ইশকে_মহব্বত

ইশকে_মহব্বত


বধু সাজে ১৫ বছরের অরু বা'স'র'ঘ'রে বসে আছে। প্রায় এক ঘন্টা পার হয়ে গেলো অরুকে বাসর ঘরে এনে বসিয়ে রেখেছে। কিন্তু আবিরের আসার কোনো নাম নেই। এই দিকে অরু মনে অজানা ভ'য় আর পি'রি'য়ডের অ'সহ্য য'ন্ত্রণা নিয়ে বসে আছে। শরীর টাও ভালো লাগছে না। মনে এতটা আশঙ্কা থাকতো না। যদি না শরীর টা ভালো থাকতো। আ'তঙ্ক টা ক্ষনে ক্ষনে বেড়েই চলেছে। অচেনা একজন মানুষ। তার উপর ওনার পুরো অধিকার আছে আমার উপর। সে যদি চায় আমি কি না করতে পারবো।
সে তো আর একটা মেয়ের এই অ'সহ্য'নীয় য'ন্ত্রণার কথাটা বুঝতে পারবে না। সে তো নিজের ক্ষু'দা টা নিবারন করবে। এতে যে আমার জীবনটা বে'রিয়ে যাওয়ার মত অবস্থা হয়ে যাবে। এসব ভাবতে অরুর ভ'য় যেনো বেড়েই যাচ্ছে। হঠাৎ করে কারোর আশার শব্দ শুনে বুঝতে আর বাকি রইলো না আবির আসছে। দরজার শব্দ শুনেই অরুর বুকের ভিতর কেঁ'পে উঠলো। ভ'য়ে তার পুরো শ'রীর কা'পতে থাকে।
অবশেষে সব অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বাসর ঘরে প্রবেশ করলো আবির। ভ'য়ে সে নড়াচড়া করার মতো শক্তি টুকুও হারিয়ে ফেলেছে! আবির রুমের দরজা লক করতেই দেখলো অরু ঈ'ষৎ কেঁ'পে উঠল।
আবিরের হাতে একটা বেগ ছিলো। আবির বেগ টা অরুর দিকে দিয়ে বলল- এটা তোমার জন্য। আর কতক্ষণ এই মোটা শাড়ি টা পড়ে থাকবে চেঞ্জ করে নাও এবার। এই কথা বলে আবির ওয়াশরুম চলে গেলো ফ্রেশ হওয়ার জন্য। আবির চলে যাওয়ার পরে অরু বেগ টা হাতে নিয়ে খুলে দেখে একটা সুতি ওয়ান পিচ জামা সাথে একটা প্লাজু সাথে একটা প্যাকেট করা জিনিস। প্যাকেট খুল দেখে যে একটা ন্যা'পকিনের প্যা'কেট। কিছুক্ষণ নিস্তব্ধ হয়ে হয়ে বসে রইল অরু । মাথায় কিছুই আসছে না। লোকটা বুঝলো কি করে?অরুর মাথায় শুধু এটাই ঘুরপাক খাচ্ছে। কিছুক্ষণের মধ্যে আবির ফ্রেশ হয়ে বাহিরে আসলো। আর খাটের এক কোণে বসে বসে ফোন টিপছে। কেউ কোনো কথা বলছেনা। একটু পরে অরু লাজুক কন্ঠে বলল -- আপনি জানেন কি ভাবে আমার যে এটা লাগবে?
আবির একটা মুচকি হাসি দিয়ে বলল -- আসলে আমি অনেক আগেই বুঝতে পেরেছিলাম। যখন তোমাকে আমার পাশে বসানো হয়েছিলো। আমি তখনই তোমার অস্থিরতা দেখেই বুঝতে পেরেছি।
-- ওহ বাট অস্থিরতার তো অন্য কারণ ও থাকতে পারে তাইনা?
-- হুম বাট বার বার পেটে হাত দেওয়ার কারণ তো আর অন্য কিছু হতে পারেনা?
আবিরের কথা শুনে অরু তো পুরাই অবাক হয়ে গেলো। অরু মনে মনে ভাবতে থাকে লোকটা তার এতো কিছু খেয়াল করলো! অথচ সে বুঝতে ও পারেনি।
অরুকে চুপচাপ থাকতে দেখে আবির বলল - ভয় পাওয়ার কিছু নেই। তুমি আমার স্ত্রী আর সব থেকে বড় কথা হলো কারো ভালো স্বামী হতে গেলে আগে ভালো বন্ধু হতে হয়। তুমি আমার কাছে তোমার সব কিছুই শেয়ার করতে পারো কোনো সমস্যা হবে না।
অরু আবিরের কথা শুনে একটু খুশি হলো। তার ভিতরে ভয় কাজ করছে। আবির অরুকে বলল --
-নাম কি তোমার?
অরু কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বললো--জ্বি আমার নাম অরু।
আবির বুঝতে পারলো অরু ওকে প্রচন্ড ভয় পাচ্ছে। তাই সে অরুর ভয় দূর করার জন্য বললো-
--মাথায় এতো বড় একটা ঘোমটা টেনে রেখেছো কেনো? লজ্জায়?
অরু আগের মতোই কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বললো- জ্বি না!
--তাহলে এমন জড়সড় হয়ে মাথায় ইয়া বড় একটা ঘোমটা টেনে বসে আছো কেনো? নরমাল ড্রেস পরে নাও।
অরু তবু আগের মতোই বিছানার এক পার্শ্বে গুটিশুটি মেরে বসে রইলো। মেয়েটা খুব ভয় পাচ্ছে। ভয়ে কোনো কথাও বলছেনা। অরুর এমন আচরনে এবার আবিরের কিছুটা হাসি পেলো। কিন্তু সে হাসি চেপে রেখে বললো- ভয় নেই! আমি তোমায় স্পর্শ করবোনা। তুমি নির্দ্বিধায় ড্রেস চেঞ্জ করে এসে ঘুমুতে পারো!
আবিরের কথায় যেনো অরু প্রান ফিরে পেলো। সে গুটি গুটি পায়ে ওয়াশ রুমে গেলো ড্রেস চেঞ্জ করতে। কিছুক্ষণ পরে অরু ড্রেস চেঞ্জ করে এসে খাটের এক কোণে বসে রইল। অরুর মন থেকে ভয় অনেক খানিই কেটে গেলো। আবির অরুকে বলল-- এই রাত টা আমাদের জন্য স্পেশাল একটা রাত। এই রাত আমরা স্পেশাল করে রাখতে পারি। আবির অরুকে বলল -- আজ আকাশে খুব সুন্দর চাদ উঠেছে সাথে তারা ও জলছে চলো আমরা ছাদে গিয়ে গল্প করি।
অরু (মনে মনে খুব খুশি) - হুম চলুন আপনাকে ও আমার কিছু বলার আছে
ছাদের এক কোণে দুজনে বসে আছে। আবির অরুকে বলল -- আজ আকাশ ও চাদকে যতটা সুন্দর লাগছে তার চেয়ে বেশি সুন্দর লাগছে তোমাকে, ঠিক যেন আমার স্বপ্নপরি যাকে আমি চেয়েছিলাম জীবনে। তাকে আমি পেয়েছি। তোমার রেসমি কালো চুল গুলা যদি খুলে দিতে তাহলে আরও ভালো লাগত!
আবিরের মুখে এমন কথা শুনে অরু খুব লজ্জা পেয়েছে খুশিতে মনটা ভরে উঠেছে। সে চুল গুলো খুলে দিল হালকা বাতাসে উড়ছে চুল গুলো আবির সেই সৌন্দর্য অপলকভাবে তাকিয়ে উপভোগ করছে।
--অরু আজ থেকে তোমার আমার নতুন জীবন শুরু। এতদিন তুমি ছিলে একটা বাড়ির মেয়ে আর আজ থেকে তুমি একটা বাড়ির বউ, একজনের স্ত্রী। আজ থেকে তোমার জীবন কাটামো অন্যরকম ভাবে শুরু করতে হবে। তোমার হাতে তুলে দেয়া হল একটা সংসারের চাবিকাঠি। আজ থেকে তোমার অনেক দায়িত্ত্ব। অরু তুমি ভয় পেও না। এই সংসার যোদ্ধে তুমি একা নয় আমি তোমার সহযোদ্ধা। আমরা দুজনে মিলে গড়ে তুলব একটি সুন্দর সুখি পরিবার। অরু এ বাড়ির সবার সাথে তোমাকে মিলে মিশে চলাফেরা করতে হবে। ছোট বড় সবার সাথে বিশেষ করে আমার মা বাবার সাথে তোমাকে ভাল সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে এমন সম্পর্ক গড়ে তুলবে যাতে সবাই তোমাকে এ বাড়ির বউ মনে না করে এ বাড়ির মেয়ে মনে করে তোমার ভালবাসার মায়া জাল দিয়ে ধরে রাখবে সবাইকে। দেখবে তোমার জীবন খুব সহজ হয়ে যাবে।
আমরা শুধুই ভাল স্বামী স্ত্রী হব না, আমরা খুব ভাল বন্ধুও হব সুখে দুঃখে দুজনে মিলে মিশে রব একহয়ে। সংসার জীবনে অনেক রাগ অভিমান হতে পারে তাই বলে আমরা ভুল বুঝে একে অপরকে ছেড়ে দুরে যাব না বিশ্বাস নিয়ে সামনে এগিয়ে যাব অল্প রাগ হালকা অভিমান মাঝে মাঝে একটু ঝ'গ'ড়া অটুঠ বিশ্বাস আর অফুরন্ত ভালবাসায় ভরপুর থাকবে আমাদের জীবন।
- অরু বললো আপনি আমার উপর বিশ্বাস রাখবেন আমার পাশে থাকবেন ভালোবাসা দিয়ে সুখ দুঃখে বুকে আগলে রাখবেন। আজ থেকে এই সংসারের দায়িত্ত্ব আমার। নিজের মনের মত সাজিয়ে আপন করে নিব এই সংসারকে আমি আপনার ভালবাসায় আল্লাহর রহমতে সবার দোয়াতে এই সংসারকে সবসময় সুখি রাখতে চেষ্টা করব।
- আবির বললো তোমার কথা শুনে আমার মন ভরে গেল। এবার তোমার কথা বল??
- আমাকে খুব ভালবাসতে হবে কখন ও অবহেলা করতে পারবেন না। আপনার বুকে ঠাই দিবেন আপনাকে পাচ ওয়াক্ত নামাজ কায়েম করতে হবে,
ভোর বেলা আমার পাসে বসে আমার কন্ঠে কোরয়ান তিলায়াত শ্রবণ করতে হবে।আমি আপনাকে খুব শাসন করব, জ্বালাবো আপনাকে,
অনেকটা অগোছালো থাকতে হবে, আমি গোছিয়ে দিব বলে, আপনার কাছ থেকে আমি বেশি কিছু চাই না আমার ছোট ছোট আবদার গুলা পুরন করলেই আমি খুব খুশি হব। আপনার ক্লান্ত মুখের ঘাম আমার শাড়ির আচল দিয়ে মুছতে দিবেন, তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরবেন আমার চুলের খোপায় বেলিফুল গেথে দিবেন। আর হে আমাদের রুম এর জানালার পাসে বেলিফুল আর হাসনাহেনা ফুল গাছ লাগাবেন, চাদনি রাতে ছাদে গিয়ে আমেকে গান, কবিতা, গল্প শুনাতে হবে। মনে রাখবেন নীল রং আমার খুব প্রিয় আর হে জন্মদিন বিবাহ বার্ষীকীতে আমাকে শুভেচ্ছা জানাতে ভুলবেন না।
মাঝে মাঝে আমাকে নিয়ে বেড়াতে যেতে হবে নদীর তীরে হাতে হাত রেখে হাটতে হবে , বৃষ্টির দিনে কিন্তু আমাকে নিয়ে ভিজতে হবে, আর বেশি কিছু বলতে চাইনা বাকিটা আপনার ভালোবাসা দিয়ে বুঝে নিবেন। আমি আপনার সব কিছুতেই বিরাজ করতে চাই, আমি শুধু আপনার হব আপনি শুধু আমার হবেন।
- আমি আমার কল্পনাতে আমার স্বপ্নে আমার মনের মাঝে এই রকম মেয়ে সাজিয়ে রেখেছিলাম, তুমি সেই আমার স্বপ্নের রাজকুমারি, আমার সুখের বৃষ্টি। আমার বাহু ডোরে বুকের মাঝে সারাজীবন শুধু তুমি থাাকবে।
চলবে?
গল্পটা কেমন লাগছে মতামত জানাবেন, আপনাদের মতামত পেলেই লেখার আগ্রহ বাড়ে। ভুলত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন আসসালামু আলাইকুম।
See less

Post a Comment

0 Comments