"সিনিয়র ভাইয়া"

"সিনিয়র ভাইয়া"

 পাত্র হিসেবে ভার্সিটির সিনিয়র ভাইয়া তাহমিদ কে দেখে চমকে উঠলাম। হতবাক, হতোভম্ব হয়ে গেলাম এক মুহূর্তের জন্য। এই মানুষটা এখানে কি করছে? সত্যিই কি উনি এই মুহূর্তে আমার সামনে বসে আছে? নাকি আমি এখনো ঘোরের মাঝে ওনাকে কল্পনা করছি? কারণ উনি তো দেশের বাহিরে ছিলেন। হুট্ করে এখানে আমার সামনে আসবেন কি করে? এখন তো আব্বু-আম্মুর পছন্দ করা পাত্রের থাকার কথা। তাহলে? সত্যিই কি আমি নিজের চোখের ভুল দেখছি? নাকি হেলুজিনেশন হচ্ছে আমার? পুরোটাই কি আমার কল্পনা? কল্পনায় ও বুঝি মানুষ কে এতটা বাস্তব লাগে? এতটা কাছ থেকে অনুভব করা যায়? নিজের চোখকে নিজেই বিশ্বাস করতে পারছি না। অবাক নেত্রে চেয়ে আছি সামনে পাত্র বেসে বসে থাকা মানুষটার পানে। ব্যাক্কেল বনে গেছি তাকে আচমকা দেখে। মনে হচ্ছে ঘোরের মাঝে ডুবে আছি। মিনিট কয়েকের মাঝে কি থেকে কি হলো কিছুই বুঝে উঠতে পারলাম না।

এইতো সকাল বেলা নিত্য দিনের ন্যায় ঘুম থেকে উঠেছিলাম। ভার্সিটিতে ক্লাস থাকলেও যেতে ইচ্ছে করছিলো না। ইদানিং ভার্সিটিতে যাওয়া, মন দিয়ে ক্লাস করা, পড়াশোনা সব এক প্রকার ছেড়ে দিয়েছি বলতে গেলে। যেই আমি সারাদিনে বেশির ভাগ সময় বই নিয়ে কাটিয়ে দিতাম সেই আমিই ইদানিং বইয়ের ধারে কাছেও ঘেসছি না। নিজেকে নিজের কাছে অচেনা অচেনা লাগে। আগের আমি কি ছিলাম আর কি হয়ে গেলাম! একটা মানুষের অস্তিত্ব আমার নিজের সত্ত্বা থেকে আমাকে আলাদা করে দিয়েছে, ভাবা যায়? হুমায়ূন আহমেদ বলেছেন,
"পৃথিবী শূন্যস্থান পছন্দ করে না। তিনি বলেছেন, কিছু না কিছু, কেউ না কেউ শূন্যস্থান পূর্ণ করে দেয় কিংবা দখল করে নেয়"
কথাটা সত্য না। কিছু শূন্যস্থান আজীবন শূন্যই রয়ে যায়। পুরো একটা পৃথিবী ঢেলে দিলেও সেসব শূন্যস্থান আর পূর্ণ হয় না। কিছুতেই হয় না, কোনোদিন হয় না!
তাহমিদ ভাইয়া দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার পর থেকে এই পর্যন্ত কেটে গেছে দুটো বছর, কত শত দিন, কতো হাজার ঘন্টা, কতো কোটি সেকেন্ড পারিয়ে গেছে। সময় বদলেছে, সবাই বদলে গেছে। চারপাশ, চারপাশের মানুষজন সবাই বদলেছে। কিন্তু ওনাকে ভালোবাসার ক্ষেত্রে আমি এখনো সেই আগের মতোই রয়ে গেছি। নিজেকে একটুও পাল্টাতে পারিনি। আর না কাটিয়ে উঠতে পেরেছি মানুষটার মায়া। এখনো সব সময় চোখের সামনে মানুষটার মায়াবী মুখখানা ভেসে ওঠে। আর আমি বারে বার আটকে যাই ওই মায়াবী মুখশ্রীতে। কি ছিলোতার চোখে? তার চাহনি এখনো আমার হৃদয়কে নাড়িয়ে দিতে সক্ষম। স্মৃতির পাতায় ভেসে ওঠে তার সকল স্মৃতি। বার বার স্মরণ হয় অতীতের সেই অধ্যায়.....
সময়টা আজ থেকে গুনে গুনে তিন বছর আগের ঘটনা। এইচ এস সি'র গন্ডি পেরিয়েছি কয়েক মাস হবে। পাবলিকে পরীক্ষা দিয়ে চান্স পেয়েছিলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। কিন্তু আব্বু আমায় সেই ভার্সিটিতে ভর্তি হতে দিবে না। বাসা থেকে ভার্সিটি অনেকটা দূরে, যেতে আসতে সময় অনেকটা চলে যাবে। তার ওপর ধকল ও অনেক হবে। আমার অবশ্য ইচ্ছে ছিলো হোস্টেলে থেকে পড়ার কিন্তু আব্বু তাতে রাজি নয়। কখনো আমার মুখের ওপর কোনো বিষয়ে না করা মানুষটা আমায় মুখের ওপর না করে দেয়। একটা মাত্র মেয়ে হওয়ায় বরাবরই আব্বুর বড্ড আদরের মেয়ে আমি। তাই কখনোই একা বেশি দূর ছাড়তে চায় না। একা না ছাড়ার আরেকটা কারণ হলো আব্বুর ভয়। শান্ত, শিষ্ট, চুপচাপ, ইন্ট্রোভার্ট আমি সব জায়গায় মানিয়ে নিতে পারবো না সেই ভয়। সেই জন্য সব সময় চেষ্টা করে কাছে রাখার। সেই সুবাদে স্কুল, কলেজ দুটোই বাড়ির কাছে। অগত্যা বাড়ির কাছের প্রাইভেট ভার্সিটিতে ভর্তি হতে হলো।
প্রথম যেদিন এসেছিলাম আব্বু এসে ভর্তি করিয়ে দিয়ে গেছে। এরপর আজ প্রথম ভার্সিটিতে আসা। ভীতু পায়ে হেঁটে ভার্সিটির মেইন গেট পেরিয়ে ভিতরে প্রবেশ করতেই নজরে এলো একদল ছেলে বসে আছে বাইকের ওপর। তাঁদের মাঝে একজন বাইকের সাথে হেলান দিয়ে, হাতে চাবির রিং ঘুরাচ্ছে। তার পাশে দুটো মেয়ে। শার্ট প্যান্ট পরনে দেখেই মনে হচ্ছে বড়োলোকের বিগড়ে যাওয়া মেয়ে। তাঁদের সামনে কাচু মাচু করে দাঁড়িয়ে আছে দুজন মেয়ে। দুজনই ভীতু চোখে চেয়ে আছে সামনে বসা ছেলে গুলোর পানে। ঘটনা দেখে মনে হচ্ছে ছেলেগুলো সিনিয়র। জুনিয়র ছেলে মেয়েদের র্যাগ দিচ্ছে। কাঁধের ব্যাগ চেপে শুকনো ঢোক গিলে এগিয়ে যেতে নিলাম। ওদের পাশ কাটাবো এমন সময় পাশ থেকে কেউ বলে উঠলো,
"এই ফ্রেশার। স্টপ"
যেখানে বাঘের ভয়ে সেখানেই সন্ধ্যা হয় টাইপ। মনে মনে এতক্ষন যেই ভয়টা পাচ্ছিলাম সেটাই হলো। কি আর করার! অগত্যা জায়গায় দাঁড়িয়ে পড়লাম।
"এদিকে ঘোরো সুইটহার্ট। তোমার চাঁদ মুখ খানা দেখি। সিনিয়র ভাইয়ারা এখানে বসে আছে আর তুমি তাদের সালাম না দিয়েই চলে যাচ্ছ? মেয়ে সাহস তো কম না? এদিকে আসো"
শেষের কথা গুলো ধমক দিয়ে বলে উঠলো। আচমকা ধমকে কেঁপে উঠলাম। পাশ ফিরে তাকালে খেয়াল করলাম বাইকের সাথে হেলান দিয়ে বসে থাকা ছেলেটা ডাকছে। মাথা নিচু করে মিনিমিনে স্বরে জবাব দিলাম,
"জি ভাইয়া বলুন"
"সিনিয়রদের সালাম কালাম না দিয়ে কোথায় যাচ্ছিলে? ভদ্রতা শেখোনি?"
"সরি ভাইয়া। আমি খেয়াল করিনি"
পাশ থেকে আরেকজন বলল,
"সরি টরি বলে লাভ নেই। শাস্তি গ্রহণের জন্য প্রস্তুত হও"
এখন কি হবে? শুনেছি সিনিয়ররা অনেক হার্ড, হার্ড শাস্তি দেয়। আমাকেও কি তেমন কিছুই দিবে নাকি?
"দোস্ত অনেক দিন আইটেম সং এ নাচ দেখিনা। মনটা সরাসরি লাইভ আইটেম সং এ নাচ দেখার জন্য আকু পাঁকু করেছে। মুরগি যেহেতু পেয়েই গিয়েছি দেখাই যায় কি বলিস?"
পাশ থেকে একজন বিড়বিড় করে বলে উঠলো,
"ভাই জানতে পারলে কি হবে বুঝতে পারছিস? টিসি দিয়ে ভার্সিটি ছাড়া করবে"
বাইকে বসা ছেলেটা ভাব নিয়ে বলল,
"আরে কিছু হবে না চিল! তুই খামোখাই টেনশন নিচ্ছিস"
অতঃপর আমার দিকে ফিরে বলল,
"তুমি দাঁড়িয়ে আছো কেন সুইটহার্ট? স্টার্ট করো"
হাত মুচড়ে যাচ্ছি। কি করবো কিছুই বুঝতে পারছি না। আশেপাশে অনেক ছেলে মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সবাই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তামাশা দেখছে কেউ কিছুই বলছে না। ভয়ে, অস্বস্তিতে কান্না পাচ্ছে।
"কি হলো শুরু করছো না কেন?"
ধমকে কেঁপে উঠলাম। চোখে পানি টল মল করছে। যে কোনো সময় গড়িয়ে পরবে। কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে বললাম,
"আমি নাচতে পারি না ভাইয়া"
"কিন্তু তোমাকে যে নাচতেই হবে ডার্লিং"
কোনো কথা না বলে চুপ রইলাম। ছেলে গুলো কিছুক্ষন কি যেন ভাবলো। অতঃপর পাশে থাকা মেয়েটাকে ইশারা করলো। মেয়েটা খাতা বের করে কিছু একটা লিখলো। পৃষ্ঠা ছিঁড়ে হাতে এক খানা চিরকুট ধরিয়ে দিয়ে বলে উঠলো,
"এখন গেট দিয়ে যে প্রথমে প্রবেশ করবে তাকে চিরকুট টা দিতে হবে"
ওদের কথা শুনে কান্না করে দিলাম। আমার কান্না দেখে ওদের মাঝে যেন আনন্দের রোল পড়ে গেল। একজন বলল,
"কান্না করলে হবে না বেবি, চিরকুট তোমায় দিতেই হবে"
নিজের গালে নিজেরই 'শ' খানেক থাপ্পড় দিতে ইচ্ছে করছে। প্রথমে ওদের সালাম দিলেই তো হতো। কেন যে সালাম দিলাম না? দুরু দুরু কাঁপতে থাকা মনে প্রার্থনা করে যাচ্ছি আল্লাহ যেন একটা মেয়ে আসে। তাহলে আমি এবারের মতো বেঁচে যাবো। কিন্তু আমার ভাবনাকে ভুল প্রমাণিত করে দিয়ে ভার্সিটির গেট দিয়ে সাঁই সাঁই করে প্রবেশ করলো কালো রঙের এক খানা বাইক। বাইকটা এসে সোজা আমার থেকে হাতে গোনা দুহাত দূরে থামলো। আশেপাশে ধুলা উড়ছে।একদম ফিল্মের হিরোদের মতো আগমন তার। আমি অবাক চোখে চেয়ে আছি সামনের দিকে। ছেলেটা হেলমেট খুলে চুল গুলো ফ্লিপ করল। অতঃপর কেশ গুচ্ছ দু হাতের মাধ্যমে ঠেলে দিলো পিছনের দিকে। উজ্জ্বল শ্যাম বর্ণ তার গাঁয়ের রঙ। সূর্যের আলোয় ছেলেটাকে একদম চকলেট বয় লাগছে। লম্বা ফেইস কাটিং, মায়াবী আঁখি, সরু খাঁড়া নাক, বাদামী ওষ্ঠ, জিম করা শরীর কোনো দিক দিয়ে হিরোর চেয়ে কম না। পরনে তার কালো শার্ট, কালো প্যান্ট, ম্যাচিং ড্যানিম জ্যাকেট। ছেলেটা হেলমেট বাইকের ব্যাক সিটের ওপর রেখে এগিয়ে এলো। ভয়ে আমার বুক দুরু দুরু করে কাঁপছে। বাইকে বসা ছেলে গুলো আমার দিকে তাকিয়ে চিরকুট না দেওয়ার জন্য ইশারা করছে। ওদের চাহনির মানে বুঝতে পারলাম না। কাঁপা কাঁপা পায়ে এগিয়ে গেলাম ছেলেটার দিকে। নিজের হাল দেখে নিজেরই কান্না পাচ্ছে। কিছুক্ষণের জন্য কান্নাটা থামলেও আবার কান্না পাচ্ছে। কোনো রকম কান্না চেপে ছেলেটার দিকে এগিয়ে গেলাম। কাঁপা কাঁপা হাতে চিরকুট'টা সামনের দিকে বাড়িয়ে দিলাম।
ছেলেটা ভ্রু কুঁচকে অবাক নেত্রে তাকিয়ে রইলো খানিক ক্ষণ। অতঃপর হাত বাড়িয়ে চিরকুট খানা হাতে নিলো। চিরকুটে কি লেখা আছে আমি নিজেও জানি না। ছেলেটা অদ্ভুত ভঙ্গিতে তাকিয়ে আছে আমার দিকে। তার চাহনি ঝড়ের পূর্বাভাস। শান্ত কণ্ঠে সুধালো,
"চিরকুটা কি তোমার লেখা?"
শান্ত অথচ গম্ভীর কণ্ঠস্বর তার। একদম হৃদয় নাড়িয়ে দেওয়ার মতো। ঘাবড়ে গেলাম আমি। চিরকুটে এমন কি লেখা আছে যার জন্য ছেলেটা এই প্ৰশ্ন করছে? আমি একবার পিছু ফিরে তাকালাম। কোনো উত্তর করলাম না। ছেলেটা হাত উঠালো চড় মারার জন্য। ভয়ে চোখ বুজে এক কান্না করে দিলাম। ছেলেটা আমায় পাশ কাটিয়ে দ্রুত গতিতে বাইকে বসা ছেলেগুলোর দিকে গেল। মুহূর্তের মাঝে ঠাস করে শব্দ হলো। ছেলেটা হুংকার ছেড়ে বলল,
"ওর হাতে কে দিয়েছে এই চিঠি?"
সবাই চুপ কারো মুখে কোনো রা নেই। মুখে কুলুপ এটে বসেছে সবাই। ছেলেটা এই প্রশ্ন পুনরায় করলো তবুও কেউ উত্তর করলো না। হাত ঘড়ির দিকে তাকিয়ে এবার গর্জে উঠে বলল,
"নাম বলবি নাকি সব গুলো মাইর খাবি? তাড়াতাড়ি বল সময় নেই আমার"
অন্য মেয়েটা কিছু বলতে নিলে বাকিদের চোখ রাঙানোতে চুপ মেরে গেল। রাগের তোপে মুখ রক্তিম বর্ণ ধারণ করেছে ছেলেটার। রাগ কন্ট্রোল করতে না পেরে পাশের বাইকে লাত্থি দিয়ে ফেলে দিলো। ছেলেটার এমন আচরণে কেঁপে উঠলো সবাই। এতক্ষন যারা র্যাগ দিচ্ছিলো সবাই এক ঝটকায় দাঁড়িয়ে পড়েছে। সবাই ভয়ে শুকনো ঢোক গিললো। যেই মেয়েটা চিরকুট দিয়েছে সে মিন মিনে স্বরে বলল,
"সরি ভাইয়া। ওকে আমি চিরকুট টা দিতে বলেছি। আমরা জাস্ট ওর সাথে মজা করছিলাম"
"এগুলো কোন ধরণের মজা? এক দিন বলেছি না এই ভার্সিটিতে র্যাগিং নিষিদ্ধ! কথা কানে যায় না? আজ মেয়ে বলে কিছু বললাম না। ছেলে হলে হাত পা ভেঙ্গে রেখে দিতাম"
পাশের ছেলেগুলোকে উদ্দেশ্য করে বলল,
"পড়াশোনা করতে ইচ্ছে না হলে বাসায় চলে যা। এখনে বসে বাচ্চা বাচ্চা ছেলে মেয়েগুলোকে ভয় দেখাচ্ছিস কেন? ওরা পড়তে আসে। তোদের মতো বাপের টাকা ধ্বংস করতে আসে না"
"সরি ভাই। আর কখনো এমন করবো না"
ছেলেটা গম্ভীর কণ্ঠে বলল,
"মনে থাকে যেন। এরপর এরকম কিছু দেখলে সোজা টিসি হাতে ধরিয়ে, ভার্সিটি থেকে বের করে দিবো"
ছেলেগুলো মাথা নেড়ে সায় জানিয়ে চলে গেল। চলে গেল না এক প্রকার গাঁ বাঁচিয়ে গেল বলা যায়। ভীতু আমি তখনো মাথা নিচু করে ফ্যাচ ফ্যাচ করে কাঁন্না করে যাচ্ছি। কান্না করতে করতে হেঁচকি উঠে গেছে আমার। আশেপাশের খেয়াল নেই একটুও। ছেলেটা এবার আমার সামনে এসে দাঁড়ালো। থুতনিতে হাত রেখে মুখ উঁচু করলো। কন্দনরত আমাকে কে দেখে বোধ হয় বড্ড মায়া হলো তার। এতক্ষন কাঁদার ফলে মুখ খানা রক্তিম বর্ণ ধারণ করেছে। কাঁদতে কাঁদতে হেঁচকি উঠে গেছে। ছেলেটা কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলো আমার কন্দনরত মুখপানে। অতঃপর পকেট হাতড়ে রুমাল বের করে আমার হাতে গুঁজে দিয়ে বলল,
"সব সময় ভয় না পেয়ে প্রতিবাদ করতে শেখো। ফ্যাচ ফ্যাচ করে কাঁদলে কেউ আসবে না তোমার হয়ে কিছু বলতে। আর না সব সময় আমি থাকবো তোমায় বাঁচানোর জন্য। সো, নিজের জন্য তোমার নিজেকেই লড়তে হবে"
আমি মাথা নিচু করে চুপ করে আছি। ফের হৃদয় কাঁপিয়ে ফেলা সেই পুরুষালি গম্ভীর কণ্ঠ ভেসে এলো,
"নাম?"
মিনমিনে স্বরে বললাম,
"তাইয়্যেবা"
বিড়বিড় করে বলল,
"উহু, মিস তাইয়্যেবা নয়। মিস ছিচ কাঁদুনে"
মুখে বললেন,
"মিস তাইয়্যেবা এরপর কেউ কিছু বললে প্রতিবাদ করবে। নাহয় তোমাকেই লজ্জায় পড়তে হবে"
আচমকা কাছে এসে ঝুঁকে ফিসফিস কণ্ঠে বলল,
"সবাই আমার মতো ভদ্র ছেলে হবে তার কোনো গ্যারান্টি নেই। তাই সাবধান"
থমকে গেলাম আমি, থমকে গেল সময়, থমকে গেল চারপাশের কোলাহল। কেমন যেন ঘোরের মাঝে চলে গেলাম। আরো কিছু উপদেশ দিয়ে ছেলেটা চলে গেল। আমি তখন এক দৃষ্টিতে ছেলেটার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইলাম। আশেপাশে অনেক মানুষ দাঁড়িয়ে ছিলো। কেউ আসেনি কিছু বলতে কিন্তু এই ছেলেটা এলো পুরো হিরোদের মতো। তার ভাব ভঙ্গিমা, আচার, আচরণ ও কিছুটা হিরোদের মতোই। ছেলেটা মাঠের মাঝ বরাবর যেতেই পাশ থেকে একটা ছেলে ওকে ডেকে উঠলো,
"তাহমিদ ভাই!"

Post a Comment

0 Comments