মনের_গহীনে_ভালোবাসা
কল্প সিহাবের থেকে বাঁচার জন্য দৌড়ে রুমে ঢুকে দরজা লক করতে চেয়েছিলো। কিন্তু শেষ রক্ষা হয় নি। সিহাবতার আগেই ওর হাত ধরে ফেলে। কল্প ভয়ার্থ চোখে তাকিয়ে আছে। মনে মনে আল্লাহর নাম জব করছে। সিহাব ভাই যা মানুষ না জানি এখন কি করে। সিহাব কল্পের দিকে কঠোর দৃষ্টিতে তাকিয়ে রুমের ভিতর ঢুকে পরে। কল্পের হাত ছেড়ে কোমড়টা এক হাতে পেঁচিয়ে অন্য হাতে দরজা টা লক করে দেয়। হঠাৎ কোমড়ে স্পর্শ পাওয়ায় কল্পের শরীর শহরিত হয়ে উঠে। এই প্রথম সিহাব ভাই তাকে এভাবে স্পর্শ করেছে। বুকের ভিতর হৃদপিণ্ড টা ধুপ ধুপ করছে কেমন। কল্প চোখ দুটো বুজে আছে অস্বস্তিকর অনুভূতিতে। সিহাব কল্পের নেত্রপল্লবে ঠোঁট গোল করে ফু দিলো। কল্পের শরীর জুড়ে বুজি এ পর্যায়ে শীতলতা বয়ে যাচ্ছে। কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বলে ওঠে,
" কি করছেন সিহাব ভাই?
সিহাব ভ্রু কুচায় এহেম কথায় পরপর সন্দিহান কন্ঠে বলে,
" কি করলাম হুম? বিয়ে করলাম হালাল ভাবে ছুঁতে পারবো বলে। তাও তো তুই একটু কাছে আসিস্ না। "
কল্প আমতা আমতা গলায় বলে,
" বি..য়ে..টা তো কেউ জানে না!
" তায় কি হয়েছে। বিয়ে করার পর বুঝি বউয়ের সাথে রোমান্স করবো সবাই কে বলে। "
সিহাবের তেড়া কথায় কল্প একটু মিয়ে যায়। কল্প নিশ্চুপ! কি বলবে এই লোকের সাথে। সত্যিই তো হালাল হয়েও লোকটা নিজেকে কতটা সামলে রাখছে। সিহাব কল্পের চোখের দিকে তাকিয়ে দুষ্টমির ছলে বলে,
" জান! "
কল্প নিস্তব্ধ এ পার্যায়ে সিহাবের কন্ঠে অদ্ভুত সম্মোধন শুনে। সিহাব আবারও ধরা গলায় বলল,
" জান! একটা বার একটু জড়িয়ে ধরছি। আর কিছু চাইছি না তোর কাছে এটাই লাস্ট আবদার। "
কল্প স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। অতঃপর সিহাবের থেকে কিছুটা দূরে সরে যায়। সিহাবের এতে রাগ বাড়লি কি কমলো না। হাত দিয়ে কপাল দু আঙ্গুল দিয়ে স্লাইড করে অতঃপর ধরা গলায় বলে ওঠে,
" আজ তোকে কথা দিচ্ছি আমি সিহাব যদি তোকে আর নিজ ইচ্ছায় ছুঁই তাহলে আমি মানুষ না অমানুষ। যে দিন তুই নিজে এগিয়ে আসবি ওই দিনই তোকে স্পর্শ করবো তার আগে না। "
সিহাবের কথাটা কল্পের খুব গায়ে লাগলো। চোখে ভর করেছে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জল। কান্না আসছে খুব কল্পের। সিহাব পিছন ফিরে যখন দরজার ছিটকানি খুলবে। কল্প তখন নিজের করা ভুলগুলো পিছন ফেলে দৌড়ে সিহাবের প্রসস্থ পিঠ আগলে ধরে। সিহাব প্রথম প্রথম তাল সামলাতে না পারলেও নিজেকে স্বাভাবিক করে নেয় পরপর। শার্ট ভিজে যাচ্ছে পানিতে হয়তো কল্প কান্না করছে। সিহাব চেয়েছিলো কল্প যাতে নিজেই এগিয়ে আসে। কল্পের দিক না ফিরে সিহাব বলে,
" মানছি না এটা অন্যায়! পিছন থেকে জড়িয়ে ধরলে ফিল পাওয়া যায় নাকি। ধরলে সামনে থেকে ধরবি যাতে কোনো দূরত্ব না থাকে। "
কল্প কিছু বলে না। তার লজ্জা লাগছে ছেলেটা তাকে লজ্জা দেওয়ার জন্য উঠে পরে লাগে সব সময়। সে কি বুজে না এতে কল্পের মনে কেমন কেমন লাগে। কল্প সিহাবের পিঠে নাক ঘষে কন্ঠে সুধায়,
" অসভ্য! "
" তোর জন্য অসভ্যের থেকে বড় কিছুও হতে আমি রাজি। "
" উম! আসছে আমার...!
সিহাব ঘাড় ঘুড়িয়ে কল্পের দিকে তাকায়। হাতের সাহায্য কল্পকে নিজের সামনে নিয়ে এক হাতে কোমড় ও অন্য হাতে কল্পের মুখটা চেপে ধরে। পরপর দুষ্ট কন্ঠে বলে,
" কি তোর কথাটা শেষ কর! "
কল্প কথা ঘুড়াতে বলে,
" সিহাব ভাই! "
সিহাব গালটা আর একটু চেপে ধরে শক্ত হাতে। ফলস্বরূপ ঠোঁট দু'টো গোল হয়ে আছে। পিংক পিংক ঠোঁটের ভাঁজে এক পলক চায় সিহাব। গলাটা কেমন হুট করে শুকিয়ে আছে তার। এর আগে কখনো এমন হয় নি। এই মুহুর্তে মনে হচ্ছে পিপাসার জন্য তার পরান টা বের হয়ে যাবে। কল্পের অধরের দৃষ্টি রেখে মাদকের কন্ঠে আওড়ায়,
" কোথায় দিবো বল? এখানে নাকি ওখানে। "
সিহাবের কথায় হতভম্ব কল্প কি বলছে এখানে নাকি ওখানে। সব মাথায়র উপড় থেকে যাচ্ছে। কল্প অবুঝ ভাবে প্রশ্ন করে বসলো,
" মানি? কি দিবেন। "
" ছোট একটা চুমু যেটা দিলে ভাই ডাকটা তোর মুখ থেকে বের হবে না। তাই বলছি কোন জাগায় দিবো। "
কল্প লজ্জা পায়। কিন্তু তার এই লজ্জা বেশিক্ষণ বোধ হয় টিকলো না। নিজের লাজ লজ্জা ভুলে করে বসলো এক অভাবনীয় কান্ড। পা দুটো উচু করে তুলে সিহাবের ঠোঁটে মাঝে নিজের ঠোঁট ডুবিয়ে দেয়। সিহাব ভাবে নি কল্পই কাজ টা করবে। কল্প সিহাবের থেকে হাইটে ছোট বিধায় চুমু থেকে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। ব্যাপার টা বোধ গম্য হলে সিহাব নিজেই কল্পকে উচু করে ধরে। বেশ কিছুক্ষণ গেলে এক সময় কল্পের নিঃশ্বাস আটকে আসে। নিজ থেকে সরে আসতে নিলে সিহাব বিরক্ত হয়। নিজের সাথে মেয়েটার ক্ষুদ্র দেহ টা চেপে ধরে কোনো ভনিতা ছাড়াই অস্থির কন্ঠে বলে ওঠে,
" জান শেষ হয় নি এখনো! অনলি টুয়েন্টি মিনিটস্ মাত্র বাকি টুকু শেষ করতে দে। "
||||
তোমরা সুযোগে সৎ ব্যবহার করে আমারে বিয়ে দিয়েছে। মানা করেছি আমি প্রথম বারের পর। তাহলে এখন কেন এতো জিগ্যেস করছো। বউকে অধিকার দি বা না দি তোমাদের কি? আমি নির্ঘাত ভালো ছেলে তাই মুখ বুজে সহ্য করেছি। ওকে বোনের চোখে ছাড়া আমি কিছুই দেখি, ও আগেও যেমন বোন ছিলো এখনো তেমন। ছোট বেলায় দেখেছো কখনো ওর সাথে আমি বেশি মিশতে। আমার ভালো লাগে না ওকে একদম। বিয়ের পর রুম শেয়ার করছি, বেড শেয়ার করছি এটাই ভাগ্য ওর। এখন যে নিজের মনটাও শেয়ার করতে হবে এটা কোনো পুস্তকে লেখা নেই।
তেজ কড়া গলায় কথা গুলে বলেই থেমে যায়। ইমতিয়াজ সাহেব ছেলের দিকে তাকিয়ে আছে। এ কি দেখছে সে? যে ছেলে মুখের উপর একটা টা টু শব্দও করতো না সে এখন গলা বাজি করছে। শামিমা তেজ কে কিছু বলতে যাবে ওমনি তেজ হাত উঠিয়ে থামিয়ে দিয়ে বলে,
" হয়েছে আমি কোনো কথা শুনতে চাই না! বিয়েটা যখন হয়েছে তখন অধিকার দিবো কিনা আমার ব্যাপার। এই ব্যাপারে আমি একটা কথাও শুনবো না কারো। "
তেজ কথা টুকু বলে আর দাঁড়ায় না। রুম ছেড়ে হনহন করে বেড়িয়ে যায়। দরজার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা রিধি ওড়নাটা হাতে পেচাচ্ছে আর ভাবছি। সত্যি তার মানি বিয়েটা একটা নাটক! তাহলে তো আমার চান্স আছে এখনো ওদের জীবনে সুচ হয়ে ঢোকার। কিসের বিয়ে যখন ছেলেই মানে না। রিধি ঠোঁটের কোণে ক্রুর হাসি রেখে হাতে থাকা ওড়নার অল্প অংশ উড়াতে উড়াতে নিজের রুমের দিকে চলে যায়।
|||
ধূসর আয়রাকে কলেজ থেকে নিয়ে বাসায় ফিরছে। এক হাতে ড্রাইভিং করছে ও অন্য হাত সিটের উপর রেখে দিয়েছে। গাড়িতে থাকা লুকিং গ্লাসে বারে বারে চোখ আঁটকে যাচ্ছে। দুটো হরিণী চোখ জ্বলজ্বল করছে। নিকাব দিয়ে মুখ টা ঢাকা। কিছু সময় যেতে যেতেই বাড়ির ঘেটে চলে আসে। তেজ দু তলার বড় কাঁচের ঘেরা বারান্দায় দাড়িয়ে দাঁড়িয়ে এই অবেলায় কফি খাচ্ছে। ফোনটা তার কানের কাছে হয় তো বা কারো সাথে কলে আছে। ধূসর গাড়ি সাইট করে নিজে গাড়ি থেকে বের হয়। আয়রা বের হতে যেয়ে বাধলো বিপত্তি সিট বেল্ট টা আটকে গিয়েছে খুলতে পারছে না। আয়রা না পেরে ধূসরকে ডাক দেয়,
" ভাইয়া একটু সিট বেল্ট খুলে দেও! আটকে গিয়েছে কিভাবে খুলবো? "
ধূসর চোখ আয়রার দিকে রেখে এগিয়ে আসে। অতঃপর হাত বাড়িয়ে দেয় সিট বেল্ট খুলার জন্য। ধূসর সিট বেল্ট খুলা শেষ হলে হাত বাড়িয়ে দেয় আয়রার দিকে। আয়রা কোনো ভাবনা চিন্তা ছাড়াই ধরে নেয় হাত। ধূসরের হাত ধরে বাড়ির ভিতর ঢুকে যায়। ছোটবেলায় তেজ ওর আশেপাশে না ঘেঁষলে ধূসর সব সময় ওর কাছাকাছি থাকতো তাই আয়রা ধূসরকে তুমি বলেই সম্মোধন করে।
বারান্দায় দাড়িয়ে থাকা এক জোড়া চোখ শুরু থেকে শেষ সবটাই পরখ করেছে। হঠাৎ কেমন রাগ লাগছে! হাতে থাকা কফির গ্লাস টা নিমেেষই চূর্ন বিচূর্ণ হয়ে যায় মেঝেতে পরে। কলে থাকা ব্যক্তি চিল্লিয়ে যাচ্ছে তখন থেকে কিন্তু সে দিকে খেয়াল নেই তেজের। তার চোখের সামনে আপাতত ভাসছে হাত ধরা দৃশ্য সাথে তুমি বলে সম্মোধন। রাগে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে দু তলায় থাকা সোফার উপর দু টো লাথি দিয়ে হনহন করে প্রস্থান ত্যাগ করে।
