.
হঠাৎ ভরদুপুরে ফোন করে যখন কেউ বলে, "দাদা বাড়ি নেই, আজ দুপুরে তুই আমার এখানেই খাবি"—তখন না করার কি কোনো উপায় থাকে?
.
তবে সেই ভরপেট লোভনীয় দাওয়াত খেতে গিয়ে যে শেষমেশ আমাকে অন্যের লুঙ্গি পরে বসে থাকতে হবে, এমনটা স্বপ্নেও ভাবিনি! 
.
আজ দুপুরে বৃষ্টি বৌদির ফোন পেয়ে সোজা হাজির হলাম ওদের ফ্ল্যাটে। মাকে বৌদি আগেই কীভাবে যেন পটিয়ে ম্যানেজ করে নিয়েছিল।
.
এদিকে বাইরে যা ভ্যাপসা গরম! ঘেমে নেয়ে একেবারে জবুথবু অবস্থা আমার।
.
ঢুকতেই বললাম, "বৌদি, আগে একটু গোসলটা সেরে নিই, নইলে মরেই যাবো!" 
.
বৃষ্টি বৌদি খিলখিল করে হেসে উঠলো। "গোসল তো করবি ভালো কথা, কিন্তু পরবি কী? নিজের তো কোনো জামাকাপড় আনসনি!"
.
মাথা চুলকে বললাম, "তাই তো, কী করা যায়..." 
"টেনশন নিস না," বৃষ্টি বৌদি অভয় দিয়ে বললো,
.
"তোর অনিকেত দা তো দুদিনের ট্যুরে বাইরে। ওর একটা লুঙ্গি আছে, আপাতত ওটাই পরে নে।"
.
ফাঁক বুঝে একটু দুষ্টুমি করে বসলাম, "দাদার লুঙ্গি কেন, তোমার একটা শাড়ি দিলেই তো পারো!" 
.
বৌদি চোখ রাঙিয়ে বললো, "পাকা ছেলে! দেওর হয়ে বৌদির সাথে ইয়ার্কি মারা হচ্ছে? যা, তাড়াতাড়ি বাথরুমে ঢোক!"
.
বাধ্য ছেলের মতো বাথরুমে ঢুকলাম। গোসল শেষে দরজার ফাঁক গলে একটা গামছা আর দাদার লুঙ্গি চালান করে দিল বৌদি।
.
সেটা পরে ডাইনিং টেবিলে আসতেই আমার চোখ তো ছানাবড়া! ইলিশ মাছ ভাজা, চিংড়ির মালাইকারি, কচি পাঁঠার ঝোল, আর শেষপাতে পায়েস! 
.
অবাক হয়ে বললাম, "বৃষ্টি বৌদি, এত কিছু রাঁধলে কার জন্য?"
বৌদি একটু ম্লান হেসে বললো,
.
"অনিকেতটা নেই, বাড়িটা বড্ড খাঁ খাঁ করছিল। মন টিকছিল না বলে রান্নাঘরে ঢুকে পড়লাম। তুই খাবি বলেই তো রাঁধলাম।"
.
খেতে খেতে কত যে জম্পেশ আড্ডা হলো! বৌদি লাজুক মুখে শোনালো, বিয়ের পর নাকি দাদা তাকে হাতে ধরে রান্না শিখিয়েছিল। ঠিক তখনই হঠাৎ লোডশেডিং! চারপাশ ঘুটঘুটে অন্ধকার। 
আমি সুযোগ পেয়ে বললাম, "কী গো বৌদি, ভূতের ভয় পাচ্ছো নাকি?"
বৌদি অন্ধকারেও হেসে কুটিকুটি, "ভূতকে ভয় পাই না।
.
কিন্তু তোর দাদা যদি এখন হঠাৎ ফিরে এসে দেখে তুই ওর লুঙ্গি পরে বসে আছিস, তবে তোর কপালে যে কী শনি আছে, সেটাই ভাবছি!" 
.
.
মোমবাতির স্নিগ্ধ আলোয় যখন বৌদি বললো, "মাঝে মাঝেই চলে আসিস, একা একা একদম ভালো লাগে না"—তখন মনটা অদ্ভুত এক প্রশান্তিতে ভরে গেল।
কিছু সম্পর্ক বোধহয় এমনই হয়, যেগুলোর কোনো নির্দিষ্ট নাম দেওয়া যায় না। একটু মিষ্টি শাসন আর অনেকটা অধিকার!
,
পুরো ঘটনা না পড়লে মিস করবেন!
পুরো কাহিনীটি পড়ার অনুরোধ রইল!
