অবেলায়_আগমন

 

অবেলায়_আগমন

ফারিশ গেইট দিয়ে বেরিয়ে যাবে সে সময় প্রাপ্তি ফারিশকে দেখতে পেল।ফারিশকে দেখেই প্রাপ্তি আদো আদো স্বরে বললো,

" ওই বাইয়া শুনো শুনো দালাও দালাও ইত্তু। "
ফারিশ প্রাপ্তির মুখের আদো আদো কথায় থামলো।
প্রাপ্তি দৌড়ে ফারিশের কাছে যাওয়ার সময় ঠাস করে উল্টে পরলো। পরেই সে কান্না জুড়ে দিয়েছে।ফারিশকে দেখে মনে হচ্ছে সে যেন মহাবিপদে ফেঁসে গিয়েছে। ফারিশ চোখ মুখ কুঁচকে না পেরে একরকম বাধ্য হয়ে প্রাপ্তির কাছে গেল।
ফারিশ প্রাপ্তির কাছে গিয়ে প্রাপ্তিকে এক হাতে টেনে তুললো। ফারিশ মেয়েটার দিকে তাকিয়ে বলল,
" কিরে ভেবলি পরলি কেমনে?এমনিতে তো সারাদিন পাঁকা পাঁকা বুড়ির মতো কথা বলতে দেখি। দৌড় দিতে গিয়েও পড়ে যাস,শরীরে শক্তি নেই?"
প্রাপ্তি কান্না থামিয়ে ফারিশকে বললো -
" আমাল অনেক সকতি । তুমাল চেয়েও বেসি।"
ফারিশ তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে ঠোঁট বাঁকালো-
" আচ্ছা তাই নাকি? তাহলে পরে যাস কেন?
প্রাপ্তি নাক টেনে বলল-
" তুমাল কাছে যাওয়ার জন্যই তো আমি পলে গেচি।"
ফারিশ ঠোঁট উল্টিয়ে বলল-
" আমি কি বলে ছিলাম,আমার কাছে আয় তুই? তুই তো দৌড় লাগালি আর পড়লি।"
প্রাপ্তি হাটু ধরে ফারিশের দিকে তাকিয়ে বললো-
" জ্বালা করচে বাইয়া। "
মেয়েটা এবার কেঁদে দিল,"এ্যা এ্যা এ্যা "
প্রাপ্তির আবার হঠাৎ করে কান্না করে দেওয়ায় ফারিশ কিছুটা ভরকে গেল।ফারিশ প্রাপ্তির মুখের দিকে তাকিয়ে দেখলো,প্রাপ্তির বড় বড় চোখ জোড়া অশ্রুতে টুই টম্বুর হয়ে আছে। ফারিশের কিছুটা খারাপ লাগলো।হঠাৎ প্রাপ্তির ছোট মুখটায় যেন ফারিশ তার ফুফির মুখের আদলের মিল পেল।
ফারিশ প্রাপ্তির জামাটা ঝেরে দিতে দিতে বলল-
" আচ্ছা আচ্ছা কান্না থামা। দেখি কোথায় ব্যাথা পেয়েছিস?"
ফারিশ দেখলো প্রাপ্তির হাটুর ছাল উঠে একদম লাল হয়ে গিয়েছে। ফারিশের মায়া লাগলো একটু।ফারিশ উঠে দাড়িয়ে প্রাপ্তিকে কোলে তুলে নিল। ইট বাঁধানো বাড়ির প্রবেশ পথটাই পড়ে গিয়েছে বলেই প্রাপ্তি বেশি ব্যাথা পেয়েছে।ফারিশ প্রাপ্তিকে কোলে নিয়ে বাড়ির দিকে হাটা ধরলো। প্রাপ্তিকে কোলে নিয়ে ফারিশের মনে হচ্ছে সে যেন স্পঞ্জের ন্যায় অতি কমল কিছুকে জড়িয়ে ধরে আছে।একদম তুলোর ন্যায় নরম।যেন কোথাও তার শক্ত হাত পড়লেই তা গলে যাবে।ফারিশ যেন জীবনের প্রথম এত কমলতা অনুভব করলো।
ফারিশ মনে মনে বলল,
" এতো তুলতুলে মানুষ হয় বুঝি। "
_
ফারিশ প্রাপ্তিকে কোল থেকে নামিয়ে সোফায় বসিয়ে দিল।পারভীনকে ডাকতে লাগলো ফারিশ।
" ছোট আম্মু কোথায় তুমি তোমার মেয়ে ব্যাথ্যা পেয়েছে এদিকে এসো।"
কারো কোনো সারা শব্দ পেলনা ফারিশ।
আশে পাশে কিচেনে বা ড্রয়িং রুমে কেউ নেই। ফারিশের কাউকেই চোখে পড়ছে না। সে বুঝলো হয়তো সবাই নামাজ পড়ে আবার ঘুমিয়েছে ।কারণ এখন মাত্র ছয়টা বাজে।আর এই পাঁকনি বুড়িটা মনে হয় দরজা খোলা পেয়ে একা একা বাগানে চলে গিয়েছিল।
ফারিশ প্রাপ্তির দিকে তাকিয়ে বলল-
" তোর আম্মু কোথায়?"
প্রাপ্তি রিনরিনে আওয়াজে বলল-
" আম্মু ঘুমায়তাচে।"
ফারিশ এবেলায় বিরক্ত হয়ে বলল-
" তাহলে তোর ঘুম নেই কেন? তুই না ঘুমিয়ে বাগানে কি করতে গিয়েছিলি? "
প্রাপ্তি ফিচেল হেসে বলল-
" ফুলের সাতে কতা কুইতে গেচিলাম। "

Post a Comment

0 Comments