয়ে গেল। 
.
আজ অনেক বছর পর। আমি এখন সেটেলড। আমার বউ অর্পিতা ভীষণ লক্ষ্মী মেয়ে, আমাকে পাগলের মতো ভালোবাসে। আমাদের লাইফ দারুণ গোছানো। 
.
তবুও মাঝে মাঝে রাতে একা ব্যালকনিতে দাঁড়ালে, হঠাৎ আসা হাওয়ায় আমি যেন সেই মন্দারমণির নোনা গন্ধ আর চন্দনা দির পারফিউমের স্মেল পাই।
.
মনে পড়ে যায় সেই মায়াবী হাসি, সেই গভীর চাহনি, আর প্রথমবার বুক কাঁপানো সেই অনুভূতি। 
.
জীবনে হাজারটা সম্পর্ক আসবে, হাজার মানুষ ছুঁয়ে যাবে। কিন্তু কিছু না-পাওয়া ভালোবাসা শুধু ডায়েরির পাতায় কবিতা হয়ে বেঁচে থাকে।
এগুলো পাপ না, এগুলো হলো জীবনের সেই জোনাকি, যা অন্ধকারেও আলো জ্বালিয়ে দিয়ে যায়। 
আমি জানি, আপনার বুকের ভেতরেও এমন একটা ‘চন্দনা দি’ ঘুমিয়ে আছে। হয়তো স্কুলের সেই সিনিয়র দিদি, কিংবা কলেজের সেই ম্যাডাম, যাকে দেখলেই হার্ট মিস করত একটা বিট! হয়তো বলা হয়নি কখনো, কিন্তু আজও নামটা মনে পড়লে ঠোঁটের কোণে হাসি খেলে যায়। তাই না? 
পোস্ট টি কেমন লাগলো জানাবেন .!!!
আর হ্যাঁ, বউয়ের রাতের আড্ডার কাহিনী ও আমাদের পাশের বাড়ির কল্পনা বৌদি কাহিনী, এছাড়া

0 Comments