ছোটোফুপু তূবার জন্য বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এসেছে। পাত্র আগের বিবাহিত। বউ মারা গেছে। বাচ্চা পালন করার জন্যই বিয়ে করতে চায়। অথচ অসাধারণ সুন্দরী তূবার খুত বলতে কেবল ওর মা হওয়ার সম্ভবনা কম। এই সামান্য খুতে তূবার সকল রূপ গুণ ঢাকা পড়ে গেছে। বিয়ে প্রস্তাব এসেছে শুনে তূবা ওর চাচিকে জিজ্ঞেস করল,
'চাচি, তোমার ননদ আজ আবার আমার বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এসেছিলেন?'
'হ্যাঁ।'
'এবার পাত্রের কয় বিয়ে?'
'বাচ্চা জন্ম দিতে দিয়ে বউ মারা গেছে। বাচ্চা পালনের জন্য দ্রুত বিয়ে করতে চায়।'
'বাচ্চা পালনের জন্য বিয়ের কি দরকার? দেশে কি মেইড এর অভাব পড়ছে? বেচারা বাচ্চাটা!'
'আমি না করে দিয়েছি।'
'চাচি, তোমার ননদ এসব নমুনা, আইটেম কোথায় খুঁজে পায়?'
'সে তোর ফুপুকে তুই জিজ্ঞেস করবি।'
'একটা কথা বলো চাচি, বাচ্চা পালনের জন্য বউ কেন প্রয়োজন? যদি বাচ্চাকে ভালোভাবে পালন করতে হয় তাহলে নিজের বাচ্চা নিজে পালন করুক। আরেক বাড়ির মেয়ে কেন অন্যের বাচ্চা কোনো কারণ ছাড়া পালতে যাবে? তার কি ঠেকা পড়ছে যে অন্যের বাচ্চা পালবে, স্বামীর শরীরের চাহিদা মেটাবে। বিনিময়ে কী পাবে? তিনবেলা খাবার আর বছরে দুইবার কাপড়?
এসব পাবার জন্য একটা মেয়ের বিয়ে কেন করতে হবে? সে চাইলে নিজে কাজ করেও খাবার, কাপড়ের চাহিদা মেটাতে পারে। অন্যের স্বামীকে নিজের স্বামী কেন করতে হবে? আর আমাদের সমাজটা দেখো চাচি, বিয়ের পর যদি মেয়েটা প্রথম পক্ষের সন্তানদের শাসন করে তাহলে বলে, সৎ মা বলে এমন করছে। কেন আপন মা কি শাসন করে না?
তুমিও তো আমার মা। মায়ের পর তোমাকেই মা হিসাবে পেয়েছি। তুমি আমার আর তোমার ছেলে তামিমের মধ্যে কোনো ভেদভাও করোনি। উল্টা আমি তো দেখি তামিম তোমার নিজ সন্তান হওয়ায় তুমি ওকে শাসন বেশি করো। সবসময় আমাদের সমান ভালোবেসেছ। সৎ মায়েরা কিন্তু লোক ভয়েই বাচ্চাদের ভুলে শাসন করে না। ফলাফল কী হয়? বাচ্চাটা সঠিক শাসন না পেয়ে বিগড়ে যায়। তখনও দোষ সৎ মায়েদেরই হয়।
মানে ঘুরে ফিরে সব দোষ ঐ মাকেই দেওয়া হয় যাকে সমাজ সৎ মা বানিয়েছে। আমি কারও সৎ মা হতে চাই না। প্রথম কথা বিয়ে করব না। আর বিয়ের পর যদি নিজ সন্তান না হয় তবে হবে না। তবুও কারও সৎমা হবো না। আর সেকেন্ডহ্যান্ড হ্যাজবেন্ড তো একদমই চাই না।'
'মা, তুই কি সত্যি বিয়ে করবি না?'
'জানি না, চাচি। ভয় হয় খুব। যদি কখনও মনে হয় বিয়ে করব তবে তোমাকে বলব। ততদিন তোমার ননদের আনা পাত্রগুলোকে তুমি যেভাবে হোক ভাগিয়ে দিও।'
তামিমা, তূবার কপালে চুমু খেয়ে বলল, 'তোর চিন্তাধারা কত সুন্দর! আচ্ছা তোর উপর কখনও কিছু চাপিয়ে দিব না। তবে তোর বাবাকে তোকে সামলাতে হবে। তাকে আমার খুব ভয় হয়।'
'সেটা তো সামলাবই। এবার বাবা ফিরলে সরাসরি বলে দিব, তার বোনকে যেন বলে দেয়, এ ধরণের উদ্ভট বিয়ের সম্বন্ধ আর না আনে।'
'তা বলিস। এখন মুখ ধুয়ে ওষুধ খেয়ে শুয়ে পড়।'
'আচ্ছা। চাচি, আই লাভ ইউ।'
তামিমা হাসল। মনে মনে বলল, 'অনেক ভাগ্য করলে এমন মিষ্টি মেয়ের মা হওয়া যায়। হে আল্লাহ, মেয়েটাকে তুমি জীবনে খুব সুখী করো। বড় ধরণের দুঃখ, অপূর্ণতা তো দিয়েই রেখেছো, আর দুঃখ দিও না ওকে। এবার ওকে সুখী করো।'
তূবা রুমে ঢুকে ফোনটা হাতে নিতেই দেখল শ্রাবণের মেসেজ। তূবা বিড়বিড় করে বলল,
'একদিকে ছোটো ফুপি, বুড়া বুড়া ব্যাডাগো সম্বোন্ধ নিয়ে আসে। আর একদিকে এই কচি ছেলে আমার চেয়ে ছোটো হয়েও আমাকে লাইন মারে। বড় যন্ত্রণায় আছি এই দু'জনকে নিয়ে।'
তূবা মেসেজের উত্তর দিল,
"আমার শরীর ভালো।"
শ্রাবণ সাথে সাথে মেসেজ করল,
"এত লেইট রিপ্লাই কেন?"
"তোর মেসেজ সাথে সাথে রিপ্লাই করার জন্য আমি কি তোর কাছে চুক্তিবদ্ধ?"
"না, মানে টেনশন হচ্ছিল।"
"আমাকে নিয়ে তোকে এত টেনশন করতে হবে না।"
"স্টোন হার্ডেড গার্ল।"
"হ্যাঁ, তো?"
"তো কিছু না। আমার উত্তর দাও।"
"কিসের?"
শ্রাবণ দুষ্টু হেসে বলল,
"কিস করতে তো বলিনি? আই লাভ ইউ আর উত্তর দাও।"
তূবা রাগ করে বলল,
"ইডিয়েড! আমি কখন বললাম, তোকে কিস করব?"
"তুমিই তো লিখলা কিস এর?"
"গাধা, কিস এর লিখিনি কীসের লিখেছি। তুই দেখছি বাংলায় খুব কাঁচা।"
"কাঁচা না গো। খুব পাকা। পাকা না হলে তোমার পিছনে পড়ে থাকতে পারি।"
"ভাই, তুই আমার পিছু ছাড়তে কী নিবি?"
শ্রাবণ মৃদু হেসে লিখল,
"তোমাকে দিয়ে দাও। পিছু ছেড়ে দিব।"
"বড় বোনকে এমন নজরে দেখে না।"
"ছি! এগুলা কেমন কথা? এখনই তওবা করো। তুমি মোটেও আমার বড় বোন না। হবু স্বামীকে ভাই বলা মস্তবড় পাপ। এখনই তিনবার তওবা করো।"
তূবা মৃদু হেসে নিজে নিজে বলল, 'এবার তোকে বোম মারব।'
তারপর মেসেজ করল,
"শোন শ্রাবণ আমার মনে আছে, তখন তোর বয়স তিন বছর। একদিন কে যেন তোকে মেরেছিল। তুই কাঁদছিলি, তোর নাক দিয়ে পানি পড়ছিল, সেই পানি আবার তুই জিব দিয়ে চেটে চেটে খাচ্ছিলি। লেংটু আর গায়ে একটা স্যান্ডো গেঞ্জি পরে, কেঁদে কেঁদে তোর মাকে খুঁজছিলি, তখন তোকে কোলে নিয়ে আমি কান্না থামিয়েছিলাম। ঘরে নিয়ে গিয়ে তোর চোখ মুখ মুছিয়ে, হাত পা ধুয়ে দিয়েছিলাম, তোকে বিস্কুট খাইয়ে দিছিলাম। সেই তুই বড় হয়ে, তোর সেই বড় বোনের উপ্রে লাইন মারছিস? তোর লজ্জা করে না?"
"না করে না। কারণ তোমাকে আমি বড় বোন মানি না। আর তোমার কাছে লজ্জা কেন করবে? ছোটো বেলায় তো আমার সব গোপন জিনিস দেখেই ফেলছো? আমার টুনটুনি পাখি ধরে পর্যন্ত টানছো, তাহলে এখন আর বাকি কি দেখার? তোমার কাছে তো লজ্জা পাওয়া আমার জন্য হারাম হয়ে গেছে। এখন র্নিলজ্জের মতো তোমাকে চাইতে পারি। শুধু তা-ই নয় যা খুশি বলতে পারি। যেভাবে খুশি চাইতে পারি।"
তূবা নিজেই লজ্জায় লাল হয়ে গেল। মনে মনে বলল, 'কোন বজ্জাতের পাল্লায় পড়েছি? র্নিলজ্জ বেহায়া।'
মেসেজ করল,
"তুই বড় বেহায়া, র্নিলজ্জ।"
শ্রাবণ হেসে উত্তর দিলো,
"বেহায়া, র্নিলজ্জ না হলে নিজের চেয়ে বয়সে বড় মেয়েকে ভালোবাসার দুঃসাহস করি? আর তোমাকে পেতে আমি চরম বেহায়া হতেও রাজি।"

0 Comments