মনের_গহীনে_ভালোবাসা

 

মনের_গহীনে_ভালোবাসা

বর্ষার ঠিক মাঝ মাঝ অবস্থা। এই সময় প্রায়ই ভারী বৃষ্টি পাত থাকে। প্রকৃতিতে চলে তান্ডব খেলা। এই সময় প্রকৃতি কখনো নিস্তব্ধ, কখনো চঞ্চল। দূরে ব্যাঙের ডাক, ঝিঁঝিঁ পোকার সুর, কদমফুলের মাদকতা আর বৃষ্টিভেজা বাতাস মিলেমিশে এমন এক আবহ তৈরি করে, যেখানে সময়ও যেন একটু ধীরে হাঁটে। বিগত বেশ কয়েকদিন কক্সবাজার ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। হয়তো বর্ষা শেষ তাই একাধারে বর্ষণ শুরু করেছে। আবহাওয়া আগের তুলনায় খারাপ আজ। নদীবন্দরে ৪ নম্বর সংকেত দেওয়া হয়েছে। এখন ঠিক রাত ৮ টা ছুঁইছুঁই। নদীর তীরে লোক নেই বললেই চলে।
বিকাল থেকে তূর্য একবারও অহনার সাথে কথা বলে নিই। যে ছেলে কথায় কথায় বাজানোর স্বভাব সেই ছেলে চুপ হয়ে গিয়েছে। অহনার মন টা এতে করে বেজায় খারাপ। কত রাত হয়ে গেলো কিন্তু ছেলেটার ফিরে আসার নামও নেই। বাহিরে তুমুল বর্ষণ হচ্ছে এই মুহুর্তে ছেলেটা গেলো কই কে জানে। এদিকে অহনা নিজেকে পরিপাটি করে সাজিয়ে বেডে বসে আছে। পরনে নীল রঙের জর্জেট শাড়ি, ঠোঁটে নুড কালারের লিপস্টিক, পায়ে সুন্দর এক জোড়া নুপুর। ফর্সা শরীরে বেশ মানিয়েছে। এই টুকু সৌন্দয্য কি তূর্য কে পাগল করার মতো নয়! রুমের কোণায় কোণায় ক্যান্ডেল। বিকেল বেলা তূর্য যখন বের হয়েছে তখন এক স্টাফ কে দিয়ে অহনা রুমের এই হাল করেছে।
সময়ের সাথে বৃষ্টির পাল্লা দ্বিগুণ বেরে চলেছে। এখন বেশ চিন্তা হচ্ছে অহনার তূর্যের জন্য। বাহিরে শো শো বাতাস বইছে। রুমে থাকা ক্যান্ডেল গুলো বোধ হয় বাতাসের দাপটে নিভে যাবে এমন অবস্থা। সাথে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। কিয়ৎক্ষন পর রুমের দরজায় টোকা পরে। অহনা ভয়ে ভয়ে পা টিপে দরজার সামনে যায়। প্রথমে চাইলো দরজা টা কি খুলবে নাকি খুলবে না? একবার জিগ্যেস করা উচিত কি কে? অহনা শুকনো ঢোক গিলে অতঃপর মিহি কন্ঠে বলে,
--" কে এসেছেন? "
অপর পাশে থাকা ব্যক্তি কাক ভিজা। বিরক্তিতে মুখ থেকে কথা বের করলো না। ইচ্ছে নেই কথা বলার তার। অহনা দোনামনা করতে লাগলো মনে হঠাৎ কেমন ভয় ও লাগছে। আবার ভাবলো যদি তূর্য ভাই হয় তাহলে! তাই কাঁপা হাতে দরজার লক টা কোনো মত খুলে চোখ খিঁচে দরজাটা খুললো।
অপর পাশের থাকা ব্যক্তি হঠাৎ বোধ হয় হার্টবিট ফাস্ট হয়ে গেলো কোনো এক রমনীকে দেখে। তূর্য আড়চোখে পরখ করলো অহনাকে। নরজ টা এমন যেনো সামনে থাকা নারী দেহের প্রতিটা ভাজ তার চোখ দিয়ে মাপা হয়ে গিয়েছে। অহনা তড়িৎ গতিতে চোখ টা খুলে। সামনে থাকা ব্যক্তিকে দেখে চোখ শীতল হয়ে আসলো। তূর্য পাশ কেটে রুমের ভিতর ঢুকে পরে। অহনা হতভম্ব হয়ে যায় এহেম কান্ডে। রুমে ঢুকতেই চোখ পরে আশেপাশে থাকা ক্যান্ডেল এর দিকে। রুম টাকে আগাগোড়া পরক করে নিলো। বিকেলের দিক থেকে রুম টা যেমন ছিলো রাতের ভিতর সবটাই চেইঞ্জ হয়ে গেলো কিভাবে তূর্য ভেবে পায় না।
অহনা দরজাটা লক করে তূর্যের সামনে এসে দাঁড়ায়। ভেজা শরীরে তূর্যকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখো অহনা চঞ্চল ভাব রেখে তোয়ালে সামনে এগিয়ে দিয়ে বলল,
---" চুলটা মুছে নেও ঠান্ডা লেগে যাবে। "
তূর্য এক নজর শাড়ি পরিহিতা রমনীর পানে চায়। আজ একটু বেশিই সুন্দর লাগছে মেয়েটাকে। তৎপর চোখ সরিয়ে গম গম কন্ঠে তোয়ালে টা নিয়ে বলল,
---" তাতে তোর কি আমার কিছু হলে? "
অহনা অসহায় দৃষ্টিতে তূর্যের পানে চেয়ে মিনমিন কন্ঠে বলল,
----" আমারই তো সব! তোমার কিছু হলে আমি যাব কই? "
তূর্য বুজি কথাটুকু শুনলো! নিমেষেই ঠোঁটের কোণে উজ্জ্বল হলো দুষ্ট হাসি। হাসিটুকু আবার নিমেষেই উধাও হয়ে গেলো। অহনার চোখে চ
পরেছে কিনা তা বোঝা মুশকিল। তূর্য ইচ্ছে করেই শরীরে থাকা শার্ট টা খুলে ফেললো। অহনা কেমন লজ্জায় কাচুমাচু হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো। আচানক বলে ওঠে,
---" ওয়াশরুম আছে কি করতে? জাও ওখাে গিয়ে চেইঞ্জ করো। "
---" ঘর টা এভাবে সাজানো কেন? "
তূর্যের হুট করে এহেম কথায় অহনা কিছুটা ভড়কায়। কি বলবে তাকে? তূর্যের ইচ্ছা পূরণ করতে ঘর সাজিয়েছে! কিভাবে বলবে? মেয়ে হয়ে কি মুখ ফুটে এ গুলো বলা যায়। তূ্যের কথায় উত্তর না দেওয়াতে তূর্য ফের বলে ওঠে,
---" বেহায়ার মতো শাড়ি কেনো পরেছিস? "
অহনা তূর্যের দিকে তাকাতেও পারছে না। শার্টলেস ভাবে আছে ছেলেটা। কেমন অস্বস্তি হচ্ছে! তূর্য দাড়ায় না আর ড্রেস চেইঞ্জ করে রুমে বাম কর্ণারের জানালার কাছে যায়। পকেট হাতরে কিছু একটা খুঁজে। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত জিনিসটা না পেয়ে হতাশ হয়। বুজা হয়ে গিয়েছে ওটা কোথায়। কিন্তু চাইতে পারবে না। বুকের ভিতর জ্বলছে রীতিমতো। এমন একটা মুহুর্তে নিজেকে সামলে রাখা বড়ই কঠিন। মনের নিষিদ্ধ করা কাজ গুলো করতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু আজ সে নিশ্চিত যদি একটু আগায় তাহলে ধ্বংস অনিবার্য। তাই নিজেকে দমিয়ে রেখেছে। হঠাৎ পেটের কাছে শীতল কিছুর স্পর্শ পেয়ে পিছন ফিরে তাকায়। তূর্য বড় করে নিঃশ্বাস নেয়। অহনার ছোঁয়া পেয়ে উম্মাদ লাগছে তার। কিন্তু নিজেকে শক্ত করে শান্ত গলায় বলে,
---" কি হয়েছে এভাবে চিপকে আছিস কেনো? দূরে সর! "
অহনা উত্তর দেয় না। ফর্সা মুখ টা লাল হয়ে আছে। ঠান্ডার ভিতরেও ঘামছে সে। কপালে বিন্দু বিন্দু ঘামের ফোটা বিদ্যমান। তূর্য দূরে সরে আসতে চাইলে হাতে হেচকা টান পরে। কেমন ছিটকে এসে পরে অহনার উপর। একে লজ্জা আবার শাসহ দুটোই মেয়েটা আজ দেখাচ্ছে। তূর্য সন্দিহান কন্ঠে বলল,
---" সমস্যা কি তোর যেতে দিচ্ছিস না কেনো? এতো পোড়াচ্ছিস কেনো আজ। "
অহনা উন্মুক্ত তূর্যের বুকে নাক ঘষে ধীর কন্ঠে বলে,
---" পোড়াবো সাথে নিজেও সেই আগুনে পুড়ে মরবো আজ। "
শান্ত তূর্য ব্যাপার টা বোধ গম্য হতেই মাথায় হানা দেয় নানান হাজারো চিন্তা। মেয়েটাকে আজ মোটেও সুবিধার লাগছে না। তূর্য বাঁকা হেসে অহনার কোমড় টেনে বলল,
---" বুজে শুনে বলছিস তো? "
----" হুম! "
অহনার দিকে তাকিয়ে তূর্য দুষ্ট হেসে বলে,
---" বাট আমার মুড নেই আজ। "
---" আমি আনবো! "
---" সিরিয়াসলি? কিভাবে? "
---" জানি না। "
---" কাছে চাইছিস অথচ জানিস না! "
অহনা হঠাৎ তূর্যের বুকের বাম পাশের মাংসের কামড় বসিয়ে দেয়। আকস্মিক এহেম ঘটনায় তূর্য থমথম খায়। কিছু বলবে ওমনি মেয়েটা দুহাতে শক্তি প্রয়োগ করে ধাক্কা বসায়। তূর্য বেখেয়ালি ভাবে ছিটকে পরে
বিছানায়। শান্ত দৃষ্টি মেয়েটার পানে এখনো। মুখে সে আজ কুলুপ দিয়ে কান্ড দেখছে। ঠিক কতটা উম্মাদ হলে একটা মেয়ে এমন করে। কিছু বলা কওয়া ছাড়ায় উঠে বসে তূর্যের কোলে। ফলস্বরূপ শাড়ির অনেকাংশই উঠে এসেছে। তূর্য সে দিকে এক পলক তাকায়। গলাটা শুকিয়ে আসছে। এই মুহুর্তে তরল কিছু না হলে নির্ঘাত ছেলেটার মরণ হবে। শরীর মন চাইছে অনেক কিছু কিন্তু নিজেকে সামলে রেখেছে।
অহনা তূর্যের মুখ থেকে শুরু করে গলা অব্দি কোনো জাগা বাদ রাখে নিই। শরীরে লাল লাল ছোপ দাগ বসেছে ছেলেটার। অহনা তাদের মধ্যকার দূরত্ব ঘোচালো। শরীরের সাথে মিলিয়ে গিয়েছে। তূর্যের পরুষ স্বত্তা জানান দিচ্ছে অচেনা এক অনুভূতির। নারীদেহের বাঁকানো কোমড়ে হুট করে হাত চলে যায় ছেলেটার না চাইতেও। অহনার শরীরের নরম কিছুর ছোঁয়া পেতেই বড় বড় শ্বাস টানলো। তূর্যের গলার ভাজে মুখ দিয়ে নেশালো কন্ঠে বলল,
---" আদর করুন তূর্য ভাই! নিজ থেকে সমর্পণ করছি তাও কেনো দূরে ঠেলছেন। কাছে টেনে নিবেন না? "
নিজ স্ত্রীর এহেম আবদারে তূর্য স্মিথ হাসলে। অতঃপর আগাম বার্তা ছাড়াই আঁকড়ে ধরলো সিক্ত অধর জোড়া। শরীরের ভর ছেড়ে দেয় মেয়েটা। নিজেও তাল মিলায় পুরুষ নামক নিজ স্বামীর সাথে। তূর্য খেই হারিয়েছে আজ সে কি আর আজ শুনবে কোনো বাধা? সে তো মত্ত এখন কোমল অধরে। দু'হাত নেমে গিয়েছে বেহায়া কাজ গুলোতে। মেয়েটা লজ্জায় কুপকাত তূর্যের লাগামহীন স্পর্শে। এক মুহুর্তে অহনার শ্বাস নিতে কষ্ট হলে তূর্য কিছু সময় থামে অতঃপর শরীরে জড়ানো শাড়ি খানা নিমেষেই এক টানে খুলে ফেলে। পরণে শুধু দু কাপড়, ছেলেটার বুজি সইলো না তাও। আবারও অধরে অধর মিলিত করে কাঁধ থেকে ব্যাকলেস ব্লাউজটা নামাতে নামাতে বলে,
---" খুলে ফেলি হ্যা? ফিল পাচ্ছি না জিনিসটার! "
বুকের ভিতর হঠাৎ দীম দীম আওয়াজ তুললো। অহনা কিছু বলতে যাবে ওমনিই ঠোঁটের উপর আঙ্গুল চেপে ধরে কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বলল,
---" শুনবো না আজ বারণ, মানবো না কোনো বাঁধা, কাজ হাসিল না হওয়া অব্দি। "
তূর্য কথাটুকু বলে কলার বোনের উপর ঠোঁট ছোঁয়ায়। এক একটা আগ্রাসী থাবায় মেয়েটা জমে যাচ্ছে। অথচ দেখো মেয়েটার থোড়াই হিসাব আছে ছেলেটার কই বসা। এমন অবস্থায় যে কোনো ছেলে পাগল হতে প্রস্তুত। তূর্য সে দিকে একবার তাকিয়ে অহনার কন্ঠা থেকে মুখ তুলে বদ্ধ চোখের তাকিয়ে ঠোঁটে ঠোঁট ছুঁয়ে বলে,
---" রেডি মাই ওয়াইফি? "
অহনা কিছু বলার অবস্থাতে নেই। চোখ দু'টো আধ বোজা। মুখে সারাক্ষণ খৈ ফোঁটা মেয়েটা চুপ হয়ে আছে বারে বারে বড় বড় নিঃশ্বাস ছাড়ছে। ফলস্বরূপ বুকের উঠানামা স্পষ্ট। বক্ষ ভাঁজে লুকায়িত অঙ্গটা একবার উপরে উঠছে তো একবার নিচে নামছে। তূর্য বার কয়েক সেদিকে তাকিয়ে মাপ ঝোপ করায় ব্যস্ত। কিন্তু বালাইষাট! কিভাবে করবে? বুজতে অসুবিধা হচ্ছে তার। তাই বুকে মুখ গুঁজে নাক ঘষতে থাকে। পরক্ষণেই একটু দূরে সরে গিয়ে হাতের আঙ্গুল গোল করে চমৎকার একটা সেফ দিয়ে বলে,
---" জিনিস ছোট হোক বা বড় আমার হাতে ছোঁয়ায় উন্নতি আজ নিশ্চিত। "
অহনা পারছে না দৌড়ে পালিয়ে যেতে। তার শরীর তাতে সায় দিচ্ছে না। বার কয়েক নড়াচড়া করে অহনা। কিন্তু দেখো কি কান্ড ছেলেটা দাঁতে দাঁত চেপে বসে আছে। মেয়েটা কি বোঝে না কোথায় বসা এখন। এমন করলে তো এক্ষুনি সব ধ্বংস করে দিবে। তূর্য নারীদেহের প্রতিটি ভাঁজে নিজের চিহ্ন আঁকতে ব্যস্ত হয়ে পরেছে। বুকের ভাঁজে হাত দিতেই অহনা বাঁধ সাধে কিন্তু থোড়াই এই বাধ মানার ছেলে তূর্য আজ? অহনার হাত এক প্রকার সরিয়ে দিয়ে মৃদু চাপ বসায়। অসহ্য যন্ত্রণায় মেয়েটার শরীর বিষিয়ে যায়। কিন্তু কোনো এক জাগায় ভালো লাগার লাগে। তূর্য অহনার নিঃশ্বাসের গতি দ্রুত দেখে আবারও একই জাগায় পুশ করে। এ পর্যায়ে মেয়েটা না পেরে গুঙিয়ে ওঠে,
---"আহ্হ্! "
এহেম শব্দে ছেলেটা নিজের ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙে যায়। পরক্ষণেই হীমশীতল কন্ঠে বলে,
---"আর ইউ কমফোর্টেবল ইন দিস পজিশন? ইটস ইয়োর ফার্স্ট টাইম, সো ইট মাইট ফিল আ লিটল আনকমফোর্টেবল, বাট ডোন্ট ওয়ারি।"
হঠাৎ এহেম কথায় অহনা চমকে ওঠে। শক্ত কিছুর আবাস পেতেই দু-হাতে খামচে ধরে ছেলেটার উম্মুক্ত পিঠ। তূর্য অহনাকে কোলে নেওয়া অবস্থাতেই বিছানায় সটান শুয়ে দেয়। নিজের ভারী শরীরটা মেয়েটার উপর আধশোয়া হয়ে শুয়ে পরে। অহনার সারা শরীর জ্বলে যাচ্ছে,শরীরে নিম্নাংশ বাদে শরীরে অংশে বোধ হয় ছাপ দেওয়া বাকি নেই। কপট মেয়েটাকে ছটফট করতে রেখে তূর্য তৎক্ষনাৎ উল্টে দেয় অতঃপর ব্লাউজ টা এক নিমেষেই ছিটকে পরে রুমের এক কোণে। মেয়েটার সারা পিট জুড়ে চালায় নিজের আধিপত্য। ঘাড়ে পরে থাকা চুল গুলোকে সরিয়ে মুখ ডোবায় সেথায়। অহনার শরীর থরথর করে কাঁপছে। এক হাত চলে গিয়েছে বক্ষ ভাঁজ আড়াল করতে। তাতে থোড়াই আড়াল হলে কি? তূর্য ওইটুকু সইতে না পেরে মেয়েটাকে উল্টো ঘুড়িয়ে দেয়। মুহুর্তেই সামনে দৃশ্য দেখে মুখ হা হয়ে যায়। এহেম তূর্যকে হা করে তাকিয়ে থাকতে দেখে অহনা বেজায় বিরক্ত। একদিকে তার অবস্থা নাজেহাল অপরদিকে দেখো ছেলেটা কেমন হা করে আছো। অসহ্য লাগছে তার!
অহনা তৎক্ষনাৎ হা করা মুখে উপর হাত চেপে ধরে চোখ রাঙিয়ে বলে,
---" কি হলে হ্যা থেমে গেলেন কেনো? আবার হা করে রয়েছেন। "
তূর্য মেয়েটার পাগলামি দেখে এক মুহুর্ত থমকায়! একটু বেশিই অধৈর্য্যে মেয়েটা আজ। কন্ঠে রসিকতা ঢেলে তূর্য মুখের উপর থেকে অহনার হাত সরিয়ে বলল,
---" কি সিনারি দেখালি মাইরি, মুখ তো বন্ধ হওয়ার নামই নিচ্ছে উল্টো ইচ্ছে করতে সবকটা মুখে ভরতে। "
ঠোঁট গোল করে অশ্লীল ভঙ্গি দেখিয়ে তূর্য থামলো। অথচ মেয়েটা লজ্জায় শেষ আজ। ছেলেটা আজ বোধ হয় হাত পা বেধে নেমেছে লজ্জা দিতে। অহনার কোমড়ের উপর উঠে বসা তূর্য। তূর্যের পরনের ট্রাউজার টা বিপদ সীমায়। অহনা সেটা দেখে চোখ খিঁচে রয়েছে। তূর্য অশ্লীল হাসি দিয়ে ট্রাউজার টা একদম লক্ষণ রেখার নিচে নামিয়ে অহনাকে উদ্দেশ্য করে বলে,
---" লুক ওয়াইফি, দেখতো ঠিক আছে কিনা? সইবে তো! "
হঠাৎ তুই থেকে তুমি তে যাওয়া বোধ গম্য হতেই তড়িৎ চোখ খুলে চাইলো। তূর্যের ইশারা করা হাতে দিকে তাকাতেই চোখ কপালে উঠে গেলো। তৎক্ষনাৎ অহনা চেচিয়ে উঠে বলে,
---" ইয়া আল্লাহ, আমি কি আদৌ ও বেচে আছি? "
তূর্য কপালে দু'টো ভাজ ফেলে বিরক্তকর কন্ঠে বলে,
---" উফ্ চুপ চুপ মানুষ শুনতে পাবে। পাশেই তেজ ভাইয়ার রুম তুই কি কেস খাওয়াবি আমাকে? পরে ভাইও শুরু করবে ভাবির সাথে টোনাটুনি। "
অহনা মুখে হাত চেপে চুপ হয়ে যায়। কি বজ্জাত হলে মানুষ এমন কথা বলে নিজের ভাইকে নিয়ে। তূর্য ঝুকে আসে অহনার উপর তৎপর বক্ষভাজের দিক নজর রেখে ঠোঁট কামড়ে বলে,
---" কত সাইজ রে? ব্লাউজ খুলার সময় এক টানে ফেলে দিয়েছি খেয়াল করি নিই। সরি! "
অহনা রক্তিম চোখে তাকিয়ে আছে। অতঃপর কন্ঠে ঝাঁঝ ঢেলে কপট গলায় শুধায়,
---" পাজি লোক সরো সরো উপর থেকে। "
তূর্য ভড়কায় এহেম কান্ডে। তৎক্ষনাৎ বিছানার সাথে হাত চেপে ধরে বলে,
---" সরবো কই হুম? আসল কাজই তো হলো না। আজ রাতে ঘুম হারাম তোর। দয়াল বাবার নাম নিয়ে শুরু করি জান কি বলিস? "
অহনা বার কয়েক ধাক্কা বসায় তূর্যের উপর কিন্তু থোড়াই এক চুলও নাড়াতে পারে নিই। অহনার ছুটন্ত হাত খানা তড়িৎ মাথার উপর তুলে উম্মুক্ত বুকের উপর নাক ঘষে বলে,
---" তখন যে কামড় টা ঠিক যেথায় দিয়েছিস এখন আমিও ঠিক সেথায় দিবো। বাট দ্বিগুণ আদর দিয়ে, আর ইউ রেডি? "
অহনা দুদিকে মাথা নাড়ায়। ইচ্ছে করছে কান্না করতে একে তো শরীরে ছিটে ফোটা কাপড়ের অংশ নেই তার উপর যদি ওমন একটা কামড় সেনসিটিভ জাগায় পরে তাহলে শেষ। সইতে পারবে না অহনা। তূর্য অনহাকে কিছু বলার সুযোগ দেয় না। মুখ ডাবিয়ে দেয় সেই অঙ্গে প্রথম প্রথম আলতো স্পর্শ রাাখলেও পরপর সেটা হয় দ্বিগুণ। হঠাৎ কামড়ের জোড় বাড়াতেই অহনা চেঁচিয়ে উঠে। তূর্য তৎক্ষনাৎ চেপে ধরে মুখ।
গোঙানির শব্দ আর দুজনের শ্বাস প্রশ্বাসের শব্দ ছাড়া কিছুই নেই। বাহিরে তুমুলযুদ্ধে যেমন বর্ষণ হচ্ছে প্রকৃতিতে তেমনই রুমেও দুজনের যুদ্ধ লেগে দিয়েছে। তূর্য হাত নামিয়ে আনে নিচাংশে। কাঙ্ক্ষিত কাজে মনোযোগ দিয়ে শরীরের সাথে শরীর মিশিয়ে অহনাকে বলে,
---" একবার কন্টিনিউ শুরু করতে ভোর ছাড়া থামবো না বেইব। "
অনাকাঙ্ক্ষিত জিনিসের ছোঁয়া পেতেই অহনা ধড়ফড়িয়ে ওঠে। তবুও মুখ চেপে সহ্য করে নেয়। কিয়ৎক্ষণ পর স্বাভাবিক হলে অহনাও তূর্যের সাথে তাল মিলায়। রাত প্রায় ১ টা ছুঁইছুই! মাঝ রাতে অহনার কষ্ট হতে দেখে তূর্য নিজ সেচ্ছায় বলে,
---" বেইক কষ্ট হচ্ছে? আরও চালু করবো? "
অহনা তূর্যকে সরাতে প্রয়াস চালায়। কিন্তু তূর্য সরার লোক কি? যেখানে স্বামীরা থামার কথা বলে সেখানে কিনা লোকটা বলছে চালু করবে। অদ্ভুত তো? প্রায় আরো আধ ঘন্টা চালায় এমন ধস্তাধস্তি। অহনার কান্না ক্রমশঃ বাড়তে থাকে। তূর্য অহনার মাথায় শান্তার হাত বুলিয়ে বলে,
---" আর একটু জান! এমন কান্না করিস না একটু পর ঔষধ খাইয়ে দিবো। তাও কান্না করিস না, তেজ ভাই শুনে ফেলবে ইয়া মাবুদ। বাচাও এই মেয়ের হাত থেকে। "
_____________________
হঠাৎ ঘুম ছুটে যায় তেজের। অসম্ভব উত্তেজনা মুলক স্বপ্ন দেখেছে সে। এই মুহুর্তে এক শাওয়ার না দিলে নির্ঘাত কিছু ঘটে যাবে। পাশে শুয়ে আছে আয়রা কাচুমাচু হ'য়ে। পরণে থ্রিপিস হলদে রঙের। ওড়নাটাও বুক থেকে সরে গিয়েছে ৷ ফলস্বরূপ বক্ষভাজের মাপ করা যাচ্ছে। এমন হালাল একটা বউ থাকা স্বত্তেও আজ তার "Nocturnal Emission" হচ্ছে। তাও মনের নিষিদ্ধ ইচ্ছা গুলো খাটাতে পারছে না। হঠাৎ কিছুর অনাকাঙ্ক্ষিত শব্দে কান সজাগ হয়ে যায়। তেজ না চাইতেও কান চলে যায় দেয়ালের ওপাশে থাকা তূর্য অহনার রুমে। তীক্ষ্ণ মস্তিষ্কের লোক তেজ ব্যাপার টা ধরতে অসুবিধা হয় না। কি চলছে ওপারে রুমে!
প্রায় আধ ঘন্টা ব্যাবধানে ছোট খাটো শাওয়ার নিয়ে গেজ রুমে ঢুকে। মাঝ রাতে হঠাৎ তেজকে শাওয়ার নিতে দেখে আয়রা ঘুম ঘুম কন্ঠে বলে,
---" আপনি মাঝ রাতে গোসল কেনো দিলেন? "
তেজের হার্টবিট মিস হলে এহেম কন্ঠে। স্নিগ্ধ দৃষ্টিতে আয়রার পানে চেয়ে রইলো কিছুক্ষণ। অতঃপর মাথায় চাপলো দুষ্ট বুদ্ধি। মেয়েটাকে বাজিয়ে দেখতে ইচ্ছে হলো তাই গা ছাড়া ভাব নিয়ে বলল,
----"বউয়ের সাথে মাঝ রাতে ফরজ গোসল তো করতে পারবো না। তাই একাই " Nocturnal Emission" এ সেই গোসলের ফিল নিলাম। "
তেজে নির্লজ্জ কথায় গা কাটা দিয়ে উঠলো। মাঝ রাতে ফাজলামি করা দেখে আয়রা ঝাঁঝালো কন্ঠে বলল,
---" আপনাকে ডাক্তার দেখাবো। নিজে ডাক্তার হয়েও বুদ্ধি লুঙ্গির তলে রাখেন। "
তেজ চোখ ছোট ছোট করে বলল,
---" হ্যা তাই তো, ওদিকে তোর বোন আর আমার ভাই লুডু খেলে আর আমি বউ পাশে নিয়েও পারছি না। আর শোন আমি লুঙ্গি পরি না হুম! "
তেজের ঠোঁট কাটা কথায় আয়রা চোখ পাকিয়ে পাশে থাকা বালিশ নিয়ে ছুড়ে দেয় ছেলেটার দিকে। সঙ্গে সঙ্গে তেজ বালিশ টা ক্যাচ ধরে নেয়। ঠোঁটে চুমুর সেফ দিয়ে ফ্লায়িং কিস ছুড়ে দেয়.......

Post a Comment

0 Comments