অবাঞ্ছিত_নয়_অপ্রকাশিত
পেঁয়াজ, লংকা দিয়ে ভাত খাচ্ছো কেন? আজ তো মাংস রান্না করেছে, আমি নিজে মাংস নিয়ে এসেছি।
"বিস্ময়ভরা কণ্ঠে প্রশ্নটা করে আরবিদ তাকিয়ে থাকে। রাত অনেক হয়েছে, চারপাশে নিস্তব্ধতা। অন্তুর মাথা নিচু, চোখদুটো লা*ল হয়ে আছে কান্নার কারণে। আরবিদের দিকে তাকানোর সাহস পর্যন্ত পাচ্ছে না সে। বলার সাহসও নেই তার মা অনেক আগেই ফ্রিজ বন্ধ করে নিজের রুমে চলে গেছে।
“আরবিদ ভ্রু কুঁচকে ধীরে ধীরে ফ্লোরে বসে পড়ে অন্তুর পাশে। ছেলেটার চোখে তখন বিরক্তির চেয়ে চিন্তাই বেশি। আলতো করে হাত বাড়িয়ে অন্তুর মাথায় হাত বুলিয়ে দেয় সে।
__ কি হয়েছে অন্তু? আম্মু কিছু বলেছে?
“কথাটা শুনেই অন্তুর বুকটা কেঁপে ওঠে। সে ধীরে ধীরে মাথা দোলায়। আরবিদ এবার জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকায় তার দিকে।
__ কি বলেছে?
“অন্তু ঠোঁ*ট কা*মড়ে ধরে। গলাটা হালকা তুলে কষ্টভরা স্বরে বলে ওঠে।
__ আপনি আমাকে ওইদিন যে প্রপোজ করলেন স্কুলের পাশে, তখন আপনার এক রিলেটিভ সব দেখেছে। আজকে বাড়িতে এসে সব বলে দিয়েছে। আন্টি মানা করেছে যাতে আপনার আশেপাশে না যাই। এরপর এমন কিছু শুনলে আমাকে ঘর থেকে বের করে দিবে।
“শেষের কথাগুলো বলতে বলতেই ফুঁপিয়ে কেঁদে ওঠে অন্তু। তার কাঁধ কাঁপছে, চোখের পানি টুপটুপ করে পড়ছে থালার ভাতের উপর।
“আরবিদের কপালে ভাঁজ পড়ে। একবার হাতঘড়ির দিকে তাকায় রাত ১২টা ৪৫। বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে গিয়ে দেরি হয়ে গেছে। কিন্তু বাড়ি ফিরে এমন দৃশ্য দেখবে, এমন কথা শুনবে, সেটা কল্পনাও করেনি সে।
“নিঃশব্দে অন্তুর দিকে তাকিয়ে থাকে। মায়াভরা চোখে। কতই বা বয়স হবে মেয়েটার? এই তো মাত্র ষোল। এই বয়সে এত কষ্ট, এত ভয় ব্যাপারগুলো তার বু*কের ভেতর অদ্ভুত একটা চাপ তৈরি করে।
“হঠাৎ আরবিদ এক টানে লং*কা বাটা আর ভাতের প্লেটটা নিজের হাতে তুলে নেয়।
__ কি করছো এইসব?
“চমকে বলে উঠে অন্তু।
__ শাস্তি তুমি একা কেন পাবে? সমান দোষী তো আমি নিজেও। চলো, দুইজনে খাই।
“আরবিদের গলায় ছিল অদ্ভুত এক জেদ। যেন সে সত্যিই অন্তুর কষ্টের ভাগ নিতে চায়।
__ না না! তুমি ঝাল খেতে পারো না। এইদিকে দাও!
“বলেই অন্তু তাড়াহুড়ো করে প্লেটটা সরিয়ে আনতে গেলে আরবিদ হাত টেনে দূরে সরিয়ে দেয়।
__ হুশ! কিছু শুনতে চাই না।
“বলেই আরবিদ একবার প্লেটের দিকে তাকায়। লাল লংকায় মাখামাখি ভাতগুলো যেন আ*গুনের মতো দেখাচ্ছে। সে কষ্ট করে ঢোক গিলে ছোট্ট একটা লোকমা মুখে দেয়।
“মুহূর্তের মধ্যেই আরবিদের অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। চোখ-মুখ লাল হয়ে উঠে। মনে হচ্ছে কান দিয়েও আ*গুন বের হবে! তীব্র ঝালে তার চোখে পেটে পানি চলে আসে।
“অন্তু ভয় পেয়ে তাড়াতাড়ি গ্লাসে পানি এগিয়ে দেয়।
__ এই নাও! পানি খাও তাড়াতাড়ি!
“আরবিদ দ্রুত পানি খেয়ে বড় একটা নিশ্বাস নেয়। ঠিক তখনই পিছন থেকে ভেসে আসে একজন নারীর কড়া কণ্ঠ।

0 Comments