মায়া আর শান্ত সুন্দর করে আরেকটা কেক কেটে নিল। দুজন দুজনকে কেক খাইয়ে দিয়ে ডিনার করতে বসেছে। শান্ত খাবার একটা প্লেটে একটু বেশি করে নিল। সেটা দেখে মায়া চোখ ঘুরিয়ে তাকাল। শান্ত তো সাধারণত এত খায় না!
ভাবনাটা নিজের মধ্যেই রেখে যেই না আরেকটা প্লেট নিতে যাবে, শান্ত বাধা দিল।
— একই প্লেটে খাবো। জাস্ট হাতটা পরিষ্কার করো।
মুচকি হেসে কথাটা বলল সে। শান্তর কথা মেনে মায়া হাত ধুয়ে এসে তার পাশে বসল। একই প্লেট থেকে দুজনে খাওয়ার উদ্যেশ্য। মায়া একটা ভাতের লোকমা বানিয়ে নিজের মু*খে দেওয়ার জন্য তুলতেই দেখল, শান্ত চোখ ছোট ছোট করে তার মুখের সামনে লোকমা ধরে আছে।
মায়া জিভ কাটল। তাড়াতাড়ি করে লোকমাটায় ফুঁ দিতে দিতে শান্তর দিকে এগিয়ে দিয়ে ভ্যা*বলাকান্তের মতো হেসে বলল,
— আসলে গরম তো, তাই ফুঁ দিচ্ছিলাম।
"শান্ত কিছু বলল না। লোকমাটা মুখে নিয়ে চুপচাপ খেয়ে ফেলল। ভাত-তরকারি যে এতটাও গরম নয়, সেটা সে জানে। তবুও আজ আর কোনো বকাঝকা করে এই সুন্দর মুহূর্তটা নষ্ট করতে চাইল না।সেও মায়াকে খাইয়ে দিল। বিপরীতে মায়াও একই কাজ করল।
" খাবার খেতে খেতে শান্তর তৃষ্ণা পেল। কিন্তু কী মনে করে সে সাদা পানি না খেয়ে জুস খেল। সেটা দেখে মায়া মনে মনে বলল,
— পা*গল নাকি।
পরমুহূর্তেই তারও তৃষ্ণা পেল। তাই কিছু না ভেবে পানি খেয়ে নিজেকে শান্ত করল।
____________
" খাওয়া শেষ হতেই, শান্ত লক্ষ্য করল, মায়া খাওয়া শেষ হওয়ার পরও আবার পানি খাচ্ছে। শান্ত নির্জীব চোখে তাকিয়ে রইল।
"পানি খাওয়ার কিছুক্ষণ পর থেকেই মা*য়ার কেমন যেন মাথা ঘুরতে লাগল। চারপাশ ঝাপসা ঝাপসা লাগছে। সে চোখ কচলে আবার সামনে তাকাল।
— দু...দুটো শান্ত? এক অ*সভ্য, অ*ভদ্র দিয়েই হচ্ছিল না, এখন আবার দুইটা হয়ে গেল? এখন আমি কী করব?
কথাটা বলেই ছোট বাচ্চাদের মতো ভ্যা-ভ্যা করে কেঁদে দিল সে।একটু দূরে দাঁড়িয়ে থাকা শান্ত পুরোপুরি হতভম্ব হয়ে গেল। কাদঁছে কেন, আর এইসব কী বলছে মেয়ে? তাড়াতাড়ি করে তার কাছে গিয়ে কাঁধে হাত রাখল।
— আর ইউ ওকে, মায়ুজান?
"মায়া কেমন অদ্ভুত দৃষ্টিতে নিজের কাঁধে রাখা হাতটার দিকে তাকাল। তারপর শিশুসুলভ অভিমানে হাতটা সরিয়ে দিয়ে মুখ ফুলিয়ে বলল,
— আপনি একদম ভালো না। খা*টাস, অভ*দ্র! খালি আমাকে ব*কেন, মা*রেন, আমার সব প্রিয় জিনিস কেড়ে নেন। কিন্তু তাও আপনার প্রতি আমার...
বলেই থেমে গেল সে।
শান্ত আরও একটু কাছে এগিয়ে এল।
— তাও কী, মায়ুজান?
মায়া টলমল চোখে তার দিকে তাকাল।
— তাও আমি আপনাকে ভালোবাসি। তাও ধীরে ধীরে আপনার প্রতি ভালোবাসা হয়ে গেছে। কিন্তু আমি ভালোবাসতে চাই না। কারণ আপনি খারাপ। আমাকে খালি মা*রেন, বকেন।
" অভিমান করে নিজের মনের কথা মুখে আওড়ায় মায়া।শান্ত স্তব্ধ হয়ে গেল মায়ার কথায়। সে দেখছে মায়ার চোখে নে*শাঘো*রের সরল সত্যতা। নিজেও সরল মনে বলল।
— যদি না *মারি, না বকি তাহলে?
মায়া সঙ্গে সঙ্গে বলল,
— তাহলে তো মায়ার একদম লক্ষ্মী, প্রিয় স্বামী হয়ে যাবেন। যে স্বপ্ন মায়া দেখে।
"মায়ার কথা শুনে শান্তর বু*কের ভেতরটা কেঁপে উঠল। নে*শার ঘোরে মানুষ মি*থ্যা বলে না, তাহলে কি সত্যিই মায়া তাকে এতটা ভালোবাসে? নিজেকে সামলাতে না পেরে আবেগে সে মায়াকে জ*ড়িয়ে ধরে বলল,
— আর মা*রব না, বকব না। তোমার স্বপ্নের সেই প্রিয় স্বামী হয়ে যাব। শুধু তুমি আমার পাশে থাকলেই হবে।
মায়া ঠোঁট চোকা করে শিশুসুলভ ভঙ্গিতে বলল,
— তাহলে না বকে একটু আ*দর দিন?
— কী?
শান্ত অবাক হয়ে তাকাতেই মায়া আর কিছু না বলে তার ঘাড়ে মু*খ গুঁজে দিল। শান্ত দাঁত চেপে নিজেকে সামলে নিল। সে বুঝতে পারছে, মায়া সম্পূর্ণ নে*শাগ্র*স্ত। এই অবস্থায় সে কী বলছে, কী করছে নিজেও জানে না। শরীর, মন মিলিয়ে ভেতর অদ্ভুত এক দ্বন্দ্ব শুরু হলো।
" হঠাৎ মায়া শান্তর ঘাড়ে কামড় বসিয়ে দেয়। দাঁত চেপে শান্ত সহ্য করে। মা*তাল মায়া সে কি করছে কি বলছে নিজেকে জানেনা। শান্তর মনের মাঝে ভয় সে না আবার কোনো ভুল করে। ঠিক তাই হলো মায়া তাকে সিডিকিউস করার চেষ্টা করছে।
" মায়া শান্তর গলায় ছোট ছোট চু*মুতে ভরিয়ে দিচ্ছে। তামাঝে অবাক এক কাণ্ড করে বসে। এক টানে শান্তর শার্ট ছিঁ*ড়ে খুলে ফেলে। মুহূর্তে মুখ ডুবিয়ে দেয় শান্তর বু*কে।
"ব্যাস শান্ত আর নিজেকে সামলাতে পারেনা।এতক্ষণ হাত মুঠো করে সাথে দাঁত চে*পে সহ্য করেছে। এইবার আর পারেনা নিজেও কেমন উ*ন্মাদ হয়ে, মায়ার কাঁধে গলায় চু*মুতে চু*মুতে ভরিয়ে দেয়। নিজেও মেতে উঠে মায়াকে নিয়ে। হঠাৎ করে মায়াকে কোলে নিয়ে ছাদে সেই সাজিয়ে রাখা দুলনায় শুইয়ে দেই। এক টান মেরে মায়ার শাড়ির আঁচলটা খুলে নেয়। কি মনে করে ঝুঁকে মায়ার কানে কানে গিয়ে বলে।
__ May I, Mayujan !
" প্রতিউত্তরে মায়া কিছু বলেনা শ*ক্ত করে শান্তকে জ*ড়িয়ে ধরে। শান্ত আর কোনো কিছুর অপেক্ষা না করে মে*তে উঠে মায়াকে নিয়ে। আস্তে আস্তে সরে যায় দুইজনে শরীরের জড়িয়ে থাকা পাতলা সেই বস্তু। উ*ম্মাদ*নায় মায়া শান্তর চু*ল খিঁ*চে ধরে। এতে যেনো শান্ত আরো বেশি পা*গল হয়ে যায়। ছোট্ট ছোট্ট চুমুতে ভরিয়ে দিতে থাকে মায়ার উরুতে।
" চারপাশে রাত আরও গভীর হচ্ছে। রাত যতো গভীর হয় শান্ত ততো বেশি বেপরোয়া হয়ে যায় মায়াকে নিয়ে। ছাদের ওপরে হালকা বাতাস বইছে। দূরের শহর নিস্তব্ধ। আর সেই নিস্তব্ধতার মাঝেই ছাদে আছে দুটো মানুষ, তাদের ভালোবাসা, অভিমান আর না-বলা হাজারো অনুভূতি একজন একজনকে বিলিয়ে দিচ্ছে।
"সকালে"
"ভোর অনেক আগেই পেরিয়ে গেছে। জানালার ফাঁক গলে আসা রোদের আলো পুরো ঘরটাকে আলোকিত করে তুলেছে।মায়া পিটপিট করে চোখ খুলল। মাথাটা ভা*রী লাগছে। শ*রী*রেও অদ্ভুত ক্লা*ন্তি। চোখ খুলে চারপাশে তাকাতেই সে বুঝতে পারল, নিজের রুমে আছে। কিন্তু তার স্পষ্ট মনে আছে, শেষবার সে ছাদেই ছিল। শান্তর সঙ্গে ডিনার করছিল। তারপর...তারপর আর কিছুই মনে পড়ছে না।মায়া কপালে হাত চেপে ধরল। অনেক চেষ্টা করেও রাতের বাকি ঘটনাগুলো মনে করতে পারল না।আশেপাশে শান্তকে খুঁজল সে। কিন্তু রুমে কোথাও তার দেখা নেই।দেওয়াল ঘড়ির দিকে তাকাতেই চমকে উঠল।
— এগারোটা বেজে বিশ।
এত দেরি পর্যন্ত সে কখনো ঘুমায় না। তাড়াহুড়ো করে বিছানা থেকে নামতে গিয়ে সারা শ*রী*রে তীব্র ব্য*থা অনুভব করল। ব্য*থায় চোখ বন্ধ হয়ে এল তার। ধীরে ধীরে নিচের দিকে তাকিয়ে দেখল, তার পরনে শান্তর সাদা শার্ট।মুহূর্তেই বু*কের ভেতরটা ধক করে উঠল।কিছু একটা ভাবতেই তার হাত-পা ঠান্ডা হয়ে গেল। ধীরে ধীরে বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়াল সে। শ*রী*রের ব্য*থা উপেক্ষা করে টলতে টলতে ওয়াশরুমের দিকে এগিয়ে গেল।
"ওয়াশরুমে ঢুকে আয়নার সামনে দাঁড়াতেই থমকে গেল।এলোমেলো চুল, ফ্যাকাসে মুখ, ক্লান্ত চোখ, নিজেকেই যেন চিনতে পারছে না সে। বুকে*র ভেতর অজানা আতঙ্ক জমতে শুরু করল। তার সাথে অনেক কিছু ঘটে গেছে, অথচ সে কিছুই মনে করতে পারছে না। এক পা পিছিয়ে আয়নার দিকে তাকিয়ে রইল। শ*রী*রের দিকে তাকিয়ে হঠাৎ করেই চোখ ভি*জে উঠল। পরমুহূর্তেই দুহাতে মুখ চেপে ধরে ডুকরে কেঁ*দে উঠল।কাঁপা কণ্ঠে নিজেকেই প্রশ্ন করল,
— তবে কি...?
কথাটা শেষ করতে পারল না সে।চোখ থেকে টপটপ করে পানি পড়তে লাগল। মনে হতে লাগল, শান্ত কি আবারও তার মতামত বা অনুভূতির কথা না ভেবে নিজের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিল?

0 Comments