রাতে বাতরুমে যেতে গিয়ে দেখি



🌙রাতে বাতরুমে যেতে গিয়ে দেখি, রূপা খালা পা টিপে টিপে বাবার ঘরের দিকে যাচ্ছেন। আমাকে তিনি খেয়াল করেননি। আমি তো অবাক—নিচতলার খালা এত রাতে দোতলায় কেন? 😨
.
বাবা দরজা খুলে দিলেন, খালা ভেতরে ঢুকলেন... আর ,সেদিন প্রথম বুঝলাম, এই বিশাল ছাদের নিচেও আরো অনেক ঘটনা লুকিয়ে আছে।
.
রাত তখন ৩টে। চারদিক সুনসান, পিনপতন নীরবতা। হঠাৎ পানি পিপাসায় ঘুম ভাঙতেই দেখলাম দোতলার সিঁড়িতে একটা চেনা ছায়া! পা টিপে টিপে বাবার ঘরের দিকে এগোচ্ছে।
.
গ্রামের মানুষের ফিসফাস তবে কি সত্যিই ছিল? দরজার ফাঁক দিয়ে যা দেখলাম, তাতে আমার পায়ের তলার মাটি সরে গেল! 😱🔥
.
আমি আয়ান। সদ্য গ্র্যাজুয়েশন শেষ করা এক বেকার যুবক। মা মারা যাওয়ার পর থেকে আমাদের এই বিশাল তিনতলা বাড়ি আর সংসারের পুরো দায়িত্ব রূপা খালার কাঁধে।
.
খালার আসল বয়স ২৬ হলেও, বাবা সমাজের চোখে সেটাকে ৩৬ বলে চালিয়েছিলেন।
.
আমাদের এলাকার বেশ নামডাকওয়ালা মানুষ ছিলেন বাবা। অভাব কী, তা কখনো বুঝিনি। বাবা থাকতেন দোতলায়, খালা নিচতলায় আর আমার রাজত্ব ছিল তিনতলায়।
.
বেকার জীবনের রুটিন মাফিক সারাদিন টো টো করে ঘুরে গভীর রাতে বাড়ি ফেরাটাই ছিল আমার অভ্যাস।
.
সেদিন রাতে হঠাৎ তেষ্টায় ঘুম ভাঙে। আমাদের ফ্লোরে পানি না থাকায় বাধ্য হয়ে অন্ধকারেই দোতলায় নামছিলাম। হঠাৎ থমকে গেলাম। দোতলার বারান্দায় আলো জ্বলছে।
.
স্পষ্ট দেখলাম, রূপা খালা পা টিপে টিপে বাবার ঘরের দিকে যাচ্ছেন। আমাকে তিনি খেয়াল করেননি। আমি তো অবাক—নিচতলার খালা এত রাতে দোতলায় কেন? 😨
.
বুকের ভেতর তখন হাজারো প্রশ্নের ঝড়। গ্রামের কিছু মানুষের আড়চোখে তাকানো আর কানাঘুষা কি তবে অমূলক ছিল না? এরপরের দৃশ্যটা আমার মাথা এলোমেলো করে দিল।
.
বাবা দরজা খুলে দিলেন, খালা ভেতরে ঢুকলেন... আর সশব্দে দরজাটা বন্ধ হয়ে গেল! 🚪
.
সেদিন প্রথম বুঝলাম, এই বিশাল ছাদের নিচেও কতগুলো গোপন ছাদ লুকিয়ে আছে। তবে আমি সাহস করে কিছু বলিনি, চুপচাপ নিজের ঘরে ফিরে গিয়েছিলাম।
.
পরদিন ভোরে খালা যখন চা নিয়ে এলেন, আমি আর পারলাম না। আজ আমার একটা জব ইন্টারভিউ ছিল।
.
বের হওয়ার আগে খালাকে থামালাম। বললাম, "খালা, আমি তো পর নই। পরিবারেরই একজন। আমি শুধু সত্যিটা জানতে চাই।"
.
আমার কথায় খালা যেন ভেঙে পড়লেন। ডুকরে কেঁদে উঠে বললেন, স্বামী মারা যাওয়ার পর বাবাই তাকে আশ্রয় দিয়েছিলেন।
.
সেই ঋণ, কৃতজ্ঞতা আর একাকিত্বের শূন্যতা থেকেই এই সম্পর্কের জন্ম। সেদিন বুঝেছিলাম, জীবন সবসময় সাদা-কালো হয় না, এর অনেক ধূসর অধ্যায়ও থাকে। 💔
.
সেদিন দুপুরে ইন্টারভিউ দিয়ে ফিরে দেখি বাড়িতে মানুষের ভিড়। বাবা আর ওঠেননি। ডাক্তার জানালেন, বয়সের কারণে ঘুমের ঘোরেই হার্ট অ্যাটাকে তিনি চলে গেছেন। 😭
.
কান্না, শ্রাদ্ধ—সব নিয়ম চুকিয়ে ১৩ দিন পর বাড়িটা আবার নিস্তব্ধ। আত্মীয়স্বজন সবাই চলে গেছে। এই বিশাল বাড়িতে পড়ে রইলাম শুধু আমি আর রূপা খালা।
.
সেদিন রাতে খালা আমার ঘরের দরজায় এসে দাঁড়ালেন। চোখে জল। ধরা গলায় বললেন, "আয়ান, এখন তো আমরা একদম একা হয়ে গেলাম রে।"
.
আমি কাছে গিয়ে বললাম, "খালা, এই বাড়িটা আপনারও। আপনি যতদিন ইচ্ছা এখানেই থাকবেন। কেউ আপনাকে কিছু বলবে না।"
.
খালা ম্লান হাসলেন। বললেন, "তোর বাবা সমাজের ভয়ে আমার বয়স লুকিয়েছিলেন। আমার বয়স মাত্র ২৬।"
.
সেদিন থেকে আমাদের সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায় শুরু হলো। আজ আমি চাকরি পেয়েছি।
.
কোনো নির্দিষ্ট নাম না থাকা এই সম্পর্কে খালাই এখন আমার অভিভাবক, আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু।
সুখ-দুঃখ সব আমরা ভাগ করে নিই। বাবার ভুল, সমাজের চাপ আর দুজনের একাকিত্ব—সব মিলিয়েই তৈরি হলো আমাদের নতুন কাহিনী ।

Post a Comment

ভালোবাসার ডায়েরি একটি বাংলা রোমান্টিক গল্পের ওয়েবসাইট।
এখানে পাবেন হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া প্রেমের গল্প, অসমাপ্ত ভালোবাসা, কষ্ট, অপেক্ষা আর নীরব অনুভূতির কথা।
প্রতিটি গল্প যেন এক একটি ডায়েরির পাতা—
যেখানে লেখা থাকে আপনার, আমার, আমাদের ভালোবাসার কথা।
✍ গল্প পড়ুন
❤️ অনুভব করুন
📖 নিজের ভালোবাসার ডায়েরি খুঁজে নিন।

Previous Post Next Post